উল্লাস মল্লিক
জন্ম ১৯৭১ | লেখালিখি শুরু ২০০০ সালে | প্রথম উপন্যাস ‘প্রস্তুতিপর্ব’ | শখ –ক্রিকেট আর শস্য শ্যামল ক্ষেত | সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন গ্রাম বাংলার সবুজের হাতছানিতে |

হ্যাঁ, তুমি রাগ করেছ। গোঁয়ারের মতো ত্রিপর্ণা বলে, তাই কথা বলতে চাইছ না, বুঝেছি আমি …।

এই হচ্ছে ত্রিপর্ণার গোঁ। নিজে কিছু একটা ভেবে নিলে তা থেকে সরানো মুশকিল।

একটু গলা নামিয়ে বলি, কাল থেকে কুমকুমকে পাওয়া যাচ্ছে না ; খুব বিপদ আমার, পুলিশ এসেছে …।

মানে ! কুমকুম, মানে বৌদিকে … ? ত্রিপর্ণা আঁতকে ওঠে।

হ্যাঁ।

সর্বনাশ, কোথায় গেল ?

সেটা জানলে তো, প্রবলেমটাই হয় না।

কিছু হয়েছিল তোমার সঙ্গে ?

আমি চাপা গলায় বলি, বাড়িতে পুলিশ।

 

মোবাইলটা অফ করে পকেটে রাখতে যাব, দেখি ছোটবাবু ডান হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছেন আমার দিকে। ছোটবাবু হাত বাড়িয়ে কি চাইছেন বুঝতে অসুবিধে হয় না। মোবাইলটা ছোটবাবুর হাতে দিতে গিয়ে বুঝতে পারি, হাত কাঁপছে।

ছোটবাবু মোবাইলের স্ক্রিনটা দেখতে দেখতে বলেন, এটাও কি আপনার ওই বলাইবাবুর ফোন ?

আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। ঘাড় নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলতে গিয়ে দেখি ভীষণ শক্ত হয়ে গেছে ঘাড়।

 

এই জন্যেই ত্রিপর্ণাকে মাঝে মাঝে ভীষণ শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে। আমার চেয়ে বয়সে কত ছোট, অথচ কী প্রখর বুদ্ধি।

ছোটবাবু আমার ফোনের কল-লিস্ট দেখে তখনই ফোন করেন ত্রিপর্ণার ফোনে। রিং হয়েই গেল, রিসিভ করল না কেউ। আমার স্থির বিশ্বাস, তুখোড় অনুমানশক্তি কাজে লাগিয়ে ত্রিপর্ণা বুঝে যায়, ফোন ধরলেই ঝামেলায় পড়বে।

একটু হতাশ হয়ে ছোটবাবু বলেন, আপনার বলাইবাবু তো ফোন ধরছেন না। আপনার ফোন থেকে একবার ট্রাই করুন তো …।

আমি বাধ্য হয়ে ফোন করি ত্রিপর্ণাকে। কিন্তু ততক্ষণে সুইচ অফ করে দিয়েছে ও।

ছোটবাবু থমথমে মুখে শুধু বলেন, হুঁ। দেখি, আপনার ওয়াইফের ছবি-টবি কী আছে, দেখি …।

                                                (ছয়)

সকালে ঘুম ভাঙল হাঁচির শব্দে। ঝন্টু হাঁচছে। ঝন্টুর হাঁচির বিশেষত্ব হল, একটানা দশ-বারোটা না হেঁচে থামে না, আর শব্দটা বড় অদ্ভুত – খুব তীক্ষ্ণ ছি-ই-ক, ছি-ই-ক শব্দ নির্গত হয় নাক দিয়ে। শুয়োরকে কোনওদিন হাঁচতে শুনিনি ;  কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস, শুয়োরে হাঁচলে এমনই শোনাবে।

হাঁচি থামিয়ে ঝন্টু চিৎকার করে বাবুলালকে ডাকল। বাবুলাল হচ্ছে ঝন্টুর বন্ধু-কাম-মোসায়েব-কাম-উচ্ছিষ্টভোজী। পয়সাওলা ঝন্টুর এরকম আরও কয়েকজন আছে ; তারা ঝন্টুর ভাঁড়ামি শুনে হ্যা – হ্যা করে হাসে, জুতো পালিশ করে দেয়, পাছা চুলকে দেয় প্রয়োজনে।

বাবুলাল সাড়া দিল ঝন্টুর ডাকে। ঝন্টু আরও বেশি চিৎকার করে বলল, খবর শুনেছিস ? ঝন্টুর এই স্বভাব; হাঁকডাক ছাড়া কথা বলতে পারে না। হয়ত ভাবে, এটাই পৌরুষের পরিচয়। পৌরুষ নিয়ে কিঞ্চিৎ হীনমন্যতায় ভোগে ঝন্টু; কারণ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাবার পরও ওর গোঁফ-দাড়ি গজায়নি বহুদিন। বিস্তর চিকিৎসার পর তবে ওর গোঁফ-দাড়ি লজ্জা ভেঙে বাইরে আত্মপ্রকাশ করে।

বাবুলাল বলে, কী শুনব?

লোকজনের বউ পালাচ্ছে রে সব।

কার আবার বউ পালাল?

পালিয়েছে এক হারামি আঁটকুড়োর।

তারপর খিক খিক করে যৌথ হাসির শব্দ।

সেই হাসি তীক্ষ্ণ শলাকার মতো আমার কান দিয়ে ঢুকে ব্রহ্মতালু পর্যন্ত খুঁচিয়ে দিল। চোখে অন্ধকার দেখলাম আমি।

ইদানীং এটা আমার হয়েছে, আঁটকুড়ো শব্দটা একেবারে সহ্য করতে পারি না। আর ঝন্টু দিনে-রাতে কারণে-অকারণে চীৎকার করে ওই শব্দটা বলে। যেমন, ঝন্টুর একটা দিশি কুকুর আছে; সে হয়তো কোনও বেয়াদপি করে ফেলেছে; ঝন্টু চিৎকার করে ‘আঁটকুড়োর-ব্যাটা’ বলে তাকে গালাগালি দিল;

আরও পড়ুন:  ডুগডুগি (পর্ব ১৬)

ঝন্টুর একটা নারকেল গাছে ফল ধরেনি; সেদিন শুনলাম ঝন্টু বলছে, শালা আঁটকুড়ো গাছটা কেটে ফেলব। বুঝতে পারি, আমাকে শুনিয়ে বলছে। দিন দিন এমন হচ্ছে, অন্য কারও মুখে শব্দটা শুনলে মনে হয় আমাকেই শুনিয়ে বলল। সেদিন বাজারে একটা মেছুনীর সঙ্গে একজনের ঝগড়া হচ্ছিল। মেছুনী চীৎকার করে লোকটাকে গালমন্দ করছিল। অনেক কুকথার মধ্যে যখন আঁটকুড়ো বলল মনে হল শব্দটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আমার দিকে ছিটকে এল। 

একদিন চিৎকার করে খবরের কাগজ পড়ছিল ঝন্টু। কাগজে রেল-বাজেটের খবর। ঝন্টু বলল বাবুলালকে, বাজেটের মানে জানিস?

বাবুলাল বলল, কী গুরু?

বাঁজা মাগির পেট।

তারপর খিকখিক যৌথ হাসি।

আমি আর কুমকুম চা খাচ্ছিলাম বিছানায় বসে। শব্দটা উড়ে এল জানালা দিয়ে। কাঁটাওলা গা তার, বিষাক্ত দৃষ্টি, লাল লকলকে জিভ, প্রমান মানুষ-উচ্চতার এক জীব। ঝন্টুর যত্নের সৃষ্টি। সে বসে পড়ল আমাদের মাঝখানে। মাঝে মাঝে তাকাচ্ছিল আমাদের দিকে, আর জিভ দিয়ে চেটে চেটে পরিস্কার করছিল নিজের লোমশ গা। কী দুর্গন্ধ জন্তুটার গায়ে! আমার ভীষণ রাগ হল। মাথায় হলকা; প্রচণ্ড মুঠো করেছি হাত দুটো; লড়াই করব জন্তুটার সঙ্গে – মরণপণ লড়াই; হয় আমি থাকব না হয় সে …। জন্তুটাও টের পেয়েছে আমার ক্রোধ; সেও প্রস্তুত লড়াইয়ের জন্যে। শরীরের লোম ফুলে উঠেছে তার, ল্যাজ আছড়াচ্ছে মাটিতে, গরগর করে গর্জন করছে, মাঝে মাঝে ঝিঁকিয়ে উঠছে শ্বদন্ত।

কুমকুম বুঝতে পেরেছিল আমার অবস্থা। তাড়াতাড়ি উঠে জানলাগুলো বন্ধ করে দিল ঘরের। অন্ধকার হয়ে গেল ঘর। অন্ধকার পেয়ে আরও বিকট হয়ে উঠল পশুটা, সেই মুহূর্তে বুঝতে পারলাম, লড়াইটা নেহাতই একপেশে হবে; আমার হার অনিবার্য। তখনই ঘরের অন্ধকার গপ করে গিলে নিল আমার রাগ; আর সঙ্গে সঙ্গে লড়াইয়ের ‘ইচ্ছেটা’ও ভ্যানিশ।

অন্ধকারে চুপ করে বসেছিলাম দুজনে। কতক্ষণ জানি না। চা-টা খেতে গিয়ে দেখলাম একদম ঠাণ্ডা।

সেই থেকে পশুটা থেকে গেছে আমাদের ঘরে; রোজ রাতে আমাদের দুজনের মাঝখানে শুয়ে থাকে। যত দিন যাচ্ছে গায়ের লোমগুলো কাঁটার মতো কঠিন আর ছুঁচল হয়ে উঠছে। কুমকুমের দিকে সরতে গেলেই কাঁটা ফুঁটে যায় গায়ে। ওরও নিশ্চয়ই এরকমই কিছু হয়; আগে মাঝে মাঝে ঘুম ভাঙলে দেখতাম কুমকুমের হাত আমার গায়ে। এখন প্লাসটিক মোড়া হাত-পা বাঁধা লাশের মতো শুয়ে থাকে ও।

বাবুলাল বলল, বউ পালায় কেন?

সেটা আঁটকুড়োকে জিজ্ঞেস কর।

খেতে – টেতে দিত না নাকি?

তাই হবে। তবে বাঁজা মেয়েছেলের পেট ভরানো কি মুখের কথা!

কার সঙ্গে পালাল গুরু?

তা জেনে তোর কী? আমার সঙ্গে নয়, এটুকু বলতে পারি।

শুয়ে শুয়ে সব শুনতে পাই আমি। আমার রাগ হয় না। ভীষণ ভয় করে। সেই ভীষণ জন্তুটার সামনে আমাকে একা ফেলে কুমকুম চলে গেছে। দুজনে থাকলে তবু একটু সাহস পাই। কিন্তু একা বড় অসহায় লাগে। খুব অভিমান হয় কুমকুমের ওপর; আমাকে একা ফেলে চলে গেল!

আরও পড়ুন:  অমরনাথ এবং দন্তেওয়াড়া সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম

কিছুতেই ভেবে পাচ্ছি না, ঝন্টু কী করে জানল। ঠিক যে, ঝন্টুরা আমাদের গতিবিধির আগাপাশতলা লক্ষ রাখে। কাল ছোটবাবু বাগানটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। আলো জ্বেলে দিতে বললেন বাগানের; তারপরও টর্চের আলো ফেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। আর মাঝে মাঝে প্রশ্ন করছিল আমায়। সবই ওপর চাপ দেওয়া কুট প্রশ্ন। বেশ জোরে জোরেই করছিল; মাঝে মাঝে ধমক টমকও দিচ্ছিল। ছোটবাবুর ধমকের চেয়েও তখন বেশি ভয় পাচ্ছিলাম ঝন্টুকে। ওদের বাড়ির দিকে আড়চোখে বার বার তাকাচ্ছিলাম।

বুঝতে পারি, ঝন্টু জেনে গেছে মানে, আমার কেলেঙ্কারির সলতেতে আগুন লেগে গেছে। আর কিছু করার নেই।

 

প্রথমে ভেবেছিলাম, বাইরে বেরোব না; সারাদিন লুকিয়ে থাকব বাড়িতে। তারপর সিদ্ধান্ত বদল করলাম। বাজার হাট আছে, অফিস আছে – কতদিন এভাবে আত্মগোপন করা যায়। রবীন্দ্রনাথের একটা সঞ্চয়িতা আছে বাড়িতে। কুমকুম মাঝে মাঝে পড়ে। ছেলেবেলায় আমাদের হেডস্যার তারাপদবাবু বলতেন, সঞ্চয়িতা পড়লে বুকে বল পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয়িতাটা খুলে বসলাম। দেখলাম, বেশ কিছু কবিতায় ভয়কে জয় করার কৌশল বাতলে দেওয়া হয়েছে; সেগুলো একাধিকবার জোরে জোরে পড়লাম। মনে হল, ভয়টা যেন একটু কমেছে। সত্যি রবীন্দ্রনাথ যেন অন্তর্যামী – সাধে কী আর বিশ্বকবি হয়েছেন। মনের গহনতম কামনা বাসনাগুলো কেমন টুক করে বলে দিয়েছেন। ছত্রে ছত্রে লজ্জা – ভয়ের অমোঘ দাওয়াই, মৃত্যুকে পর্যন্ত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য।

বুকের মধ্যে পর্যাপ্ত সাহস নিয়ে রাস্তায় বের হলাম। মোড়ের মাথায় কতগুলো ছেলের জটলা; হঠাৎ হই হই করে উঠল। আমার কিছুটা সাহস চলকে পড়ল বুক থেকে। এ নিশ্চয়ই আমাকে উপহাস। কিন্তু ওদের পাশ দিয়েই যেতে হবে। একবার মনে হল ফিরে যাই। তারপরই মনে হল, আমি না সদ্য সঞ্চয়িতা থেকে শপথ নিয়েছি। ফিরে যাব কেন – ওদের পাশ দিয়েই যাব। কেবল সোজা মাথাটা একটু নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে নিলাম। এটাও করার ইচ্ছে ছিল না; কিন্তু মনে হল, ঘাড়টা সোজা রাখলে একটু যেন টনটন করছে; তাই ঘাড়ের আরামের জন্যই মাথাটা ঝোঁকালাম; কোনও ভয় বা লজ্জায় নয়।

ছেলেগুলোকে টপকে যেতেই ভুল ভাঙল। আমাকে নয়, ওরা সঙ্গমরত একজোড়া কুকুর-কুকুরিকে দেখে হই দিচ্ছে। রাস্তার পাশেই একটা পাঁশুটে আর একটা সাদা কুকুর ছেলেছোকড়াদের যাবতীয় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ উপেক্ষা করে মিলনে মেতে উঠেছে। কেউ একটা ইঁট ছুড়ল; সাদা কুকুরটার গায়ে লাগতে একটু মাত্র সরে গেল সেটা; সেইসঙ্গে বাধ্যত পাঁশুটেটাও। ব্যস, ওইটুকুই। ওদের তৃপ্তির কোথাও কোনও ব্যাঘাত হয়েছে বলে মনে হল না।

আমার ঝুঁকে যাওয়া মাথাটা ফের সোজা করে নিলাম।

একটু এগোতেই দেখি সামনে রাখাল পুরকাইত। আমাদের বাড়ির পিছনের বাড়িটা ওদের। একটু কৃপণ; এছাড়া আর কোনও দোষঘাট আছে বলে শুনিনি। রাস্তাঘাটে দেখা হলে, দুজনেই হেসে ঘাড় নাড়ি। কিছুদিন আগে বড় ছেলের বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিলাম; শেষের দিকে দু-তিনতে পদ ফুরিয়ে গিয়েছিল; উনি কিন্তু সবার সামনে দাঁড়িয়ে খুব বিগলিতভাবে বলেছিলেন, চেয়ে নেবেন; লজ্জা করবেন না …। রাখাল পুরকাইত আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, অন্য দিনের মতো হাসলেন না। একটু গণ্ডগোলের গন্ধ পেলাম; তবুও জোর করে হেসে ঘাড় নাড়লাম। রাখালের চোখে প্রবল বিস্ময় নেমে এল। আমি মরিয়ার মতো বললাম, বাজারে যাবেন? 

আরও পড়ুন:  লাগে টাকা‚ দেবে গৌরী সেন‚ সেই প্রবাদ-চরিত্রের পরিবারের কিংবদন্তিসম দুর্গোৎসব

উনি বললেন, না না; এতো সকালে আমি বাজার করি না … শুনুন না, আপনার সঙ্গে একটা কথা ছিল …।

বলুন, বলুন। মুখের হাসি ধরে রেখেই বললাম আমি।

রাখাল পুরকাইত এগিয়ে এলেন আমার কাছে; তারপর গলা নামিয়ে বললেন, কাল আমার বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল।

পুলিশ; আপনার বাড়িতে! গলায় প্রবল বিস্ময় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।

হ্যাঁ। গলা আরও নামিয়ে রাখাল বললেন, আপনার গিন্নিকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না।

কেন যাবে না! গলার বিস্ময়টা ধরে রাখি আমি।

পুলিশ তো তেমনই বলল।

এবার গলায় একটু হতাশা ফুটিয়ে তুলে বলি, ওহ্‌ সত্যি পুলিশের না, সবেতেই বাড়াবাড়ি ..! কী বলল পুলিশ আপনাকে?

আপনার ব্যাপারে খুঁটি-নাটি জানতে চাইছিল। আপনি লোক কেমন, আপনাদের দুজনের সম্পর্ক কেমন, ঝগড়াঝাঁটি হয় কিনা, আপনাদের কোনও, ওই মানে, অবৈধ ব্যাপার-স্যাপার আছে কি না, … এইসব।

ও। বলে চুপ করে থাকি আমি।

আমি অবশ্য গুড-গুড সব সার্টিফিকেট দিয়েছি আপনার নামে; বললাম অবনীশবাবুর মতো মানুষ হয় না, অতি ভাল লোক … এইতো আমার ছেলের বৌভাতে খেয়ে গেলেন … ।

গলাটা একটু ঝেড়ে আমি বলি, পুলিশের সবেতেই বাড়াবাড়ি বুঝলেন – হয়েছিল কি, আপনার বউমার সঙ্গে একটা ব্যাপারে খিটিমিটি হয় – সে তো সব সংসারেই হয়, বলুন না … তা ও রাগ করে কিছু না জানিয়ে ওর এক মাসতুতো বোনের বাড়ি চলে গেছে – আর আমি বুঝলেন – টেনশনে একেবারে – তা আমার এক বন্ধু বলল, পুলিশে একটা ইনফর্ম করতে – না হলে আজকালকার দিনকাল, বোঝেনই তো আপনি … ।

রাখাল পুরকাইত কী বুঝলেন কে জানে; শুধু আমার দিকে তাকিয়ে মাথাটা মৃদু নাড়লেন।

আমি ওর মাথার আন্দোলনটা দেখতে দেখতে বললাম, কখন গিয়েছিল পুলিশ?

এই তো, কাল রাত সাড়ে সাতটা হবে … ।

ও তার পরে, রাত দশটা নাগাদ আমি কুমকুমের খবরটা পাই। আমার ফোনে ব্যালেন্স ছিল না। তাছাড়া ভাবলাম, এত রাতে পুলিশকে আর বিরক্ত করব না – এই এখন যাচ্ছি থানায় … ।

ফের মৃদু মাথা নাড়েন রাখাল। তবে এবার মাটির দিকে চোখ রেখে।

আমি প্রাণপণে ওর মাথা-নাড়ার অর্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করি। তাই করতে গিয়ে হঠাৎ নজরে পড়ে রাখাল পুরকাইতের মাথার সামনের দিকে মস্ত আব একটা।

মাথা নাড়া থামিয়ে আমার দিকে তাকান পুরকাইত। তারপর বললেন, এখন তাহলে থানায় যাচ্ছেন?

নিশ্চয়ই। বেশ জোরের সঙ্গে বলি।

 

চলবে
 

পর্বের লিংক – http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-6/

৫ম পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-5/

৪ র্থ পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-4/

৩য় পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-3/

২য় পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-2/

১ম পর্বের লিংক –http://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick/

 

NO COMMENTS