জলদ গুপ্ত
জলদ গুপ্ত লেখেন না, ভাবেন। নিজেকে মনে করেন মুদির দোকানের মালিক। কোথায় কোন মশলা আছে শুধু সেটুকুই উনি জানেন, খদ্দেরের চাহিদা অনুযায়ী কাগজে মুড়ে দিয়ে দেন...ব্যস। সিধুজ্যাঠার মত অনেক কিছু করার ক্ষমতা থাকলেও অন্যদের অসুবিধা হবে বলে কিছুই করেন নি। কবিতা, নাটক লিখতে পছন্দ করেন আর পাগলের মত পছন্দ করেন সঙ্গীত। পাহাড়ি জঙ্গলের টিলায় বসে হেঁড়ে গলায় গান আর দিনে ১৫ কাপ চায়ের জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত। আদিখ্যেতাকে ঘেন্না করেন, তর্ক করতে ভালোবাসেন। এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যেখানে কোন লেখক থাকবে না।

সব কিছুর একটা সীমা আছে। আরে বাবা সাংবাদিক বলে কি আমরা মানুষ নই। যখন যা খুশি বলবে মাথা নিচু করে মেনে নিতে হবে ? কৃষ্ণ, বিদ্যাসাগর বা ঘন জঙ্গলের মধ্যে পশুদের মিটিং’এ গোরুর মুখের খবর … সম্পাদকের মতে এসব নয় সাংবাদিকতার খুব সাধারণ বিষয় কিন্তু গব্বর সিং !  জীবন বাজি রেখে সম্পাদকের এক কথায় ভয়ংকর দস্যু গব্বর সিং’এর সামনে দাঁড়িয়েছি। ভুলে গেছি আমার বাড়িতে বৃদ্ধ মা,বাবা আছে। একটা বউ আছে, সন্তান আছে। ভারতবর্ষের কোন পত্রিকায় কখনও কোন দিন গব্বর সিং’এর সাক্ষাৎকার বেরোয় নি, আগামী দিনেও বেরোবে না। হ্যাঁ মানছি, তার জন্য উনি আমার মাইনে বাড়িয়ে দিয়েছেন, অফিসে আলাদা চেম্বার করে দিয়েছেন, আসা যাওয়ার জন্য গাড়িরও ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু তাই বলে ভূতের রাজার সাক্ষাৎকার ? ভূত চতুর্দশীর দিন ওটাই নাকি লিড নিউজ হবে ! আচ্ছা, এটা কি মগের মুলুক ? কালই অফিস গিয়ে রেজিগনেশন দেব, দেবই। যা অল্প কিছু প্রভিডেন্ড ফান্ড জমেছে তাই দিয়ে একটা টোটো কিনে নিজের মতো করে চালাবো কিন্তু একটা জোরালো প্রতিবাদ করতেই হবে, নাহলে উনি পেয়ে বসবেন।

Banglalive

অফিসের গাড়িতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম আজই আমার সাংবাদিক জীবনের শেষ দিন। কাল ভূত চতুর্দশীর পূণ্য তিথিতে…। ঘড়িতে তখন রাত ৯’টা। সাধারণত আমি ১২’টা নাগাদ বাড়ি ফিরি, আজ সম্পাদকের সঙ্গে ঝামেলা করে রেগে মেগে তাড়াতাড়ি বেরিয়েছি। ভাবলাম এক রাতের জন্য কোথাও একটা চলে গেলে কেমন হয় ! একেবারে একা। কাজের চাপে কোথাও তো যেতেই পারি না। খুব কষ্ট করে ছুটি জোগাড় করে দিঘা, পুরী গেলেও সেগুলো তো ফ্যামিলি ট্যুর। সেখানে জায়গার আগে বাথরুম দেখতে হয়, সুর্যোদয়, সুর্যাস্ত বা সমুদ্রে ঢেউ খাওয়ার আগে দেখতে হয় বিছানার চাদর পরিস্কার কিনা ! কিন্তু একেবারে একা কোথাও যাওয়া… না মনে পড়ছে না। তাছাড়া কাল থেকে তো এত চাপ আর থাকছে না, কাল থেকে আমি স্বাধীন,  মুক্তবিহঙ্গ। এখন বেরিয়ে গিয়ে রাতটা কোথাও থেকে কাল সকালে সোজা অফিসে এসে রেজিগনেশন জমা দিয়ে একেবারে টোটো কোম্পানি। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, ড্রাইভার রাজু  তো আমার প্রস্তাবে এক পায়ে খাড়া। ওর পরিকল্পনা মতোই কোলাঘাটের কাছে রূপনারায়ণের ধারে ওরই এক বন্ধুর বাড়ি যাব ঠিক করলাম। এই জায়গাটার কথা রাজু আমাকে আগেও বলেছিল, ফাটাফাটি জায়গা। বাড়িটা নদীর ধারে, তালা দেওয়াই পড়ে থাকে। আশপাশে মানুষের বসবাস নেই। গাড়ি ঘুরিয়ে রাজু ওর বন্ধুকে ফোন করলো আর আমি করলাম বাড়িতে, বললাম কাজের চাপ, আজ ফিরতে পারবো না। আমার বাড়ির লোকজন আমার এই না ফেরাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। গাড়ি চলতে শুরু করলো। ঘুমোবো না বলে মিউজিক সিস্টেমে শিলাজিৎ শুনতে শুনতে চললাম অজানার উদ্দ্যেশে।

হটাৎ গাড়িটা খুব জোরে ব্রেক করায় ঘুম ভেঙ্গে গেল। হেডলাইটের আলোয় দেখলাম গ্রামের একটা কাঁচা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশে ঘন অন্ধকার। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা বাজে। রাজু বললো, আমরা এসে গেছি। সামনে বিরাট গাড্ডা, গাড়ি আর এগোবে না। তবে এখান থেকে বাড়িটা কাছেই, হেঁটে মিনিট কুড়ি লাগবে।

আরও পড়ুন:  জেনে নিন গরমে টকদই খেলে কী কী উপকার পাবেন?

দুজনে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলাম। একদিকে ধানক্ষেত আর অন্যদিকে ঘন বাগানকে পাশে নিয়ে গ্রামের চওড়া কাঁচা রাস্তাটা নদীর পাড়ের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। রাজুর হাতে টর্চ আর রাস্তায় কেনা খাবার আর জলের প্যাকেট। রাজুর কাছে এই জায়গাটার পুরোনো ইতিহাস শুনতে শুনতে বেশ এগোচ্ছিলাম হটাৎ পাশের বাশবাগান থেকে একটা মিউজিকের শব্দ কানে এলো। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ছবিতে শোনা সেই ‘ট্যাঁও … ট্যাঁটাও.. .ট্যাঁও … ট্যাঁটাও … ট্যাঁও … ট্যাঁটাও ..। রাজু ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললো, ‘আপনাকে একটা কথা বলা হয় নি, এই জায়গাটা ভাল নয়। এখানে ভূত আছে। এই ভূতের ভয়েই এখানকার বহু মানুষ গ্রামছাড়া হয়েছে। আপনি একটু পা চালিয়ে, মানে দৌড়ে…।’ আমি রাজুর কথা কানে না নিয়ে ওর হাত থেকে টর্চটা কেড়ে নিয়ে মিউজিকটাকে ফলো করে বাঁশবাগানে ঢুকে পড়লাম। রাজু অনেক বারণ করলো, হাতে পায়ে পর্যন্ত ধরলো কিন্তু ওকে কি করে বোঝাবো যে, আমি গব্বর সিং’এর সামনে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছি সেখানে ভুত তো কোন ছার। আরে বাবা ভূতও গব্বর সিং’কে ভয় পায়।

বাঁশবাগানের মধ্যে একটু এগিয়ে যেতেই ভয়ে আমার সারা শরীর পাথর হয়ে গেল। দেখলাম ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবিতে দেখা সেই ভুতেদের নাচ চলছে। পিছন ফিরে দেখলাম রাজু হাত জোড় করে ঠকঠক করে কাঁপছে। স্ট্যাচুর মতো নিঃসাড়ে দাঁড়িয়ে ভূতেদের নৃত্য দেখতে লাগলাম। হটাৎ ভূতের রাজার ডাকেই চমক ভাঙল।        

ভূতের রাজা –  তোঁরা বড়ো বাঁজে ছেঁলে, কাঁছে আঁয়, কাঁছে আঁয়, কাঁছে আঁয়

কাঁপতে কাঁপতে আমরা এগিয়ে গেলাম।

ভূতের রাজা – এঁত রাঁতে এঁখানে কিঁ চাঁই…

                   নাম বঁল, নাম বঁল, নাম বঁল,নাম বঁল,

আমি – বাবা আমি জলদ গুপ্ত, সাংবাদিকতা করি আর ও…

রাজু – আমি রা…জু…  গাড়ি চালাই।

ভূতের রাজা – গাঁড়ি, বাঁড়ি, সংবাদ – সঁব কিঁছু বঁরবাদ,

                   এঁকালের লোকদের বঁর আমি দিই না, দিই না, দিই না, দিই না।

আমি – না, না, আমরা কোন বর চাইতে আসি নি বাবা, আমরা এখান দিয়ে যেতে যেতে গানের শব্দ শুনে ঢুকে পড়েছি, আসলে সাংবাদিক তো…সব কিছুতেই বিশেষ কৌতুহল, তাই…

ভূতের রাজা – জাঁনি জাঁনি সঁব জাঁনি, মাঁনুষের শঁয়তানি,

                   তোঁরা হঁলি মিঁডিয়া, তোঁরা বড় বঁজ্জাত

                   বঁজ্জাত, নঁচ্ছার, বঁজ্জাত, নঁচ্ছার, বঁজ্জাত, নঁচ্ছার

আমি – না, না, বাবা আপনি আমাদের ভুল বুঝছেন। আমরা চারপাশে ঘটে যাওয়া প্রকৃত ঘটনাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমাদের মাধ্যমেই মানুষ তাদের সমাজ, দেশ, পৃথিবীকে জানতে পারে, বুঝতে পারে।

ভূতের রাজা – আর আমাদের কঁথা ? আমাদের কঁথা কে বঁলবে ? মাঁনুষেরা আঁমাদের দুঃখ, কষ্ট, যঁন্ত্রনার কথা জাঁনবে কীঁ করে ?

আমি – আমরা জানাবো বাবা, আমাদের পত্রিকা জানাবে। আপনি বলুন… আমি আপনাদের নিয়ে লিখবো।

ভূতের রাজা –  লিখবি ? সত্যি লিখবি ?

( ভূতের রাজার চোখ ছলছলে। ভূতেদের কান্না পেলে গলা গম্ভীর হয়ে যায়, তখন তারা আর নাকি সুরে বা ছন্দে কথা বলে না।)

আরও পড়ুন:  অবিক্রীত চিকেন তন্দুরির গতি করতে গিয়েই আবিষ্কৃত হয়ে গেল লোভনীয় বাটার চিকেন

আমি – হ্যাঁ লিখবো বাবা, আপনি বলুন।

ভূতের রাজা – বোস… তোরা বোস। এই কে আছিস, এদের কিছু খেতে দে। অনেক দূর থেকে আসছে…

আমি – না বাবা, আমাদের কিছু লাগবে না। আপনি আমাদের বসতে দিয়েছেন এটাই…

 

রাজু – তাছাড়া আমাদের কাছে খাবার আছে বাবা, এই দেখুন… (খাবারের ব্যাগ দেখায়) ।

ভূতের রাজা – চুপ (ধমক)। তোরা এখন ভূতের রাজার অতিথি। এখন আমি যা বলবো তাই হবে।

রাজু- তাই হবে বাবা… তাই হবে। রাজু একদম চুপ… (রাজু মুখে আঙ্গুল দেয়)  

ভূতের রাজা – আমার কথা শুনলে তোদের কোন ক্ষতি হবে না। আমিও তোদের রাজকীয়ভাবেই আপ্যায়ন করবো, আর না শুনলে…

আমি – না না বাবা, আপনার যা মন চায় তাই করুন।

এসময় এক গলা ঘোমটা দেওয়া একটা পেত্নি একটা বড় কচু পাতায় গোটা ছয়েক বড় বড় ইলিশ মাছ ভাজা, আর একটা বন মুরগীর রোষ্ট নিয়ে এসে আমাদের সামনে রেখে যায়। 

ভূতের রাজা – নে… খা, একেবারে টাটকা মাছ, কোলাঘাটের ইলিশ।

আমি – হ্যাঁ, বাবা সে তো গন্ধতেই বুঝতে পারছি। আমরা খাচ্ছি বাবা, আপনি আপনার কথা বলুন।    

ভূতের রাজা – কী আর বলব বল ! মানুষ থাকাকালীন চার দিকে দুর্নীতি, বঞ্চনা, ক্ষমতাশালীর অত্যাচার সহ্য করে, সারা জীবন কষ্ট পেয়ে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনায় মরে ভূত হই আমরা, কিন্তু তারপর ? তারপর এখানে এসেও একই অবস্থা। ভূত থেকে মানুষ হওয়ার প্রমোশন পাওয়ার জন্য কী নোংরামো যে এখানে চলছে সেটা তোরা ভাবতেই পারবি না। আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গীতও বদলে যাচ্ছে। যেন তেন প্রকারেণ সবার শুধু ক্ষমতা চাই, আরে বাবা ক্ষমতা পেতে গেলে তো যোগ্যতা অর্জন করতে হয়, পড়াশুনা করতে হয়…সেসব এদের কে বোঝাবে ! অনেকবার রাজার সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বড়বাবু মানে তোদের বাবা মহাদেবের কাছে রেজিগনেশন লেটার পাঠিয়েছি কিন্তু উনি অ্যাকসেপ্ট করেন নি। কিন্তু আমি আর পারছি না রে… সব ছেড়ে আমি সন্ন্যাস নেব।

আমি – আপনার মানুষ হতে ইচ্ছে করে না ?

ভূতের রাজা – না, একেবারেই করে না। ভূত সমাজের মধ্যে চুরি, জোচ্চুরি, দুর্নীতি ঢুকলেও এরা কিন্তু মিনিমাম একটা এথিক্স মেনটেন করে, মানে এদের মধ্যে চোর থাকলেও সে চুরিটা সৎভাবে করার চেষ্টা করে…

আমি – সৎ-ভাবে চুরি ! ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারলাম না।

ভূতের রাজা – মানে, ভূত সমাজে চোরেদের মধ্যেও একটা মায়া মমতা দেশভক্তি থাকে। একেবারে পুকুর চুরি এরা করে না। কিন্তু মানুষ ! ওদের মধ্যে কোন মানবিকতা মুল্যবোধ কিচ্ছু নেই। সুযোগ পেলেই শুধু খাও…খাও…আর খাও। তখন ওরা আর আগু পিছু ভাবে না, ভাবে না যে কিছুদিন পরেই ওরা মরে যাবে, এই বিশ্বে ওদের আর কেউ মনে রাখবে না। এখন মানুষেরা প্রায় সবাই চোর। এই জন্যই তো গুপি-বাঘার পর আমি বর দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছি।

আরও পড়ুন:  হার্ট ভালো রাখে, সানস্ট্রোক থেকে বাঁচায়, আর কী কী উপকার করে তরমুজ?

আমি – কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে মানুষ তো ধ্বংস হয়ে যাবে বাবা !

ভূতের রাজা – যাবে, কেউ যদি নিজেকে নিজেই শেষ করতে চায় তাহলে কে তাদের বাঁচাবে বল ? মানুষ কিন্তু জেনে বা না জেনে আত্মহত্যা করছে।

আমি – বাবা, কাল তো ‘ভূত চতুর্দশী’, আপনাদের উৎসবের দিন।

ভূতের রাজা – হ্যাঁ, তোদের দুর্গাপুজা, ঈদ বা ক্রিসমাসের মতো কালও আমাদের উৎসবের দিন। কাল সন্ধ্যে থেকে আমরা আমাদের ফেলে আসা ঘর, বাড়ি, আত্মীয় স্বজনের কাছে যাব। ওদের সঙ্গে কথা বলতে না পারলেও, ওদের ছুঁতে না পারলেও আমাদের ফেলে আসা স্মৃতি, পাওয়া না পাওয়াগুলোকে নতুন করে দেখবো। ওই চেনা মানুষগুলো, ওই ঘর, সংসার… খুব কষ্ট হয় জানিস…বড় অতৃপ্তি রে, বুকের ভেতরটা হু…হু… করে ওঠে।

আমি – আজ আমরা আপনাদেরই জন্য চোদ্দ প্রদীপ জ্বালি, চোদ্দ শাক খাই বাবা। প্রত্যেকটা মানুষ এভাবেই তার চোদ্দ পুরুষের আত্মাকে সম্মান জানায়…

ভূতের রাজা – হ্যাঁ, তোরা যে প্রদীপ জ্বালাস সেই প্রদীপের আলোয় সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের স্যার অর্থাৎ তোদের যমরাজ আমাদের প্রোমোশন দেন।

আমি – ও, সেই জন্য এই প্রদীপগুলোকে ‘যম-প্রদীপ’ বলে ?

ভুতের রাজা – তোর অনুমান নির্ভুল। দেশে বিদেশেও আমাদের নিয়ে এই রকম অনুষ্ঠান হয়, যেমন সাহেবরা হ্যালুইন উৎসবের মাধ্যমে আমাদের উদ্দ্যেশে শ্রদ্ধা জানায়। আসলে কি জানিস, মানুষের শরীর হল পঞ্চভূতের সমষ্টি। এই পঞ্চভূত হল মাটি, আগুন, বাতাস, আকাশ এবং জল। দেহের মৃত্যু ঘটা মানে ওই নির্দিস্ট আত্মার পঞ্চভূতে বিলীন হওয়া। আর আমরা অর্থাৎ অতৃপ্ত, প্রমোশন না পাওয়া আত্মারা বাতাসে ভেসে বেড়াই, চিৎকার করে বলি আমাদের মুক্তি দাও… (চোখে জল)… তোরা শুনতে পাস না, কেউ শুনতে পায় না। কাল আমাদের উৎসব মিটে গেলে কালী আন্টি মর্তে যাবেন। শুরু হবে আলোর উৎসব দীপাবলি, তখন আমরা আবার যে তিমিরে সেই তিমিরেই চলে যাব।

আমি – বাবা, আপনি কষ্ট পাবেন না, আমরা সবাই আপনার পাশে আছি।

ভূতের রাজা – এই শোন, এই ধরণের কথা বলা এবার বন্ধ কর। এই পাশে আছি, বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বা কিছু হলেই মোমবাতি জ্বালিয়ে রাস্তায় বেরনো… যত সব আদিখ্যেতা। আমরা এসব দেখি আর হাসি। এই যে পুলিশটা খুন হলো বা গৌরী লঙ্কেশ নামে একটা মেয়েকে মেরে ফেলা হলো… ওদের পরিবারের পাশে থেকে বা হাজার হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে সমাজব্যবস্থার কি পরিবর্তন হবে ? বা এতদিনে কী পরিবর্তন হয়েছে শুনি ?

আমি – ঠিক, বাবা…আপনি ঠিক বলছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,  আমাদের খাওয়া হয়ে গেছে বাবা, এবার আমরা উঠি। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে বাবা। কাল আপনার এই কথাগুলো সবাই জানবে, আপনার সঙ্গে এই কথোপকথনই হবে আমাদের পত্রিকার লিড নিউজ।

ভূতের রাজা – তোদেরও অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকিস, সবাইকে ভাল রাখিস। সাবধানে যাবি।

আমি – আপনাকে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম। ভাল থাকবেন। চলি…

1 COMMENT