উল্লাস মল্লিক
জন্ম ১৯৭১ | লেখালিখি শুরু ২০০০ সালে | প্রথম উপন্যাস ‘প্রস্তুতিপর্ব’ | শখ –ক্রিকেট আর শস্য শ্যামল ক্ষেত | সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন গ্রাম বাংলার সবুজের হাতছানিতে |

রাস্তা খারাপ। ভীষণ লাফাতে লাফাতে ছুটছে রিক্সা। ও বার বার হেলে পড়ছে আমার দিকে। আমি বেড় দিয়ে ধরলাম ওকে। আমার দিকে একবার তাকাল। চোখেমুখের প্রবল ক্লান্তি ঠেলে একটু কৃতজ্ঞতা যেন ভেসে উঠল ভুস করে। আমি আর একটু ভাল করে বেড় দিলাম, ওর ডান হাতখানা তুলে নিলাম নিজের হাতে।

 

কুমকুমের ডান হাতের কড়ে আঙুলটা অস্বাভাবিক ছোট ছিল, যার জন্যে কিছুটা সঙ্কোচেও ভুগত ও; আমি মজা করে বলতাম, তোমার ডানহাতে সাড়ে চারখানা আঙুল।

ডানহাতটা নিজের হাতে নিয়ে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম এ একদম কুমকুমের মতো দেখতে একটি মেয়ে; কিন্তু কিছুতেই কুমকুম নয়।

//////////////

তখনই গর্তে পড়ে প্রবল ঝাঁকুনি দিল রিক্সা। অজান্তেই আমার বেড় দিয়ে থাকা হাতটা আরও সবল হয়ে উঠল।

বাঁকের মুখে বিশাল লরি ঢুকছে একখানা। থেমে গেছে আমাদের রিক্সা। হঠাৎ উদয় হলেন বিশুবাবু। সাইকেলে চেপে কোথাও যাচ্ছেন; পা ঠেকিয়ে রিক্সার পাশে দাঁড়ালেন। আমার চোখে চোখ পড়ে গেল। ভারি অবাক হয়ে দেখছেন আমাদের। সেদিন মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এসব ছোটখাট অপমান গায়ে মাখার পাত্র বিশুবাবু নয়। চোখের ইশারায় জানতে চাইলেন, কী ব্যাপার?

আমি বললাম, এই যে, বাড়ি যাব।

এবার কথা বললেন বিশুবাবু, কোথা গিয়েছিলেন?

এই যে কুমকুমকে আনতে। বেশ জোরে বললাম আমি।

ফের চোখের ইশারা করলেন বিশুবাবু; যার অর্থ – কোথা থেকে?

আমি ততোধিক জোর গলায় বললাম, ওর মাসতুতো বোনের বাড়ি থেকে।

এবার কথা বললেন বিশুবাবু, কোথা সেটা?

জগদীশপুর।

রিক্সাওয়ালা দেখলাম অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। বিশুবাবু রহস্যের গন্ধ পেয়েছেন। বললেন, জগদীশপুরের রুট তো এটা নয়; এদিকে কোথা থেকে আসছেন?

উত্তরটা তৈরিই ছিল। বললাম, আরে কুমকুমকে না দেখতে পেয়ে আমি তো থানায় একটা ডায়েরি করে দিয়েছিলাম, তাই থানায় গিয়ে জানিয়ে এলাম, পেয়ে গেছি।

ও। বলে বিশুবাবু কী যেন চিন্তা করতে লাগলেন।

সামনে থেকে লরিটা সরে গেছে। ফাঁকা রাস্তা। ফের সাঁইসাঁই করে চালিয়ে দিয়েছে রিক্সাওলা। বিশুবাবুও পড়িমড়ি করে পাশে পাশে চলছেন। বিশুবাবুর সাইকেলটার অবস্থা খুব ভাল নয়। চলার সঙ্গে সঙ্গে শব্দ বেরচ্ছে নানা রকম। বিশুবাবুও হাঁপাচ্ছেন। হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলেন, শরীর খারাপ মনে হচ্ছে?

আমি বলি, কার?

আপনার ওয়াইফের।

না না, শরীর ঠিক আছে; মন খারাপ।

খুব অবাক হয়ে তাকালেন বিশুবাবু।

আমি বললাম, আসলে আমাকে ছেড়ে তো কোনওদিন কোথাও থাকেনি কুমকুম – সেদিন রাগের মাথায় বোনের বাড়ি চলে গিয়েছিল – ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট পেয়েছে, তাই … ।

রাস্তার দিকে মন ছিল না বিশুবাবুর। উল্টো দিক থেকে আসা একটা বুড়োকে চাপা দিয়ে দিতে শেষ মুহূর্তে সামলে নিলেন। কিন্তু পুরোপুরি পারলেন না; বড় একটা গর্তে পড়তেই শব্দ করে ফেটে গেল সাইকেলের টায়ার।

////////

দুটো আলাদা মানুষের মধ্যে এত মিল থাকতে পারে কল্পনা করা যায় না। হাঁটা, চলা এমনকী শুয়ে থাকার ভঙ্গিটাও হুবহু এক। ওকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকলাম যখন তখন ভেতরটা মিশমিশে অন্ধকার। একটা একটা করে আলো জ্বালালাম। সবসময় আমার পেছন পেছন আসছিল ও। শোবার ঘরে ঢোকার পর প্রথম আমাকে টপকে বিছানায় গিয়ে বসল; আমার দিকে তাকাল একবার; তারপর ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল।

আরও পড়ুন:  বাঙালির চুমু চর্চা

আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম। শোবার সময় যেভাবে বাঁ হাতটা মাথায় দিয়ে বাড়িয়ে দেয় কুমকুম অবিকল সেভাবে বাড়িয়ে দিল।

কিছুক্ষণ পরেই বুঝলাম শ্বাস গভীর হয়ে গেছে ওর।

এটুকুই যা তফাৎ। শোবার পর কুমকুম এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ত না।

মাথায় বালিশ নেই। শীত পেলে কুমকুম যেভাবে কুঁকড়ে শোয় ঠিক সেভাবেই শুয়েছে।

মাথাটা একটু চাগিয়ে নিচে বালিশ দিয়ে দিলাম একটা; একটা চাদর দিলাম গায়ে।

ফোন বাজছে। ধরলাম। কুমকুমের বাবা। গলার অবস্থা আরও খারাপ; কাশি বেড়েছে।

বললেন, অবনীশ কী খবর? তোমার মায়ের তো এদিকে অবস্থা খারাপ।

আমি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলি, কী হল মায়ের?

শুনে থেকে শুধু কাঁদছে … ।

বলি, আপনি বলতে গেলেন কেন!

একটু থমকালেন শ্বশুরমশাই; খানিক কাশলেন। তারপর বললেন, মায়ের মন তো, ঠিক বুঝতে পারে … ।

আমি আশ্বস্ত করি, ঠিক আছে, কাঁদতে বারণ করুন, পাওয়া গেছে … ।

পাওয়া গেছে! বল কী! বলে এত জোরে চিৎকার করলেন শ্বশুরমশাই যে ফের কাশি এসে গেল। লাইনটাও কেটে গেল সঙ্গে সঙ্গে।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আমিই ফোন করলাম। তখনও কাশি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আসেনি। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, কবে পেলে?

এই মাত্র।

কোথা থেকে?

রেলব্রিজের পাশ থেকে।

কেমন আছে কুমকুম?

ভাল।

ঠিক বলছ তো বাবা অবনীশ? দাও না একটু কোথা বলি।

আমি বললাম, সে তো ঘুমচ্ছে এখন।

একটু হতাশ গলায় শ্বশুরমশাই বললেন, ও ঘুমচ্ছে! ডাক না একবার।

আমি বলি, খুব ক্লান্ত, এখন ডাকা ঠিক হবে না।

তবু কাতর গলায় শ্বশুরমশাই বলেন, একবারটি কথা বলতাম, বুঝতেই তো পারছ, খুব চাপ গেছে কদিন … ।

বলি, ডাক্তার ওকে বিরক্ত করতে নিষেধ করেছে; ঘুম থকে উঠলে আপনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব ।

কখন উঠবে ঘুম থেকে ?

এই রে! আমি বলি, সেটা তো বলা মুশকিল।

তবু ধর, এক ঘণ্টা … ?

এক ঘণ্টাও হতে পারে, আবার পাঁচ ঘণ্টাও হতে পারে … ।

ও বাবা, সে তো তখন অনেক রাত হয়ে যাবে।

আমি বলি, ওই জন্যেই তো বলছি, আজ থাক, কাল সকালে আপনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব।

খুব ভেঙে পড়া গলায় শ্বশুরমশাই বললেন, তাই দিও, তুমি ঠিক বলছ তো কুমকুম ভাল আছে …?

একটু হেসে বলি, কাল কথা বললেই বুঝতে পারবেন।

ফের কাশতে শুরু করলেন শ্বশুরমশাই। কেশেই যাচ্ছেন, কখন থামবেন কে জানে। কাশি শুনে ফালতু ফোনের বিল বাড়ানো বৃথা; আমি লাইন কেটে দিলাম।

 

                  (এগারো)

ত্রিপর্ণা বুদ্ধিবৃত্তিতে সবসময় আমার চাইতে কয়েক গজ এগিয়ে। আমি মুক্তকণ্ঠে কবুলও করি ওর শ্রেষ্ঠত্ব। কত বিপদময় এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, আমি যখন প্রকৃতই ভোম্বল, কী চমৎকার দক্ষতায় মোকাবিলা করেছে ও। এই তো মাত্র কয়েকমাস আগে, কুমকুম বাপের বাড়ি গেছে, বাড়ি ফাঁকা, আমি ত্রিপর্ণাকে ডাকলাম। সত্যি বলতে কী, ফাঁকা বাড়িতে ওকে একলা পাবার দুষ্টবুদ্ধি মাথায় চাগাড় দিয়েছিল সেদিন। দুপুরে ত্রিপর্ণার আসার কথা, আমি সারা সকাল নানান রঙিন স্বপ্নে বুদ, হঠাৎ দেখি বলা কওয়া নেই, কুমকুম। আসার কারণতা বড় অদ্ভুত। কে এক সিদ্ধপুরুষ ওর হাত দেখে বলেছে, সেদিন নাকি এক পবিত্র তিথি, ও যদি স্বামী সঙ্গ করে তাহলে সন্তান অনিবার্য। এদিকে আমার সঙ্কট সাড়ে সতেরো হাত – আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে ত্রিপর্ণা। তাড়াতাড়ি ওর মোবাইলে ট্রাই করলাম। নিয়তির এমনই পরিহাস, সেদিনই বাড়িতে মোবাইল ফেলে এসেছে ত্রিপর্ণা। সঙ্কটে আমার ভোম্বলত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। কী উপায়, ভাবতে না ভাবতেই কলিং বেল। আমি দৌড়ে যাচ্ছিলাম, তার আগেই দরজা খুলল কুমকুম। কুমকুমকে আগে কোনওদিন দেখেনি ত্রিপর্ণা। সামনাসামনি দেখে কিছু অপ্রস্তুত। কিন্তু সে মাত্র মুহূর্তকাল। প্রখর ইনসটিংক্টবলে ও আঁচ করে নিল পরিস্থিতি। নিজেকে এক বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিল। কুমকুম এসব কিছু বোঝে না, অগত্যা আমাকেই কোম্পানির নানা অফার সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল করল। আমি মনে মনে ওর অভিনয় ক্ষমতা আর উপস্থিত বুদ্ধিকে সেলাম জানালাম, যতটা সম্ভব মনোযোগ দিয়ে বীমা কোম্পানির স্কীমগুলো শুনলাম, তারপর খুব বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিলাম, আপাতত আমি আগ্রহী নয়। আমাকে আরও ভাবতে বলে বিদায় নিল ও। ত্রিপর্ণা চলে যাবার পর কুমকুম বলল, তুমি করাবে না কি ইনসিওর।

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৮)

আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, না, না।

মেয়েটা যেন কী রকম!

আমি বলি, কী রকম আবার।

সাজের বাহার দেখেছ। কুমকুম ঠোঁট উল্টে বলে, করিস তো বাবা দালালি; অত সাজের কী আছে!

আমি হেসে প্রসঙ্গ বদলাতে চাই।

কুমকুম বলে, নজরটাও সুবিধের নয়, বার বার আমাকে দেখছিল, চংমং করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল … ।

আমি বলি, তাই নাকি?

আমার আবার ভারী হারটা গলায় ছিল …

আমি হেসে উড়িয়ে দিই, না-না, অত ভয়ের কিছু নেই।

কাল রাতে ত্রিপর্ণাকে ফোন করেছিলাম আমি। সব খুলে বললাম। ওর মত বুদ্ধিমতী মেয়েও প্রচণ্ড অবাক; বার বার বলছিল, তুমি জোক করছ …। ওর বিস্ময় খুব স্বাভাবিক; কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যেগুলো প্রখর বুদ্ধি দিয়েও ব্যাখ্যা করা যায় না। ত্রিপর্ণা বলছিল ওর তখনই না কি ইচ্ছে করছে দেখার। অত রাতে সম্ভব ছিল না; আজ আসবে। আমারও ত্রিপর্ণাকে ভীষণ দরকার। সকালে উঠেই ফোন করলাম। ও তখন রাস্তায়।

ঘরে এলাম। এখনও ঘুমচ্ছে মেয়েটি। আমি কাল মেঝেতে বিছানা করে শুয়েছিলাম। অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসেনি। কেবলই মনে পড়ছে কুমকুমের কথা। ও কোথায় এখন? এই মেয়েটিই বা কে? মনে হচ্ছে ক্রমশ অতল জলে ডুবে যাচ্ছি, কূলকিনারা নেই, থই নেই। রাতে বেশ কয়েকবার উঠে আলো জ্বেলে দেখলাম। খুব খুঁটিয়ে দেখলাম। এত মিল! এও কি সম্ভব। ধীরে ধীরে আমার আত্মবিশ্বাস টাল খেয়ে যাচ্ছে; মনে হচ্ছে কুমকুমেরও দুটো তিল ছিল চিবুকে, ঠিক ঠিক এই জায়গায়; ওর ডানহাতের কড়ে আঙুল অস্বাভাবিক ছোট ছিল না …। হঠাৎ মনে পড়ল কুমকুমের স্তনসন্ধিতে একটা জড়ুল ছিল। দেখলাম, এর বুকের শাড়িটা কিছুটা সরে গেছে। ঘরে আলো জাললাম। উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম জড়ুলটা। তখনই ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে হালকা একটা শব্দ করে পাশ ফিরে শুল ও।

আরও পড়ুন:  পিতা উরিআআ, মাতা প্রশি

যখন অপেক্ষা করছি ত্রিপর্ণার জন্যে, হানটান পায়চারি করছি, ঘুম ভাঙল মেয়েটির। বিছানায় বসে অবাক চোখে এদিক ওদিক দেখল, তারপর হাই তুলল একটা। কুমকুম এভাবে, এত বড় করে হাই তুলত না কখনও। এটা একটা তফাৎ। হাই তুলে চোখ রগড়াল, তারপর তাকাল আমার দিকে। গতকালের ক্লান্তি অনেকটা কেটে গেছে চোখ-মুখ থেকে; বেশ ঝরঝরে দেখাচ্ছে। মুখে কিছু দলছুট চুল উঠে এসে পড়েছিল, হাত বুলিয়ে মাথার সঙ্গে মিশিয়ে দেবার চেষ্টা করল চুলগুলো। এটা আবার ঠিক কুমকুমের মতো। ও এভাবেই মুখে উড়ে আসা উড়ো চুল পেছন দিকে ঠেলে মাথার সঙ্গে লেপ্টে দেবার চেষ্টা করত।

বিছানা থেকে নামল ও।

মনে হল কিছু বলতে চাইছে আমাকে। কোনও প্রয়োজনের কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে যেকোনও মানুষের বাথরুমে যাবার দরকার পড়ে। আমার বন্ধু রসিকতা করে বাথরুমের নাম দিয়েছে প্রাতঃস্মরণীয়। মনে হল, ও বাথরুমটা কোথায় জানতে চাইছে। আঙুল তুলে দেখালাম। আমার অনুমান অভ্রান্ত। ও এগিয়ে গেল বাথরুমের দিকে। পেছন থেকে দেখলাম, একটু টলমল করতে করতে যাচ্ছে। গভীর ঘুম থেকে উঠলে মানুষের স্টেপিং-এর ছন্দ কেটে যায়। এরও নিশ্চয়ই তাই। হঠাৎ মনে হল, ওকে আমাদের পার্সোনাল বাথরুমটা দেখানো ঠিক হল না। খুব যত্নের বাথরুম আমাদের। মেঝেতে মার্বেল, দেওয়ালে টাইলস, ঝকঝকে কমোড, বেসিন। এমন বাথরুম বড়লোকের থাকে। একবার পুজো-বোনাসের টাকা প্লাস এরিয়ারের টাকা মিলিয়ে ঝোঁকের মাথায় করে ফেলেছিলাম। বাড়ির মধ্যে বাথরুমটা ছিল কুমকুমের অহঙ্কারের জায়গা। অতিথি এলে ও ছুতোয়-নাতায় ঘুরিয়ে আনত একবার বাথরুম থেকে। ওর পাল্লায় পড়ে আমিও যথা সম্ভব যত্ন করতাম। একটা বাথটব বসানোর পরিকল্পনা ছিল। সেটা ঠিক আমাদের জন্যে নয় – বাচ্চার জন্যে। ধেড়ে একটা লোক আধশোয়া হয়ে বাথটবে চান করছে – এ দৃশ্য আমার কখনও-ই শোভন মনে হয়নি। কিন্তু নাদুস-নুদুস একটা বাচ্চার হাত-পা ছুড়ে জল ছিটিয়ে বাথটবে চান আমি আজও চোখ বুজলে দেখতে পাই। বাথটব আর বসানো হয়নি, শেষের দিকে বাথরুম পরিচর্যায়ও আমাদের কিছু ঘাটতি পড়েছিল। তবুও সব মিলিয়ে কোথাও যেন অতিরিক্ত কিছু দরদ ছিল বাথরুমটার প্রতি।

মেয়েটি দেখলাম টলমল করতে করতে বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। আমি বললাম, এই যে … ।

 

চলবে

গত পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-11/

পূর্ববর্তী পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-10/

Sponsored
loading...

NO COMMENTS