খরাজ মুখার্জী এক বিরল প্রতিভার মানুষ | অভিনয়, গান ও মাটিতে পা রেখে চলাই তাঁর জীবন দর্শন | বাংলা সংস্কৃতির উজ্জ্বল ইতিহাস তাঁর কাজের প্রেরণা | অকপট হলেন প্রাণখোলা আড্ডায় |

 

আপনার গ্রামের বাড়ি বীরভূমে?

খরাজ মুখার্জী : অনেকের দেশের বাড়ি বীরভূমে।কিন্তু কি জানেন অনেকের গ্রামের সাথে কোনও কানেকশান থাকে না।আমাদের দেশের বাড়িতে পুজো হয়।দুর্গাপুজো, মাঘ মাসের কালীপুজো।আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত কলকাতার পুজো দেখিনি।

কোনওদিন দেখেননি?

খরাজ মুখার্জী : এখন পেশাগত কারণে কলকাতায় থাকি।তাই কলকাতার পুজো দেখি।প্রাচীন পুজো বা বিশুদ্ধ পুজোর রীতিনীতি এখানে পালিত হয় না।পুজোর আড়ম্বরটা থাকে।এই আড়ম্বরটা ইন্টারন্যাশোনাল ইভেন্ট।তখন কলকাতার শহরটাকে আমরা অন্যরূপে দেখি।এখানে পুজোটাই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।তার সঙ্গে আনুসঙ্গিক অনেক কিছু থাকে।

এই আনুসঙ্গিক বিষয়গুলো কী?

খরাজ মুখার্জী : দেখুন এর সঙ্গে কালচার এক্সচেঞ্জ হয়।ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন শিল্পীরা আসেন।তারা তাদের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেন।গ্রাম্য জীবনে পুজোর সঙ্গে অনেক মজার বিষয় রয়েছে।যেমন লাঠি খেলা,নারকেল কাড়াকাড়ি।নারকেল কাড়াকাড়ি একটা অদ্ভুত প্যাটার্নের খেলা।দুজন বেশ ষন্ডামার্কা লোককে সরষের তেল মাখিয়ে কপালে হলুদ টিপ পরিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।ওদের হাতের না ছাড়ানো নারকেলগুলো দেখলে রাগবির কথা মনে পড়ে।

বাঃ বেশ মজার তো?

খরাজ মুখার্জী : হ্যাঁ।ওই নারকেলগুলোতেও প্রচুর পরিমাণে তেল লাগিয়ে ওপরে ছোঁড়া হয়।একজন সেটাকে ধরে ফেলে।অন্যজন সেটা কাড়তে থাকে।এর একটা টাইম ল্যাপ্স আছে। একটা ঢাকের রিদম আছে।ওই রিদমের মধ্যে নারকেলটা কেড়ে নিতে হবে।এই কাড়াকাড়ির সময় বালতি বালতি জল লোকে তাদের মাথায় ঢালতে থাকে।

জল ঢালে কেন?

খরাজ মুখার্জী : জল ঢাললে একটা ব্রিদিং প্রবলেম হয়।তাতে ওরা হাঁপিয়ে যায়।

এই খেলা আপনি ছোটবেলায় দেখেছিলেন?

খরাজ মুখার্জী : এখনও এই খেলা হয়।সত্যনারায়ণ পুজোর সময় আমাদের গ্রামের সমস্ত গরুকে জড়ো করা হয়।তাদের স্নান করানো হয়।চন্দন দেওয়া হয়।তাদের শিংগুলোকে পালিশ করা হয়।এরপর চারটে-সাড়ে চারটের সময় ঢাকিরা খুব জোরে ঢাক বাজায়।গরুগুলো ভয় পেয়ে পালায়।যাদের বাড়ির গরু তারা খুঁজতে বের হয়।এই গরু খোঁজা নিয়েই খেলাটা।

আজকের সময়ে গরু নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তরজা চলছে।গোমাতা না ভারত মাতা—কী বলবেন?

খরাজ মুখার্জী : শুয়োর,ছাগল,গরু,মুরগির মাংস মানুষ খেতেই পারে।এর সঙ্গে খাদ্য খাদকের সম্পর্ক জড়িত।কিন্তু আমাদের অন্ধ চিন্তাধারা হলো মা কালীর কাছে বলি দিলে আমাদের পুণ্য হবে।এটা আগে মন থেকে মুছে ফেলতে হবে।গরুকে আমরা পুজো করি।কিন্তু পৃথিবী শুধুমাত্র হিন্দুদের রাজ্য নয়।সারা পৃথিবী জুড়ে গো-সংরক্ষণ হচ্ছে না।কোনও কোনও পশুকে মারা হচ্ছে।এবং সেটাকে খাওয়াও হচ্ছে।আমার ধর্মের বিরুদ্ধে যারা যাচ্ছে,আমি তাদেরকে খারাপ বলছি।এরকম বলা ঠিক না।ধর্ম মানুষের বেটারমেন্টের জন্য করা উচিত।কলেজ লাইফে একবার সুবর্ণরেখা নদীর কাছে একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম।চলে যাওয়ার দিন বন্ধুর মার অনুরোধে তাদের বাড়িতে দুপুরের খাওয়া খেলাম।বিকেল বেলা সুবর্ণরেখা নদীর তীরে হাঁটছি।দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে দেখলাম ছোট্ট হাট।হাটে একটা খাসি বাধা।খাসিটাকে কাটার সময়ের কথা বললে তুমি বিশ্বাস করবে না।একটা লোক এসে বাঁ হাত দিয়ে খাসিটার মুখ চেপে ধরল।তারপর একটা মোটা লোহার ডাণ্ডা দিয়ে খাসির সিংয়ে লাগাতার মারতে লাগল।কিছুক্ষণ পরে খাসিটা কাঁপতে কাঁপতে ক্লান্ত হয়ে মারা গেলো।লোকটা এবার খাসি কাটতে  লাগল।লোকটার কাছে গিয়ে বললাম —“আমি বলিদান,জবাই দুটোই দেখেছি।কিন্তু এরকম নিষ্ঠুর ভাবে মারতে দেখিনি”।লোকটা বলল—“আপনি তো বলেই খালাস।আমাকে মালটা বিক্রি করতে হবে।আমি এখানে জবাই করলে হিন্দু খরিদ্দার পাবো না।আর বলিদান দিলে মুসলমান খরিদ্দার পাবো না”।এই হলো আমাদের দেশ।

আপনার ছেলেবেলা গ্রামেই কেটেছে?

খরাজ মুখার্জী : আমি সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়েছি।কলকাতায় থেকেছি।আবার দেশের বাড়ির সঙ্গে কানেকশান ছিল।আমার দাদু দিদা কাকা সব ওখানেই ছিলেন।আমার বাবা ছিলেন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার ।বাবার সাথে আমরা এখানেই বড় হয়েছি।তবু ওখানকার ঢাকের বাজনা বুঝেছি।ঢাকের বাজনার একটা তফাত আছে,জানো তো…

কী রকম?

খরাজ মুখার্জী : আমরা সঙ্গীত জগতের মধ্যে আছি।তাই এর তালের ধরন বুঝতে পারি।ঢাকের পুজোর শুরুর সময়ের একটা আঙ্গিক ছিল।ধুমুল যাকে বলে,সেই ঢাকের বাজনা অন্যরকম।আরতির সময় একরকম বাজনা বাজে।বিসর্জনের আগে একরকম এবং পরে অন্যরকম বাজনা বাজে।বলিদানের আগে এবং পরে ঢাকের বাজনার তালের ডিফারেন্স আছে।এই ডিফারেন্স অফ ঢাকের বাজনার এক্সপিরিয়েন্স কলকাতায় হয়নি। এছাড়া বাউল গান,পল্লিগীতি,সাঁওতালের নাচ,বহুরুপীদের নাচ আমরা বীরভূমে পেয়েছি।

সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের একজন অর্থনীতির অধ্যাপক আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন?

খরাজ মুখার্জী : প্রফেসর অমিত সেন মারা গিয়েছিলেন।সেই স্মরণ সভায় “আছে দুঃখ আছে মৃত্যু” গানটা করেছিলাম।প্রফেসর সেনগুপ্ত বলে একজন ইকোনিমিক্সের প্রফেসর আমার গান শুনে কনডোলেন্স মিটিংয়ে হাততালি দিয়েছিলেন।

শোক সভায় হাততালি!?

খরাজ মুখার্জী : হ্যাঁ।সাধারণত কনডোলেন্স মিটিংয়ে কেউ হাততালি দেয় না।হাততালি দিয়ে তিনি আবার অপ্রস্তুতও হয়েছিলেন।উনি আমার সঙ্গে আলাপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।আলাপের পর উনি আমায় বললেন –“তুমি তো খুব ভালো গান করো বাবা”।পাশ থেকে আমার এক বন্ধু বলল — “স্যার ও অভিনয়টাও খুব ভালো করে”।এ কথা শুনে প্রফেসর সেনগুপ্ত আমাকে অভিনয়ের অফার দিলেন।

আরও পড়ুন:  দীপিকার 'পদ্মাবতী'র পোস্টার নিয়ে অনুষ্কার বক্তব্যে হতবাক সবাই

প্রফেসর সেনগুপ্তর সঙ্গে সিনেমা জগতের যোগাযোগ ছিল?

খরাজ মুখার্জী : ছিল।উনি “হুলুস্থুল” সিনেমার কো-প্রোডিউসার ছিলেন।ছবির পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।আমি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের কাছে গেলাম।আমার সিলেকশনের সময় কোইন্সিডেন্টলি সেই ঘরেই ছিলেন অভিনেত্রী মহুয়া রায় চৌধুরী।মহুয়া রায় চৌধুরী আমাকে দেখিয়ে বলেছিলেন — “এই ছেলেটাকে নাও”।

গানের সূত্রেই আপনার জীবনে পরিবর্তন এসেছে।সেই গায়ক হওয়ার ইচ্ছে কখন হলো ?

খরাজ মুখার্জী : আমি থিয়েটার করতাম।পল্লিগীতি সোশ্যাল রিফরমেশনের কাজ করে।আমি ভাবলাম পল্লিগীতিকে থিয়েটারে ব্যবহার করলে কেমন হয়।বিভিন্ন বাউল শিল্পীদের গান আমি বন্ধুদের শোনাতাম।নিজেও কিছু গান লিখছিলাম।কিন্তু সংকোচ চিত্তে সেই গান কাউকে শোনাই নি।কিছু পরে অন্য শিল্পীর গান বাদে একটা দুটো নিজের গান গাইতাম।দেখলাম মোটামুটি সাড়া পাচ্ছি।এবার আমার মিসেস আমাকে এ্যালবাম করার জন্য বলল।আমি কিছুতেই করব না।

না-টা হ্যাঁ হলো কী করে?

খরাজ মুখার্জী : আমি কিছুতেই এ্যালবাম করব না।মিসেস তখন আমার কলিগ মানে বিশ্বনাথ,কাঞ্চন,সুদীপ্তা,বিদিপ্তাদের বলল— “দেখ ও কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।তোরা একটু বুঝিয়ে বল”।অবশেষে আমি রাজি হলাম।আমি কিছু গান রেকর্ড করে সাগরিকা অডিও কোম্পানিকে জাস্ট শুনতে দিলাম।ওরা প্রশংসা করল।এভাবেই “হায় বাঙালি হায়” অ্যালবাম বের হলো।

আপনি ‘জাতিস্মর’-এ কবীর সুমনের সঙ্গীত পরিচালনায় গান গেয়েছেন।অভিজ্ঞতা কেমন?

খরাজ মুখার্জী : সৃজিত আমাকে ‘জাতিস্মর’-এ কিছু গান গাওয়ার কথা বলে।আমি ওর কাছ থেকে জানলাম সঙ্গীত পরিচালক কবীর সুমন।আমি সৃজিতকে বললাম —“কবীর সুমন কখনও গ্রামে গিয়ে কবি গান শুনেছেন ”?যাই হোক,রেকর্ডিংয়ের দিন কবীর সুমনের নির্দেশে গান শুরু করলাম।আমার মনে হলো গানগুলোতে সামান্য কাজ দিলে আরো মাধুর্য আসবে।তেমন ভাবেই গাইলাম।কিন্তু কবীর সুমন আমাকে বললেন —“খরাজবাবু আমি এতো কাজ চাইছি না”।কবীর সুমনের নির্দেশ মেনেই আমি গাইলাম।বাইরে চা খাওয়ার সময় কবীর সুমন বললেন –“আপনারা গানে এতো কাজ দেন কেন?এই জন্যই মান্না দে,মহম্মদ রফি শিল্পী হয়ে উঠলেন না”।এ কথা শুনে আমি স্তম্ভিত।

এরকম বললেন?

খরাজ মুখার্জী : একদম।কবীর সুমনের কণ্ঠে কাজ আসে না।সেটা ওনার গায়কির ধরন।তার মানে এই নয় যে মান্না দে,মহম্মদ রফি শিল্পী নন।ধর আমি ইংরাজি জানি না। কেউ ইংরাজি ভালো বললে,আমি তাকে বলতে পারিনা যে সে ইংরাজিতে বাজে বকছে।প্রবলেমটা আমার।

এরপর আপনাদের আর কথা হয়েছে?

খরাজ মুখার্জী : জাতিস্মরের গান সম্পর্কিত ইন্টারভিউতে কবীর সুমন বলেছেন—-“খরাজ তো গান জানে না।চেষ্টা করেছে ওই পর্যন্ত।আচ্ছা কিশোর কুমারও গান জানতেন না।যে চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি ও গান গেয়েছি সেই ভোলা ময়রাও গান জানতেন না।পল্লীগানের কোনও ফরমাল ট্রেনিং হয় না।কবীর সুমন বলেছেন আমি ওনার কাছে সুযোগ চেয়েছি বলে উনি আমাকে গাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি।আমি কবীর সুমনের অন্ধ ভক্ত।কিন্তু এই ঘটনার পর আমার ওনার প্রতি শ্রদ্ধা কমে গেছে।

আজ বাঙালি কালচারের কথা ভাবলে কি মনে হয় আজকের বাঙালি সংস্কৃতি দেউলিয়া হয়ে গেছে?

খরাজ মুখার্জী : আমি চেষ্টা করছি বাংলা সংস্কৃতি বাঁচানোর।কিন্তু আমি একা চাইলেই তো আর হবে না।এই সেদিন আমার ছেলের বান্ধবী আমাকে বলল —“আঙ্কেল ওয়াট ডু ইউ মিন বাই ওষ্ঠ”?আমি তাকে বললাম।বুঝতে পারলাম বাংলা ভাষাটা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে।কনভেন্ট স্কুলগুলোতে ছেলে মেয়েদের গ্রুম করা হচ্ছে।আর বাংলা ভাষাকে ফোর্থ ল্যাঙ্গুয়েজে ফেলে দিয়েছে।থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজেও নেই।

এর কারণ কী বলে মনে হয়?

খরাজ মুখার্জী : বাংলা বলে কোনও ভালো চাকরি হবে না।এই সমস্যাটা শুধু বাংলায় নয়।বিহারে গুজরাটে সর্বত্র একই গল্প।এখনকার নব্য যুবকেরা কেউই নিজেদের মাতৃভাষা মনে রাখে না।ইংরাজি,হিন্দি শিখলে তাদের কাজ হচ্ছে।একমাত্র সাউথ ইন্ডিয়ানরা নিজেদের মাতৃভাষা চর্চা করে।এবং এখনও সেটাকে ধরে রেখেছে।

আপনার বাবা গান,সিনেমা বা এই জগতের চূড়ান্ত বিরোধী ছিলেন।আপনার সাফল্য আসার পর বাবার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

খরাজ মুখার্জী : সবচেয়ে বড় আপশোস কোথায় জানো, যে সময়ে সাফল্য এলো সেই সময় আর ওই মানুষগুলো কোথায়?আমার মা খুব ভালো গান করতেন।আমার যা কিছু তার সব মার কাছ থেকে পাওয়া।বাবার দিক থেকে নয়।একটা ভারি মজার ঘটনা আছে।সত্যজিৎ রায়ের “সোনার কেল্লার” প্রথম শট নেওয়া হয়েছিল আমাদের বাড়ির সামনে।আমরা তখন ল্যান্সডাউনের পদ্মপুকুরের বাড়িতে থাকতাম।সত্যজিৎ রায় রাতে এবং দিনে দু’বার শুট করেছিলেন।সেই সময় বাবার সঙ্গে পরিচয় করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।রায় বাবু বাবাকে বলেছিলেন —“আমি ছবি করি।আমার নাম সত্যজিৎ রায়।আমরা আপনার বাড়ির কিছু অংশ শুট করব।আপনাকে জানিয়ে গেলাম”।সত্যজিৎ রায়কে দেখে যেকোনও লোক “আসুন বসুন” করতেন।বাবা তেমন কিছুই করেননি।

তারপর?

খরাজ মুখার্জী : রাতে আমার বড়দাকে বাবা বললেন— “একটা লোক এসেছেন।লম্বা করে।গলাটা বেশ গম্ভীর মতো।ছবি টবি করে বলল।কী একটা নাম যেন…সত্য রায় না সত্যজিৎ রায়…।”বড়দা শুনে প্রায় চমকে গেলো। তন্ময়, বাবা কীরকম ছিল জানো?

কীরকম?

খরাজ মুখার্জী : ধরো একটা সেলস গার্ল এসেছে।সে বাবাকে বলল —“মেসোমশাই আমি অমুক কোম্পানি থেকে আসছি।আপনি কী তেল ব্যবহার করেন”?বাবা বলল —“সরষের তেল”।বাবা সফিসটিকেশনের ধারই ধারত না।প্রফেশনের সময় ছাড়া বাবাকে সবসময় ধুতি পাঞ্জাবি পরে থাকতে দেখেছি।

আরও পড়ুন:  দীপিকার জন্য পাগল সুশান্ত‚ ওঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য সব কিছু ছাড়তে পারেন তিনি!?

উনি আর কী বলতেন?

খরাজ মুখার্জী : আমি রমাপ্রসাদ বণিকের দল “চেনামুখে” থিয়েটার করতাম।আমি ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করতাম।পরবর্তী সময় ‘পাখি’তে যখন বড় ক্যারেক্টারে মোটামুটি নির্বাচিত হওয়ার কথা চলছে,তখন আমার চাকরি হলো।রমাপ্রসাদ বণিক আমাকে বলেছিলেন —“খরাজ চাকরি করা তোর পক্ষে অসম্ভব”।বাবা আমাকে বার বার ওখানে চাকরি করার জন্য বলছিল।আমি চিত্তরঞ্জন লোকমোটিভ ওয়ার্কসে কাজ করলাম।আমি বলছি না ওখানে গিয়ে আমি লস করেছি।ওখানে গিয়ে আমি সুনীল ভট্টাচার্যকে পেয়েছি।যিনি সরাসরি ঋত্বিক ঘটকের ছাত্র ছিলেন।তাঁর কাছে অভিনয়ের তালিম নিয়েছি।তাঁর প্রোডাকশানে কাজ করেছি।তারপর আবার কলকাতায় ফিরে এসেছি।আবার রমাদার সঙ্গে কাজ করেছি।আমৃত্যু রমাদার সঙ্গে ছিলাম।কিন্তু বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বলে এসেছেন —“এসব করে তোমার কিছু হবে না”।

আপনার স্ত্রী নাকি আপনাকে এব্যাপারে খুব উৎসাহ দিয়েছেন?

খরাজ মুখার্জী : তখন অভিনয়ের ডাক ভালো মতো পাচ্ছি।ঠিক সময়মতো অফিসে যেতে পারছি না।আমি গিন্নিকে জানলাম।আমার সন্তান তখন হয়ে গেছে।গিন্নি আমাকে বলেছিল-“তুমি অভিনয়ের সঙ্গে ইনভলভ হয়ে পড় ।চাকরি নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না”।গিন্নি আমাকে ভয়ঙ্কর সাপোর্ট দিয়েছিল।

আপনি বহু অভিনেতার গলা ডাবিং বা ডাবও করেছেন।

খরাজ মুখার্জী : সেটা আরো আগে।আমার স্ট্রাগলিং পিরিয়ডের ঘটনা।সে সময়ে আমি থিয়েটারই করতাম।আমি অনেকের কণ্ঠ নকল করতাম।চন্দ্রা মুখোপাধ্যায় নামে এক অভিনেত্রী ছিলেন।জানি না তুমি নাম শুনেছ কিনা।

হ্যাঁ,  শুনেছি।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে “প্রাণতপস্যা” নাটকে অভিনয় করেছিলেন।

খরাজ মুখার্জী : হ্যাঁ।চন্দ্রা তখন খুবই ছোট।চন্দ্রার ভোকালটা অনেকটা ঋতুপর্ণার মতো ছিল।ঋতুপর্ণার প্রচুর ডাবিং চন্দ্রা করত।ছোটখাটো ডাবিং থাকলে ও আমাকে ডাবিং করতে বলত।চন্দ্রাই আমাকে ডাবিং শিখিয়েছে। ৮৪ সালের পর থেকে প্রচুর ডাবিংয়ের কাজ আসতে শুরু করল।উড়িষ্যার কলিঙ্গ স্টুডিওতে আমরা ডাবিংয়ে যেতাম।আমি অনেকের ডাবিং করেছি।রবি ঘোষ,অনুপ কুমার,বঙ্কিম ঘোষ,অনিল চ্যাটার্জী,আসরানি,জনি লিভার,রঞ্জিত মল্লিক—কার নয়।

বাংলা ছবিতে খরাজ মুখার্জী মানেই কমেডি ক্যারেক্টার।কখনও একঘেয়ে লাগে?

খরাজ মুখার্জী : তার জন্যই থিয়েটার করি।আমার গুরু রমাদা আমাকে বলেছিল—“না বলতে শিখিস বাবা”।কিন্তু এখন কমেডি ক্যারেক্টার ডিল করতে পারে,এরকম ভালো আর্টিস্ট খুব পাওয়া যাচ্ছে না।প্রোডিউসারদের থেকে বারেবারে আমি এই কথা শুনেছি।কমেডিরও বিভিন্ন ধাপ আছে।‘বেলাশেষে’ বা ‘ভূতের ভবিষ্যত’-এ যে চরিত্রে অভিনয় করছি সেই ক্যারেক্টারগুলোকে বাণিজ্যিক ছবির চরিত্রের সঙ্গে গুলিয়ে লাভ নেই।আমি নিজেকে বোঝাতাম।

কী বোঝাতেন?

খরাজ মুখার্জী :আমি উৎপল দত্তকে দেখেছি ‘অনুসন্ধান’ ছবিতে।‘আনন্দ আশ্রম’-এও ওনাকে অভিনয় করতে দেখেছি।এরা-তো দিকপাল।অনেক শিল্পী যারা থিয়েটারে প্রোফাউণ্ড আর্টিস্ট তারা অনেকেই ইন ফিল্ম ফেইলিওর।ইনক্লুডিং শম্ভু মিত্র।সিনেমার অভিনয়েরও একটা গ্রাফ আছে।সেটাকে মেনটেইন করা অন্যরকম পারদর্শিতা।

তাও ভালো লাগার চরিত্র বলে তো কিছু আছে?

খরাজ মুখার্জী : ‘মুক্তধারা’তে যে চরিত্র করেছি সেটা অন্যরকম।এই ধরনের ছবিতে ডিরেক্টর এবং আমরা দুই পক্ষই শিখি।কিন্তু ভালো চরিত্র সব সময় আসে না।

এখন নায়কেরা নিজেই প্রোডিউসার।নিজের ছবির প্রচারে নিজের ঢাক নিজে পেটাচ্ছেন।কীভাবে দেখেন এই বিষয়গুলোকে?

খরাজ মুখার্জী : আমার মনে হয় এগুলো ফেক ব্যাপার।এসব করে বড়ো কিছু প্রাপ্তি হয়না।আমি মনে করি ছবি তার নিজের মেরিটেই চলে।শুধু প্রচারের আড়ম্বর দিয়ে ছবিকে বাঁচানো সম্ভব নয়।আমি পরিচালকদের বলেই রাখি যে আমি কোনও প্রচারে যেতে পারব না।কোনও প্যাণ্ডেলে ফিতে কাটতে পারব না।

সব পরিচালকই বলছে তার ছবি খুব ভালো।এরকম ছবির ভাবনা আগে হয়নি।এতে কি দর্শকও খানিকটা কনফিউজড?

খরাজ মুখার্জী :আমি যা শুনছি তার সবটাতে কনভিন্সড হব কেন?এই গড্ডলিকা প্রবাহের মধ্যে যাওয়ার তো কোনও মানে হয় না।

আপনি নিজের চেহারা মেনটেইন করেন না।এমন চেহারার জন্য কি কমেডি চরিত্র পেতে সুবিধা হয়?

খরাজ মুখার্জী : চরিত্রাভিনেতার মধ্যে কে মেনটেইন করে বলো তো?যারা নায়ক হতে এসেছেন ওটা তাদের বিষয়।ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের মধ্যে ছবি বিশ্বাস,জহর রায়,চিন্ময় রায় প্রত্যেকের একটা নিজস্ব চেহারা আছে।তারা সেই চেহারা নিয়ে অভিনয় করেছেন।অভিনয়েই তাদের কদর।চেহারায় নয়।অনেক শিল্পী আছেন যারা কিছুই করেন না।আচ্ছা বলো তো তুলসি চক্রবর্তী কি করেছেন?কিছুই করেননি।সর্ষে তেল মেখে চান করে খেয়ে-দেয়ে ট্রামে করে অভিনয় করতে যেতেন।এই তো তাঁর জীবনধারা।আমি সন্তোষ দত্তকে দেখেছি বসে বসে বিড়ি খেতে।চেহারাটা সেকেন্ডারি ছিল তাদের কাছে।

আপনার ছেলেকে আপনি কীভাবে দেখতে চান?

খরাজ মুখার্জী : আমার ছেলে সবচেয়ে কম বয়সে উলঙ্গ হয়ে অভিনয় করেছে।সেই দৃশ্যে তাকে স্নান করানো হচ্ছিল।অনিন্দ্য সরকারের টেলিফিল্মে ও ভাস্করের ছোট ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছে।সেখান থেকে শুরু করে ও রবিরঞ্জনের ছবিতে অভিনয় করেছে।শুটিংয়ে আমি ওকে একা পাঠিয়েছিলাম।আমি সবসময় চাই ও যা কিছু করুক সেটার মধ্যে যেন আমার প্রভাব না থাকে।রমাপ্রসাদ বণিক নাটকে একটা খুব ভালো কথা বলতেন —“শোন আমি চাই না তেরোটা রমাপ্রসাদ বণিক মঞ্চের ওপর ঘুরে বেড়াক”।সে কারণে আমার ছেলে যখন বেস্ট ডেবিউ আর্টিস্টের পুরস্কার পায় তখন ওকে জিজ্ঞাসা করা হয় —“বড় হয়ে কী হবে?বাবার মতো অভিনেতা হবে”?ও বলেছিল —“বাবার মতো হব কেন?আমি আমার মতো হব”।আমার ছেলে মিউজিকের গ্রেট লাভার।সেটার জন্য ও প্রাণপাত করে যাচ্ছে।একটা ব্যাণ্ড তৈরি করেছে।সেই ব্যাণ্ড নিয়ে সারা ভারতবর্ষে শো করছে।

আরও পড়ুন:  ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা করার ইচ্ছে - প্রকাশ্যে হৃতিকের লুকনো অসুস্থতার খবর

অভিনেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।আপনার কাছে এরকম কোনও অফার আসে?

খরাজ মুখার্জী :আমি কোনও পুজো প্যাণ্ডেল উদ্বোধন করি না।আমি মনে প্রাণে এই আদর্শে বিশ্বাসী।দেখো আজকে তুমি আমায় দুম কোরে যদি বলো খরাজদা এডিট কেমন কোরে করতে হয়,একটু দেখিয়ে দিন।বা ফিজিক্সের একটা প্রবলেম সলভ করে দিন।আমি কিন্তু পারব না।আমি ওই বিষয়ে এক্সপার্ট নই।পুজো প্যাণ্ডেল উদ্বোধন করার কথা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত বা আধ্যাত্মিক জগতের মানুষের।আমার উদ্বোধন করার কোনও অধিকার নেই।কোনও নাট্যসংস্কৃতির বা লোকসংস্কৃতির কিছু হলে আমার উদ্বোধন করার কথা আসতে পারে।এটা ঠিক আমার রাজনৈতিক মতবাদ আছে।সেটা বুদ্ধিমানের মতো হতে পারে বা নির্বোধের মতো হতে পারে।তার সঙ্গে আমার পেশার কোনও সম্পর্ক নেই।

আপনি যে আদর্শ নিয়ে চলেন সেই আদর্শ নিয়ে আজকের সময়ে কাজ করতে অসুবিধা হয় না?

খরাজ মুখার্জী : অসুবিধা তো হয়।যাদের সঙ্গে কাজ করছি তাদের ৮৫ শতাংশ কোনও কাজ জানে না।

তাদের কখনও শেখানোর চেষ্টা করেছেন?

খরাজ মুখার্জী : শেখানোর চেষ্টা করলে উল্টে বাদ হয়ে যাবো।ধরো আমাকে পুলিশের কস্টিউম পরতে হবে।আমি ফ্লোরে ঢুকিনি।তখনই বলছে — “দাদা মেকআপটা করে নিন”।মানে তার তাড়াতাড়ি কাজটা করানো হয়ে গেলে দায়িত্ব শেষ।আর্টিস্টের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কোনও চিন্তা নেই।ওই কস্টিউমটা পরে আমি লাগাতার তিন ঘন্টা বসে আছি।হরনাথ চক্রবর্তীর একটা ছবির কাজে একজন বলল —“দাদা কস্টিউমটা পরে নিন”।সঙ্গে সঙ্গে হর দা বলল —“কেন ও আননেসেসারি এখনই কস্টিউম পরে বসে থাকবে?যখন সময় হবে আমি বলে দেব”।এটা কাজ জানা মানুষের উদাহরণ।এনারা শিল্পীকে কাজ করাতে জানেন।

সৃজিত, শিবপ্রসাদের মধ্যে কার সঙ্গে কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন?

খরাজ মুখার্জী : যে ফুলের গন্ধ আছে,তাকে আলাদা করে বলতে হয় না যে আমার গন্ধ আছে।আপনা আপনি গন্ধ ছড়ায়।সৃজিত,শিবুকে আলাদা করে বলতে হয় না যে তারা ভালো ডিরেক্টর।এখন কিছু ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট চেয়ে চেয়ে পাওয়া যায় না।এ কোন কালচারে পড়লাম আমরা?একটা ক্যারেক্টারের বিভিন্ন শেড জানব,তারপর অভিনয় হবে।তুমি রাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো।তোমার সামনেই কথাটা বলছি।একটা ছবি আমরা করেছিলাম ‘দুই পৃথিবী’ বলে।সেখানে রাজ আমায় জোর করে প্যাণ্ট শার্ট পরাবে।আর আমি পরব না।এটা নিয়ে রীতিমতো ঝগড়া হয়েছে।রাজ আমার ছেলের মতো।ওই ছবিতে আমার রোল চার থেকে পাঁচ মিনিট।আজ দেখি ক্যামিও ক্যারেক্টার কেউ করতে চায় না।আমার অনেক ক্যামিও ক্যারেক্টার আছে। ‘ভূতের ভবিষ্যত’-এ আমার ক্যামিও ক্যারেক্টার।তরুণ মজুমদারের ছবিতে আমার ক্যামিও ক্যারেক্টার।এরকম অজস্র ছবিতে আমার ক্যামিও ক্যারেক্টার।ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যেও আমি বড় চ্যালেঞ্জ অনুভব করি।

আপনার কখনও পরিচালক হতে ইচ্ছে করে না?

খরাজ মুখার্জী : বারোটা গল্প লেখা আছে।একটা প্রোডিউসার দাও।প্রোডিউসারের মতো প্রোডিউসার।

আপনি প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা।ভেঙ্কটেশ থেকে শুরু করেপ্রচুর প্রোডিউসারদের সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন।আপনার প্রোডিউসার পেতে অসুবিধা কোথায়?

খরাজ মুখার্জী : এমন প্রোডিউসার চাইব না যে মনে করবে ডিরেক্টর হাতের পুতুল।আমাকে আমার মতো করে ছবিটা করতে দিতে হবে।হতে পারে আমি ভুল।ছবিতে ভুল কিছু করলে কান ধরে আমি স্বীকার করে নেব।আমাকে সেদিন একজন প্রোডিউসার বলল-“আপনিও অভিনয় করুন আপনার ছেলেও অভিনয় করুন”।আমার গল্পে আমার ছেলের চরিত্র নেই।আমি অহেতুক কেন ছেলের চরিত্র ঢোকাতে যাবো।

অনেক আলোচনা হলোআপনার কাছে শেষ প্রশ্ন —শিল্পীর ব্যক্তি জীবন এবং শৈল্পিক জীবনের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যায়।আপনি কবীর সুমনের কথা বললেন।এরকম কি হতে পারে শিল্পীর অন্তরের সৌন্দর্য ব্যক্তি জীবনে নেই।তাই শুধুমাত্র অন্তরের সৌন্দর্যের প্রকাশ একমাত্র শিল্পেই ঘটছে।বাস্তবে নয়।তাই কি?

খরাজ মুখার্জী : আমি তোমার সাথে একমত।আমি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়,রমাপ্রসাদ বণিক,রবি ঘোষ,তরুণ কুমার,অনুপ কুমার,অনিল চ্যাটার্জীর মতো বড় মনের মানুষের সাথে মিশেছি।এই বড় মনটা আগে দরকার।সৌমিত্র বাবুকে একবার বলা হয়েছে – “মেকআপ রুমের অভাব।কাইন্ডলি যদি মেকআপটা নিয়ে ঘরটা ছেড়ে দেন,তাহলে ভালো হয়।কারণ হিরোইন বলেছে,কারোর সাথে রুম শেয়ার করতে পারব না”।আমি নিজে দেখেছি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে গাছের তলায় বসে থাকতে।এর জন্য সৌমিত্রবাবু বিচলিত হননি।আরো অনেক ঘটনা আছে।বললে রাত ভোর হয়ে যাবে।

কী ঘটনা?

খরাজ মুখার্জী : গোড়ার দিকে আমার পেমেন্ট নিয়ে অসুবিধা হচ্ছিল।অনিল চ্যাটার্জী তখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।আমি অনুপ কুমারের ভয়েস ডাবিং করছিলাম।অনুপবাবু স্টুডিওতে তখনও আসেননি।সে সময়ে মোবাইল ছিল না।আমি জাস্ট ওনার একটা সিন ডাবিং করেছি এমন সময় অনুপবাবু এলেন।উনি বললেন —“খরাজ ভালো ডাবিং করছে।ওই করুক না”।আমি বললাম —“ কি বলছেন দাদা,এ হয় নাকি”!অনুপবাবু বললেন — “আমি করতে পারি।তবে খরাজ যতোটুকু ডাব করেছে,সেটাকে না মুছে আমি তার পরের থেকে ডাব করব”।এই হলো মানুষ।

NO COMMENTS