এবার লেন একাকিত্বের একটা সমাধান করতে পেরেছে। গতকাল অফিসের ব্রেকে একটা মোক্ষম এস.এম.এস করেছে। পুরনো জিনিস ওর ভাল লাগে বলেছিল লেন তাই পঞ্চাশ বছরের পুরনো, বাংলার ভাল লেখকদের উপন্যাসের একটা গেজেট ভরে “ওয়ার্ডস অফ্ ইনডিরেক্ট লাভ প্রোপোসাল” কথাটা ভাবলো সঙ্গে সঙ্গে একটা অনেক লম্বা লেখা ওর সোজা পার্টিশানের উপর ভেসে উঠলো। লেখাটা এত লম্বা যে পড়তে লেনেরই ধৈর্যে কোলালো না ও ওটাকেই  কপি করে মেয়েটার ম্যাসেজ ষ্টোরে ডাম্প করে দিল। লেন এটা মজা করে করেছে কিন্ত মজাটা একটু সিরিয়াস জায়গায় চলে গেছে মেয়েটা পুরো এস.এম.এস টা পড়ে সেই সময়ের প্রেমিকার উত্তর কী হতে পারতো সেটা এস.এম.এস এর রিপ্লাই পাঠিয়েছে।

 লেন এবার বাধ্য হল নিজের পাঠানো লেখাটা পড়ে দেখতে, “আশা করি তুমি আমায় ক্ষমা করবে” এটুকু পড়েই লেনের ভীষন হাসি পেল, পড়তে হবেই তাই এগিয়ে চললো, “তোমার আমাকে সন্দেহ করার সত্যি কারণ ছিল, আমি আমার আশেপাশের সকলের কাছে নিজের মনের ছবিটা পরিস্কার রেখেছি আর সবাই আমাকে সেভাবেই  চেনে। সত্যিটা জানবার অধিকার শুধু তোমার আছে কারণ আমি নিঃশব্দে এবং পরোক্ষে তোমার উপর চাহিদার পাপ বাড়িয়ে গেছি। যদিও মুখে কিছুই বলিনি বা কিছু করিনি তবুও আমার আত্মার পবিত্রতা রোজ নোংরা হচ্ছে। এটা আমার স্বীকারোক্তি নিজের মনের ক্ষত থামাবার জন্য। তুমি এটা পড়ে আমাকে জানিও যে তুমি পড়েছো”। এই পর্যন্ত পড়ে লেন একবার হো হো করে হেসে উঠলো। পঞ্চাশ বছর আগের প্রেমিকেরও ভরসা ছিল না তার প্রেমিকা পুরো লেখাটা পড়বে, এখনো শেষ হয়নি তারপর, “অনুগ্রহ করে জানিও। এটা শেষ পর্যায়ের ক্যানসারের রুগির অপারেশান করার মত মারাত্মক অবস্থা তাই শুধু অনুগ্রহ চাই”। এর উত্তর মেয়েটাকে পুরনো ষ্টাইলেই দিতে হত তবে ও এত ইনিয়ে বিনিয়ে বড় করে ফেলে নি। ছোট করেই বলেছে,  “ফাল্গুনি অপরাধের শাস্তি বিয়ের হাড়িকাঠে বলি হওয়া”।

এই শব্দ গুলোও এখন আর কেউ বলে না। মেয়েটার লেনের উপর আগ্রহের মাত্রাটা যে একটু বেশিই সেটা বোঝা যাচ্ছে, ও এটা পড়ে আবার সেই সময়ের উত্তর খুঁজে পাঠিয়েছে। খুঁজতে হয়েছে কিনা সেটা সঠিক করে বলা মুশকিল কারণ এখন রোজ নিত্য নতুন অ্যাপস্ বের হচ্ছে লেনের ভারচুয়াল রিডিং অ্যাপটার কার্ড যদি ফুরিয়ে না যেত তাহলে ওকে এত কষ্ট করে পড়তে হত না। আবার ভারচুয়াল রিডিং অ্যাপস্টার কার্ড ফুরিয়ে গেছিলো বলে ও এই এস.এম.এস টা পাঠাতে পেরেছিল কারণ বুঝে কেউ এই আবেদন বা নিবেদন করতে পারে না। ভাল হবে সেটা ভাবাই ভালো কুচিন্তার তো কোন শেষ নেই।

অফিস থেকে বেরিয়েই ওর “মোবাইল ট্রান্সফরমার ওয়ালেট” থেকে ভারচুয়াল রিডিং কার্ডটা রিচার্জ করাবে ভাবলো, নিজের পাঠানো এস.এম.এস টা কষ্ট করে পড়েছে কিন্তু সবটা বুঝে উঠতে পারেনি। এমনিতেই কিছু পড়ে বোঝার অভ্যাস এখন প্রায় কারুরই নেই। সবাই ভারচুয়াল রিডিং কার্ডের মাধ্যমে ইনষ্ট্রাকশান বুঝে নেয়, তার উপর এত পুরনো একটা লেখা এটা ঠিকভাবে বুঝতে গেলে ফিফটি ইয়ারস ব্যাক ফিলের আলাদা একটা প্যাক মেরে রিচার্জ করতে হবে। রিডিং কার্ড রিচার্জ করতে গিয়ে ও ফিফটি ইয়ারস্ ব্যাক্ ভারচুয়াল রিডিং এক্সপেরিয়েন্স পেল না, থার্টি ইয়ারস্ ব্যাক এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাচ্ছে। ফিফটি ইয়ারস্ ব্যাক্ ফিল পেতে হলে এখন নিজের পাওয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কোড প্রেস করে অর্ডার দিলে সাত ঘন্টা পনেরো মিনিট পরে অ্যাক্টিভেট হবে। লেন এখন অত সময় অপেক্ষা করার মত অবস্থায় নেই, সাত ঘন্টায় পৃথিবীর কত জিনিস, কত কে,কত কিছু বদলে যেতে পারে তার কোন ঠিক নেই তাই ও তাড়াতাড়ি থার্টি ইয়ারস্ ব্যাক ফিল রিচার্জ করিয়ে গাড়িতে বসে দুটো এস.এম.এস-এরই ফিলটা বুঝে নেবে ভেবেছে। লেন অফিসের সিকিউরিটি রোবটে ওর গাড়ির নাম্বার চেপে এন্টার মেরে দিয়ে পার্কিং থেকে গাড়ি আসার অপেক্ষা করছে।

গাড়িটাকে একটু মেনটেনেন্সে পাঠাতে হবে গত দু’দিন ধরে কোন ভেইকেলস্ পাশে এসে দাঁড়ালেই বিনা কারণে কথা কাটাকাটি করছে। ওদের সমস্যা ওরাই মিটিয়ে নেয়। প্রবলেমটা কঠিন কিছু কিনা বোঝার জন্য গতকাল ও ড্রাইভিং সেন্সরটা কুল মোডে দিয়ে অফিস বেরিয়ে ছিল। গতকালও রাস্তায় একটা ক্রশিং পার হবার ঠিক আগের মুহূর্তে সিগনাল ব্লিঙ্ক করায় গাড়ির স্পিডটা সামান্য কমেছিল অমনি সেন্সরটা ইরিটেড হল যেটা ওকে “জেনারেল মুড” মোডে চালালেও হবার কথা না। গাড়ি পৌঁছতে দেরি হলে মানুষের অসুবিধা হয় কিন্তু যন্ত্রের তাতে উত্তেজিত হবার তো কোন কারণ নেই। প্রবলেমটা শুরু হবার সাথে সাথে দেখালে বড় কোন গন্ডগোল থেকে রেহাই পাওয়া যায় যদিও অন্য অনেকেই গাড়ির ড্রাইভিং সেন্সরের এতছোট খাট প্রবলেম আমল দেয় না কিন্তু এক্ষেত্রে লেন কিছুটা পুরনো পন্থি।

আরও পড়ুন:  বিদায়কালের পরিহাস : বাইশে শ্রাবণের ‘কেচ্ছা’

এই টু সিটার গাড়িটা কেনার পর থেকে ও বাদে দ্বিতীয় কোন মানুষ ওর পাশের সিটে বসেনি। মাঝে মাঝে উইক্এন্ডে ওর রোবট ডারলিং কিসুকে পাশে বসিয়ে আশেপাশে হাজার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোন জায়গায় একবেলা ঘুরে আসে। এরা যন্ত্র হলেও ব্যবহার যেহেতু মানুষের মত তাই লেন এদের মানুষ ভাবতে, এদের সঙ্গে মানুষের মত ব্যবহার করতে ভালবাসে। এর জন্য ওর কিসু ডারলিংও ওকে কথা শোনায় তবে সেটা ইদানিং শুরু করেছে ওর ফ্রেশ কন্জুগাল প্লেজার টার্ম শেষ হয়ে গিয়ে ওল্ড ফ্যাশানড্ ওয়াইফ মোডে চলার পর থেকে।

 কিসু লং টার্ম রোবট ওকে লেন যখন কিনেছিল তখন প্রথম একমাস ওকে লাভার্স মোডে রাখার কথা ছিল। দিন পনেরোর মধ্যে কিসুর লাভার্স মোডের সব ফিল লেন টেষ্ট করে ফেলেছে তারপর দু দিন ঘনিষ্ঠতার ফিল গুলো রিপিট প্লে করে কাটিয়ে তৃতীয় দিন ও কিসুকে ওয়াইফ মোডে দিয়ে ওর সাথে রাত কাটিয়ে ছিল।

পরেরদিন সকালে কিসুর ম্যানুয়ালটা দেখেছিল, ওর মধ্যে চল্লিশ হাজার কন্জুগাল প্লেজার লোড করা আছে পুরো সংখ্যাটা এক্টিভেট হবার পর্যায় আনার জন্য একমাস ওকে লাভার্স মোডে অন করে রাখতে হবে। ম্যানুয়াল কাষ্টমারকে পরামর্শ দিচ্ছে, “বুক কিসু, ষ্টার্ট রান। কিপ ইট অ্যাট গ্যালারি ফর অ্যা মান্থ। দেন গো ফর ওয়াইফ মোড অ্যাট ইয়োর হোম, এনজয় টোটাল কন্জুগাল প্রোগ্রাম’। লেন ওর ম্যানুয়্যাল নিজের প্রেজেন্ট থট্ রিডিং মেশিনে ঢুকিয়ে ভাবলো, “হাউ মেনি কন্জুগাল প্লেজার কিসু ক্যান এক্টিভেট স্পেনডিং এইট্টিন ডেস ইন লাভার্স মোড”। ম্যানুয়াল, লেনের ব্রেনে ইনফরমেশন্ পাঠিয়েছিলো ফাইভ থাউজেন্ট ফ্রেশ অ্যান্ড ফাইভ হানড্রেড ক্যানড (ওল্ড ফ্যাশানড্ ওয়াইফ মোড)। কিসুর ফ্রেশ ওয়াইফ মোড গত দু বছরে লেন শেষ করে ফেলেছে। এখন ও ওল্ড ফ্যাশানড্ ওয়াইফ মোডে চলে।  রাতে শোয়ার আগে ওয়াইফ মোড করে নিয়ে শোয় তখন কন্জুগাল প্লেজার দেওয়ার সময় কিসু গাড়ির ড্রাইভিং সেন্সরটা, রেসিডেন্স সিকিউরিটি রোবট টা, এদের উপর লেনের  ইমোশানাল অ্যাপ্রোচ-এর নিন্দা করে, শুধু কিসুকে হিউম্যান হিসাবে ট্রিট করতে বলে। কিসুর ইচ্ছা ওকে রোবট রিজিউভেনেশনাল পার্লারে ট্রিটমেন্ট করিয়ে ওর লষ্ট থার্টিফাইভ থাউজেন্ট কন্জুগাল প্লেজার লোড করিয়ে নেওয়া।

অন্য সব যন্ত্র থেকে লেন সবথেকে বেশি মানুষের মত ভাবে কিসুকে কিন্ত রোবট রিজিউভেশনের খরচ প্রচুর সেই পাওয়ার খরচ করে কিসুর থেকে অনেক বেশি আপডেটেড্ ফিচারস্ আছে এরকম রোবোট পাওয়া যাবে। অন্য সময় ও যখন কিসু কে প্রেষ্টিজিয়াস লাভার্স মোডে রাখে তখন ও এসব কথা বলে না তাই রাতের ঘন্টা খানেকের বকবক মেনে নেয়।

গাড়ি এসে গেছে লেন সিটে বসার আগে গাড়ির ড্রাইভিং সেন্সর কুল মোডে করে দিল। গাড়ি চলতে শুরু করার পর এস.এম.এস দুটোর ফিল বোঝার চেষ্টা করছে। সব শেষে লেন একটু হতাশ হল। থার্টি ইয়ারস্ ব্যাক ফিল ভারচুয়াল রিডিং কার্ডে লেনের এস.এম.এস-এর যে ফিল দিল তার মোদ্দা কথা ও এই যুগের মানুষ হয়ে সেই যুগের ভাষা ফিল করতে পারবে না। অনেক কিছু বললো কিছু শব্দ লেনের কান ধরে রেখেছে যেমন এ্যাথিকস্, কোনভাবেই প্র্রেমিকাকে না পাওয়ার জন্য হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি, প্রেমিকার ভালবাসা পেতে ব্যর্থ হয়ে তার কাছ থেকে করুণার তাচ্ছিল্য টুকু পাবার আশা ইত্যাদি। এর পরেই ও অ্যানসার অফ্ দিস এস.এম.এস ভাবলো আর তখনি ও হতাশ হল। মেয়েটা যে উত্তর পাঠিয়েছে একেবারে সেই শব্দ গুলোই লেনের ব্রেনে আবার ঢুকলো। বোঝাগেল মেয়েটা ওর পাঠানো এস.এম.এস টা পড়েই নি, পড়লে ওর উত্তর হত “বুঝিনি”।

গাড়ি ওর হোম শেল্টারে পৌছবার ঠিক আগে একটা এস.এম.এস অ্যালার্ট ঢুকলো, রিড প্রেস করতেই বুঝলো মেয়েটা ওকে দেখা করতে বলছে। লেন প্রথম গাড়িটা লাষ্টট্রাকের বে-তে দাঁড় করালো। তারপর মেয়েটার লোকেশান, সার্চ মেরে দেখলো ও খুব কাছের একটা নামকরা ফুডপ্লেজার শেডে বসে আছে। মেয়য়েটার সাথে ওর প্রথম দেখা হয়েছিল মাস খানেক আগে। সেইসময় হাইড্রোজেনের ক্রাইসিস হয়েছিল তাই প্রাইভেট গাড়ি কিছুদিন চালানো বন্ধ ছিল। তখন অফিস থেকে একটা গাড়ি এসে বিভিন্ন হোম শেল্টার থেকে এমপ্লয়ীদের নিয়ে যেত। প্রথম দিন লেন গাড়িতে উঠে মেয়েটাকে বসে থাকতে দেখেছিল। ও পিছনের সিটে বসে প্রথম দিনই ওর সাথে আলাপ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। মেয়েটা কোন উত্তর না দিয়ে লেনের অফিসের আগে সেন্ট্রাল পাওয়ার ব্যাঙ্কে নেমে গেল। 

আরও পড়ুন:  ইয়াকুবমামার ভারতবর্ষ

মেয়েটা পাওয়ার ব্যাঙ্ক এমপ্লয়ী, তাই এত দেমাক। ওখানকার এমপ্লয়ীদের মাধ্যমে যত পাওয়ার ট্রান্সফারের ট্রানজাকশান হয় প্রত্যেকটা ট্রানজাকশনের পরিমান অনুযায়ী ওরা ব্যাঙ্ক আর কাষ্টমার দুই তরফ থেকেই  এমিশন লষ্ট কাটেল্ করাবার জন্য ওদের নিজেদের পাওয়ার ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে পাওয়ার ক্রেডিট হয়। প্রতিদিনের ডিউটি আওরয়ার্সে যে পরিমান পাওয়ার, কমিশন হিসাবে ওর অ্যাকাউন্টে ঢোকে সেই পাওয়ার খরচ করাই দুঃসাধ্য। মনে একটু খটকা লেগেছিল ওর সাথে আলাপ করতে চাওয়ার আগে ওর প্রোফাইল দেখা হয়নি। তারপর থেকে তিনদিন গাড়িতে উঠে লেন ওর দিকে একবার তাকাতো ও নামার সময় একটু নড়েচড়ে  বসতো।

মেয়েটা ওর দিকে তাকিয়ে ছিল শেষ দিন লেন যখন অফিসের গাড়িতে উঠেছিল। লেন প্রতিদিনের অভ্যাসমত উঠেই ওর দিকে তাকিয়েছে। দুজনের চোখের আলো ধাক্কা খেল। লেন ওর সাথে যেচে  আলাপ করতে চেয়েছিল, এই কদিন রোজ ওর দিকে তাকিয়েছে তাই ওর একটু লজ্জা মত লাগলো। চোখটা মেয়েটার থেকে সরিয়ে এক ঝটকায় অন্য যাত্রীদের একবার দেখে নিয়েছিল। অন্য সবাই যে যার নিজের মত আছে। লেনের লজ্জা কেটে গেল, আবার সোজা দৃষ্টি পাঠালো মেয়েটার  দিকে। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে লেনের দৃষ্টি আটকে গেল মেয়েটা একটু হেসে চোখ নামিয়ে নিয়েছিল। তারপরে আর দেখা হয়নি। সম্পর্ক এস.এম.এস-এর মাধ্যমে কিছুটা এগিয়েছে আজ সরাসরি দেখা করার ডাক। লেনের মনে ভীষন ভাল লাগার ভাব হচ্ছে। ফুডপ্লেজার শেডে ঢুকে ও মেয়েটার পাশের টেবিলে বসলো। মেয়েটা ওর থট্ রিডিং অপসানে লেন কে ঢুকতে বললো। থট্ রিডিং অ্যাপসটা নতুন বেরিয়েছে, যেহেতু মানুষের চিন্তা গুলো কোন অঙ্ক মেনে পাল্টায় না তাই লেন এটার বেস থিওরি জেনে বুঝেছিল। বহু পুরনো আর্কাইভে চলে যাওয়া একটা শাস্ত্র “কাক চরিত্র” এই অ্যাপসটার বেস সেটাকে সমাজ পরিবর্তনের ধারার সঙ্গে খাপ খাইয়ে মর্ডানাইজ করা হয়েছে।

লেন নিজের এক্সটারনাল ব্রেনে এই অ্যাপসটা লোড করেনি বদলে ওর কাছে একটা স্যাম্পেল অ্যাপস্ আছে এটা এখনো মার্কেটে লঞ্চ হয়নি ট্রায়াল পিরিয়ড চলছে। ওর বন্ধু রেজ্ ওদের কোম্পানিতে তৈরী এই অ্যাপসটা ওকে প্রি-লঞ সার্ভে প্রোগ্রামে ফ্রি পাওয়ারে চালাতে দিয়েছে। এটা নিজে থেকেই ডিজায়ারড্ পারসনের এক্সটারনাল ব্রেন থেকে ডেটা কালেকশান্ করে তার এই মুহূর্তের চাহিদা গুলো প্রায়রিটি লিষ্ট তৈরী করে অ্যাপলায়ারের এক্সটারনাল ব্রেনে ঢুকিয়ে দেবে।

লেন মেয়াটার দেওয়া থট্ রিডিং অ্যাক্সেস থেকে নিজের স্যাম্পেল অ্যাপসটা অ্যাকটিভেট করে নিল। প্রথম রেসপন্স এলো ফুড। ফুডপ্লেজারে বসে আছে তাই ফুড ফার্ষ্ট প্রায়রিটি হবার সম্ভবনা বেশি। অ্যাপসটা ওর সেকেন্ড ডিজায়ার জানাচ্ছে রোমান্স। লেন ওর ফার্ষ্ট ডিজায়ার পূরণ করার জন্য মেয়েটার টেবিল নাম্বারে একটা, “লিভিং অ্যানিমেল ফাইবার সুপ” সঙ্গে কিছুটা “প্লান্ট প্রোটিন কনসেনট্রেড” অর্ডার দিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ফুড মেয়েটার টেবিলে পৌঁছে গেল।

মেয়েটা লেনের সঙ্গে দেখা করার জন্য ওর হোম শেল্টারের কাছে এই ফুডপ্লেজারটা বসার জন্য বেছেছে। খাওয়ার কোন ইচ্ছা ওর নেই, ওর থট্ রিড করতে গিয়ে লেন কী বুঝলো আর কী পাঠালো ভেবে পাচ্ছে না। ও একবার লেনের দিকে তাকালো ওকে জিঞ্জাসা না করে ফুডটা কেন সার্ভ করালো সেই জিঞ্জাসা চোখে নিয়ে। লেন একটু অপ্রস্তুত মত হল সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পাল্টে নিয়ে মেয়েটার টেবিল থেকে ফুডটা উঠিয়ে নিতে গিয়ে বললো ও টেবিল নাম্বার ভুল প্রেস করে ফেলেছিল। মেয়েটা বললো, “আপনার ফুড ইনটেক টাইম তো এক ঘন্টা পরে”। লেন আরো বিপদে পড়ে গেল, তবে ওর কাছে বিপদে পড়ে গিয়েও লেনের ভালই লাগছে কোন টেনশান হচ্ছে না।

লেন যে স্যাম্পেল অ্যাপসটা ব্যবহার করে মেয়েটার প্রেজেন্ট ডিজায়ার লিষ্ট বার করেছে ওটা ভুল ইনফরমেশান দিয়েছে আর ও থট্ রিডিং অ্যাপস কেন লোড করেনি সব বললো। মেয়েটা বললো, “আপনি কিন্তু ডিরেক্টর “অ্যাকশ্যান” কম্যান্ড দেবার পরে রেকডিং ট্রাক টেষ্ট করতে যাওয়া মানুষ নন। অপরিচিত কারুর সাথে একবার কথা বলতে যাওয়ার হলেও আপনি তার সম্পর্কে সব ডিটেলস্ নিয়ে তবে যান। গত একমাসে আপনি আমার কোন পারসোনাল ডিটেলস্ জানেন নি। এটা প্রমান করে আপনি আমার সঙ্গে আলাপ করার ইচ্ছার কথা ক্যাজুয়ালি বলেছিলেন”। লেনের এখন পাওয়ার ব্যাঙ্কের  ইউনিট ব্যালেন্স, এতদিন ও কাদের সাথে মিশেছে, ওর কাজের যোগ্যতা সবই মেয়েটা জানে লেন নিজের ফেলে আসা সময়ের চূড়া গুলো খুব দ্রুত একবার ছোঁয়া আর মেয়েটার সুন্দর কথার স্বরে বিভোর হয়ে চুপ করে থেকে যেন ওর সব অভিযোগ মেনে নিল।

আরও পড়ুন:  দেউলিয়া বাঙালি ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগারের স্মৃতি

লেন যে ভাবনায় মেয়েটার ডিটেলস্ জানেনি সেই ভাবনাটা নিজের প্রোফাইলে লোড হয়ে যায় নি বুঝে একটু খুশি হল। ওর মত কর্পোরেট পারন্সোনাল দের “আউট পুট বেসড্ প্রোফাইল অ্যাসেসমেন্টে” নিজের প্রেজেন্ট কনসায়েনমেন্টের চিন্তা ছাড়া অন্য কোন চিন্তা ডিসপ্লে হয়ে গেলে, বদনাম হয়ে যাবে,এইজন্য ও বছরে ছয়/সাত মাস কনসায়েনমেন্টে কাজ করে, বাকি সময়টা ও পরের কনসায়েনমেন্টের প্ল্যান করে আর ছুটি কাটায়। আজ ওর প্রেজেন্ট কনসায়েনমেন্ট শেষ হল সেইদিক থেকে দেখলে মেয়েটা আজ দেখা করতে চাওয়াটা ওর কর্পোরেট কালচার অ্যাওয়ারনেসে্র প্রমান। লেন বললো, “আপনার সম্পর্কে কোন ইনফরমেশান নিয়নি তার প্রথম কারণ আপনাকে অপরিচিত ভাবতে ইচ্ছা করেনি আর দ্বিতীয়ত কোন নেগেটিভ ইনফরমেশান যাতে আপনার চিন্তা থেকে আমায় সরিয়ে না দেয়। যদিও গত মাসে একটানা দশ মিনিট আপনার কথা ভাবার পরে সঙ্গে সঙ্গে এক ঘন্টা কনসায়েনমেন্টের জন্য প্রোডাক্ট আপলোড করতে হয়েছে। শুধু “আউট পুট বেসড্ প্রোফাইল অ্যাসেসমেন্টে” কোন ছাপ উঠতে না দেবার জন্য”।

লেন এই বছর টু-সিটার গাড়ি নেওয়ার আসল মজাটা পেল। গাড়ির শোরুম কোঅর্ডিনেটর কিছুতেই লেন কে টু-সিটার গাড়ি নিতে দিচ্ছিলোনা, ওয়েষ্টেজ অফ্ পাওয়ারের গ্রাউন্ডে। অনেক বুঝিয়ে তারপর গাড়িটা পাওয়া গেছে। যে স্বপ্ন দেখে টু-সিটার গাড়ি নেওয়া তাও আজ পুরন হলো, পাশের সিটে মেয়েটাকে বসিয়ে। এবার ওদের আলোচনা দ্বিতীয় পর্যায় গেল। লেন ওকে বললো,  “তুমি পুরনো জিনিস ভাল লাগে বলেছিলে?” মেয়েটা সাথে সাথে বললো, “তোমার আদার এ্যাকটিভিটি অ্যাসিমিলেশন করে রেজাল্ট পেয়েছি তুমি কিছুটা ইমোশানিষ্ট তাই ওই এস এম এসটা করেছিলাম।

ইমোশান জিনিষটা তুমি পুরনো মনে কর, ইমোশান ছাড়া কিছু সৃষ্টি হয় না। তোমাকে কাছে পাবার চেষ্টা যে ইমোশান ঠিক তার উল্টো ইমোশান হল “আউট পুট বেসড্ প্রোফাইল অ্যাসেসমেন্টে” এই ইমোশানের কোন ছাপ পড়তে না দেয়া”। মেয়েটা আরো গভীর ভাবে লেনের দিকে তাকালো। একটু পরে ও লেনকে জিঞ্জাসা করলো, “তুমি বিশ্বাস, ভালবাসা এগুলো দিয়ে তৈরী পৃথিবী কল্পনা কর। একদিক থেকে দেখতে গেলে এখন বিশ্বাস করার দরকার প্রায় নেই। ডিজায়ারড্ পারসন সম্পর্কে সব সঠিক ইনফরমেশান পাওয়া যায়। তুমি কার কাছে, কেন, যাচ্ছ। জেনে যাচ্ছ, বিশ্বাসের উপর নির্ভর করার দরকার হচ্ছে না”। লেন বললো বিশ্বাসটা ইনফরমেশানের উপর কনফাইন্ড হয়ে আছে। বিশ্বাস ছাড়া এক পা এগনো যায় না। কথা এগোচ্ছে, মেয়েটাও ওর মতই নিঃসঙ্গ, ও সম্পর্ক খুঁজছে, আবার বলছে, “আমার ভাললাগা, “সত্যি” আমি মেনে নেবে কিনা তা জানিনা। একটু অন্যমনস্ক থেকে আবার লেনের চোখে চোখ রেখে বললো, “তুমি প্লাটিনামের মত ভালবাসা চাইছো। ওর প্রথম শর্ত কিছু গোপন না রাখা”। লেন ওকে বললো, “এখনকার তুমি আর সত্যি তুমির তফাৎ ডিলিট করে দেবার জন্য, এখনকার তুমিকে বার বার সামনে নিয়ে আসতে হবে”।

সব শেষে মেয়েটা ওর প্রোফাইলটা একবার লেনকে দেখতে বললো। মেয়েটার শেষ বার অনুরোধ করার সময় ওর গলাটা কেঁপে উঠেছিল সেটা শুনে ভয় পেয়ে লেন মেয়েটার প্রোফাইলে ঢুকলো না। ও  কল্পনায় মেয়েটাকে ওর প্রেমিকা ভেবে ওর কাছে নিজের নিঃসঙ্গতার কথা বলছে। মেয়েটা এখন ওর কাছে না থাকলেও ওর থট্ রিড করছে। লেন থেমে গেল অনেক রাত পর্যন্ত ভাবলো শুধু নিজে কী চাইছে। ভোর বেলায় ওকে মেয়েটার প্রোফাইল খুলতেই হল কারন ওর সাথে কনট্যাক্ট করার সব অ্যাকসেস ও নিজের নাম দিয়ে লক্ করে দিয়েছে।

ওর নাম কিসু-২ ও একজন মানবীর ক্লোন। ও যার ক্লোন তিনি পাওয়ার ব্যাঙ্কের কর্পোরেট ষ্টাফ একটা কার অ্যাক্সিডেন্টে কোমায় রয়েছেন ওনার অফিস ডিউটি কিসু-২ করছে। উনি মারা গেলে কিসু-২ কে ওনার ফেসটা বদলে মার্কেটে মোষ্ট রিয়ালিষ্টিক ক্লোন রোবট হিসাবে লঞ্চ করা হবে। ভোরটা লেনের মনে একফোঁটা আলো ফেললো না। ব্র্রেকফাষ্টের পর একটা আশা জাগলো, মেয়েটা যার ক্লোন সেই ভদ্রমহিলা ড্রাইভার সেন্সরের গন্ডগোল আমল না দেওয়ার জন্য অ্যাক্সিডেন্টে পড়েছেন। একটা শঙ্কাও হল ভদ্রমহিলার প্রোফাইলটাই ওনার ক্লোন মেয়েটার প্রোফাইল বলে জানাচ্ছে , কিসু-২ যে ক্লোন সেটা ওর বলার কথা নয়। এইটায় কিসু-২ এর রিয়ালিষ্টিক এফেক্ট। ভদ্রমহিলার ক্লোনে খাঁটি ভালবাসার ছোঁয়া তাহলে লেন যদি ভালবাসার সাগরে তুফান তুলতে পারে উনি কি কোমা থেকে জাগবেন?

Sponsored
loading...

3 COMMENTS