বাংলা ছবির এক সময়ের অন্যতম সুদর্শন তারকা ছিলেন তিনি | তারপর হঠাৎ করেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া | কেন? কী কারণে? কেমন ভাবে দেখেন তিনি জীবনকে? অভিষেক চ্যাটার্জীর সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় তন্ময় দত্ত গুপ্ত |

 

তরুণ মজুমদার স্বনামধন্য পরিচালক।সেই পরিচালকের ‘পথভোলা ছবি থেকে আপনার চলচ্চিত্র জীবনের সূত্রপাত।জীবনের প্রথমেই পরিচালক তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

অভিষেক চ্যাটার্জী  : আমার জীবনের প্রথম ছবি নন্দন দাশগুপ্তর “অপরাধী”। সালের দিক থেকে প্রথম রিলিজ ছবি “পথভোলা”।কিন্তু নন্দন দাশগুপ্তর “অপরাধীর” শুটিং “পথভোলা”র আগে হয়েছে।

সিনেমায় আসার আগে আপনি থিয়েটার করতে চেয়েছিলেন।জীবনের সেই সময়ের কথা কিছু বলুন।

অভিষেক চ্যাটার্জী : “পথভোলা” করার আগে আমাকে প্রচুর স্ট্রাগল করতে হয়েছে। অনেকে তখন বলেছে থিয়েটার ব্যাকগ্রাউণ্ড থাকলে,সিনেমায় কাজের সুযোগ আসতে পারে।আশির দশকে তপন থিয়েটারে সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের(পি এল টি-র নন।) পরিচালনায় “নাগপাশ” নাটক হচ্ছিল।মূল চরিত্রে অভিনয় করতেন দীপকদা (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী)।একটা সময় এসেছিল যখন দীপকদা ছবির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিলেন।ওরা তখন দীপকদার সাবস্টিটিউড খুঁজছিল।সেই সময় আমি সত্য জেঠুর কাছে যাই।

তারপর?

অভিষেক চ্যাটার্জী : ছয় থেকে আট মাস আমি প্রতি শনি, রবি, বৃহস্পতি  থিয়েটার দেখতাম।ওখানে বসে থাকতাম।যদি  দীপকদা((চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) শুটিংয়ে যেতেন  তাহলে আমি ওই চরিত্রে অভিনয় করতে পারতাম।কিন্তু ওই চরিত্রে অভিনয়  করার সৌভাগ্য আমার হয়নি।একদিন সত্য জেঠু আমাকে বললেন — “তরুণ মজুমদার একটা নতুন ছবি শুরু করছে।ছবিতে পাঁচটা ইয়ং নতুন ছেলের ক্যারেক্টার আছে। তার মধ্যে প্রসেনজিৎ,তাপস পাল আর শক্তি ঠাকুর অলরেডি সিলেক্টেড। আরো নতুন আনকোরা ছেলে নেবে।তোর নাম বলে রেখেছি”।আমি তরুণ মজুমদারের সাথে দেখা করি।ফাইনালি ওই ছবিতে আমি কাজ করি।

“পথভোলা” মতো শমিত ভঞ্জ পরিচালিত “ওরা চারজন” ছবিতেও মাল্টি কাস্ট ছিল।ওই ছবিতে আপনি,প্রসেনজিৎ,চিন্ময় রায় ছিলেন।মাল্টি কাস্টের ভেতর থেকেই কি আপনার উত্থান?

অভিষেক চ্যাটার্জী : হ্যাঁ, আমি অনেকগুলো মাল্টি কাস্টের ছবি করেছি।যেমন “সুরের আকাশে”, “তুফান”,“ওরা চারজন” —এই সমস্ত ছবি প্রায় সবই হিট ছিল।তখন মাল্টি কাস্ট ছবির একটা চল ছিল।এটা পরের দিকে স্বপন সাহা শুরু করেন।

আপনি যে সময় চলচ্চিত্র জগতে এলেন তখন চিরঞ্জিত এস্টাব্লিশ।তাপস পালও মোটামুটি এস্টাব্লিশ এবং প্রসেনজিৎও ছবি করছেনআপনাদের মধ্যে কোনও কম্পিটিটিভ মনোভাব ছিল ?

অভিষেক চ্যাটার্জী : তাপস পাল মোটামুটি এস্টাব্লিশড নয়, তাপস পাল তখন এক নম্বর।প্রসেনজিতের তখন এন্ট্রি হয়ে গেছে।ওনাকে তখন নিউ কামারের মধ্যেই ধরা হতো।সেই সময় আমাদের কোনও কম্পিটিটিভ মনোভাব ছিল না।আমি ওকে টপকে যাবো—এরকম মনোভাব কারোর ছিল না।আমরা প্রত্যেকেই মন দিয়ে ভালো কাজ করতে চাইতাম।এই টেনডেন্সি ছিল।কোনও পলিটিক্স ছিল না।

পলিটিক্স ছিল না?

অভিষেক চ্যাটার্জী : শেষ দশ বা পনেরো বছর আমাদের ইন্ডাস্ট্রীতে যে পলিটিক্স ঢুকেছে সেই পলিটিক্স ছিল না।কেমন করে একা বেঁচে থাকব,একে বাদ দাও,ওকে বাদ দাও —এরকম তখন হতো না।

সিনেমায় আসার আগে কী করতেন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : আমি ভীষণ ভালো ফুটবল খেলতাম।আমার চিরকালই ফুটবলার হওয়ার শখ ছিল।সিনেমায় আসার কথা কোনওদিন ভাবিনি।আমার বাবার খুব বড় ব্যবসা ছিল।বাবা আমাকে পারটিকুলার একটা সময় দিয়েছিল।বাবা আমাকে বলেছিল “ওই সময়ের মধ্যে তুমি যদি সিনেমায় কিছু করতে না পারো, তাহলে তোমাকে ব্যবসায় ফিরতে হবে”।ওই সময়ের মধ্যেই আমি ‘পথভোলা’ ছবি করি।তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাইনি।

আপনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন,ঋতুপর্ণ ঘোষের প্যারালাল সিনেমা দহনে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন,আবার বাড়িওয়ালিতে আপনি চরিত্রাভিনেতা ছিলেন। নায়ক,অভিনেতা,চরিত্রাভিনেতা— তিন রকমের অভিনয়ের ধরন কেমন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : এগুলোর মধ্যে চরিত্রাভিনেতার কাজটাই কঠিন।কারণ সেখানে নানান ভ্যারিয়েশন থাকে।নায়ক মানেই সফলতার চরিত্র।নায়ককে সব সময় ভালো হতে হবে।তাকে ভিলেনের সাথে লড়াই করতে হবে।গানের সঙ্গে নাচতে হবে।গান গাইতে হবে।হিরোইনের সঙ্গে প্রেম করতে হবে।নায়কের অভিনয় কিছুটা গতানুগতিক। চরিত্র অভিনয় বা ক্যারেক্টার রোল অনেক রকমের হয়।ওই চরিত্রগুলো করতে বেশি ভালো লাগে।আপনি আমায় বলতেই পারেন, যে এখন তো আপনি হিরো করতে পারবেন না,তাই ক্যারেক্টার রোলের কথা বলছেন।আমি আগেও ক্যারেক্টার রোল প্লে করেছি।এবং সেগুলো করে আমি বেশি এনজয় করেছি।

আরও পড়ুন:  ক্লাস টুয়েলভের সাধারণ মানের ছাত্র চাকরি পেলেন গুগলে‚ আকাশছোঁয়া বেতন জানলে বিস্মিত হবেন

তরুণ মজুমদারের সাথে কাজ করার পর ডিরেক্টর গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন,অশোক বিশ্বনাথনের মতো পরিচালকদের কাছ থেকে কাজের কোনও ডাক পান নি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : গৌতম ঘোষ আমাকে নিয়ে কাজ করেন নি।অপর্ণা সেনের সঙ্গেও আমি কাজ করিনি।তবে উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর সাথে কাজ করেছি।অশোক বিশ্বনাথনের সঙ্গে কাজ করেছি।প্রথম দিকে ঋতুপর্ণ ঘোষের  দুটো ছবিতে কাজ করেছি।পরের দিকে ‘চোখের বালি’তে আমার কাজ করার কথা ছিল।কিন্তু আমি কাজ করিনি।

কেন কাজ করেননি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : ‘চোখের বালি’তে টোটা যে চরিত্রটা করেছিল,সেই চরিত্রে আমাকে ভাবা হয়েছিল।কিন্তু পরিচালকের (ঋতুপর্ণ ঘোষ)  আপত্তিকর প্রস্তাবে  আমি রাজি হইনি।তাই কাজটা করিনি।

কিছুদিন আগে একটা রিয়ালিটি শোতে আপনি বলেছেন —আপনার সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়ক এবং নাম্বার ওয়ান নায়িকা জুটি বেধে  আপনার সাইন করা ২২টা ছবি থেকে আপনাকে বাদ দিয়েছে।লিগ্যালি সাইন করা ছবি থেকে কি কেউ কাউকে বাদ দিতে পারে?

অভিষেক চ্যাটার্জী : এটা সত্যি। সেই সময়ে এই ঘটনা ঘটেছিল।সেই ছবির সহ অভিনেতা অভিনেত্রী যদি বলে অভিষেক থাকলে আমি অভিনয় করব না,তখন ডিরেক্টর প্রোডিউসার মনে করতে পারে একজনের জায়গায় দুজনকে হারানোর থেকে দুজনের জায়গায় একজনকে হারানো ভালো।যাদের কথা বলছি তারা তখন এক নম্বর পজিশনে ছিলেন।তাদের কথা অনেকেই তখন শুনত।

আপনি ওই দুজনের নাম উল্লেখ এখানে করছেন না।ওই রিয়ালিটি শোতেও করেন নি।আপনার ইঙ্গিত শুনে বোঝাই যাচ্ছে যে আপনার সময়ের এক নম্বর জুটি ছিলেন প্রসেনজিৎ এবং ঋতু্পর্ণা সেনগুপ্ত তাই কি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : আমি এই দুজনের নাম উল্লেখ করেছিলাম।সেই চ্যানেল থেকে আমাকে বলা হয়েছিল নাম না উল্লেখ করে নাম্বার ওয়ান বললেই সকলে বুঝতে পারবে।আমার আজ নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই,নতুন করে কিছু হারাবার নেই।  আমি কোনওদিনই কাউকে পরোয়া করিনি।আজও করিনা।

আপনি কোনওদিন সেই পরিচালককে জিজ্ঞেস করেননি কেন তিনি আপনাকে তার ছবি থেকে বাদ দিলেন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : জিজ্ঞেস করেছিলাম।কিন্তু তিনি কোনও যুক্তি দেখাতে পারেন নি।শুধু বলেছিলেন — “সরি”।

তাহলে আপনি কী করে বুঝলেন প্রসেনজিৎঋতুপর্ণা আপনাকে বাদ দিয়েছে?

অভিষেক চ্যাটার্জী : ছবিতে তিনজনের গল্প ছিল।আমি যখন ছবিতে সাইন করেছিলাম,তখন বাকি দুজনের কথা চলছিল।সেই বাকি দুজন হলেন প্রসেনজিৎ আর ঋতুপর্ণা।ওরা সাইন করার পর ম্যাক্সিমাম ছবিতে আমার জায়গায় ফিরদৌস ঢুকে গেল।তখন আমি বুঝতে পারলাম ওরা সব কিছু থেকে আমাকে বাদ দিয়েছে। মানে আমি কাজ করলে ওরা কাজ করবে না।

প্রতিদিন পত্রিকায় ১০ মে ২০১৭ তারিখে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী গৌতম ভট্টাচার্যকে কিছু কথা বলেছেন।প্রকাশিত সেই লেখার হুবুহু তুলে ধরলাম —-“অভিষেক চ্যাটার্জী একটা সময় স্বপন সাহার নিয়মিত নায়ক ছিল।অঞ্জন চৌধুরীর ছবিতে কাজ করেছে।তরুণ মজুমদারের ফিল্মে কাজ করেছে।একটা সময় ছিল যখন স্ক্রিপ্ট শুনে প্যারালাল কোনও ভালো রোল দেখলেই আমি বলতাম, মিঠুকে নাও।আমার সঙ্গে কারোর গণ্ডগোল থাকলে নিশ্চয়ই তাকে নেওয়ার কথা বলতাম না।কাউকে থ্রেট ভাবলেও সেধে সেধে নিজের ফিল্মে ডেকে আনতাম না।অভিষেক তো সিঙ্গল হিরো হিসাবে কমপক্ষে ২৫-৩০টা ছবি করেছে।এবার সে যদি মানুষের মনে গৃহীত না হয়,প্রোডিউসার যদি তাকে লং টার্মে নির্ভরযোগ্য মনে না করে,সেই দোষ কি আমার?প্রবলেম হলো আমাদের জায়গা থেকে সবকিছু এভাবে খুল্লম খুল্লা ক্লিয়ার করা যায় না।আমি তখন বলতে পারিনি শোনো ভাই “পুরুষোত্তম” যখন আমি ডিরেকশন দিয়েছি,তখন আমি অভিষেককেই রোমান্টিক হিরো করেছিলাম” ওনার এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে কী বলবেন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : প্রসেনজিৎ যদি আমার সামনে কোনওদিন এই কথা বলে তাহলে আমি বলব,“পুরুষোত্তম” ছবিতে আমাকে রোমান্টিক হিরোর রোল উনি দিয়েছিলেন।ক্লাইম্যাক্সে একটা ফাইট সিকুয়েন্স ছিল,যে ফাইট সিকুয়েন্স করার পর সবাই আমার প্রশংসা করল।তাই ক্লাইম্যাক্সের ফাইট সিকুয়েন্স থেকে আমাকে ছেঁটে বাদ দিল।প্রসেনজিৎ আমার সাথে পলিটিক্স প্রচুর করেছেন।বিশেষত আমার সঙ্গে।কারণ ওনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার মতো একমাত্র অভিষেক চ্যাটার্জী ছিল। এক বছরের জন্য হলেও ওনাকে টপকে অভিষেক চ্যাটার্জী এক নম্বরে গিয়েছিল। “সুজন সখী” যখন আমি করি, ‘গীত সঙ্গীত’ যখন আমি করি,তখন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীকে টপকে আমিই এক নম্বরে গিয়েছিলাম।

আরও পড়ুন:  কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলনে নামমাত্র থেকে পৌঁছেছিলেন ছবির নাম ভূমিকায়

কিন্তু উনি যে এখন বলছেন, এসব শুনে খারাপ লাগে…

অভিষেক চ্যাটার্জী : উনি কী বললেন তাতে কিছু আসে যায় না।সারা ইন্ডাস্ট্রীর লোক জানে।ইন্ডাস্ট্রীতে যদি তিন হাজার লোক থাকে তাহলে সেই তিন হাজার লোক কেন বলে প্রসেনজিৎ পলিটিশিয়ান?কেন সবাই বলে অভিষেকের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে প্রসেনজিতের হাত আছে?সবাই খারাপ?সবাই ওর প্রতি জেলাস?

এরকমও তো শুনি উনি একাই ইন্ডাস্ট্রী।একাই ইন্ডাস্ট্রীকে কাঁধে নিয়ে এগোচ্ছেন…

অভিষেক চ্যাটার্জী : আচ্ছা।তার মানে উনি একাই ফোটোগ্রাফি করতেন।উনি একাই ডিরেকশন দিতেন।উনি একাই স্ক্রিপ্ট লিখতেন।একাই গান লিখতেন।গান গাইতেন।একা ইণ্ডাস্ট্রীকে কাঁধে নিয়ে যাওয়ার মানে কী?সবটাই উনি একা করতেন?

অনেক সহঅভিনেতা বলে বুম্বাদা সকলকে আগলে রেখেছে…

অভিষেক চ্যাটার্জী : আবার প্রসেনজিতের নামে অনেক খারাপ কথা তাদের মুখ থেকেই শুনেছি।এরা সামনে একরকম,পেছনে আর একরকম।আমি সামনেও যা পেছনেও তাই।

আপনি কখনও রেখে ঢেকে কথা বলেন না।তা আপনার মনে হয় না,আপনার  একনম্বরে থাকার সময় যে মানুষগুলো আপনাকে বাদ দিয়েছিল,তারা তো এখনও আপনার ওপর কামড় বসাতে পারে?কারণ আপনি তাদের সম্পর্কে এই সব বলছেন।

অভিষেক চ্যাটার্জী : আজকে আমাকে কামড় দিয়ে আর কী হবে বলুন তো…। কাজের এখন এতো অপশন এসে গেছে যে একটা বন্ধ করলে আর একটা দরজা খুলে যাবে।আগে যেমন ফিল্ম ছাড়া অন্য কিছু করতাম না।আমাদের আগে রুজি রোজগার আসত ফিল্মে থেকে।এখন টেলিফিল্ম আছে, টিভি সিরিয়াল আছে, ফাংশন আছে,যাত্রা আছে।কেরিয়ারের পিক টাইমে যখন আমি এসব নিয়ে চিন্তা করিনি,আজ তো কেরিয়ারের পিক টাইম পেরিয়ে এসেছি।এখন আর এসব নিয়ে চিন্তা করব কেন।

আপনার সঙ্গে এই ঘটনা যখন ঘটেছে তখন আপনি নাকি ঘর থেকে বেরোতে পারেন নি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : আমি এক বছর ঘর থেকে বেরোতে পারিনি।৩৬৫ দিনের মধ্যে তিরিশ দিন হয়ত আমি ঘরের বাইরে বেরিয়েছি।আমার কোনও কাজ ছিল না।

ওই এক বছর আপনি কীভাবে জীবন কাটিয়েছিলেন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : আমার এখন আর মনে পড়ে না।এক বছর আমি কীভাবে সংসার চালিয়েছিলাম,কিভাবে আমি সারভাইভ করেছিলাম।আমি ভগবানে বিশ্বাস করি,ভগবানের পূজা করি।ভগবান আমাকে চালিয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:  'টাইগার' সলমনের ঘনিষ্ঠ ক্যাটরিনা

পর্দার নায়ক তাহলে সব সময় বাস্তবের নায়ক হয় না?

অভিষেক চ্যাটার্জী : এগজ্যাক্টলি তা নয়।বাস্তব ঘটনা নিয়েই তো সিনেমা দেখানো হয়।সিনেমায় সবটাই অতিরঞ্জিত বা লারজার দ্যান লাইফ নয়।প্রতিদিন দেখা মানুষের চরিত্রও সিনেমায় উঠে আসে।

তার মানে ব্যক্তি চরিত্র পর্দার চরিত্র কখনও এক হয়ে যায়?

অভিষেক চ্যাটার্জী : ডেফিনেটলি এক হয়ে যায়।

আপনার পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম।আপনার সময়ের এমন কোনও নায়ক ছিল যার সাথে আপনার সুসম্পর্ক ছিল?

অভিষেক চ্যাটার্জী : তাপসদার(তাপস পাল) সাথে তখন আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।তাপসদার কাছ থেকে জীবনে অনেক হেল্প পেয়েছি।দীপকদার(চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক।দীপকদার ডিরেকশনে আমি দুটো ছবিতে অভিনয় করেছি।দীপকদা,তাপসদা আমার কখনও কোনও ক্ষতি করেনি।

আপনি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর ডিরেকশনে কাজ করেছেন।চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর ডিরেকশনে কাজ করেছেন।দুজনের পরিচালনা সম্পর্কে কী মনে হয়?

অভিষেক চ্যাটার্জী : দুজনেই খুব ভালো ডিরেক্টর।অভিনেতার তুলনায় প্রসেনজিৎ খুব ভালো ডিরেক্টর।দীপকদা টেকনিক্যালি খুব সাউণ্ড ডিরেক্টর।

আপনার কথা অনুযায়ী প্রসেনজিৎ আপনার সঙ্গে অনেক পলিটিক্স করেছেনসেই প্রসেনজিতের তো আপনি গুণের কদর করছেন।তাই নয় কি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : যার যেটা গুণ সেটা একশোবার স্বীকার করব।

যাত্রায় আপনি কাজ করেছেন।সেটা কি শুধুমাত্র অর্থের তাগিদে?

অভিষেক চ্যাটার্জী : সেভেন্টি ফাইভ পারসেন্ট ছিল অর্থের তাগিদ।টোয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট ছিল একটা নতুন মিডিয়াকে দেখার আগ্রহ।একটা নতুন ধরনের এক্সপিরিয়েন্স নেওয়া।

পরিচালনায় আসার কখনও ইচ্ছে হয়েছে?

অভিষেক চ্যাটার্জী : না।অনেকবার অফার পেয়েছি।কিন্তু আমার ইচ্ছে হয়নি।পরিচালক হওয়ার জন্য যা যা গুণ দরকার,সেটা এখনও আমার আসেনি।

নায়কদের অনেক রকম গসিপ ফিল্মি ম্যাগাজিনে বের হয়।এবং সেটা বাজারে খুব  বিক্রি হয়।এই গসিপ থেকে অনেকের পাবলিসিটি হয়।আপনার তেমন কোনও গসিপ মনে পরে না।আপনার কখনও মনে হয়নি —হোক না একটু গসিপ।

অভিষেক চ্যাটার্জী : না, মনে হয়নি।অভিনয় আর বাড়ি ছাড়া আমি অন্য কিছুতে বিশ্বাস রাখিনি।প্রোডিউসারকে হাতে রাখার জন্য তাকে তেল মারা বা ডিরেক্টরকে হাতে রাখবার জন্য তাকে বাড়িতে ডেকে মদ খাওয়ানোর মতো কাজ আমি কখনও করিনি।

আপনি স্বপন সাহার অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন।একটা কথা শোনা যায় —স্বপন সাহার নায়ক লাল জামা পরে ঢোকে,তারপর নায়কের বেরোনোর সময় সেই জামাই নীল হয়ে যায়।এই কথার সতত্যা কতটা?

অভিষেক চ্যাটার্জী : একদম বাজে কথা।স্বপনদাকে আমরা কম্পিউটার ব্রেন বলতাম।কারণ এক সাথে তিনটে ফ্লোরের শুটিং উনি একই সময়ে করতেন।তাও কোনও ছবির কোথাও কন্টিনিউটি জার্ক নেই।ওনার সম্পর্কে যিনি এই কথা বলেছেন তিনি কিছুই জানেন না।স্বপন দার ছবি সম্পর্কে তার কোনও আইডিয়াই নেই।

আপনি সাফল্য ব্যর্থতা দুই দেখেছেন।সাফল্য ব্যর্থতার পেছনে কি ভাগ্যের হাত আছে?নাকি পুরোটাই কর্মকেন্দ্রিক?

অভিষেক চ্যাটার্জী : না, শুধু কর্ম নয়।আপনি যতই কর্ম করে যান,ভাগ্য যদি সাহায্য না করে,তাহলে সবটা হবে না।নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি তো হঠাৎ করে ভালো অভিনেতা হয়ে যাননি।সে যখন থেকে অভিনয় করছেন,তখন থেকেই ভালো অভিনেতা।কর্মই যদি সব হয় তাহলে তার সাকসেসটা এতো পরে এল কেন?

একদিন সকলকে থামতে হয়।চিরকাল মানুষের শারীরিক অবস্থা এক থাকে না।সেই সময় কী করবেন?

অভিষেক চ্যাটার্জী : আমি আমার বউ সিরডি সাইবাবার ভক্ত।কোনওদিন যদি মনে হয় আর রোজগার করার দরকার নেই,যা আছে তাতে চালিয়ে নিতে পারব।তাহলে আমরা সিরডি চলে যাবো।আমাদের একটা মাত্র মেয়ে।মেয়েও তখন বড় হয়ে যাবে।

আপনি অনেক বিতর্কিত কথা বললেন।এগুলো ছাপতে পারি?

অভিষেক চ্যাটার্জী : ছাপার জন্যই তো বললাম।

Sponsored
loading...

NO COMMENTS