অনেকেই ভাবে একমাত্র ডায়বেটিস হলে তবেই রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যায় | এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা | যে কেউ কিন্তু এতে ভুগতে পারে | এমনকি আপনি হয়তো বুঝতেও পারবেন না আপনার স্নায়ু‚ দেহ কোষ এবং বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হচ্ছে এর ফলে | তাই আজকে আমরা কয়েকটা সিম্পটম বা উপসর্গ নিয়ে আলোচনা করবো যা দেখে আপনি সময় মতো সাবধন হতে পারবেন |

) সব সময় খিদে পাওয়া : রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের কোষে ঠিকমত গ্লুকোজ পৌঁছায় না | এর ফলে শরীর সঠিক মাত্রায় এনার্জি পায় না | ফলে সব সময় খিদে পায় |

) সব সময় ক্লান্তি অনুভব করা : আগেই বলেছি রক্তে চিনি বেড়ে গেলে শরীর গ্লুকোজের ঘাটতি হয় | ফলে শরীরের যে এনার্জি দরকার তা তৈরি হয় না | আর এর কারণে সব সময় ক্লান্ত লাগে |

) ঘন ঘন প্রস্রাব পায় : ব্লাড সুগার বেড়ে গেলে আমাদের কিডনি জল রি-অ্যাবসর্ব করতে পারে না | ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব পায় |

) মুখের ভিতর শুকিয়ে যাওয়া আর অতিরিক্ত পিপাসা : শুষ্ক মুখ আর বারবার তেষ্টা পেলে বুঝতে হবে শরীরে জল কমে গেছে | এমন হলে বারবার জল পান করুন একই সঙ্গে চা বা অন্য পানীয় খেতে পারেন তবে তাতে চিনি না মেশানোই ভালো |

) হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া : শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে খুব কম সময়ের মধ্যে ওজন কমে যেতে পারে | এমনকি আপনি বার বার খাচ্ছেন বা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেলেও এমনটা হবে | এটা হওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারন হতে পারে :

# বারবার প্রস্রাব পাওয়ার ফলে শরীরে জল কমে যায় | এর ফলে ওজন কমে যেতে পারে |

# শরীর ইনসুলিনের মাত্রা সঠিক না হলে গ্লুকোজ মেটাবলিসম হয় না | ফলে শরীর তখন বাধ্য হয়ে চর্বি গলাতে আরম্ভ করে |

# জমা হওয়া অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীর থেকে বের করতে আরো বেশি ক্যালোরি খরচা করতে হয় শরীরকে | ফলে ওজন কমে যায় |

) সংক্রামক ব্যাধি : পুরুষ এবং মহিলা দুজনেরই ইউরিন্যারি ট্রাক্ট ইনফেকশন (UTIs) হতে পারে | যদিও দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই এতে বেশি আক্রান্ত হন | চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরে ইস্ট এবং ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা অনেক বেড়ে যায় | ফলে ঘন ঘন ইনফেকশন দেখা দেয় |

) ড্রাই স্কিন : ড্রাই স্কিন হাই ব্লাড সুগারের সঙ্গে যুক্ত করা হয় | এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে |

# বারবার প্রস্রাব করার ফলে শরীরে জলের মাত্রা কমে যায় | ফলে স্কিন ড্রাই হয়ে যায় |

# স্নায়ু ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার ফলে sweat glands ঠিক মতো কাজ করতে পারে না ফলে স্কিনের ওয়াটার ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায় |

) মনসংযোগ করতে কষ্ট হয় : উচ্চ চিনির মাত্রা ব্রেন সেলে গ্লুকোজ ঢুকতে দেয় না | ফলে মনসংযোগ করতে কষ্ট হয় |

) চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় : উচ্চ চিনির পরিমাণে শরীরে জলের মাত্রা কমে যায় | এর ফলে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় |

১০) ক্ষত সারতে বহুদিন সময় লাগে : রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে ভ্যাসকুলার ড্যামেজ হয় | ফলে রক্ত চলাচল প্রভাবিত হয় ‚ আর এই কারণে কোনো ক্ষত শুকোতে অনেক বেশি সময় লাগে |

১১) ইম্পোটেন্স : হাই ব্লাড গ্লুকোজ হলে পুরুষদের ইরেকশনে অসুবিধা হতে পারে | সঠিক ইরেকশনের জন্য হেলদি নার্ভ‚ ভালো রক্ত চলাচল এবং হর্মোনের সঠিক ব্যালেন্স থাকা খুব জরুরী | কিন্তু চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায় |

১২) কথায় কথায় বিরক্ত হওয়া : রিসার্চ করে জানা গেছে যাদের হাই সুগার আছে তারা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি উৎকন্ঠায় ভোগেন‚ একই সঙ্গে তারা অল্পতেই মেজাজ হারান এবং ডিপ্রেশনে ভোগেন বা সব কিছুতেই বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন |

আরও পড়ুন:  রাখীর জন্যই হিদাসপিসের তীরে সম্রাট আলেকজান্ডারের বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন রাজা পুরু ?
Sponsored
loading...

NO COMMENTS