Aparajita Adhya Interview

নির্মল‚সহজ‚প্রাণখোলা – এমনভাবেই হয়তো ব্যাখ্যা করা যায় অভিনেত্রী অপরাজিতাকে | সাম্প্রতিক কালে শুধু টেলিভিশনেই নয় বড় পর্দাতেও ডানা মেলেছে তাঁর অভিনয়ের দীপ্তি | তাঁর সাথে মনখোলা আড্ডায় তন্ময় দত্ত গুপ্ত |

 

আপনি একটা মেগাসিরিয়ালের শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন।সেই সিরিয়ালের পরিচালক আপনাকে দেখেই বলেছিলেন পরের দিন থেকে শুটিং করতে।সেই মতো আপনি পরের দিন থেকেই শুটিং করতে শুরু করেছিলেন।সেইদিন থেকেই কি ভেবে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী হবেন?

অপরাজিতা : আমি কোনওদিন আভিনেত্রী হব ভাবিনি।আমি ডান্সার ছিলাম।আমার নিজের নাচের স্কুল ছিল।আমি তনুশ্রী শংকরের কাছে নাচ শিখতাম।আমার বাবা মা আমাকে শিল্পী হিসেবে ভবিষ্যতে দেখেতে চাইতেন।আমিও শিল্পী হবার স্বপ্ন দেখতাম।

আপনার পরিবারের মধ্যে কি অভিনয় বা তেমন কোনও ফাইন আর্টসের চর্চা ছিল?

অপরাজিতা : আমার বাবা খুব ট্যালেন্টেড ছিলেন।উনি পাড়ায় একবার ‘ওয়ারেন হেস্টিংস’ বলে একটা নাটক করেছিলেন।বাবা এতটাই দেখতে সুন্দর ছিলেন যে সেই নাটকে বাবাকে দেখে সবাই ভেবেছিলেন বাবা বুঝি সাহেব ছিলেন।বাবা খুব ভালো গান গাইতেন।অভিনয়ও খুব ভালো করতেন।আমার মাও খুব প্রতিভাময়ী।মা খুব ভালো গান গাইতে পারেন।মা পেশায় শিক্ষিকা ছিলেন।মার হাত ধরেই আমি প্রথম গ্রুপ থিয়েটার দেখি।

সিরিয়ালে অভিনয়ের আগে অভিনয় নিয়ে আপনার কোনও তালিম ছিল?

অপরাজিতা : না তেমন কিছুই করিনি।স্কুলে একবার শুধু ‘ফেরারী ফৌজ’ নাটক করেছিলাম।আমার মনে হয় যিনি ভালো ডান্সার তিনি অভিনয়টাও ভালো করতে পারবেন।কারণ নাচের যে শরীরী ভাষা সেই ভাষার মাধ্যমে অভিনয় ব্যক্ত করতে হয়।আদিম সময়ে মানুষের যখন ভাষা ছিল না তখন নৃ্ত্যের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে প্রকাশ করত।প্রকৃতির আদি ভাষা হলো নাচ।আর এই নাচের তালিম-তো আমার আগে থেকেই ছিলো।

অনেকে অনেক রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে অভিনয় জগতে আসেনআপনার কি অভিনয় জীবনে কোনও প্রতিবন্ধকতা এসেছে?

অপরাজিতা : আমার জীবনে এতো প্রতিবন্ধকতা ছিল যে আলাদা করে অভিনয় জীবনে নতুন করে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়নি।আমি খুব রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে।আমার বাবা মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা এক সময়ে খুবই খারাপ ছিল।সেই সময় আমাদের দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে।খুব প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে আমি লেখা-পড়া শিখেছি।ক্লাস টেন পর্যন্ত আমার কোনও টিচার ছিল না।আনুসঙ্গিক এতো প্রতিবন্ধকতা ছিল যে অভিনয়ের জন্য আলাদা কোনও প্রতিবন্ধকতা ফেস করতে হয়নি।

আপনি বললেন আপনার পরিবার রক্ষণশীল ছিল।কিন্তু আপনার বাবা মা আপনাকে তো খুব উৎসাহ দিতেন?

অপরাজিতা : আমার বাবা মা খুব লিবারেল ছিলেন।কিন্তু জয়েন্ট ফ্যামিলি ছিল বলে আমার নাচটাকে ভালো চোখে দেখা হতো না।বাবা মা আমাকে খুব কষ্ট করেই নাচটা শিখিয়েছিলেন।আমার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার আগে আমার বাবা মারা যান।তখন আরো আমার ওপর কড়া মনোভাব নেওয়া শুরু হয়।

আরও পড়ুন:  জেনে নিন বলিউডের বিখ্যাত সব হোলি পার্টির খবরাখবর

আপনি নানা রকম অস্তিত্বের মধ্যে দিয়ে জীবনে গিয়েছেন।কখনও ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতি অভিনীত চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে?

অপরাজিতা : ছোটবেলা থেকে আমার খুব স্ট্রং অবজার্ভেশন ছিল।আমি অবজার্ভেশনে খুব বিশ্বাসী।সুতরাং যখই আমি কোনও চরিত্র পাই,তখনই আমি দেখি আমার অবজার্ভ করা কোন চরিত্রের মধ্যে সেটা পড়ছে।বাস্তবে দেখা কোনও না কোনও চরিত্রের সাথে অভিনীত চরিত্রের মিল ঠিক পেয়ে যাই।ফলে বাস্তব আর কল্পনার মিশেলে মাথার মধ্যে আমি একটা সিনেমা তৈরী করি।সেই সিনেমার মধ্যে আমি সেই চরিত্রটাকে বসাই।তারপর চরিত্রটা যখন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে তখন আমি সেই চরিত্রে অভিনয় করি।

আপনি শহুরে সভ্যতার মানুষ।কিন্তু ‘জলনুপুর’ সিরিয়ালে আপনার অভিনীত পারি’ চরিত্রে আপনি অদ্ভুত এক ডায়ালেক্ট এনেছেন।এই চরিত্র নির্মাণ করলেন কী উপায়ে?

অপরাজিতা : আমি এন.জি.ও-র সাথে জড়িত।আমি এরকম অনেক মানুষ দেখেছি যাদের দেহের বয়স চৌত্রিশ অথচ মনের বয়স চার ।তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ,তাদের এ্যাকশান রিঅ্যাকশন আমার চেনা।ফলে আমি যখন অভিনয় করতে গেছি তখন সেগুলো খুব কাজে লেগেছে।

আপনি একজন দক্ষ অভিনেত্রী।কিন্তু বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে তেমন ভাবে ব্যবহার করেনি।এটা নিয়ে কখনও কিছু মনে হয়েছে?

অপরাজিতা : আমার তেমন কিছু মনে হয়নি।আমার যখন কুড়ি বাইশ বছর বয়স তখন অনেক সিনেমার অফার পেয়েছিলাম।কিন্তু সেই চরিত্রগুলো আমার পছন্দ হয়নি।তাই সেগুলো এ্যাকসেপ্ট করিনি।সেই সময় টেলিভিশনে অনেক ভালো চরিত্রে অভিনয় করেছি।এবং টেলিভিশন থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।আসলে আমি কতো সংখ্যক ছবি করলাম—সেটা প্রধান বিষয় নয়।আমার মূল উদ্দেশ্য হোল ভালো অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌছানো।আমার অভিনীত ‘বেলাশেষে,’‘গয়নার  বাক্স,’‘প্রাক্তন’ ছবিগুলো-তো একরকমের ইতিহাস তৈরী করেছে।

একটা কথা প্রচলিত আছে— সিরিয়ালে যে অভিনেতা অভিনেত্রী অভিনয় করেন;সেইঅভিনেতা অভিনেত্রীকে সিনেমায় দর্শক দেখতে চান না।এ ব্যাপারে আপনার কী মতামত?

অপরাজিতা : এই মিথটা এখন ভেঙে গেছে।এখন কেউ টেলিভিশন আর সিনেমার মধ্যে সেই ভাগাভাগি  করেন না।এখন শুধু ভালো শিল্পীর কাজ মানুষ দেখতে চান।এই দেখাটা ছোট পর্দা বড় পর্দা নির্বিশেষে ঘটে।

কোন ধরনের চরিত্র নির্বাচন করতে আপনি বেশি পছন্দ করেন?

অপরাজিতা : একটা চরিত্র আমাকে যখন দেওয়া হয় তখন আমি দেখি আমার ভাবনার সঙ্গে পরিচালকের ভাবনা মিলছে কিনা।যদি মিলে যায় তখন আমি সেই চরিত্রকে নিজের মধ্যে লালন করি।তারপর সেই চরিত্রে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করি।

আপনার ঘরে এক সময়ে আমির খান আর প্রসেনজিত চ্যাটার্জীর ছবি টাঙ্গানো থাকত।সেই সময়ের কথা কিছু বলুন।

অপরাজিতা : সেই সময় বাড়ির বাইরে গিয়ে সিনেমা দেখতে পেতাম না।বাড়ি থেকে সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশ ছিল।আমি ক্লাস নাইনে প্রথম হলে গিয়ে ‘বাজিগর’ সিনেমা দেখি।তখন যা দেখার টিভিতেই দেখতাম।রেডিও শুনতাম।আর বান্ধবীদের মুখে সিনেমার গল্প হুবুহু সিন বাই সিন শুনতাম।আর আমি ওদের চোখ দিয়ে সিনেমাটা দেখতাম।আমি ক্লাস থ্রি থেকে ফোরে ওঠার সময় খুব ভালো রেজাল্ট করি।তাই আমার এক বান্ধবীর পিসি আমাকে আর আমার বান্ধবীকে নিয়ে প্রসেনজিতের একটা সিনেমা দেখাতে নিয়ে যান।ছবিটা ছিল ‘আমার তুমি’।ওই ছবিতে প্রসেনজিতের নায়িকা ছিলেন ফারহা।ওই ছবিটা দেখে আমার প্রসেনজিতকে এতো ভালো লাগে যে আমি প্রসেনজিতের ফ্যান হয়ে যাই।আর আমির খানের ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’ ছবিটা না দেখেই আমি আমির খানের ফ্যান হয়ে যাই।

আরও পড়ুন:  কিডন্যাপ করে চলন্ত গাড়িতে তুলে শ্লীলতাহানি‚ কোনমতে বেঁচে ফিরলেন জনপ্রিয় মালায়লম অভিনেত্রী

সেটা কিভাবে হলো?

অপরাজিতা : আমি ‘কায়ামত সে কায়ামত তকের’ গল্প শুনে আমির খানের ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম।বড় হয়ে আমি ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’ দেখেছিলাম।তখন সিনেমাটা আমার খুব খারাপ লেগেছিল।

প্রসেনজিতের সঙ্গে  আপনার একবার কাজ করবার কথা হয়েছিল।কিন্তু প্রসেনজিতই নাকি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাননি?

অপরাজিতা : এটা আমার অন্য লোকের কাছ থেকে শোনা কথা।এর মধ্যে কতোটা সত্যতা রয়েছে—সেটা বলতে পারব না।ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আমার প্রসেনজিতের সঙ্গে আলাপ হয় তখন বুম্বাদা একটা ছবি পরিচালনা করছিলেন।বুম্বাদাই আমাকে সেই ছবিতে নায়িকা হিসেবে পছন্দ করেছিলেন।পরে সেই ছবি আর যে কোনও কারণে করা হয়নি।আমার বুম্বাদার বাড়িতে ফোটো শ্যুটও হয়েছিল।বুম্বাদাকে যখন প্রথম সামনাসামনি দেখি তখন অতীতের সেই হিরোইক মিথটা ভেঙে যায়।উনি খুব ভালো মানুষ।ওনাকে দেখে আমার মনে হয়েছে উনি আমাদেরই একজন।

আপনি এখন বলিউডেও কাজ করছেন।ওখানে কাজ করার এক্সপিরিয়েন্স কেমন?

অপরাজিতা : বলিউডের মধ্যে একটা প্রোফেশনাল এ্যাটিটিউড রয়েছে।ওরা একটু বেশি সময় নিয়ে কাজ করে।এছাড়া ওদের ব্যবহার কলকাতার মতোই আন্তরিক।ওদের সঙ্গে কাজ করার সময় আমার মনেই হয়না যে আমি কলকাতার বাইরে কাজ করছি।

আপনার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট কোনগুলি বলে মনে হয়?

অপরাজিতা : আমার কাজে একবার একটা গ্যাপ হয়েছিল।৯৮ থেকে ৯৯ সাল পর্যন্ত আমি কোনও কাজ করিনি।২০০০ সালে আমি আবার ফিরে আসি।‘এক আকাশের নীচে’ সিরিয়ালটা আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।‘এক আকাশের নীচে’ আর ‘টাকা না সোনা’(নন ফিকশন)আমাকে অদ্ভুত পরিচিতি দিয়েছে।‘তমসা রেখা’, ‘কুরুক্ষেত্র’ আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।‘জল নুপুর,’ ‘গানের ওপারে’ আমার জীবনের আর একটা টার্নিং পয়েন্ট।আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত খুব স্মরণীয়।খারাপ কাজ আমি খুব কম করেছি।

একই সময়ে যদি টলিউড এবং বলিউডে কাজ পড়ে  তাহলে কোন কাজটা করবেন?

অপরাজিতা : ডেট ম্যানেজ করে দুটো কাজই করব।

আপনি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মানে ফেসবুক,হোয়াটস অ্যাপ করেন না।আজকের সময়ে পাবলিক রিলেশনে কোনওরকম অসুবিধা হয়না?

অপরাজিতা : আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।যার আমাকে প্রয়োজন ঈশ্বর তাকে ঠিক আমার কাছে নিয়ে আসবে।আমি অস্থির হয়ে কি করব।

এখন ঈশ্বরের কাছে কী প্রার্থনা করবেন?

অপরাজিতা : সকলের উন্নতি প্রার্থনা করি।উন্নতি ছাড়া মূল্যবোধ তৈরী হয় না।আমি কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যক্তির উন্নতির কথা বলছি না।আমি বলছি সার্বিক মানসিক ও শারীরিক উন্নতির কথা।

আরও পড়ুন:  'পদ্মাবতী'র সেট আগুনে পুড়িয়ে দিলো দুষ্কৃতীরা

আপনার জীবনে আপনার মার প্রভাব অনেকখানি।মার সঙ্গে সিনেমা নিয়ে আলোচনা হয়?

অপরাজিতা : আমার মা সিনেমাটা আমার থেকে অনেক বেশি বোঝেন।আমার মা খুব উচ্চাকাঙ্খী ছিলেন।মা আমার মধ্যে দিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন,আমি সেই স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করেছি।তবে মা যতোটা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন,ততটা কিন্তু আমি হতে পারিনি।

আপনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও বন্ধু হয় না।এরকম বলার কারণ কী?

অপরাজিতা : বন্ধু শব্দটা অনেক বড়।প্রথম দিন আমি স্কুলে গিয়ে যখন ভর্তি হই,তখন যে বন্ধু আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল সে আজও আমার বন্ধু।তার সঙ্গেই আমি কোচিন থেকে পালিয়ে ঘুরতে যেতাম।আমাকে প্রথম একজন চিঠির মাধ্যমে প্রেম প্রস্তাব দেয়।সেই চিঠি ম্যাথর পটির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।আমার বান্ধবী সেখান থেকে চিঠি উদ্ধার করে আমায় দেয়।এরকমই আমাদের বন্ধুত্ব।আমার বন্ধুরা আমার কাছে ঈশ্বর।

এই ইন্ডাস্ট্রিতে তেমন বন্ধু পান নি?

অপরাজিতা : যতক্ষণ কাজ হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে ততক্ষণ সবাই সবার খোঁজ করে।যেই কাজ শেষ অমনি খোঁজ খবর নেওয়া যোগাযোগও শেষ।আমি তো এরকম বন্ধুত্বে বিশ্বাসী নই।আমি খুব পিওরিটিতে বিশ্বাসী।

আপনি অবসরে কীভাবে কাটান ?

অপরাজিতা : আমি অবসরে পুজোআচ্চার মধ্যে দিয়ে কাটাই।আমাদের যৌথ পরিবার বলে অনেক কাজ থাকে।সেই সমস্ত কাজ করি।এ ছাড়া আমি মহাজাগতিক বিষয়ের ওপর বই পড়তে খুব ভালোবাসি।

বইয়ে পড়া কোনও চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে হয়েছে?

অপরাজিতা : আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি,সেই চরিত্রই আমার কাছে কাঙ্খিত চরিত্র হয়ে ওঠে।আমি চাই আমার অভিনীত চরিত্র দেখে মানুষের যেন তৃপ্তি আসে।

আপনার ভালোলাগা এবং খারাপ লাগার অভিব্যক্তি আপনি কীভাবে প্রকাশ করেন?

অপরাজিতা : আমি খুব স্পষ্টবাদী।আমার ভালো লাগা,খারাপ লাগা আমি স্পষ্ট কথায় প্রকাশ করি।আর আমি কারোর পেছনে কথা বলি না।

বাংলা সিনেমা আজ খালি এলিট ক্লাস সোসাইটির কথা বলে।নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দুঃখ কষ্টের কথা তেমন দেখা যায়না।এর কারণ কী বলে মনে হয়?

অপরাজিতা : আসলে কোনও কিছু হিট হলে সেই ট্রেইণ্ড চলতে থাকে।আগে টেলিভিশনে সব রকমের কাজ হতো।সেই সব কাজ অনেক সমৃদ্ধ ছিল।এখন টেলিভিশনের একই রকম ফরম্যাট ।সিনেমারও ঠিক সেই একই ফরম্যাটে চলছে।তবে আমার মনে হয় এরও পরিবর্তনও আসবে।

এত ব্যস্ততা চাপের মধ্যেও আপনার ঠোঁটে সেই ভুবনজয়ী হাসি লেগে থাকে।এই হাসির পেছনের রহস্যটা কী?

অপরাজিতা : আসলে আমি কোনও চাপ নেই না।আমি সব ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিই।আর হাসি তো সম্পদ।তাকে সঙ্গে করেই পথ চলতে হবে।

NO COMMENTS