বাংলালাইভ রেটিং -
Befikre review in Bengali

খবরটা প্রথম শুনে অবাক লাগে নি একটুও। আদিত্য চোপড়ার নতুন সিনেমা, তাতে হিরোইন নাকি বলতে গেলে প্রায় অচেনা একটা মুখ। মনে মনে রেডি হয়ে গেছিলাম চোখ ঝলসে দেওয়া রূপের একটা বিস্ফোরণ দেখার জন্যে। হাজার হাজার মেয়ের মধ্যে থেকে ছেঁকে বেছে তুলে তবে তাঁকে নিয়ে আদিত্য চোপড়া সিনেমা বানাচ্ছে মানে তো সে মেয়ে বলতে গেলে লাখে এক কিংবা কোটিকে গুটিক টাইপস হবে!

সেসময় ঝুপঝাপ মনে পড়ছিল ‘রব নে বনা দি জোড়ি’র ফ্রেমগুলো। সেই সিনেমাতেই একদম নতুন অচেনা মেয়ে অনুষ্কা শর্মার প্রথম আবির্ভাব, মনে আছে তো? কোন ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না কিন্তু অনুষ্কার। মানে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মামা-কাকা আগে থেকে সেট করা ছিল না কোথাও। জহুরির চোখ চালিয়ে সেই প্রায় অজ্ঞাতকুলশীল শর্মাকে খুঁজে বের করে আনার ক্রেডিট তো এই আদিত্য চোপড়ারই ছিল!

আর তারপর বাকিটা তো ইতিহাস হয়ে গেল! শুধু তো রূপ নয়, সব মিলিয়ে চমকে দেওয়ার মতো প্যাকেজ। বেশিক্ষণ একটানা চেয়ে দেখা যায় না, এমন একটা মেয়ে। ‘রব নে’ তৈরি হল ২০০৮ সালে। তার মোটে ৮ বছরের মধ্যে ওই মেয়ে শুধু নিজে হিট হিরোইন নয়, স্টার ক্রিকেটারের গার্লফ্রেন্ড প্লাস নিজে তোলপাড় ফ্যালা হিট সিনেমার প্রোডিউসার অবধি হয়ে গেল!

ফের সেই ‘আদি স্যর’-এর সিনেমায় নতুন মুখ আসছে মানে ফের একটা ধুকপুকুনি শুরু! না জানি এবারটা কী হবে!

17এরপর শুনলাম, মেয়েটা একেবারে নাকি নতুন মুখ নয়, আগেও যশরাজ ফিল্মসে কাজ করেছে। বাণী কাপুর নাম। সত্যি বলতে কি,এবার আমি এক ঝটকায় অগাধ জলের মধ্যে। আগেই কাজ করেছে যশরাজের ছবিতে, অথচ মুখটাই মনে পড়ছে না? এতটা আনইমপ্রেসিভ ছিল বুঝি? আচ্ছা, সেই ফার্স্ট সিনেমার নামটা কী ছিল?

‘শুধ দেশি রোমান্স’ নামটা শোনার পর জোরকা ঝটকা যেন ধীরেসে এসে লাগলো। ‘শুধ দেশি রোমান্স’ মানে তো শুরু থেকে শেষ অবধি পরিণীতি চোপড়া শুধু। সেখানে বাণী কাপুর আবার কে ভাই? ওহো, তারপর মনে হল, সেই যার সঙ্গে সুশান্ত সিং রাজপুতের বিয়েটা ভেঙে যাবে, আর পরিণীতি-সুশান্ত আর সেই মেয়েটা তিনজনে মিলে একটা লেভেলে জবরদস্ত একটা ত্রিকোণ রিলেশনের গপ্পো হয়ে দাঁড়াবে, সেই মেয়েটা বুঝি?

গুগল করে দেখি, সত্যি তাই! সেই মেয়েটাই বাণী কাপুর! দেখে-শুনে আমি তখন এক্কেবারে চুপ। এইরকম হয় নাকি? নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। ‘শুধ দেশি রোমান্স’ দেখতে বসে একবারও তো ভাবতে পারি নি যে এই মেয়েটা কোনকালে হিরোইন মেটিরিয়াল মেয়ে হতে পারে। সাইড রোল-টোলের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু তাই বলে মেন হিরোইন? আদি চোপড়ার ফিল্মোগ্রাফিটা কেমন দাঁড়াচ্ছে দেখুন এবার। ফার্স্ট ফিল্মে হিরোইন নিলেন কাজলকে। পরের ফিল্মে তিনটে মিনি-সাইজ সাইড হিরোইন বাদ দিলে আসল হিরোইন ছিল ঐশ্বর্য রাই। থার্ড ফিল্মে অনুষ্কা শর্মা। এই অবধি লাইন-আপ পুরো ঠিক ছিল, এখন চার নম্বর ছবিতে এসে শেষে কিনা এই বাণী কাপুর?

নাকি হিরোইন বলতে যে ‘আই ক্যান্ডি’ ইমেজটা আর ঢলঢল শরীরটা আমার মতো আম-পাবলিকের টপ অফ দ্য মাইন্ডে উপচে আসে, প্ল্যান করে সেটা ভেস্তে দেওয়াটাই এবারের মতো আদি চোপড়ার স্কিম?

রিলিজের সেকেন্ড উইক। প্রায় ফাঁকা অডিটোরিয়ামে যখন ‘বেফিকরে’ দেখতে ঢুকেছি, তখন আসলে সিনেমা দেখতে ঢুকি নি। দেখতে ঢুকেছি বাণীকে। কে জানে, এই সিনেমায় হয়তো আগাপাস্তলা চেঞ্জ করে গেছে মেয়েটা। বলিউডে তো এরকম আকছার হয়, শুনি। এই অপারেশন, সেই অপারেশন। ব্যাস, মেয়ে চেঞ্জ হয়ে গেল। লুক-টুক সব ভেঙেচুরে নিউ ভার্সন রেডি। চেনা উদাহরণ বলতে এক্ষুনি রেখার নামটা মনে আসছে। কেরিয়ারের প্রথম দিকের ছবিগুলোয় কীরকম ছিলেন আর তারপর কালে-দিনে নিজেকে পালটাতে পালটাতে কোথায় এনে ফেললেন, আপনি বলুন!

‘বেফিকরে’ দেখতে ঢুকে সেরকম একটা কিছুর সাক্ষী হব কিনা, সেটা ভেবে নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ করেছিলাম। এর মধ্যেই পর্দায় শুরু হয়ে গেল চুমু খাওয়ার উৎসব। হিরো-হিরোইনের চুমু নয়। জনতা ক্লাসের চুমু। নাম দেখানো হচ্ছে সিনেমার কিন্তু সেদিকে দেখবো কী, স্ক্রিন জুড়ে তো একটানা চুমুর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে! সবাই চুমু খেয়ে চলেছে সবাইকে, ছেলে-মেয়েরা তো খাচ্ছেই, ছেলেতে-ছেলেতে বা মেয়েতে-মেয়েতে চুমুর সিনও আছে।

আরও পড়ুন:  চাপে পড়ে শেষমেশ দায়ের খুনের মামলা‚ গ্রেফতার হতে পারেন বিক্রম

8ছবির এই দুর্দান্ত বিগিনিং ক্রেডিট দেখতে দেখতে আঁচ করতে পারছি,শুরুর এই মন্তাজটা আদি চোপড়ার তরফে প্রায় একটা মাস্টারস্ট্রোকের মতো। এক, এটা দেখিয়েই যেন বলে দেওয়া হল, দ্যাখো ভাই, কি প্রোগ্রেসিভ লোক আমি, আমার কাছে আদর মানে জাস্ট আদর, সেখানে সেটা ‘হেটেরো’ হবে নাকি ‘এলজিবিটি’, সেটা নিয়ে কোন ফারাক করি না আমি। আর দু’ নম্বর পয়েন্ট যেন এইটে যে, স্যরি, তোমাদের জন্য তেমন জুৎসই একটা নায়িকা তো খুঁজে বের করতে পারি নি এবারে, কী আর করবো, কমপেনসেশন ভেবে তোমরা এই চুমুর সিনগুলো অ্যাকসেপ্ট করে নাও প্লিজ।

ক্রেডিট শেষ হয়ে ছবি শুরুর ফার্স্ট সিনেই শায়রা (মানে, বাণী কাপুর) আর ধরমের (মানে, রণবীর সিং) মধ্যে তুমুল ঝগড়া। এখন হিন্দি সিনেমায় জেনারেলি যেটা হয়, হিরোটা বেশিরভাগ সময় ফুল ড্রেস আপ করে থাকে আর হিরোইন থাকে হাফ উলঙ্গ । এই সিনেমার শুরুর সিনে দেখি, ওমা, এই রুলটাও ব্রেক করে গেল। হিরোটা বলতে গেলে ফুল উদোম, জাস্ট একটা জাঙিয়া পরে আছে শুধু। আর হিরোইনটাকে দ্যাখো, শরীর জুড়ে পুরো ধরাচুড়ো নিয়ে ফিট।

কিন্তু এই অবস্থা বেশিক্ষণ চলতে থাকলে পাবলিক মানবেটাই বা কেন? এখনকার মতো হিরোর বডি দেখান হচ্ছে, পরের দিকের একটা সিনে হাফ সেকেন্ডের জন্যে হিরোর উদোম নিতম্বও দেখান হবে, সে সব ঠিক আছে। তাই বলে শুরুর শটে হিরোইন এরকম গা ঢেকে থাকবে, এটা পসিবল?

ব্যাস, বলতে না বলতে শায়রা এক ঝটকায় খুলে ফেলল তার শার্ট। খুলবে না কেন বলুন, ওটা যে আসলে ধরমের শার্ট, আর ঝগড়া করে অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে শায়রা বেরিয়ে যাচ্ছে বলে ধরম এখন ওর থেকে ফেরত চেয়েছে ওটা। ব্যাস ধুম করে অমনি শার্ট খুলে ফ্যালা আর অমনি আপনি দেখতে পেলেন ওর মাখনের মতো শরীর, মাছি বসলে পিছলে যাবে এমন ত্বক, আর পুরো ঊর্ধ্বাঙ্গে শুধু অন্তর্বাস ছাড়া আর কিচ্ছু নেই।

তাই নিয়েই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মেয়েটা। এখন আপনি মন দিয়ে গল্প ফলো করতে থাকবেন নাকি আদি চোপড়ার এই সুপার চালে কাত হয়ে গিয়ে হাঁ করে ফলো করতে থাকবেন ওই শায়রা মেয়েটিকেই শুধু, সেই চয়েস তো আপনার হাতে, ভাই! তবে আর কিছু না হোক এটা তো বুঝতে পারছেন যে, এই যে সিচুয়েশনের জেরে ফস করে আপনাকে নায়িকার অনেকটা শরীর-টরির দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটাও আসলে আর কিছু নয়, এর আগে লেখা ওই কমপেনসেশন প্যাকেজের পার্ট।

এবার একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন প্লিজ। চমকে গিয়ে দেখবেন, নায়িকা সুন্দরী নয় বলে এন্তার শরীর দেখিয়ে সেই ‘ঘাটতি’ কমপেনসেট করে দেওয়ার মডেলটা ‘যশরাজ ফিল্মস’-এ কিন্তু এই নতুন হল না। ঠিক এগার বছর আগের একটা ডিসেম্বরে এই প্রোডাকশন হাউস থেকেই তৈরি ‘নীল এন নিক্কি’ (২০০৫) মনে পড়ছে? যে মডেলটার কথা লিখলাম, সেটার চরম একটা প্রয়োগ তো সেই ছবিতেই সাজিয়ে-গুছিয়ে হয়ে গেছিল দিব্যি!

21মহিলার নাম তানিশা মুখার্জি। সেই মহিলাকে হিরোইন বানিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ফিট-ইন করে দেওয়ার জন্যে তৈরি হয়েছিল সেই ‘নীল এন নিক্কি’। এদিক ওদিক খুচখাচ রোল করে বেড়ান ওই মহিলার মাইনাস পয়েন্ট বলতে ছিল এইটে যে, যে মাপকাঠিগুলো দিয়ে এই উপমহাদেশে রূপের বিচার চলে, সেগুলোতে উতরে যাওয়াটা সাধ্যে ছিল না তাঁর। তবে প্লাস পয়েন্টটা ছিল জব্বর, তিনি ছিলেন স্টার অভিনেত্রী কাজলের নিজের ছোট বোন।

প্রায় জিরো স্টার পাওয়ারের লো-বাজেট ছবি ‘নীল এন নিক্কি’তে সেই তানিশা ফুল-ফ্লেজেড নায়িকা। এখন এই মহিলা যে কাজলের বোন, আর সেই কানেকশনে যে তিনি যশরাজ ক্যাম্পের ছবি অবধি ম্যানেজ করে ছেড়েছেন, সেটা তো আর যারা ছবি দেখতে বসেছে তাদের সবার জানা নেই। তাই ছবি দেখতে গিয়ে তাদের তো প্রায় বলতে গেলে বাড়া ভাতে ছাই! আর সেটাকে পুষিয়ে দেওয়ার জন্যে তখন সেই ছবিতে শুরু থেকে শেষ অবধি লাগাতার কীভাবে ভিস্যুয়াল ফিস্ট জুগিয়ে যাওয়া হল, সেটার একটা আন্দাজ আপনি সে ছবির পোস্টার থেকেই পাবেন।

আরও পড়ুন:  দীপিকা পাড়ুকোনের জন্যই 'পদ্মাবতী'তে কাজ করার অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শাহরুখ!!

‘বেফিকরে’ দেখছি আর ভাবছি, কোন আক্কেলে এগার বছর আগের ফ্লপ সিনেমা ‘নীল এন নিকি’র মডেল এখন আবার নিজের ছবিতে ফিটিং করছেন আদি। শুধু তো ড্রেস খোলাখুলি, চুমু খেয়ে যাওয়া, হটপ্যান্ট পরে ফুল শেভ করা দারুণ দারুণ থাই দেখানো কিংবা দিশি নায়িকাকে খুল্লামখুল্লা বিকিনি পরে হাটের মাঝে নামিয়ে দেওয়াই নয়, এ যে বেসিক প্লট অবধি ওই সিনেমা সেঁচে তুলে নিয়ে এই সিনেমায় বসিয়ে দিচ্ছেন আদি! হলটা কী ভদ্রলোকের! ‘নীল এন নিক্কি’ না হয় না বানালে চলছিলোই না, কাজলের ছোট বোনকে হিরোইন বানানোর পাশাপাশি নিজের ছোট ভাইটাকে মানে উদয় চোপড়াকে সোলো-হিরো করে একটা ছবি জুগিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটাও ছিল। কিন্তু এবার এই ‘বেফিকরে’র বেলায় তো তেমন কোন চাপ নেই। তাহলে ছবিটা করতেই হবে, না করলে হবে না, এরকম মাথার দিব্যি কে দিয়েছিল আদিকে?

কেসটা কী, জানি না। কিন্তু যত এই ছবিটাকে মিলিয়ে দেখছিলাম সেই ‘নীল এন নিক্কি’র সঙ্গে, জাস্ট ধাঁধা খেয়ে যাচ্ছিলাম, জানেন! সে ছবির গুরনীল আলুওয়ালিয়া আর নিকিতা বক্সি – দুজনেই ছিল পঞ্জাবী। কিন্তু ছবির স্টার্ট টু ফিনিশ ছিল ফরেনে। কখনো কানাডা, কখনো ব্রিটিশ কলম্বিয়া। কখনো ভ্যাঙ্কুভার। আর এখানে দেখুন। শায়রা গিল হল পঞ্জাবের মেয়ে আর ধরম দিল্লির করোলবাগের ছেলে। কিন্তু এখানেও তো দুজনেই বলতে গেলে পাক্কা প্যারিসওয়ালা! আর ছবির শুরু থেকে শেষ অবধি এই ছবিটাও আপনার-আমার কাছে সেই প্যারিসে টানা একটা ফরেন ট্রিপের মতো।

3কী ‘নীল এন নিক্কি’ বলুন, কী ‘বেফিকরে’। দুটো ছবিতেই নায়ক-নায়িকার চারচোখের মিলন হচ্ছে হুল্লুড়ে এক পার্টিতে। পটানোর টার্গেট ছিল ফরেনের ফর্সা-ফর্সা মেয়েগুলোকে, কিন্তু কী করে যেন দুটো কেসেই তীর বেঁধাবেধিগুলো হয়ে যাচ্ছে দিশি গার্লের সঙ্গে। এরপর? সোজা হোটেলের রুমে, কিংবা নিজের অ্যাপার্টমেন্টে। সে ছবির গুরনীল আলুওয়ালিয়া টার্গেট নিয়েছিল বিয়ের আগে একুশ দিনে একুশটা মেয়ের সঙ্গে শোবে। আর এ ছবির ধরম তো বিয়ে করতেই চায় না, কোনদিন ‘আই লাভ ইউ’ বলতেও চায় না, মেয়ে বদলে বদলে জাস্ট শুধু সেক্স করে যেতে চায়। কাঁচা বয়সের মেয়ে থেকে এক ছেলের মা হয়ে যাওয়া মেয়ে। তার অরুচি নেই কিছুতে। করবে না কেন, উফ মা রে, সেক্স করার মতন মজা আর আছেটা কীসে, বলুন!

দুটো ছবির এই লাগাতার শোয়াশুয়ি মার্কা গল্পে প্যাঁচ এসে ঢুকছে অবধি প্রায় সেম স্টাইলে, হিরো-হিরোইন দুজনের মধ্যে স্লাইট একটু আড়ি হয়ে যাওয়ার পর। ওই সিনেমাটায় জানতে পেরেছিলাম, নিকিতার নাকি একটা মডেলিং করে বেড়ান বয়ফ্রেন্ড আছে। আর এটায় জানতে পারলাম শায়রা নাকি দিব্যি গেঁথে তুলতে পেরেছে একটা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কারকে! ব্যাস, এই যে পরম ক্ষণ, এরপর আগের ছবিটা, আর এখনকারটায় – দুটোতেই মোক্ষম তিনকোণা সব রিলেশনশিপের চাপ। আর সেটা ব্যালেন্স করতে গিয়ে আবার সেই রিলেশনগুলোকেই আরও টেনে টেনে চারকোণা বানিয়ে দেওয়া!

মানে এরপরেই ওই সিনেমায় নীলেরও একটা মেয়ে জুটে গেল আর কি! নাম স্যুইটি। আর এই সিনেমায় ধরমেরও একটা মেয়ে জুটে গেল আর কি! নাম ক্রিস্টিন।

কাণ্ড দেখুন ভাই। সেক্স-শোয়াশুয়ি-এই আড়ি-এই ভাব, কাণ্ড-দেখে-হাঁ-হয়ে-যাওয়া গার্জেনকুল আর হিরো-হিরোইনের মটমটে সব সেক্সুয়াল জেলাসি নিয়ে গড়াতে গড়াতে দুটো সিনেমারই ক্লাইম্যাক্স এসে পৌঁছচ্ছে কিনা ঘুরেফিরে সেই সাবেক বিয়ের আসরে! ফারাক বলতে শুধু এইটুকু যে ‘নীল এন নিক্কি’ ছবিতে বিয়ের আসরে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল একটা – কিন্তু বিয়ে হয়ে গেল দুটো! আর ‘বেফিকরে’তে? বিয়ে হওয়ার কথা ছিল দুইখান, কিন্তু শেষ-মেস একটার বেশি বিয়ে আর হতে পারলো কই?

আরও পড়ুন:  সলমনের বোন এবং বৌদি...দু' নৌকাতেই পা ছিল অর্জুন কাপুরের ?

বুঝতে পারছেন তো, কীভাবে নিজের প্রোডিউস-করা পুরনো ছবির মশলাগুলোই নতুন করে মেখে, ‘এই নিন দাদা ফ্রেশ খাবার’ বলে আমার-আপনার হাতে গছিয়ে দিচ্ছেন আদিত্য চোপড়া স্বয়ং! মোটে ১৮ বছর বয়সে ‘চাঁদনী’ (১৯৮৯) ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে অফিসিয়াল ফিল্ম কেরিয়ারের শুরু, এরপর ২৩ বছরে পা দিয়ে নিজেই বানিয়ে ফেললেন ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’-র (১৯৯৫) মত আইকনিক হিট। বাবার সেট করে দেওয়া ব্যবসার সূত্রে অগুন্তি ছবির সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু নিজের ডিরেক্ট করা ছবি তো বলতে গেলে অস্বাভাবিক কম! প্রথম ছবির ৫ বছর পর ‘মোহব্বতে’ (২০০০), এরপর ৮ বছরের গ্যাপ মেরে ‘রব নে’ (২০০৮) আর অবশেষে ফাইনালি আরও ৮ বছরের গ্যাপ মেরে এই ‘বেফিকরে’। এত গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ছবি করেন বলে আর কেরিয়ার শুরুই করেছিলেন খুন-খারাপি লেভেলের হিট সিনেমা দিয়ে বলে এইটে মনে হয় যে সেই ভদ্রলোকের এমন দশা হয়ে দাঁড়াল কোন কারণে যে নিজের চার নম্বর ছবি বানাতে বসেই তাঁকে নিজেরই প্রোডিউস-করে-আসা পুরনো একটা ছবির গপ্পের ঝুলি হাতড়ে বেড়াতে হল?

লেখার শুরুটা বাণী কাপুরকে দিয়ে হয়েছিল, শেষটাও তাঁকে দিয়েই হোক। পুরো সিনেমাটা দেখার পর, বলতে গেলে আমি বাণীকে নিয়ে মুগ্ধ। মুখটা ভালো না, কিন্তু বাকি বডি পার্টস গুলো দারুণ। যখন বিকিনি পরে এলেন, চোখ তো জাস্ট সরানো যাচ্ছিল না। এভাবে লিখছি বলে কিছু মনে করবেন না প্লিজ, এই ছবিতেই তো বারবার সওয়াল করতে বসেছে হিরো-হিরোইন যে লাভ স্টোরির জমানা নাকি এন্ড হয়ে গেছে, এখন শুধু ‘লাস্ট স্টোরি’র পালা।

20ও হ্যাঁ, খুঁজে পেতে দেখলাম, সোলো হিরোইন হয়ে এটাই বাণীর প্রথম ফিল্ম না কিন্তু। ‘শুধ দেশি রোমান্স’-এ (২০১৩) ওরকম একটা সাইড রোল করার পরপরই আদিত্য চোপড়া বাণীকে সোলো হিরোইনের রোল অফার করেন যশরাজ ফিল্মসের তরফে তৈরি প্রথম সাউথ ইন্ডিয়ান ছবি ‘আহা কল্যাণম’-এ (২০১৪)! এই ‘আহা কল্যাণম’ ছিল যশরাজের তৈরি হিন্দি ছবি ‘ব্যান্ড বাজা বরাত’-এর দক্ষিনী রিমেক! ছবিটা তৈরি হল তামিলে, পাশাপাশি তেলুগুতে ডাব করে রিলিজ হল অন্ধ্রের মার্কেটেও। আর শুধু এই ছবিটা করবেন বলে তখন বাণী নাকি শিখে ফেলেছিলেন তামিল আর তেলুগু, দুটো ভাষাই!

এরপর তো এই ‘বেফিকরে’র বোমা। একটা সিনে তো কী নাচ নাচলেন, নির্মেদ শরীরটা তখন মনে হচ্ছিল যেন রবার দিয়ে তৈরি, যেমন ইচ্ছে সেভাবে বেঁকাচ্ছেন, একবার মনে হচ্ছে ‘ধুম থ্রি’-র ক্যাটরিনা নাকি, তারপর মনে হচ্ছে, বোধহয় সেই ‘কিসনা’ ছবির ঈশা সর্বাণী! চুমু তো এতবার এতগুলো খেলেন মনে হল গুনতিতে ইজিলি ‘মার্ডার’-এর মল্লিকার সঙ্গে পাঙ্গা টানতে পারেন। নাকি ইমরান হাসমি’র ফিমেল ভার্সন বলবো! যদি সেই ‘শুধ দেশি রোমান্স’ থেকে ধরি, এই তিন বছরে বাণী কাপুর যেভাবে এগোলেন, যা যা অ্যাচিভ করলেন, সবটার মধ্যে সুন্দর একটা স্কিমড প্ল্যানিং দেখতে পাবেন পরিষ্কার।

5অথচ মেয়েটাকে দেখতে সত্যি এমন কিছু না। আমার পাশের বাড়ির মেয়েটাও তো এর চেয়ে অনেক মোহিনী দেখতে। ছবির এন্ড ক্রেডিটে যখন একটা ঘোড়ায় চড়ে রণবীর সিং আসবে, তখন তার আশপাশে এইটুকু-টুকু ড্রেস-পরা যে এক্সট্রা মেয়েগুলো নাচে, হ্যাঁ, তারাও তো ওই বাণীর চেয়ে সুন্দরী ঢের বেশি!

তবু বাণীর কপালেই ছিঁড়ল কী করে এমন ‘বেফিকরে’ রোমান্স করার শিকে?

আসলে শুধু মুম্বই নয়। সারা পৃথিবীর সমস্ত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই নায়িকার সঙ্গে ছবির নির্মাতাদের সম্পর্কগুলো খুব রহস্যময় বিষয়। সবটাই যেন কুয়াশার পর্দা দিয়ে ঢাকা!

সেই কুয়াশা সরাই, আমার সাধ্য কী! চোখে হঠাৎ লাগলো বলে বাণীর এই উত্থানটুকু আমি লিখে রাখলাম শুধু।

এরপর কী হয়, মাস্টার ফিল্ম-মেকার ‘আদি স্যর’ বাণীকে নিয়ে এরপর কী করেন, সেটা দেখার জন্যে আপনার মতো মুখিয়ে থাকবো আমিও।

- Might Interest You

NO COMMENTS