Rajuahammed
Electrical & Electronic Engineer

শাবান মাসের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে একফালি বাঁকা চাঁদ উদিত হওয়ার মাধ্যমে রহমত, বরকত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বারে ফিরে আসে পবিত্র রমজান মাস। বছরে ১২টি মাস। তন্মধ্যে তন্মধ্যে রমযান মাস পৃথিবীর প্রতিটি মুসলমানের নিকট উৎসবের মাস।পবিত্র কোরআনে কেবলমাত্র এই রমযান মাসেরই নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মহানরাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন : রমযান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে , যা মানবজাতির জন্য দিশারী এবং এতে পথনির্দেশ ও সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসে (স্বস্থানে ) উপস্থিত থাকবে সে যেন রোযা রাখে ( সূরা বাকারা : ১৮৫ ) । এ থেকে বোঝা যায় যে , আল্লাহর কাছে এ মাসটির অসামান্য মর্যাদা রয়েছে। যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই বলেছেন , “আস সাওমু লি , অ- আনা আজযি বিহী” অর্থাৎ রোযা আমার জন্যে রাখা হয় এবং আমিই তার প্রতিদান দেবো। পরকালে তিনি যে কী পুরস্কার দেবেন তার কিছুটা ইঙ্গিত নবী কারিম (সাঃ ) আমাদের দিয়েছেন। সে থেকে রোযাদারগণ নিশ্চয়ই পরিতৃপ্ত হবার আনন্দ পাবেন। রাসূলে খোদা বলেছেন , ‘ রমযান এমন একটি মাস যে মাসে আল্লাহ তোমাদেরজন্যে রোযা রাখাকে ফরজ করে দিয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রোযা রাখবে , তার জন্যে রোযার সেই দিনটি হবে এমন যেন সবেমাত্র সে মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে , অর্থাৎ রোযাদার তার সকল গুণাহ থেকে মুক্তি পেয়ে নিষ্পাপ শিশুটির মতো হয়ে যাবে। এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবতার মুক্তির দিশারী পবিত্র আল কুরআন। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : “ নিশ্চয়ই আমরা এটা (কোরআন ) মহিমান্বিত রজনীতে অবতীর্ণ করেছি , কিসে তোমাকে অবহিত করল মহিমান্বিত রজনী কী ? মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। ” রমযান আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস, কোরআনের ভাষায় যাকে রামাযান ’বলা হয়েছে। মূল শব্দ রা – মীম – দোয়াদ । এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন , প্রজ্জ্বলন , জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথারোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা- বাসনা পরিহার করেআত্মসংযম ও কৃর্চ্ছ তা পূর্ণ জীবন যাপন করে এবং ষড়রিপুকে দমন করে মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার , ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম রমযান। রোযাকে বলা হয়েছে জুন্নাহ বা ঢালস্বরূপ। কারণ রোযার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দারা দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পায়, মুক্তিও পায়। রাসূলে খোদা বলেছেন এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দান করেন। তাহলে রোযা যেমন জাহান্নামে যাবার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে , তেমনি জাহান্নামে যাবার পরও সেখান থেকে মুক্তি লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আল্লাহর এতো বড়ো রহমতের বিষয়টিকে যে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হবে- তার চেয়ে হতভাগ্য আর কে থাকতে অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রমযানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির নিদর্শনপ্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ- অনুভূতি সঞ্চারিত হয়। রমযান মাসে রোজা পালন করে খোদাভীরুতা অর্জনের মাধ্যমে সংযত আচরণ এবং আল্লাহর হুকুম পালনের যোগ্যতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়।

ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে রোজা।নামাজের পরেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহতাআলা যে ইবাদত ফরজ করেছেন তা হচ্ছেমাহে রমযানের রোজা। দ্বিতীয় হিজীর সালে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। তবে এই রোজা অন্যান্য জাতির ওপরও ফরজ ছিল। আল্লাহর তরফ থেকে যত শরিয়ত দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে , এরপ্রতিটিতেই রোজা পালনের বিধি – ব্যবস্থাছিল। এতে কেবল সংখ্যা, নিয়মকানুন ও সময়ের ব্যবধান ছিল। আল্লাহ তাআলা ঘোষণাকরেছেন , ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্যরোজা ফরজ করা হয়েছে , যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেনতোমরা মুত্তাকি হতে পারো ( সূরা আল-বাকারা , আয়াত- ১৮৩ ) ।’ রাসূলে খোদা বলেছেন , রাইয়্যান নামেবেহেশতের একটি দরোজা আছে। কিয়ামতেরদিন ঐ দরোজা দিয়ে কেবলমাত্র রোযাদাররাই প্রবেশ করবে।রোযাদারদেরকে ডেকে ডেকে বেহেশতে প্রবেশকরানোর পর ঐ দরোজাটি বন্ধ হয়েযাবে। অন্যত্র বলা হয়েছে যে লোকই সেইদ্বারপথে প্রবেশ করবে, সে- ই আরযে- ই পান করবে, সে আর কোনোদিন পিপাসার্ত হবে না। এই হাদীসে উল্লেখিত রাইয়্যান শব্দটির অর্থই হলো সদা প্রবহমান প্রশ্রবণ।অতএব রোযাদার বন্ধুরা!ক্ষুধা – তৃষ্ণাকেউপেক্ষা করে সিয়ামসাধনায় আত্মনিয়োগকরুন- আর পরকালে ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ওমর্যাদা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করুন।সবশেষে হযরত সালমান ফারসি ( আ. ) থেকেবর্ণিত একটি হাদীসের অংশ বিশেষ উদ্ধৃতকরছি।

রাসূলে খোদা ( সা.) বলেছেন …. রমযানসবর , ধৈর্য ও তিতীক্ষার মাস। আর সবরেরপ্রতিফল হলো আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত প্রাপ্তি। এটা পারস্পরিক হৃদ্যতা এবং সৌজন্য প্রদর্শনের মহিমা। এ মাসে মুমিনের রেযক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তিরোযাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ তারগুনাহ মাফ করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি দেবেন। তাকে আসল রোযার সওয়াব দেওয়া হবে কিন্তু সেজন্যে রোযাদারের সওয়াব কমানো হবে না। আরযে ব্যক্তি এই মাসে নিজের অধীন লোকদেরশ্রম- মেহনত হাল্কা বা হ্রাস করে দেবে,আল্লাহ তায়ালা তাকেঁ ক্ষমা করে দেবেনএবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন। এই সুসংবাদ কেবল রোযাদারদের জন্যে। আল্লাহরাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে রমযানের তাৎপর্য উপলব্ধি করার তৌফিক দিন।পবিত্র রমযান মাসের আমল ও দোয়াসমূহপবিত্র রমযান মাসের রাতে যে সব আমল করা হয় তা হচ্ছে :

১. ইফতার : হারাম (অবৈধভাবে অর্জিত) ওসন্দেহভাজন জিনিস থেকে পবিত্র এমন কিছুখাদ্য দিয়ে ইফতার করা। তবে উত্তম হচ্ছেখেজুর দিয়ে ইফতার করা। খেজুর দিয়ে ইফতারকরা মুস্তাহাব। দুধ অথবা হালুয়া দিয়ে ইফতারকরাও উত্তম।

২. ইফতারের সময় এ দোয়া পড়া : হে আল্লাহ্ !তোমারই জন্য রোযা রেখেছি , তোমার প্রদত্ত জীবিকা দিয়ে ইফতার করছি এবং তোমারওপর ভরসা করছি।

৩. ইফতারের শুরুতে খাবার মুখে দেয়ার সময়পড়ার আরেকটি দোয়া : পরম করুণাময় ও দাতাআল্লাহ্র নামে, হে অত্যন্ত ক্ষমাশীল! আমাকেক্ষমা করো।

৪. ইফাতারের সময় সূরা কদর পড়া।

৫. ইফতারের সময় দান সদকা করা।

৬. রোযাদারকে ইফতার করানো : যদি তাএকটুকরা খেজুর বা শরবত বা পানিও হয়। মহানবি(সা.) বলেছেন , ‘যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে রোযাদারের মতোই সওয়াব পাবে অথচ ঐ রোযাদারের সওয়াব বিন্দুমাত্রকম করা হবে না। আর ইফতারকারী যেমন পুণ্যকরেছে ঠিক সেরকম সওয়াব পাবে।

৭. প্রতি রাতে ১০০০ বার সূরা কদর পড়া।

৮. মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন , ‘ রমযানমাসে প্রতিটি ফরজ নামাযের পর যে ব্যক্তি এদোয়া পড়বে মহান আল্লাহ্ কিয়মত দিবস পর্যন্ততার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেবেন। ’হে আল্লাহ্ ! যারা কবরে শায়িত আছেতাদেরকে সুখ – কাননে প্রবেশ করাও। হেআল্লাহ্ ! সমস্ত দরিদ্রকে ধনী করো। হে আল্লাহ্ !প্রতিটি ক্ষুধার্তকে তৃপ্ত কর। হেআল্লাহ্ !বস্ত্রহীনদেরকে বস্ত্র পরাও। হে আল্লাহ্ !ঋণীদের ঋণ পরিশোধ করে দাও। দুঃখীদেরদুঃখ দূর করে দাও। হে আল্লাহ্! মুসলমানদেরকেযাবতীয় বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করো। হেআল্লাহ্ ! রোগীদের আরোগ্য দান করো। হেআল্লাহ্ ! তোমার প্রাচুর্যের দ্বারা আমাদের দারিদ্র্য মোচন কর। হে আল্লাহ্ ! আমাদেরদুরাবস্থাকে তোমার সন্তুষ্টি দ্বারা সু -অবস্থায় পরিণত করে দাও। হে আল্লাহ্ !আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দাও এবং আমাদের দারিদ্র্য ও অভাব দূর করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশক্তিমান।

৯. যে ব্যক্তি রমযানের প্রতিটি রাতেনিম্নোক্ত দোয়া পড়বে তার চল্লিশ বছরেরগুনাহ মাফ করা হবে :
হে আল্লাহ্ ! হে রমযান মাসের প্রভু! যে মাসে তুমি পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছ এবং এমাসে তুমি তোমার বান্দাদের ওপর রোজা ফরজ করেছ। হে আল্লাহ্ ! হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর সালাম ও দরূদ প্রেরণ কর। এ বছর এবং প্রতি বছর তোমার পবিত্র ঘর কাবায়হজ্ব করার তৌফিক দান করো। আমার সকল বড়পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা, তুমি ছাড়া আরকেউই পাপ ক্ষমা করতে পারে না। হে দয়ালু ও সর্বজ্ঞানী !

১০. হযরত জাফর সাদেক (রহ. ) থেকে বর্ণিতহয়েছে যে, রমযান মাসের প্রত্যেক রাতে এ দোয়া পড়তে হয় :
হে আল্লাহ্ ! লাইলাতুল কাদর বা মহিমান্বিতরাতে কাযা ও কাদরসংক্রান্ত যেসব প্রজ্ঞাময় অবশ্যম্ভাবী বিষয় তুমি নির্ধারণ করো যাফেরানোও যাবে না এবং পরিবর্তিতও হবেনা সেক্ষেত্রে আমি প্রার্থনা করছি আমাকেতোমার পবিত্র গৃহ কাবার ঐসব হজ্বআদায়কারীর অন্তর্ভুক্ত করো যাদের হজ্ব পুণ্যময় ,যাদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় , যাদের পাপক্ষমা করা হয়েছে এবং অসৎ কাজসমূহেরকাফ্আদায় করা হয়েছে। হে আল্লাহ্ ! তুমি যাকিছু কাযা ও কাদ্রে নির্ধারণ করো তন্মধ্যেতুমি আমার জীবনকে দীর্ঘ করো এবং আমাকেমঙ্গল ও কল্যাণে রাখ, আমার জীবিকাকেপ্রশস্ত করে দাও এবং আমাকে ঐসব ব্যক্তিরঅন্তর্ভুক্ত করো যাদের মাধ্যমে তুমি তোমারধর্মকে সাহায্য করবে এবং আমার স্থলে অন্যজনকে বসিও না।

১১. ফজর হওয়ার আগে অর্থাৎ সেহরীর সময় পড়ারদোয়া ( দোয়া সাহার ) :
আমার বিপদাপদে হে আমার আশ্রয়স্থল ! দুঃখ-কষ্টে হে আমার সাহায্যকারী! তোমার কাছেআমি আশ্রয় নিয়েছি, তোমার কাছেই আশ্রয়নিয়েছি, তুমি ব্যতীত অন্য কারো কাছে আমিআশ্রয় নেই না। একমাত্র তোমার নিকট মুক্তিপ্রার্থনা করি। হে আল্লাহ্ ! আমাকে সাহায্যকরো এবং আমার থেকে জটিলতা দূর করে দাও।হে আল্লাহ্ ! যিনি বান্দা থেকে অতি অল্পআনুগত্য কবুল করেন এবং বান্দার অনেক পাপক্ষমা করে দেন। হে আল্লাহ্! আমার এ অল্পইবাদত ও আনুগত্য কবুল করো এবং আমার অগণিতপাপ ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। হে আল্লাহ্ ! আমি তোমার কাছে এমন ঈমান চাচ্ছি যা সরাসরি আমার অন্তরে গেঁথেযায়, তোমার কাছে এমন সত্য জ্ঞান ( ইয়াকীন )প্রার্থনা করছি যাতে আমি জানতে পারিযে, তুমিই আমার জন্য যা নির্ধারণ করেছ ওলিখেছ সেটাই আমি পাব। আর যে জীবন পদ্ধতিআমার জন্য বণ্টন করে দিয়েছ কেবল তাতেইআমাকে পরিতৃপ্ত ও সন্তুষ্ট রাখ। হে সর্বশ্রেষ্ঠ ওসর্বাধিক দয়ালু ! আমার বিপদাপদে হে আমারআশা- ভরসাস্থল ! আমার দুঃখ- কষ্টে হে আমারসংগী ! আমার নেয়ামতে হে আমার অভিভাবক !হে আমার আশা- আকাঙ্ক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যস্থল !তুমিই আমার দোষত্র“ টি গোপনকারী , তুমিই ভয়-ভীতি ও বিহ্বলতায় আমার প্রশান্তিদাতা ,তুমিই আমার স্খলনক্ষমাকারী ওউপেক্ষাকারী। হে সর্বোত্তম দয়ালু ! আমারপাপ ক্ষমা করো।

১২. হযরত জাফর সাদেক (আ .) এবং হযরত মূসাকাযেম ( আ. ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , রমযানমাসে প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর এ দোয়া পড়াউত্তম :
হে আল্লাহ্! এ বছর ও যতদিন তুমি আমাকে এপৃথিবিতে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে ও সুস্থ শরীরে জীবিত রাখ এবং আমার জীবিকা প্রশস্ত রাখততদিন প্রতি বছর আমাকে তোমার পবিত্র গৃহকাবায় হজ্ব করার সৌভাগ্য ও তৌফিক দানকরো। হে আল্লাহ্ ! তুমি আমাকে সকল সম্মানিতস্থান, পবিত্র যিয়ারতগাহ এবং তোমার নবিরকবর যিয়ারত করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিতকরো না। হে আল্লাহ্ ! তুমি আমার ইহকাল ওপরকালের যাবতীয় অভাবের ক্ষেত্রে আমাকেএকাকী ছেড়ে দিও না। তুমি আমার হয়ে যাও।হে আল্লাহ্ ! লাইলাতুল কাদ্র বা মহিমান্বিতরজনীতে কাযা ও কাদ্সংক্রান্ত যেসবঅবশ্যম্ভাবি বিষয় তুমি নির্ধারণ করো যা ফেরানোও যাবে না এবং পরিবর্তিতও হবেনা সেক্ষেত্রে আমি প্রার্থনা করছি আমাকে তোমার পবিত্র গৃহ কাবার ঐসব হজ্বআদায়কারীর অন্তর্ভুক্ত করো যাদের হজ্ব পুণ্যময় , যাদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় , যাদের পাপক্ষমা করা হয়েছে এবং অসৎ কাজসমূহের কাফ্আদায় করা হয়েছে। হে আল্লাহ্ ! এমহিমান্বিত রাতে তুমি যা নির্ধারণ করো তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করো আমার দীর্ঘায়ু এবংপ্রশস্ত জীবিকা। আমার হয়ে তুমি আমার যাবতীয় আমানত ও ঋণ আদায় করে দাও , হেজগৎসমূহের প্রতিপালক !

১৩. ফরজ নামাযের পর পড়ার আরেকটি দোয়া :
হে সর্বোচ্চ ! হে মহান! হে ক্ষমাশীল! হেদয়ালু ! তুমিই মহিমান্বিত প্রভু, যার সমকক্ষ কোনকিছুই নেই। যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। আর এহচ্ছে এমন একটি মাস যাকে তুমি মহিমান্বিত,সম্মানিত ও মর্যাদাবান এবং সকল মাসেরচেয়ে শ্রেষ্ঠ করেছ। আর এটাই রমযান মাস যেমাসে তুমি মানবজাতির জন্য হেদায়েত এবংসত্য পথযাত্রীদের জন্য পথ প্রদর্শন ও সত্য – মিথ্যারপার্থক্য করার স্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত গ্রন্থ কোরআনঅবতীর্ণ করেছ। এ মাসেই তুমি ‘মহিমান্বিতরাত’ সৃষ্টি করেছ এবং এ রাতকে হাজার মাসঅপেক্ষা শ্রেষ্ঠ করেছ। হে অনুগ্রহকারী! যাকেকেউ অনুগ্রহ করতে পারে না , আমাকেদোযখের আগুন থেকে মুক্তি দেয়ার মাধ্যমেআমার প্রতি অনুগ্রহ করো। যাদের ওপর তুমি অনুগ্রহ করো আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো। তোমার রহমতের দ্বারা আমাকে বেহেশতে প্রবেশ করাও, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু !

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ

Rupam Islam New Song

4 1431
Rupam Islam New Song

1 1738