বার্থ কন্ট্রোল পিলস আনওয়ান্টেড প্রেগন্যান্সি  রোধ করার সব থেকে ভালো উপায় বলে মনে করেন বেশির ভাগ ডাক্তার | এই পিলসে হয় শুধুমাত্র প্রজেস্টেরন থাকে আবার মাঝে মাঝে এতে প্রজেস্টেরনের সঙ্গে ইস্ট্রোজেনও থাকে | এই হর্মোন মহিলাদের মেনেস্ট্রুয়াল সার্কেলকে নিয়ন্ত্রণ করে | প্রেগন্যান্সি রোধ করা ছাড়াও এই বার্থ কন্ট্রোল পিলের বিভিন্ন উপকার আছে যেমন মেনেস্ট্রুয়াল ক্রাম্পিং কমায়‚ নিয়মিত পিরিয়েডস হয়‚ অ্যাকনের সমস্যা কমে যায়‚ ওভারিয়ান সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমায় এবং একই সঙ্গে ওভারিয়ান এবং এনড্রোমেট্রিয়াল ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও কমায় |

কিন্তু বার্থ কন্ট্রোল পিলসের একাধিক সাইড এফেক্টসও থাকে যা ডাক্তাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের জানান না | তাই বার্থ কন্ট্রোল পিল শুরু করার আগে এর উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই ভালো করে জেনে নিন |

আজকে এমন দশটা বার্থ কন্টোল পিলসের সাইড এফেক্টস নিয়ে আলোচনা করবো যা ডাক্তাররা জানান না |

) মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন : আমরা জানি বার্থ কন্ট্রোল পিলস আমাদের শরীরে হর্মোন নিয়ন্ত্রণে রাখে | আর হর্মোন ওঠানামা করার ফলে মাথায় ব্যথা বা মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় |

বেশ কিছু বার্থ কন্টোল পিলস আছে যা শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয় | আর ইস্ট্রোজেনের লেভেল কমে যওয়ার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে | এবং একই সঙ্গে যাদের মাইগ্রেন আছে তাদের সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে | তাই আগেভাগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন এই ব্যাপারে |

) গা বমি বমি বা nausea : প্রথমবার বার্থ কন্ট্রোল পিল শুরু করার পর অনেকে মহিলারই গা বমি বমি ভাব হতে পারে | যদিও এই অবস্থা ৩-৪ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায় | খাবারের সঙ্গে পিল খেলে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে পিল খেলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে | বা পিল খাওয়ার আধ ঘন্টা আগে জদি একটা অ্যান্টাসিড খেয়ে নেন তাহলেও উপকার পাবেন | তবে রোজ একই সময় পিল খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী |

তবে যদি এই অবস্থা ৪-৫ দিনের বেশি থাকে এবং একই সঙ্গে খাবার ইচ্ছা না থাকে তাহলে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিন |

) ব্রেস্ট টেন্ডারনেস : বার্থ কন্ট্রোল পিলস খাওয়ার ফলে ব্রেস্ট টেন্ডারনেস বা এনলার্জমেন্ট হতে পারে | অবশ্য পিল খাওয়া শুরু করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যায় | শরীরে হঠাৎ করে হরমোনের তারতম্য ঘটায় এটা হয় |

পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে কফি আর নুন খাওয়া কমাতে হবে | একই সঙ্গে সাপোর্টিভ ব্রা পরুন‚ অস্বস্তি কমানোর জন্য |

তবে ব্রেস্টে কোনরকম লাম্প হলে বা ব্যথা না কমলে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ |

) ব্রেকথ্রু ব্লিডিং : যে মহিলারা বার্থ কন্ট্রোল পিল খাচ্ছেন তাদের হঠাৎ করে দুটো পিরিয়েডসের মাঝে ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং হতে পারে | একে ব্রেকথ্রু ব্লিডিং বলে এবং সাধারণত পিল খাওয়ার প্রথম তিন মাসের মধ্যে এটা হয় |

এই সমস্যা যদি পাঁচ দিনের বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান |

) ওজন বৃদ্ধি : পিল শুরু করার এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে কয়েক কেজি ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক | এই পরিস্থিতি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায় | আসলে এটা ওয়াটার রিটেনশনের কারণে হয় |

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে কন্ট্রাসেপটিভে ইস্টোজেনের মাত্রা বেশি থাকে সেটা খেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে | এর ফলে থাই‚ হিপস আর ব্রেস্টে ফ্যাট জমা হয় |

যদি ওজন বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় থাকেন তাহলে যে পিলে ইস্ট্রোজেনেল মাত্রা কম সেটা খান | একই সঙ্গে নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন এবং ডায়েটের দিকে নজর রাখুন |

) ইস্ট ইনফেকশন : ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন হলে চুলকুনি‚ জ্বালা‚ যন্ত্রণা‚ ইরিটেশন হতে পারে | এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বার্থ কন্টোল পিলস খাওয়ার ফলেই হয় |

যে মহিলাদের ডায়বেটিস আছে তাদের এই সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা বেশি | এছাড়াও যারা বেশি চিনি খান বা মদ খান বা উইক ইমিউন সিস্টেম‚ তাদেরও এটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি | এছাড়াও অনেক মহিলাদের ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ হতে পারে |

) মুড চেঞ্জ : মুড সুইং এবং ডিপ্রেশন একটা বড় সাইড এফেক্ট বার্থ কন্ট্রোল পিলস খাওয়ার | এটা হয় কারণ সিন্থেটিক হর্মোন নিউরোট্রান্সমিটারের ব্যালেন্স নষ্ট করে দেয় | এর ফলে মুড সুইং হয় |

আপনার যদি আগে থেকেই ডিপ্রেশন হওয়ার হিস্ট্রি থাকে তাহলে অবশ্যই বার্থ কন্ট্রোল পিল শুরু করার আগে এটা ডাক্তারকে জানান |

) ভিস্যুয়াল চেঞ্জেস : যদিও এটা খুব একটা কমন নয় তবে কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদের চোখের দৃষ্টির পরিবর্তন হতে পারে |

হর্মোনাল চেঞ্জ হওয়ার ফলে ফ্লুয়িড রিটেনশন হয় যার ফলে চোখের কর্নিয়া ফুলে যেতে পারে | ফলে চোখের কর্নিয়ার শেপে পরিবর্তন হতে পারে | তাই যারা লেন্স পরেন এমন সমস্যা হলে চোখের ডাক্তারের কাছে যান |

এছাড়াও খুব বেশি সময় ধরে বার্থ কন্ট্রোল পিল খেলে গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় |
) ব্লাড ক্লট : এটা যদিও খুব একটা কমন নয় কিন্তু বার্থ কন্ট্রোল পিলসের এটা সিরিয়াস সাইড এফেক্টসের একটি |

যে মহিলারা স্মোক করেন‚ ওভারওয়েট‚ ৩৫ বছরের ওপরে বা সম্প্রতি মা হয়েছেন তাদের রিস্ক অনেক বেশি |

নতুন কোনো বার্থ কন্ট্রোল পিল ট্রাই করার আগে গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন | এছাড়াও ব্রিদিং প্রবলেম‚ বুকে ব্যথা‚ পা ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যান | হার্টে এবং লাংসে ব্লাড ক্লট হলে এই সিম্পটম দেখা দেয় |

১০) লিবিডো কমে যাওয়া : অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সেক্স লাইফে নেগেটিভ এফেক্ট হতে পারে | পিলসে যে হর্মোন থাকে সেটার কারণে এমনটা হতে পারে | সেক্সে অনীহা আসা ছাড়াও সেক্স করার সময় ব্যথাও লাগতে পারে |

আরও পড়ুন:  পুজোর আগের সাজুগুজু

NO COMMENTS