ছোটবাবু তাগাদা দেয়,কী হলো, পাড়ার কাউকে সন্দেহ হলে, বলুন|

আমি বলি,না স্যার,পাড়ার কাউকে তেমন সন্দেহ হয় না,আমাদের পাড়ার ইয়াং জেনারেশন খুবই ভাল|
তাই নাকি! ছোটবাবু একটু বাঁকা হেসে বলেন,আপনাদের পাড়ায় ব্রহ্মচারী তাহলে গিজগিজ করছে…খুব ভাল…|আর ওল্ড জেনারেশন কেমন;তাদের কাউকে সন্দেহ হয়…|

আমি জিভ কেটে বলি,কী যে বলেন স্যার…!
কেন ভুল কী বললাম!ছোটবাবু বলেন, বুড়োদের কী শখ-আহ্লাদ থাকতে নেই;বরং বুড়ো বয়েসেই রস বেশি উঠলে ওঠে জানবেন|বাপের বাড়ির কেউ…?
বলি,অ্যাঁ!
ওর বাপের বাড়ির কাউকে সন্দেহ হয়;মানে, ছোটবেলার প্রেমিক-টেমিক;বাল্যপ্রেম খুব খতরনাক জিনিস জানবেন…|
হঠাৎ মনে পড়ে যায় আমার|বলি,হ্যাঁ স্যার,একটা ছেলে খুব ডিস্টার্ব করত বিয়ের আগে|

কী নাম?
অমল স্যার|
অমল – কী?
না স্যার, অমল নয়, বিমল|
ছোটবাবু ধমকে ওঠেন, – ঠিক করে বলুন,এই বলছেন অমল,আবার বলছেন বিমল…|
ছোটবাবুর ধমক খেয়ে মনে হয় – কমল|আসলে,অনেকদিন আগে শুনেছিলাম|কুমকুম বলেছিল|পাড়ার একটা ছেলে নাকি ঘুরঘুর করত ওর পেছনে;ও অবশ্য পাত্তা দিত না|আমি বলেছিলাম, দেখিও তো ছেলেটাকে|কিন্তু সে নাকি ওর বিয়ের আগেই বাইরে কোথাও একটা চাকরি নিয়ে চলে যায়|ফলে সেই ব্যর্থ প্রেমিককে দেখা হয়নি আমার;নামটাও ভুলতে বসেছি|তবু আমি প্রাণপন স্মৃতি হাতড়ে যাই,যদি মনে পড়ে…|
ছোটবাবু বলেন,বাবার নাম বলতে পারবেন?

আমি মাথা নেড়ে না বলি|

ছোটবাবু বলেন,টাইটেল,বাবার নাম জানেন না,নামটাও ঠিকমত বলতে পারছেন না, এভাবে কি স্ট্রেস করা যায়!বিমল,অমল নামগুলো এত কমন,প্রত্যেক পাড়ায় মিনিমাম তিন-চারটে করে থাকে|

খুব ভুল বলেননি ছোটবাবু|আমাদের পাড়াতেই দুটো বিমল,আমাদের সঙ্গে তিনটে অমল কলেজে পড়ত|বলি, ঠিকই|

ছোটবাবু গলাটা প্রচন্ড গম্ভীর করে বলেন,আর আপনার?

বুঝতে না পেরে বলি,অ্যাঁ!
আপনার কারও সঙ্গে লাইন-টাইন নেই?
না,স্যার|
ঠিক করে বলুন|
অন গড বলছি,কিছু নেই স্যার…|আমার গলায় আকুতি|

গলায় কিছুটা তাচ্ছিল্য এনে ছোটবাবু বলেন,আপনি তো মশাই মারাত্মক ক্যালানে আছেন|

আমার একটা সমস্যা,কেউ আমাকে অপমান করলে তক্ষুনি তক্ষুনি বুঝতে পারি না|অনেক পরে মনে হয়,আরে,এটা তো আমাকে অপমান|তখন গুমরে মরি,বাথরুমে ঢুকে তার গুষ্টির তুষ্টি করি,মনে হয় শপথ নিই,আর একদিন কিছু বলুক,শালাকে ঝেড়ে কাপড় পরিয়ে দেব|এখন কিন্তু পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি,ছোটবাবু আমাকে অপমান করলেন|ছোটখাট নয়,প্রচন্ড অপমান|শুধু ক্যালানে বললে কথা ছিল,কিন্তু বললেন মারাত্মক ক্যালানে|অন্য কেউ হলে শিওর প্রতিবাদ করতাম|কিন্তু খোদ থানাতে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধাচারণের কলজে আমার নেই|তাই,প্রকৃতই ক্যালানে মার্কা একটা দৃষ্টি নিয়ে ছোটবাবুর দিকে তাকিয়ে থাকি|

আমাকে চমকে হঠাৎ টেবিলের ফোনটা ফোনটা ঝনঝন করে বেজে উঠল|বেশ কয়েকটা রিং হবার পর ছোটবাবু ধরলেন|দু’একবার ‘হুঁ, ‘হ্যাঁ’ বলার পর কিছুটা উত্তেজিতভাবে বলে উঠলেন, সে কী, এখন কী করে যাব!

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা

ওদিক থেকে কী উত্তর এল জানি না;ছোটবাবু দেখলাম আরও বেশি উত্তেজিত|চিত্কার করে বলছেন, আপনারা কী ভাবেন বলুন তো আমাদের, কী ভাবেন বলুন…|ইম্পসিবল|

বিনা ভূমিকায় ঘপাত করে রিসিভারটা রেখে ছোটবাবু বললেন, ক্যা-লা-লা-নে!

আমি ফের চমকে উঠলাম|তবে এটা বোধহয় আমাকে নয়|

ফস করে সিগারেট ধরালেন ছোটবাবু|তারপর সামনের খাতায় কী সব খসখস করে লিখতে লিখেতে বললেন,ছবি?

অ্যাঁ!
চোখ সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,ছবি-টবি কিছু এনেছেন আপনার ওয়াইফের?
না তো!আমি অসহায়ভাবে ঘাড় নাড়ি|
দেখেছেন তো;কেন আপনাকে ক্যালানে বলেছিলাম!ছোটবাবু মুখের ধোঁয়াটা ছাড়তে ছাড়তে বললেন,মিসিং ডাইরি করতে এসেছেন,অথচ ছবি আনেননি,বউকে কি ফিরে পাবার ইচ্ছে নেই?

মনে মনে স্বীকার করি কাজটা বাস্তবিকই নির্বোধের মতো হয়েছে;ছবি একটা আনা উচিত ছিল আমার|

ছবি আছে তো?
হ্যাঁ, আছে|
যান নিয়ে আসুন|

সঙ্গে সঙ্গে তড়াক করে উঠে দাঁড়াই আমি|

ছোটবাবু লেখা থামিয়ে আমার দিকে তাকান|তারপর বলেন,ঠিক আছে, বসুন;আমি ইনভেস্টিগেট করতে যাব,তখন দিয়ে দেবেন|

বলা মাত্র ধপাস করে বসে পড়ি আমি|

ছোটবাবু লেখা শেষ করে এক টুকরো কাগজ আমার হাতে দেন|বলেন,যান,বাড়িতেই থাকবেন,কোথাও যাবেন না;আমি দুপুরের দিকে যাব|

ফের ঝনঝন করে বেজে উঠল টেবিলের ফোন|ছোটবাবু দেখলাম পাত্তা না দিয়ে মৌজ করে সিগারেট টানছেন,আর বেজেই যাচ্ছে ফোনটা|

 

বাইরে বেরোতেই বন্দুকধারী সেই সেপাইটার সঙ্গে চোখাচোখি|মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল,কাজ মিটল?

এই প্রথম কোন পুলিশকে হাসতে দেখলাম|ভারি আনন্দ হলো দেখে|আমিও মৃদু হেসে প্রত্যুত্তর করলাম,হ্যাঁ দাদা,মিটল|

নিজের বলা কথাগুলোই খট করে কানে লাগল আমার|পুলিশকে দাদা সম্বোধন করা কি ঠিক হলো?স্যার বলাই তো দস্তুর|কিন্তু এর নাকি কন্ঠস্বর,মৃদু হাসি,চোখমুখের ভালোমানুষি বোধহয় আমাকে দাদা বলতে প্ররোচিত করেছে|

বন্দুকধারী বলল,কাগজটা যত্ন করে রেখে দেবেন|

ছোটবাবুর দেওয়া ছোট্ট চিরকুটটা ভালো করে দেখি|জ্যালজ্যালে এল টুকরো কাগজ,এবড়ো-খেবড়ো করে ছেঁড়া;তার ওপর নীল কালিতে গুটিকতক অক্ষর আর সংখ্যা|

কাগজটা যত্ন করে পকেটে রাখি|এটা আমার বিপত্তারণ মাদুলি – কুমকুম সংক্রান্ত সমস্ত সংকট থেকে রক্ষা করবে|

থানার বাইরে এসে মনে হয় ঠিক আছে তো কাগজটা|পকেট থেকে বের করে দেখে নিই একবার|নিশ্চিন্ত হই|ফের ভাঁজ করে রেখে দিই যথাস্থানে|বুক পকেটে হাত বুলিয়ে সাবধানে রাস্তা চলি|

 

যা ভয় করছিলাম তাই – বিশুবাবুর সঙ্গে দেখা গঙ্গারামের দোকানে|

সারা দুপুর টেনশনে কেটেছে|ছোটবাবু দুপুরে আসবেন বলেছিলেন,দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো,এলেন না|

ছবির অ্যালবামটা বের করে রেখেছি আলমারি থেকে|বিয়ের ছবি,প্রথম ম্যারেজ অ্যানিভার্সারির ছবি,হানিমুনে পুরী গিয়েছিলাম,সেই ছবি,বিষ্ণুপুর,ঘাটশিলা,দীঘা-মন্দারমণির ছবি – এত ছবির মধ্যে কোনটা নেব সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না|ভাবলাম,ছোটবাবুকে ধরে দেব অ্যালবাম – যেটা পছন্দ নিয়ে নিন|হঠাৎ দেখি অ্যালবামের প্রথম ছবিটাই নেই|কুমকুমের কলেজ লাইফের ছবি,ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট|ওর ভারি পছন্দের ছবি;অ্যালবামের প্রথম পাতাতেই রেখে ছিল;একা কুমকুম ছাদের আলসেতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে,পেছনের টবে ঝাঁকড়া বেলফুল গাছ আর টিভি অ্যান্টেনা;এক অদ্ভুত উজ্জ্বল আলো ছবিটায়|অল্প হওয়া বইছে;কুঁচো কিছু চুল উড়ছে হাওয়ায়; কুমকুমের চোখ দুটো সেই মৃদু বাতাসের উৎস সন্ধানে ব্যস্ত,মনে হচ্ছে খুব গভীর অনুসন্ধিৎসায় দেখতে চাইছে কে আলতো হাতে সরিয়ে দিচ্ছে তার কপালের কুঁচো চুল|কুমকুমের মাসতুতো দাদা নাকি তুলেছিল ছবিটা|

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা

ছবিটা নেই দেখে একটু অবাক লাগল|

দুপুরবেলা খিদে পেয়েছিল খুব|রান্নাঘরে এটা ওটা উটকে-পাটকে মুড়ি,বাদামভাজা আর বিস্কুট পেলাম|পেট ভরে মুড়ি খেয়েছি দুপুরবেলা|বেলা একটু গড়াতেই মনটা চায়ের জন্য উচাটন;সদর-দরজায় তালা দিয়ে গঙ্গার দোকানে এলাম|দোকান ফাঁকা,গঙ্গারাম এঁটো কাপ ডিস ধুচ্ছিল;বলল দেরি হবে চায়ের|বেঞ্চির একদিকে খবরের কাগজটা ধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে|কাগজটা তুলে দিয়ে অন্যমনস্কভাবে ওল্টাচ্ছিলাম,হঠাৎই বাইপাসের সেই রেপটা চোখে পড়ল|বেশ কয়েকবার পড়া হয়ে গেছে ‘খবরটা’,তবুও অন্যমনস্কভাবে চোখ বোলাচ্ছিলাম;বিশুবাবু কখন দোকানে ঢুকেছেন খেয়াল করিনি|একেবারে পাশে বসে বললেন, কী পড়ছেন?

একটু চমকে উঠলাম|বললাম,কী আর পড়ব,তেমন কিছু নয়…|বিশুবাবুর ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ভেসে উঠল|বেশ ইঙ্গিতময় হাসিটা,যেটার সরলার্থ করলে দাঁড়ায় – কী পড়ছ তা কি আর বুঝি না!

বিশুবাবু বললেন,পড়ুন,পড়ুন;আমিও তো বিকেলের দিকে কাগজটা একবার রিভাইজ দিই – কত খবর নতুন করে ধরা পড়ে তখন – আমার ভাই টিভিতে খবর দেখে জুত হয় না|

আমি দেঁতো হাসি হেসে কাগজটা বাড়িয়ে দিই বিশুবাবুর দিকে|খুব হেলাফেলার সঙ্গে কাগজটা নিতে নিতে বিশুবাবু বলেন,বাড়িতে চুরি-চামারি হলো না কি কিছু?
কেন বলুন তো? আমি অবাক হয়ে বিশুবাবুর দিকে তাকাই|
থানায় গিয়েছিলেন যে!

বিশুবাবু সত্যিই গেজেট বটে একখানা;ঠিক খবর পেয়ে গেছে!মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল,আপনি কী করে জানালেন?

কাগজটা ঠিকমতো ভাঁজ করতে করতে বিশুবাবু বললেন,আমারও একটু দরকার ছিল থানায়;দূর থেকে দেখলাম আপনি বেরিয়ে আসছেন,একটু যেন অন্যমনস্ক ছিলেন,পকেট থেকে কী একটা বের করে দেখলেন…|
হ্যাঁ,গিয়েছিলাম|
কী চুরি গেল?
মোবাইল|

কেন মোবাইল বললাম জানি না|সম্ভবত,আগের দিন অফিসে খুব হইচই হচ্ছিল – পারচেসের কান্তদা,আর ডেসপ্যাচের তিস্তা,দুজনের দুটো মোবাইল চোট হয়েছিল বাসে|সেইজন্যই বোধহয় মোবাইলটা বেরিয়ে এল মুখ দিয়ে|

বিশুবাবু বললেন,সর্বনাশ মোবাইল হারানো খুব বাজে ব্যাপার|কী করে চুরি গেল?

বললাম,টেবিলে রেখেছিলাম;কেউ মনে হয় জানলা দিয়ে তুলে নিয়েছে|

বিশুবাবু খুব বুঝদারের মতো বললেন,বেকারত্ব বাড়ছে,মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে – এসব দিন দিন বাড়বেই…|ভালো করেছেন,মোবাইল হারালে অবশ্যই ডায়েরি করা উচিত!

আরও পড়ুন:  আলোঝাপসা

ঠিক তখনই আমায় বেজায় অস্বস্তিতে ফেলে পকেটে বেজে উঠল মোবাইলটা|আমি অসহায়ভাবে তাকালাম বিশুবাবুর দিকে|দেখলাম,বিশুবাবুও বেশ অপ্রস্তুত|কিন্তু দ্রুত সেই অপ্রস্তুত ভাব ঝেড়ে ফেলে খুন অভদ্রের মতো বললেন,এটা কি নতুন কিনলেন নাকি?
বললাম,হ্যাঁ|
ফোনটা ধরুন,কেটে যাবে যে!

এত অপ্রস্তুত হয়ে গেছি যে ফোন ধরার কথা মাথায় নেই|বিশুবাবু বলতে,তাড়াতাড়ি পকেট থেকে বের করে কলটা রিসিভ করলাম|তাড়াহুড়োতে স্ক্রিনটা দেখা হয়নি,দেখলে হয়তো ধরতাম না|আমার শ্বশুর, মানে কুমকুমের বাবা|ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললেন,হ্যালো অবনীশ,কী হয়েছে কুমকুমের?

একটু অবাক হবার ভান করে বলি,কই,কিছু হয়নি তো!
কুমকুম কোথায়?

বাড়িতে|

ফোনটা কানে লাগিয়েই দোকান থেকে বেরিয়ে আসি আমি|শ্বশুরমশাই উত্তেজনার চোটে বেশ জোরে জোরে কথা বলছেন;আমার ফোনের স্পিকারটাও লাউড,ভয় হচ্ছিল বিশুবাবুর কানে যাবে কথাগুলো|

কী সর্বনাশ!বলেই প্রবলভাবে কাশতে শুরু করলেন শ্বশুরমশাই|

আমি আড়চোখে তাকালাম বিশুবাবুর দিকে|কাগজে মুখ গুঁজে রয়েছেন;কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে কান এদিকে|

সর্বনাশটা কী এখনও বলতে পারেননি শ্বশুরমশাই;তবে অনুমান করতে পারি আমি|কুমকুমের খবরটা পেয়ে গেছেন|বোঝাই যাচ্ছে,ছোটবাবুর কাজ|

কাশি থেমেছে শ্বশুরমশাইয়ের|কিন্তু প্রবল হাঁপাচ্ছেন|গলাটাও একদম বদলে গেছে;মনে হচ্ছে একটা হাঁড়ির মধ্যে মাথা গলিয়ে কথা বলছেন|বললেন,পুলিশ ফোন করেছিল একটু আগে|বলে কি না…|

ফের কাশতে শুরু করলেন শ্বশুরমশাই|

আমার শ্বশুরমশাই এমনিতে সাদা সাপটা মানুষ|সারা বছরই সর্দি কাশি হাঁপানিতে ভোগেন,কিন্তু খরচের ভয়ে ভালোমতো চিকিত্সা করান না|

কাশি থামালা শ্বশুরমশাইয়ের|আমি বললাম, উত্তেজিত হবেন না;হাঁপানিতে উত্তেজনা খারাপ|আপনার শরীর খারাপ বলেই কিছু জানাইনি…|

শ্বশুরমশাই বললেন, কী হবে এখন?

কেউ যখন অসহায়ভাবে নির্ভর করে আমার ওপর, তখন নিজেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আর দায়িত্বশীল বলে মনে হয়|শ্বশুরমশাইকে বুঝদারের মতো আশ্বস্ত করি,কোনও চিন্তা করবেন না,আমি দেখছি কী করা যায়….|আপনি কেবল পাঁচকান করবেন না কথাটা|
সে তো বটেই;আমি এখনও তোমার শাউড়িকে জানাইনি|

বললাম, খুব ভালো করেছেন|পুলিশ আর কী জিজ্ঞেস করল?
কেবল তোমার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছিল;তোমাকে সন্দেহ করি কি না, তোমাদের মধ্যে মিলমিশ কেমন এইসব|

আপনি কী বললেন?একটু আশঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করি আমি|
আমি বললাম আমার জামাই খুব….|ফের কাশতে শুরু করলেন শ্বশুরমশাই|আমি পড়ে গেলাম মহা উদ্বেগে – আমার নামে কী সার্টিফিকেট দিয়েছেন পুলিশকে বলার আগেই বাধা|

৪ র্থ পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-4/

৩য় পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-3/

২য় পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-2/

১ম পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick/

উল্লাস মল্লিক
জন্ম ১৯৭১ | লেখালিখি শুরু ২০০০ সালে | প্রথম উপন্যাস ‘প্রস্তুতিপর্ব’ | শখ –ক্রিকেট আর শস্য শ্যামল ক্ষেত | সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন গ্রাম বাংলার সবুজের হাতছানিতে |

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ