এসেছিলেন এক ষোলয় | চলেও গেছেন আর এক ষোলয় | জন্ম সালও ১৯১৬ | অভিনেতা বিকাশ রায়ের জীবনে এভাবেই বড় ভূমিকা রেখে গেছে ১৬ সংখ্যাটি |

জন্ম কলকাতায় | ১৯১৬-র ১৬ মে | আজ থেকে ১০১ বছর আগে | অত্যন্ত ধনী ও অভিজাত পরিবারের সন্তান | নদিয়ার আদি বাসিন্দা হলেও পরে তাঁর পরিবার চলে এসেছিল কলকাতায় |

পারিবারিক আভিজাত্য যেন চুঁইয়ে পড়ত তাঁর আচার আচরণ অভিনয়ে | দাপুটে শরীরী ভাষা ছিল অভিনয়ের অনুষঙ্গ | বড় হয়েছিলেন এক মুক্ত পরিবেশে | সেই প্রভাবও বজায় ছিল জীবন চর্যায় |

মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন | প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি |  

বিয়ে হয়েছিল মাত্র ২২ বছর বয়সে | এক ছেলে ও এক মেয়ের দায়িত্ববান বাবা‚ আবার অন্যদিকে আলিপুর আদালতের দুঁদে উকিল | কাজ করেছিলেন সিভিল ডিফেন্সেও |

আকাশবাণীতে কাজ করার সময় তাঁর পরিচয় হয়েছিল পরিচালক জ্যোতির্ময় রায়ের সঙ্গে | পরে তাঁর সিনেমাতেই আত্ম প্রকাশ | ১৯৩৬ সালে মুক্তি পাওয়া সেই ছবির নাম ছিল অভিযাত্রী |

তার পরে ১২ বছরের অপেক্ষা | ১৯৪৮ সালে মুক্তি পেল ভুলি নাই | ছিলেন বিপ্লবীর ভূমিকায়‚ যে পরে ব্রিটিশ পুলিশের চর হয়ে গিয়েছিল | এরপর তাঁর কেরিয়ারের মাইলফলক ছবি ৪২ | বিকাশ রায় সেখানে অত্যাচারী পুলিশ অফিসার |

১৯৫১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি যেমন সাফল্য পায়‚ তেমনি প্রশংসিত হয় বিকাশ রায়ের অভিনয় | শোনা যায় ছবি দেখতে গিয়ে তাঁর বালকপুত্রই নাকি রাগের চোটে পর্দায় জুতো ছুড়ে মেরেছিল | পর্দায় এমনই নিষ্ঠুরতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন বিকাশ রায় | পরে এক ভক্ত আবার সপাটে চড় বসিয়ে দিয়েছিলেন গালে ! প্রিয় অভিনেতা তখন অত্যাচারী ব্রিটিশ অফিসার‚ পর্দার বাইরেও | বিকাশ রায় বলতেন এগুলোই তাঁর অভিনয় জীবনের বড় প্রাপ্তি |

৪২ যদি একটি মাইলফলক হয় তবে আর একটি অবশ্যই আরোগ্য নিকেতন | কে ভুলতে পারে কবিরাজ জীবন মশাইকে ? কিংবা উত্তর ফাল্গুনীর স্বার্থহীন প্রেমিক মনীশকে ? যে কোনও প্রত্যাশার অপেক্ষায় না থেকে বড় করেছিল প্রেমিকা দেবযানীর বিবাহজ কন্যা সুপর্ণাকে |

এ বার মনে করুন ছেলে কার সিনেমার নায়ক বিকাশ রায়কে | দুষ্টু ছেলে টমেটোকে নিয়ে নাস্তানাবুদ | ভাবলেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি চলে আসে | এর বিপরীত মেরুর অভিনয় আবার জতুগৃহ‚ অভয়া ও শ্রীকান্ত‚ জীবনতৃষ্ণা‚ ঢুলি‚ জিঘাংসা-র মতো সিনেমায় |

নায়ক-কমেডিয়ান-খলনায়ক-চরিত্রাভিনেতা কোনটা নন বিকাশ রায় ! উত্তম কুমারের মতো তাঁরও শেষ ছবি ওগো বধূ সুন্দরী | অভিনয় করেছিলেন স্নেহময় দাদুর ভূমিকায় |

সিনেমার পাশাপাশি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মঞ্চে | ১২০০ রজনীরও বেশি সময় ধরে চলেছিল নাটক নহবত | উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে গেছেন শ্রুতি নাটকেও | আকাশবাণীতে তৃপ্তি মিত্রর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শুক-সারী নাটকে |

বড় পর্দার টানে প্রযোজনা-পরিচালনা করেছিলেন মরুতীর্থ হিংলাজ‚ রাজা সাজা‚ কেরী সাহেবের মুন্সি এবং দেবতার গ্রাস-এর মতো ছবির |

১৯৮৭-র ১৬ এপ্রিল প্রয়াত হন এই প্রতিভাবান শিল্পী |

আরও পড়ুন:  সাদা কাপড় বা মানুষের শরীর‚ কাদম্বিনীর হাতে সূচ সুতো যেন কথা বলত‚ বশীভূত পোষ্যের মতো
- Might Interest You

NO COMMENTS