বলা হয় চোখ নাকি আমাদের মনের আয়না | এটা কতটা সত্যি তা আমরা জানি না‚ কিন্তু চোখ দেখে আপনার শরীরের হালচাল যে বেশ বোঝা যায় তা বেশ জোর দিয়েই বলা যেতে পারে |

আজকে বাংলালাইভে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবজার্ভেশন তুলে ধরছি :

) আঞ্জোনি : এমন হয়তো কাউকে পাওয়া যাবে না যার কোনদিন চোখে আঞ্জোনি হয় নি | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চোখের পাতায় এটা হয় | এটা বেশ ব্যথাদায়ক‚ কিন্তু দু-তিনদিনের মধ্যে সেরেও যায় | আমাদের সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ডে ব্লকেজ হলে এই সমস্যা দেখা যায় |

তবে মাঝে মাঝেই যদি আপনার চোখে আঞ্জোনি হয় বা যদি দেখেন সহজে তা সারছে না বা একই জায়গায় বার বার আঞ্জনী হচ্ছে তাহলে অবশ্যই ডাক্তরের কাছে যান | এটা Sebaceous Gland Carcinoma-র লক্ষণ হতে পারে |

) আইব্রো লস : অনেক কারণেই ভ্রু থেকে চুল পড়ে যেতে পারে | যেমন বয়সের কারণে‚ স্ট্রেস বা নিউট্রিয়েন্টসের অভাবে | কিন্তু আরো একটা কারণ হতে পারে Hypothyroidism | এই অবস্থায় থাইরয়েড হর্মোন কমে যায় | একই সঙ্গে যদি লক্ষ্য করেন যে আপনার মাথার চুলও উঠে যাচ্ছে তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন |

) দৃষ্টির অস্পষ্টতা : আমরা অনেকেই এমন আছি যারা ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করি | এর ফলে ব্লারড ভিশন হতে পারে | অবশ্য শুধু কম্পিউটার নয় দীর্ঘসময় ধরে ফোন ঘাঁটাঘাটি করলেও এটা হতে পারে | আজকাল এই অবস্থাকে একটা বিশেষ নামে সম্বোধন করা হয়‚ ডিজিটাল আই স্ট্রেন ব ড্রাই আইজ | যদি এমন সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন |

) ব্লাইন্ড স্পটস : মাঝে মাঝে চোখের দৃষ্টি স্পষ্ট হয় না‚ কারণটা কালো ছোপ বা দাগ দেখা যায় | এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাইগ্রেন হওয়ার আগে দেখা দেয় | মাথায় প্রচন্ড ব্যথা করলেও অনেক সময় কালো স্পট লক্ষ্য করা যায় | আপনার যদি মাইগ্রেন থাকে তাহলে এই লক্ষণের সঙ্গে আপনি ভালো পরিচিত | কিন্তু তাও একবার ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে |

) বালজিং আইজ : অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই চোখ কড়কড় করে | দু একবার চোখের পাতা খোলা বন্ধ করলে তা নিজের থেকে ঠিকও হয়ে যায় | কিন্তু যদি সর্বক্ষণ আপনার চোখে ইরিটেশন হয় বা মনে হয় চোখ বালজ আউট করছে তা কিন্তু থাইরয়েড আই ডিজিজের সিম্পটম হতে পারে | চোখের পাতা বন্ধ করতেও যদি অসুবিধা হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যান |

) চোখের সাদা অংশ যদি হলুদ হয়ে যায় : আমরা সবাই মোটামুটি জানি চোখের সাদা অংশ হলুদ দেখালে তা জনডিসের লক্ষণ হতে পারে | এছাড়াও গলব্লাডারের সমস্যা বা বাইল ডাক্টের কারণেও তা হতে পারে | তাই যদি লক্ষ্য করেন চোখের সাদা অংশ হলুদ দেখাচ্ছে তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে |

) ডায়বেটিসের সঙ্গে ব্লারড ভিশন : যাদের ডায়বেটিস আছে তাদের আলাদা করে কেয়ারফুল থাকতে হবে | যদি চোখের দৃষ্টিতে অস্পষ্টতা দেখতে পান তাহলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে | এটা হওয়ার প্রধান কারণ চোখের রেটিনার ব্লাড ভেসেল ড্যামেজ | এই অবস্থাকে কিন্তু বেশ সিরিয়াসলি ট্রিট করতে হবে |

) ভিশন লস এবং ক্লাউডি ভিশন : চোখের দৃষ্টিতে কোনরকমের পরিবর্তন কিন্তু বেশ অ্যালার্মিং | এক মুহূর্তের জন্যেও যদি দৃষ্টি অস্পষ্ট হয় বা চোখে অন্ধকার দেখেন তাহলে সব কাজ ফেলে ডাক্তারের কাছে যান | স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ কিন্তু এগুলো |

আরও পড়ুন:  পুজোর আগের সাজুগুজু

NO COMMENTS