এখন সকাল সাতটা | কালীপুজো হয়ে গেছে ক’দিন আগে | রাতের দিকে ক’দিন বেশ ঠান্ডা পড়ছে, সকালে ঘাসের মাথায় ছোট ছোট পুঁতির মতো শিশির ছড়িয়ে আছে | কাল অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসেনি | মাথার মধ্যে নানারকম চিন্তার বুদবুদ | কোথায় যেতে পারে কুমকুম? কোথাও চলে গেল কারও সঙ্গে? কিছুদিন ওর একটু আনমনা ভাব লক্ষ্য করছিলাম | রাধার কী হইল অন্তরে ব্যথা-র মতো মূর্তি – কী যেন ভাবছে, চমকে উঠছে মাঝে মাঝে | একটা মোবাইলের জন্য বায়না জুড়েছিল | দিচ্ছি-দেব করে ঠেকিয়ে রেখেছিলাম | দু’একবার মনেও হয়েছিল, কেষ্ট-বিষ্টু কেউ একটা জুটেছে | কোথাও যেন শুনেছিলাম, বউ পরপুরুষের প্রেমে পড়েছে বুঝতে পারলেও না জানার ভান করে থাকবে, তাতে গৃহশান্তিটুকু বজায় থাকবে অন্তত | কিন্তু যখনই বউ জানবে তুমি জেনে গেছ, তখনই খুল্লমখুল্লা হয়ে যাবে সে | স্বামী আর প্রেমিকের মধ্যে একটা রাস্তা বেছে নিতে হলে ফিফটি পারসেন্ট বউ কিন্তু গৃহত্যাগের জন্য প্রস্তুত | কথাটা বিশ্বাস করতাম বেশ, আর আমি নিজে কোন ফিফটির মধ্যে পড়ব তা নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব ছিল মনে, তাই কুমকুমকে খুব একটা ঘাঁটাইনি | শুধু একটু চোখ কান খোলা রাখতাম – বাড়াবাড়ি কিছু যেন না হয় | কখনও আমার মাসতুতো ভাই কৌষিক, কখনও ওর পিসতুতো দাদা চাঁদু, কখনও পাড়ার স্টেশনারি দোকানের ছোকরাটা, কখনও সবজান্তামার্কা টিভি মিস্তিরিটা – এই সব নানা জনের মুখ নানা সময়ে ভেসে উঠত | মাঝে মাঝে মনে হতো সবার সঙ্গেই আছে, মাঝে মাঝে মনে হতো কারও সঙ্গেই নেই | এর মধ্যে একদিন শুধু একটু গারূও= সন্দেহ হয়েছিল, আর তা নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি | উঠোনে হঠাৎ একটা পোড়া সিগারেটের টুকরো পাই | বেশ দামি ব্র্যান্ডের বিদেশী সিগারেট | ত্রিপর্ণা বলল, পাড়ার ছেলেরা কালীপুজোর চাঁদা নিতে এসেছিল, তাদেরই কেউ ফেলেছে | পাড়ার বেকার ছেলেদের কেউ এত দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খায়, ভাবা কঠিন | কিন্তু ওর যুক্তি, ওই জন্যই তো ওরা এইসব পুজো-টুজো করে | পরে ভেবে দেখেছি, এ কথাটা ফেলে দেবার মতো নয় | আমরাও তো বেকার বয়েসে পুজো-আচ্চা করতাম, ক’দিন একটু ভালমন্দ খাব, নবাবী করব বলে |

যাই হোক, আনমনা ভাবগতিক, মোবাইলের আবদার, বিদেশী সিগারেট – সবকিছু মিলিয়ে হয়তো একটা রহস্যময় ঝুলি চোখে পড়ে, কিন্তু তাহলে তো চিঠি-চিরকুট জাতীয় কিছু একটা রেখে যাওয়া উচিত ছিল | ‘আমি চলে যাচ্ছি | আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোর না  | ভাল থেক |’ – ইত্যাদি | তেমনই তো প্রথা | অবশ্য মোবাইলের জমানায়, চিঠি তো প্রায় উঠেই গেছে | তবে এসব সিচুয়েশনে চিঠিই নিরাপদ এবং রুচিসম্ম্মত | স্বামীকে ফোন করে স্ত্রী জানাচ্ছে, ‘আমি অমুকের সঙ্গে পালাচ্ছি, আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোর না ; ফ্লাস্কে চা আছে, খেয়ে নিও’ – এই একবিংশ শতাব্দীতেও নিতান্তই কষ্টকল্পনা | তবুও মোবাইলটা ভাল করে চেক করলাম, যদি কোনও মিসড-কল এসে থাকে | না, তেমন কিছু নেই |

এর পর খুব সঙ্গতভাবেই খারাপ চিন্তা মনে চলে এল | কেউ কি অপহরণ-টপহরণ করলো কুমকুমকে? আজকাল এসব খুব হচ্ছে | আমার মতো ছাপোষা মানুষের কাছ থেকে মুক্তিপনের আশা নিশ্চয়ই কেউ করবে না | কিন্তু এছাড়াও নানা মতলব থাকতে পারে | মানুষ আজকাল হাতির মতো হয়ে উঠেছে – মরলে লাখ টাকা | কিডনি বা ওই জাতীয় কিছু অর্গ্যানের নাকি আকাশছোঁয়া দাম বাজারে | আবার এমনও হতে পারে, জ্যান্ত কুমকুমকে কোনও খারাপ জায়গায় বিক্রি করে দিল |

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৮)

এইসব সাতপাঁচ চিন্তায় মাথা ক্রমশ ঘুলিয়ে উঠছে | সকালবেলা বড় কাপের এক কাপ চা খাই | তারপর একটা সিগারেট | আজ চা করার কেউ নেই | চা না খেলে সিগারেট ঠিক মতো জমবে না; আর সিগারেট না খেলে মাথার জটও ছাড়বে না |

মোড়ের মাথায় গঙ্গারামের চায়ের দোকান সকালেই বেশ জমজমে | এরমধ্যেই খবরের কাগজ এসে গেছে | টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাগজটা | গঙ্গারামের ভাঁড়ের যা সাইজ অন্তত চার ভাঁড় না খেলে চা খেয়েছি বলে মনেই হবে না | কিন্তু একসঙ্গে চার ভাঁড় চা নেওয়া বোকামি | আমি তাই এক নম্বর ভাঁড় নিয়ে চুমুক দিই | গঙ্গারামের চা আগে দু’একবার খেয়েছি ; অত্যন্ত বাজে | দেখলাম, এতদিন চায়ের দোকান চালিয়েও চা বানতে শিখল না গঙ্গারাম | কোয়ালিটি আরও অধঃপাতে গেছে |

ফ্রন্টপেজ হাতে নিয়ে বসে ছিলেন বিশুবাবু | বিশ্বসংসার সম্পর্কে ভদ্রলোকের অপার কৌতূহল | আমার দিকে দুবার আড়চোখে তাকালেন ; তারপর বললেন, অবনীশ যে!
আমি ভদ্রতার হাসি হাসলাম একটা |
কী ব্যাপার দোকানে চা খাচ্ছ! গিন্নি নেই না কি?
কেন থাকবে না! একটু ভেবেই বলে ফেললাম আমি |

এই মামুলি প্রশ্নটার এমন ঝাঁঝালো উত্তর পেয়ে বেশ একটু অবাক হয়ে গেলেন বিশুবাবু | তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, না মানে, তোমাকে তো বিশেষ দেখি না এখানে!

বুঝলাম, একটু বেহিসেবীর মতো জোরে বলা হয়ে গেছে | ম্যানেজ করার চেষ্টায় বললাম, চা-পাতা ফুরিয়ে গেছে হঠাৎ ; তাই ভাবলাম, গঙ্গাদার দোকানে খেয়ে নিই |

কাল রাতে কোথাও গিয়েছিলে না কি?
বুকের মধ্যে কোথাও যেন কিছু একটা ঢিপ করে পড়ল | তবু খুব স্বাভাবিক গলায় বললাম, না তো, যাইনি তো কোথাও!
না, অনেক রাতেও দেখলাম বাড়ি অন্ধকার ; আলো-টালো জ্বলছে না |
কত রাতে?
তা হবে, তখন আটটা হবে |
আমি কাল ন’টার সময় ফিরেছি |
বিশুবাবু নাছোড়বান্দা | বললেন, গিন্নিও বোধহয় বাড়ি ছিল না?

তিন চুমুকে প্রথম ভাঁড় শেষ | গঙ্গারামকে হেঁকে আর এক ভাঁড় দিতে বলে বললাম, শরীর-টরীর খারাপ ছিল বোধহয় |

বিশুবাবু কিছু বললেন না | কিন্তু আমার কথাটা বিশ্বাস করেছেন কি না বোঝা যাচ্ছে না | ফ্রন্টপেজটার দিকে একটু ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন | প্রসঙ্গ ঘোরাবার জন্য বললাম, কী বলছে কাগজ?

বিশুবাবু বললেন, খবর তো সেই একই – কংগ্রেস-সিপিএম –বিজেপি – লকআউট – রেল রোকো –মন্ত্রীর গুপ্ত একাউন্ট –প্রশ্ন ফাঁস –খরা-বন্যা – খুনখারাপি –ক্রিকেটে হার, ঘাটতির বাজেট…সবই এক…এর মধ্যে একটাই ভাল খবর, বাঁদরগুলোকে পাওয়া গেছে |

কী বাঁদর?
আরে, চিড়িয়াখানা থেকে চুরি গেছিল যেগুলো!
বাঁদর নিয়ে ক’দিন খুব হইচই হচ্ছে কাগজে-টিভিতে, খুব দুর্লভ প্রজাতির বাঁদর | আমি বলি, যাক ভালই হলো |

বিশুবাবু বললেন, পুলিশ মনে করলে সবই পারে ; কিন্তু করবে না…| ব্যাটারা গেঁতো!
কী ভাবে উদ্ধার করল? আমি জানতে চাই |
আরে সেটাই তো জানতে পারছি না ; ওটা পাঁচ পাতায় আছে! কখন থেকে আটকে রেখেছে দেখ না…|

দোকানের সামনে তিন চারটে ইয়াং ছেলে একটা পৃষ্ঠায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ; খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছে কিছু | চুমুক দিয়ে বললাম, সবাই আজ বাঁদর নিয়ে পড়েছে দেখছি |
গলা একটু নামিয়ে বিশুবাবু বললেন, বাঁদর না ছাই!

আরও পড়ুন:  ডুগডুগি (পর্ব ১২)

আমি অবাক হয়ে তাকালাম বিশুবাবুর দিকে |

তেমনই চাপা স্বরে বিশুবাবু বললেন, ওরা রসের খবর পড়ছে, বুঝলেন | রেপ!
রেপ ! বেশ অবাক হয়ে বলি, কোথায়?
পাঁচ পাতায় |
আরে দূর ; সে তো বুঝলাম! একটু বিরক্তি নিয়ে বলি, কোথায় হয়েছে রেপটা?
বাইপাসের কাছে | একেবারে গণধর্ষণ |
ও | বলে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি |
বিশুবাবু বললেন, শালারা খবরটা যেন মুখস্থ করছে পরীক্ষার মতো |
আমি বললাম, আপনি পেজটা চেয়ে নিন না |
বিশুবাবু বললেন, চাইতেই পারি, কিন্তু শালারা ঠিক ভাববে আমি রেপটার জন্যে চাইছি |

এতক্ষণে বিশুবাবুর সমস্যাটা অনুধাবন করতে পারি | বলি, একটু ওয়েট করুন তাহলে…|

ছোট খবর একটা, পাঁচ মিনিটও লাগে না; শালারা পনেরো মিনিট আটকে রেখেছে | বিশুবাবু বেশ ক্ষোভের গলায় বললেন, দেশটার বারোটা বেজে গেল, বুঝলেন…রেপ করলি ঠিক আছে; প্রাণে মারলি কেন?

মেরে ফেলেছে নাকি?
হ্যাঁ, তাই তো লিখেছে দেখলাম |
কেউ ধরা-টরা পড়েছে নাকি?
তেমন তো কিছু দেখলাম না | তবে পরিচিত লোকের কাজ |

আমি একটু বিস্মিত হই | বলি, কী করে বুঝলেন?

না বোঝার কী আছে! তিরিশ-পঁয়তিরিশ বছরের বিয়ে হওয়া মহিলা ; শুধু শুধু ওই নির্জন জায়গায় যাবে কেন! নিশ্চয়ই পরিচিত কেউ বাড়ি থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেছে, তারপর রেপ করে মেরে দিয়েছে – এ তো সোজা ব্যাপার |

‘বাড়ি থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেছে’ – শব্দগুলো আমার মাথার ভেতরে কোথাও ধাক্কা দেয় | তাড়াহুড়ো করে বলি, বয়েস কত বললেন?

তিরিশ-পঁয়তিরিশ তো লিখেছে…| আনুমানিক আর কী!
নাম কিছু দিয়েছে?
কই, সে সব তো কিছু দেখলাম না |
কোথাকার মেয়ে সে সব কিছু দিয়েছে?

আমার কৌতূহল বোধহয় কিছুটা বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে উঠেছিল | বিশুবাবু অবাক হয়ে গেছেন | বললেন, না না, ওসব কিছু দেয়নি; কেন বলুন তো?

আমি সামলে নিই নিজেকে | বলি, না, জাস্ট কৌতূহল |
বিশুবাবু বলেন, তবে এসব মেয়েরাও লুজ ক্যারেক্টার হয় জানবেন |

কী করে বুঝলেন? একটু বিরক্তি নিয়ে বলি আমি |

যারা রেপড হয় তাদের ক্যারেক্টারের ঠিক ঠিকানা থাকে না…….আপনি ভাবুন না, আমার আপনার ঘরের বউ যাবে ওই রকম নির্জন জায়গায় – সে যতই পরিচিত লোক হোক না কেন | বেশ জোরের সঙ্গে বলেন বিশুবাবু |

আমি বলি, অত সহজে কিছু বলা যায় না | বিশুবাবু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন | সামনের ছেলেদের মধ্যে একজন বিশুবাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, ফ্রন্টপেজটা হয়েছে আপনার?

বিশুবাবু ফ্রন্টপেজটা এগিয়ে দিয়ে ছেলেটির হাত থেকে একরকম ছিনিয়ে নিল কাগজটা |

কাগজটা মেলে ধরতেই আমি ঝুঁকে পড়লাম পঞ্চম পাতাটার ওপর | বাঁদর চুরির শেষাংশের পাশের সরু এক কলামের রেপ |

তিনটে কাগজ তছনছ করে বাইপাসের রেপ খুঁজলাম | দুটোতে কিচ্ছুটি নেই; আর একটাতে গুটিকতক লাইন, চায়ের দোকানের কাগজের চাইতেও কম | তাতে না আছে ধর্ষিতার নাম, না ঠিকানা | একটা ইংরিজি কাগজও কিনেছি | সবশেষে সেটা ধরলাম | এটাতে আবার গুচ্ছ গুচ্ছ পাতা, ওই গন্ধমাদনে বিশল্যকরণী খুঁজতে গিয়ে আমার গলদঘর্ম দশা | ইংরিজিতে আমার চিরকাল আতঙ্ক  – পরীক্ষায় চল্লিশের চৌকাঠ টপকাতে পারিনি কোনওদিন | একবারই, সেটা আবার মাধ্যমিকে, ঊনপঞ্চাশ পেয়েছিলাম হলে গার্ড খুব লুজ ছিল বলে | তবু এ.টি.দেবের ডিকশনারি নিয়ে বসলাম | দেশ-বিদেশ স্বর্গ-মর্ত-পাতাল চাঁদ-মঙ্গলগ্রহ – শুধু খবর আর খবর | ইংরিজি কাগজ না পড়লে বোঝাই যায় না চারপাশে কত কিছু ঘটছে | আশ্চর্যের ব্যাপার, এত ঘটনার ঘনঘটায় কোথাও বাইপাস নেই | দুটো রেপের খবর আছে; কিন্তু তার একটাও বাইপাসে নয় | ডিকশনারি দেখে খামচা-খামচা যেটুকু বুঝলাম, একটাতে মাসতুতো দাদা বোনকে আর একটাতে গৃহকর্তা যুবতী পরিচারিকাকে কব্জায় পেয়ে অপকর্মটি করেছে |

আরও পড়ুন:  ডুগডুগি (পর্ব ১৩)

সকাল থেকে চারটে কাগজ হাঁটকে লড়ে কোনও কাজ হলো না; শুধু পাঁচ-সাতটা নতুন ইংরিজি শব্দ শিখলাম | হঠাৎ মনে পড়ল কানাইদার কথা; আমাদের সেকশানে কাজ করে | ওরও বউ পালিয়েছে বছরখানেক আগে | কানাইদাকে ফোন করা যেতে পারে; নিশ্চয়ই আমার সমস্যাটা বুঝবে | ফোন করলাম কানাইদাকে | পাঁচ-সাতটা রিং হবার পর একজন মহিলা ধরল | একটু ঘাবড়ে গেলাম | যতদূর জানি, কানাইদা এখন একলা থাকে | একটাই ছেলে, সে থাকে কানাইদার দাদা-বৌদির  কাছে | তাহলে কি বউ ফিরে এসেছে কানাইদার? শুনিনি তো তেমন কিছু!

একটু দ্বিধার সঙ্গে বললাম, হ্যালো, এটা কি কানাই চোংদারের নাম্বার |

মহিলা কন্ঠ বলল, হ্যাঁ, উনি তো চান করছেন | ঠিক আছে, পরে করব – বলে রেখে দিতে যাচ্ছি হঠাৎ শুনলাম মহিলা বলছে, ওই তো এসে গেছে দিচ্ছি |

গলায় বেশ কেতা লাগিয়ে কানাইদা বলল, হ্যালো |

বললাম, কে ফোন ধরেছিল গো?

একটু চুপ করে থেকে কানাইদা বলল, পরে বলব |

কানাইদাকে বললাম বিপদের কথা | শুনে-টুনে কানাইদা গম্ভীর গলায় বলল, হুঁ ! কোনও আত্মীয়-টাত্মীয়ের বাড়ি যায়নি তো?

আমি বললাম, এভাবে ঘরদোর খোলা রেখে কেউ যায়!

হুঁ | কানাইদা বলল, তা অবশ্য ঠিক | তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে, তোর বউ পালিয়েছে |

পালিয়েছে; বল কী! আমি একটু আঁতকে উঠি |

ওই রকমই বলি |

কিন্তু পালাবে কেন?

ওই তো নয়…! কানাইদা বেশ ব্যঙ্গের সঙ্গে বলে, মাগিরা পালায় কেন, তা কি কেউ জানে | সংস্কৃত একটা শ্লোক আছে, যাতে বলছে যে, মাগিদের চরিত্র তুমি আমি কোন ছার, স্বয়ং ভগবানও জানতে পারে না |

কানাইদা এত জোর দিয়ে বলল কথাগুলো, যে আমার ভাল লাগছে না | বললাম কিন্তু ধর, কেউ কিডন্যাপ তো করতে পারে | এখন তো এসব খুব হচ্ছে |

কিডন্যাপ কেসগুলোর বেশিরভাগ জানবি গণ্ডগোলে ব্যাপার  – প্রথমে প্রেম-পিরিতি হলো, মেয়েটাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গিয়ে ভোগ করল, তারপর মার্কেটে ঝেড়ে দিল….|একটা জলজ্যান্ত মেয়েকে সম্মতি ছাড়া তুলে নিয়ে যাওয়া সহজ নয় | তুই একটা কুকুর বাচ্চাকেও খুব সহজে তুলে নিয়ে আসতে পারবি না – আর এ তো একটা গোটা মানুষ….|

ও | আমি একটু অসহায়ভাবে বললাম, তাহলে বলছ পালিয়েছে?

আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট শিওর | ভেবে দ্যাখ ঝগড়াঝাঁটি কিছু হয়েছিল?

না | আমি বেশ জোর দিয়ে বললাম, আমাকে অফিসের ভাত বেড়ে দিল, এমনকী ফেরবার সময় হত্তুকি আনতে বলল |

আশ্চর্য! একটু জোর দিয়ে বলে উঠল কানাইদা |

কী আশ্চর্য?

তোর বৌদি, মানে আমার বউও পালিয়ে যাবার দিন আমাকে হত্তুকি আনতে বলেছিল |

ও বাবা, তাই!

 

চলবে….

 

গত পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick/

Sponsored
loading...

NO COMMENTS