USA travelogue

ছোটবেলা থেকে গল্প উপন্যাসে পড়ে এসেছি পশ্চিমে হওয়া বদল করতে যাওয়া নাকি স্বাস্থ্য এবং মনের পক্ষে ভীষণ উপকারী । বঙ্কিমচন্দ্র,শরৎচন্দ্র ,রবিঠাকুর ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকরা আপামর বাঙালী পাঠকদের এই মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন বারংবার। সে সব সাহিত্যিকদের অমর রচনা পড়ার সময় খুব কৌতুহল হত কী আছে পশ্চিম দিকে যা পূব দিকে নেই? পরম উৎসাহী মন কেবল মাত্র দেশের মধ্যেই না দেশের বাইরেও সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে।

শরতের শুরুর দিকে হঠাৎ ইচ্ছে হল “মাথার মধ্যে কর্পোরেট দানবের যে অত্যাচার চলছে তার থেকে রেহাই পেতে পশ্চিমে গেলে কেমন হয়” ? আমার বাবার কাছ থেকে আরেকটি মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলাম যা হল কোথাও বেড়াতে গেলে আগে সেই জায়গাটা সম্পর্কে ভালো ভাবে পড়াশোনা করে নাও। সে ব্যাপারে অবশ্য আমার বাবা-মায়ের  জামাই আমার থেকে বহুদূর এগিয়ে তাই আমি নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমেরিকার পশ্চিম তো একটুখানি জায়গা নয়, তাই এবারের পড়াশোনায় আমাকেও এগিয়ে আসতে হল। দক্ষিণ পশ্চিম আমেরিকার ম্যাপ খুলে বসে পড়লাম । ম্যাপের একেবারে দক্ষিন পশ্চিম প্রান্তে ক্যালিফোর্নিয়া যেখানে সবুজের সমারোহ দেখে ​আনন্দে আত্মহারা হননি এমনলোক খুব কম। তবে এই বিচিত্র মনের শুধু সবুজে মন ভরে না। এ হলো কর্পোরেট দানবের অত্যাচারের আরেক নমুনা যাকে বলে যত পাই তত চাই ! তাই ঠিক হলো সেপ্টেম্বরের লং উইকেন্ডে ক্যালিফোর্নিয়া নয়, আমেরিকার পশ্চিমের রাঙামাটির দেশে যাওয়া যাক ! অফিস বসের চোখরাঙানিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পশ্চিম থেকে মনে লাগিয়ে আসি সবুজ,লাল,নীল্ রঙের আভা। সেই রঙের ছোঁওয়া হবে বাকি বছর মন ভাল রাখার মূলমন্ত্র।

আমেরিকার রাঙ্গামাটি অঞ্চল কোনটি বলে ফেলা দরকার। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পাশেই উটাহ,নেভাদা ও আরিজোনা রাজ্য জুড়ে এই রাঙামাটির দেশ। এছাড়া কলোরাডো রাজ্যকেও রাঙামাটির দেশে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এদের শুধু রাঙামাটি বললে মনে হতে পারে সমভূমি।এই রাজ্যগুলিতে সমভূমির সাথে সাথে আছে মরুভূমি,পর্বতমালা,নদীতট ,উপত্যকা,গিরিখাত ,মালভূমি এবং টিলা। আমেরিকার বিখ্যাত কলোরাডো নদী বয়ে  গেছে এই রাজ্য গুলির মধ্য দিয়ে আর হাজার হাজার বছর ধরে মাটির বিভিন্ন স্তরের ক্ষয় হতে হতে এক অপূর্ব রঙিন ভূসংস্থান এর জন্ম দিয়েছে। হাজার হাজার ফুট এই গভীর গিরিখাত গুলির আনাচে কানাচে বিচিত্র রঙের খেলা !ওপর থেকে দেখলে মনে হবে স্তরে স্তরে কেউ মার্বেল কেক সাজিয়ে রেখেছে। পাথরের এই কেকের পরতে পরতে লাল বা নীলের রঙের যে কত রকমফের হতে পারে তা ভাষায় বর্ণনা করা আমার সাধ্যে নেই। কিছু ছবি দিলাম। দেখে হয়ত সেই সৌন্দর্য্যের সামান্য আভাস টুকু পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার সৌন্দর্য্যকে মনের সিন্দুকে ধরে রাখতে সশরীরে বেড়াতে আসার প্রয়োজন।

নিউ ইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরে পৌঁছলাম উটাহ রাজ্যের সল্টলেক সিটিতে। বেড়ানোর প্লানটা  ছিল এরকম -সল্টলেক থেকে মোয়াব শহর । সেখানে এক রাত থেকে আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক। পরদিন ভোর বেলা বেরিয়ে মেক্সিকান হ্যাট, মনুমেন্ট ভ্যালি দেখে পরের রাজ্য অর্থাৎ আরিজোনাতে  ঢুকে পরা। সেখানে আন্টেলোপ ক্যানিয়ন দেখে পেজ  শহরে পৌঁছে ‘হর্স-সু-বেন্ড’ দেখে সেদিনের মত বিশ্রাম। পরদিন ভোরে বেরিয়ে সোজা গ্রান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক । সেখান থেকে আমাদের শেষ গন্তব্য নেভাদা রাজ্যের লাস ভেগাসে পৌঁছে যাওয়া। হাতে সময় থাকলে ভেগাস ঢোকার আগে আমেরিকার সব থেকে বড় জলের বাঁধ হুভার ড্যাম দর্শন। শেষদিন ভেগাস থেকে ফ্লাইট ধরে বাড়ি ফেরা। হাতে সময় মাত্র চারদিন। সল্টলেক সিটি থেকে ভেগাস পর্যন্ত্য যাতায়াতের  উপায় হলো চার চাকার বাহন। এবারে আমাদের বাহন হল কিয়া স্পোর্টেজ। সারথি আমার বাবা-মায়ের জামাই।সাথে তার বাবা ও মা,যাদের আমেরিকা ভ্রমনের অনারে আমাদের এই ট্যুর।

আরও পড়ুন:  মনের হাট পুকুরে : উষসী চক্রবর্তী

USA travelogue in Bengaliচারদিন ট্যুরের কথা লিখতে গেলে একটা গোটা উপন্যাস হয়ে যেতে পারে। আজ শুধু আর্চেস ন্যাশনাল পার্কের কথা বলব।সম্পদক মহাশয় ভবিষ্যতে সুযোগ দিলে নাহয় বাকি দিন কী  করলাম তা জানাবো। আমেরিকায় মোট ৫৯টি (মতান্তরে ৫৮টি ) ন্যাশনাল পার্ক আছে। এদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দা এমনকী আমেরিকার প্রাচীন জাতি ও উপজাতিরা। আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক হল মোয়াব শহর থেকে ৫ মাইল দুরে কলোরাডো নদীর ধারে। বলা হয় এই পার্কে প্রায় ২,০০০ টি প্রাকৃতিক স্যান্ডস্টোন এর খিলান বা আর্চ রয়েছে যা হাজার হাজার বছর ধরে পাথরের ক্ষয় থেকে জন্ম নিয়েছে। একেকটি খিলানের একেকটি নাম। কে বেশি সুন্দর বলা খুব মুশকিল। হাতে সময় কম তাই ঠিক করলাম আমরা দেখব সব থেকে বিখ্যাত খিলান যার নাম  ডেলিকেট আর্চ !

আমেরিকার কিছু বিখ্যাত জায়গা যেগুলোকে বলা যেতে পারে ‘আইকনিক স্পট’ ছোটবেলা থেকে আমরা অনেকেই ভূগোল বই বা ম্যাগাজিন বা এয়ারপোর্টের পোস্টারে দেখেছি। ডেলিকেট আর্চ হল সেই আইকনদের মধ্যে অন্যতম। ছবি দেখে এর সৌন্দয্যের আন্দাজ করতে পেরেছি আগেই কিন্ত সামনে থেকে দেখার উত্তেজনা সে অন্য এক অনুভূতি। গোটা আর্চেস ন্যাশনাল পার্কের ভেতর দিয়ে প্রায় ১৮ মাইল রাস্তা তৈরি করা যাকে এরা বলেন ‘সিনিক ড্রাইভ’। এই রাস্তা পার্কের যত দ্রষ্টব্য আছে তাকে ছুঁয়ে গেছে। গোটা পার্ক গাড়ি থেকে দর্শন করতে পারো বা নির্দিষ্ট পার্কিং লটে গাড়ি জমা রেখে হাইক করে পৌঁছতে পারো প্রকৃতির কোলে । কানে গেল পার্কে ঢুকে উল্ফ রান্চ পার্কিং এরিয়াতে গাড়ি রেখে প্রায় ২.৫ মাইল ট্রেক করে পৌঁছতে হবে ডেলিকেট আর্চ। পরিকল্পনা মতো গাড়ি থেকে নেমে সরু পাথুরে রাস্তা দিয়ে ছবিতে দেখা কমলা স্যান্ডস্টোনের খিলানের আকর্ষণে প্রথমটা খুব উত্তেজিত হয়ে দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করেছিলাম । সাথে ছিল জল,ছাতা ,সানগ্লাস ,সামান্য খাবার। শুরুতে বোঝার উপায় নেই সামনে রাস্তা কেমন হবে। প্রথমটা বেশ সহজ সরল পথ। রাস্তার দুধারে স্থানীয় গাছ, একফালি আঁকা বাঁকা নদী , নদীর ওপর সাঁকো ,আবার পাথুরে সিঁড়ি, আবার সমতল। এরপর শুরু হল চড়াই উতরাই। হাঁটতে হাঁটতে পা প্রায় খুলে যাবার যোগাড়। বার বার নিজেকে প্রশ্ন করছি আর কতদূর ,কেন যে কষ্ট করতে রাজি হলাম ! যতদুর চোখ যাচ্ছে শুধুই লাল আর নীল পাথরের পাহাড় বা উপত্যকা বা গিরিখাত। পাহাড়ের ফাটল ধরে লাল মাটির স্থানীয় গাছ উঁকি মারছে। মাথার ওপর বিশাল খোলা আকাশের চাঁদোয়া । সূর্যের সাথে সাথে মেঘেদের লুকোচুরি উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চলেছি আমরা। চড়াই উৎরাই সামলে মাঝে মাঝে দাড়িয়ে একটু জিরিয়ে নিচ্ছি ।আর ঠিক সেই সময় কানের মধ্যে চারিদিকের পাহাড়ের ফাটলের ভেতর থেকে কত হাজার হাজার বছরের পুরোনো গল্প হওয়া ভেদ করে এসে ধাক্কা খাচ্ছে। ফিস ফিস শব্দে জানাচ্ছে কলোরাডো নদীর সাথে যুগ যুগ ধরে তাদের সম্পর্কের কথা। হাতঘড়ি বলছে এবার সূর্য ডোবার পালা এগিয়ে আসছে তাই গতি এবার বাড়াতে হবে। যত গতি বাড়ছে তত রাস্তাও যেন বাড়ছে। মাঝে মাঝে ফিরতি পথের মেম সাহেব যাত্রীদের ডেকে  জিজ্ঞাসা করছি আর কতদূর? তাদের সহজ উত্তর আর বেশি দূর না আর ১০ মিনিট। কেউ বলে ১৫ মিনিট ,কেউ ২৫ মিনিট। আর সবাই বলে ‘বেস্ট অফ লাক’! মনের মধ্যে হঠাৎ অজানা আশঙ্কার হাতছানি পেলাম।পথ ভুল করলাম নাকি আমরা? এদিকে খাবার জল ও প্রায় শেষ।এতটা পথ যখন এসে পড়েছি ফেরৎ যাবার কোনো মানে হয়না। কপাল ঠুকে এগিয়ে চললাম অন্যান্য যাত্রীদের অনুসরণ করে।প্রায় ঘন্টা দুয়েক চলার পর লক্ষ্য করলাম  ভূসংস্থান এর পরিবর্তন। রাস্তা হলো আরো সরু ও কঠিন,একদিকে গভীর খাদ আরেকদিকে পিচ্ছিল স্যান্ডস্টোনের দেওয়াল। সেই দেওয়াল ধরে ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাস্তা এতো সরু যে চলতি ফিরতি পথের দুজন একসাথে যেতে পারবেনা, একজন সেই পথ দিয়ে গেলে অপরপক্ষকে অপেক্ষা করতে হবে । হাওয়ার  গতি বাড়ছে মানে বেশ উঁচুতে উঠে পড়েছি ,বেশ শীত শীত ভাব আর সাথে খেয়াল করলাম সূর্যের আলো আসতে আসতে হলুদ থেকে কমলা হচ্ছে। ইস! তীরে এসে তরী ডুবলো নাকি?! কপালে তার দেখা নেই ?এসব প্রশ্ন করতে করতে পাহাড়ের কতগুলো বাঁক ঘোরা হয়ে  গিয়েছে জানিনা। কানে ভেসে এলো বেশ কিছু মানুষের কন্ঠস্বর ও হাততালি। ব্যস !আর চিন্তা নেই ,নিশ্চিত যে কাছে পৌঁছে গেছি।পাশে খাদের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠছি, নীচে পড়ে গেলে কেউ কোনোদিনও আর খুঁজে পাবে না। কলোরাডো নদীর সাথে ভেসে কোথায় গিয়ে পৌঁছব জানিনা। শেষ বাঁক ঘুরতেই মূর্তিমান সামনে। ৭০,০০০ বছর ধরে বরফ,জল এবং ঝোড়ো হওয়ার দ্বারা পাথরের ক্ষয়ে তৈরি হয়েছে এই আশ্চর্য্য প্রাকৃতিক চমত্কার।৬৫ ফুট চওড়া এবং ৮৫ ফুট লম্বা এই খিলান আমেরিকার বিখ্যাত টুরিস্ট এট্রাকশন। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত খিলানের সামনে আমরা তখন দাঁড়িয়ে।বলা হয় ডেলিকেট আর্চ  দেখার সর্বশ্রেষ্ঠ সময় পড়ন্ত সূর্যের আলোয়। কারণ এই সময় কমলা আর্চের রং সোনার রঙে পরিণত হয়। বেরোতে থাকে এক অদ্ভুত লালাভ আলো। ভাগ্য একেবারেই মন্দ না। দিগন্ত বিস্তৃত নীল্ আকাশের নীচে লাল খিলানে সূর্যের শেষ কিরণের জাদুকাঠিতে সোনার রঙ নিয়েছে ডেলিকেট আর্চ । US travelogue in Bengaliমনে পড়ল ম্যাকেনাস গোল্ডের গল্পটা। সোনার টানে তবে এই বঙ্গললনাও আজ এই খিলানের সামনে মুগ্ধ চোখে দাঁড়িয়ে ! সূর্য্যদেবও অপেক্ষা করেছিলেন আমাদেরই জন্য।এবার তাঁর ডোবার পালা। প্রাণ ভরে ছবি তোলা হলো। সেই মুহূর্তে পার্কের সেই নির্মল হওয়ায় নিজেকে বেশ তাজা মনে হচ্ছিল। নিজেকে তারিফ করলাম এই ভেবে যে পৃথিবীর একটি দুর্গমতম হাইকিং সেরে ফেললাম। লাল স্যান্ডস্টোনের খিলান তখন ডুবন্ত সূর্যের আলো মেখে রীতিমত রানির মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে আপন খেয়ালে আর তাকে দেখতে এসেছে সারা পৃথিবীর নানান দেশ থেকে শয়ে শয়ে পর্যটক। উত্সাহী পর্যটকরা খিলানের কোলে নেমে গিয়ে ফোটোগ্রাফিতে মত্ত। আমার তাকে একটু তফাৎ থেকেই বেশি ভালো লাগলো। খুব কাছে যাওয়া মানে তাকে যেন বিব্রত করা। কল্পনায় দুহাত বাড়িয়ে তাকে আলিঙ্গন করলাম। আমার কল্পনায় কেবল তখন আমি আর সে, আর কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই। আমাদের মাঝখানে দ্রুত গতিতে বইছে হিমেল হাওয়া । Delicate Arch travelogue in Bengaliসেই হাওয়া পৌঁছে দিচ্ছে পার্কের রানির কানে আমার মনের কথা, আমার কুর্নিশ। আর বদলে আমিও শুনতে পাচ্ছি তার গভীর গোপন গল্প, হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে সে কেমন সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছে তার গল্প।হঠাৎ খেয়াল হল রহস্যময়ী এই রানিকে এবার বিদায় জানানোর সময় হয়ে এসেছে কারণ সূর্য ডুবতেই অন্ধকার নেমে আসছে খুব দ্রুত। আমাদের আবার সেই দুর্গম পথ  দিয়ে ফিরতে হবে। সময় লাগবে আরো ঘন্টা দুয়েক তাই শত অনিচ্ছা সত্ত্বেও  ফিরতি পথে রওনা হলাম। শেষ বারের মতো পেছনে ফিরে দেখার পালা, আলো তখনও চোখে ধরছে,খিলানের ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ল বহু দূরের থেকে উঁকি দিচ্ছে ‘লা সাল’ পর্বতশ্রেণী। শুনেছি শীতকালে লাল খিলানের ফাঁক দিয়ে বরফে ঢাকা লা সাল পর্বতশ্রেণী নাকি অপূর্ব সৌন্দর্য্যের সাক্ষ্য। সবই প্রকৃতির খেয়াল খুশি। ভাগ্যে থাকলে সেই রূপও কপালে জুটে যেতে পারে ভবিষ্যতে কোনো একদিন ! তবে এখন সাবধানে সমতলে নামতে হবে নাহলে মৃত্যু নিশ্চিত। আশ্চর্য ঘটনা হল ফেরার বেলায় সেই একই দুর্গম পথ ,অথচ কোনো কষ্ট বা ভয়ের অনুভূতি হয়নি। শরীর,মন, চোখ জুড়ে তখন শুধুই মুগ্ধতা। সময়ও কোথা দিয়ে পেরিয়ে গেছে খেয়াল করিনি। ডেলিকেট আর্চের কথা ভাবতে ভাবতে এতটা পথ পেরিয়ে কখন যেন নিজের অজান্তেই গাড়ির পার্কিং লটে এসে উপস্থিত হয়েছি।ঠিক যেন ঘোরের মধ্যে কেটে গেলো গোটা হাইকিং !

আরও পড়ুন:  দিলওয়ারা দেখতে মাউন্ট আবু

La Sal travelogue in Bengaliলেখার শুরুতে বলেছিলাম পশ্চিমে বেড়াতে যাওয়াটা বাঙালিদের রক্তে। পরে ভেবে দেখলাম আরে পৃথিবীটা তো গোল ! তুমি যেদিকে খুশি মুখ করে দাড়াও আর কল্পনা করো এটা উত্তর দিক তার একটা পূর্ব আর একটা পশ্চিম তো থাকবেই। ঘুরতে ঘুরতে তোমার পূবদিকটাই কখনো তোমার ছোটবেলার গল্প উপন্যাসের হাওয়াবদলের পশ্চিম হয়ে যেতে পারে ! প্রিয় লেখকের কথা শুনে পশ্চিম বেরিয়ে মন শরীর দুই তরতাজা। কোনো কর্পোরেট দানবের ক্ষমতা নেই চোখরাঙানি দেখিয়ে মনের হার্ড ডিস্ক থেকে সেদিনের গোধুলির সেই আলো আর রঙের খেলা ডিলিট করতে পারার।লিখতে লিখতে চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে কনে দেখা আলোয় আর্চেসের সেই মোহময় স্বর্ণালী রূপ। নাহ, ফিরতে আবার হবেই। তবে আপাতত চরৈবেতি !

 

ছবি  সৌজন্য : শ্রী শুভজিৎ সেন

Sponsored
loading...

NO COMMENTS