খড়ের গাদায় সূঁচ | আর ইউরোপে গিয়ে খাঁটি নিরামিষ খাবার | দুটোই খুঁজে পাওয়া কার্যত একইরকম দুঃসাধ্য | একসময় তো ইউরোপে শাকাহারীদের গবদি পশু বলেও ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা হতো | কিন্তু চমকপ্রদ তথ্যটি হল‚ বিশ্বের প্রাচীনতম নিরামিষ রেস্তোরাঁ‚ যা কিনা একই মালিকানায় চলছে‚ আছে ইউরোপেই |

সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে আছে হিল্টল রেস্তোরাঁ | শুরু হয়েছিল ১৮৯৮ সালে | এক প্রেমকাহিনি থেকে |

অ্যাম্ব্রোসিয়াস হিল্টল ভেবেছিলেন ব্যবসা শুরু করবেন | প্রেমে পড়েলেন এক মূক ও বধির রাঁধুনির | রাঁধিয়ের নাম মার্থা নেপল | মার্থাকে প্রধান শ্যেফ বানিয়ে হিল্টল শুরু করলেন রেস্তোরাঁ | নাম দিলেন নিজের পদবী অনুসারেই | ১৯০৪ সালে বিয়ে করে নিলেন অ্যাম্ব্রোসিয়াস-মার্থা | এখন তাঁদের চতুর্থ উত্তরপুরুষ রল্ফ হিল্টল ১১৯ বছর বয়সী এই নিরামিষ রেস্তোরাঁর মালিক | তিনি প্রতিষ্ঠাতার পুতি | 

জুরিখের অভিজাত এলাকায় পাঁচ তলা জুড়ে বিস্তৃত এই রেস্তোরাঁ | বিশ্বের সেরা ৫০০ রকম নিরামিষ পদ এখানে রোজ রাঁধা হয় | তবে মেনুর ভরকেন্দ্রে আছে ভারতীয় খাবার |

রল্ফের ঠাকুমা‚ মার্গারিথ নিজে ভারতে এসেছিলেন | অফিশিয়াল সুইশ ডেলিগেটস টিম-এর সদস্য হয়ে | ১৯৫১ সালে‚ ওয়ার্ল্ড ভেজেটারিয়ান কংগ্রেসে যোগ দিতে | তখন আলাপ হয় মোরারজি দেশাইয়ের সঙ্গে | পরে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মোরারজি দেশাই সুইৎজারল্যাডে গিয়ে আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন হিল্টল রেস্তোরাঁর |

ভারতে থাকার সময়ে মার্গারিথ শিখে নিয়েছিলেন বেশ কিছু রেসিপি | তার মধ্যে আছে আচারও | রেসিপি গোপন রাখতে মার্গারিথ বানাতেন রাতের বেলায় | ৬০ টি দেশের ৩০ জন রাঁধুনির হাতে বেড়ে ওঠা রেস্তোরাঁর হেঁশেলে মূল উপকরণ গরম মশালা | সময়ের তুলনায় এগিয়ে থাকতে ভালবাসে হিল্টল রেস্তোরাঁ | ১৯৩১ সালেই পুরো রান্নাঘর হয়ে গেছে বৈদ্যুতিন | পরিবারের মালিকানায় আছে রান্না শেখার স্কুলও | এক একজন শ্যেফের কাছে রান্না শিখতে খরচ পাক্কা ১৫০ ইউরো |

খুব তাড়াতাড়ি ভারতে আসার ইচ্ছে আছে রল্ফেরও | শুনেছিলেন‚ ভারতের গুজরাত বলে একটা জায়গা থেকে তাঁর ঠাকুমা দুর্দান্ত সব রেসিপি শিখে গিয়েছিলেন | রল্ফও আসতে চান সেখানে | নিজের কুক বুক-কে আরও সমৃদ্ধ করতে |

আরও পড়ুন:  ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারের বৃদ্ধ ঠাকুরদা থাকেন ভাড়াবাড়িতে‚ চালান টেম্পো
- Might Interest You

NO COMMENTS