নাটক
“সীতা চুরি কান্ড”
(মূল রচনা :“সীতা অপহরণ কেস” / রচনাকার : ডক্টর প্রেম জনমেজয় / ভাষা : হিন্দি )

[ ১৮ই মার্চ, ১৯৪৯ এলাহাবাদে জন্মগ্রহণকারী ডক্টর প্রেম জনমেজয়ের কাছে হাস্যরস মস্তিষ্ককে সুশিক্ষিত করার এক প্রয়োজনীয় বিদ্যা। উত্তরপ্রদেশ সরকার, মহারাষ্ট্র সরকার, লক্ষ্ণৌ যুব সাহিত্য মন্ডল ও গাজিয়াবাদ পুরস্কার সমিতির সদস্য ডক্টর প্রেম জনমেজয়ের তিনশত অধিক রচনা হিন্দির সমস্ত জনৈক পত্রপত্রিকা এবং আকাশবাণীতেও প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ] …
অনুবাদ : ঝর্না বিশ্বাস …

প্রথম ভাগ :দৃশ্য ১

(মঞ্চে অন্ধকার। আলোর একটা গোল অংশ চেয়ারে বসা থানার বড় বাবুর ওপর এসে পড়ল। একটা লাঠি সহ তার হাত আশীর্বাদের মতন ওপরে তোলা ছিল আর তিনজন সেখানে ছেঁড়া ফাটা জামাতে, যাদের পিঠে “ভারতীয় জনতা” লেখা ও হাতে পুজোর থালা। ওখান থেকেই আরতির আওয়াজ পাওয়া যায় .. ..)
ওঁ, পুলিশের জয়, প্রভু পুলিশের জয়
যাতে ভ্রষ্টজনের আপদ বিপদ চুটকিতে দূর হয়
গুন্ডাজনের আপদ বিপদ চুটকিতে দূর হয়
ওঁ জয় .. ..
যারা তোমায় বেশি জিনিস দেয়
কষ্ট তাদেরই মেটায়
আর বন্ধু হলে সম্পত্তি ঘরের হারায়
ওঁ জয় .. ..
তুমি ভ্রষ্টাচারের সাগর, তুমিই সকল অপকর্মে
তোমার আদেশ ছাড়া ডাকাতিও নয়
ওঁ জয় .. ..
তুমি ছাড়া হত্যা, চুরি নয়
তুমিই ভ্রষ্টাচারের শিরোমণি, মন্ত্রীদের অন্নদাতা
ওঁ জয় .. ..

দৃশ্য : ২

(পুলিশবাবুর বেডরুম। দেওয়ালের হুকে টাঙানো খাঁকি পোশাক, সরকারি চিহ্নের বেল্ট। আর এদিক ওদিক ছড়িয়ে মূল্যবান দেশি, বিদেশি জিনিসপত্র। পুলিশবাবুর ঘরেতে প্রবেশ। উনি গেঞ্জি ও গামছাতে এখন। এসেই জামা পড়তে শুরু করলেন আর তখনই ওনার স্ত্রী হাতে পুজোর থালা নিয়ে ঢুকলেন। )

স্ত্রী : একি তুমি প্যান্ট পড়ছ?
পুলিশ : তা নয়তো কি? গেঞ্জি লুঙ্গির মতন জাতীয় পোশাকে যাওয়ার কথা ছিল নাকি? আমি এখন থানায় যাচ্ছি, কোনো নাটক কোম্পানিতে নয়।
স্ত্রী : কিন্তু থানায় কেন, এই তো রাতেই এলে। এখন একটু আরাম করে নিতে!
পুলিশ : এলাকায় খুন হয়ে গেলে পুলিশের আরাম হারাম হয়।
স্ত্রী : (চোখ কোচলে) হায়! তাহলে কি কাল খুন হয়েছে? কোন জাতের লোক সে, কি ধর্ম, নাম কি ছিল তার?
পুলিশ : অত বেশি ঘেঁটো না। জাত দেখেই যদি চটজলদি ফয়সলা নেওয়া যেত অথবা উপরওয়ালার ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতাম।
স্ত্রী : (চোখ পিটপিট করে) আচ্ছা কাল যে খুন হল সে কি পয়সাওয়ালা ছিল?
পুলিশ : (পাল্টা চোখাচোখি হয়ে) হ্যাঁ, আর যার ওপর খুনের সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনিও বেশ পয়সাওয়ালা।
স্ত্রী : জয় হোক ভগবানের। তাহলে আর আটকাব না। (মাথাতে তিলক লাগিয়ে) ভগবান তোমায় দুই দিক থেকেই সফল করুক। শোন, এইবার আমি মন্দিরে সোনা দিয়ে পুজো দেব আর নিজের জন্য বানাব দুটো হীরের দুল। আমি যে ষোলো শুক্রবারের পুজো করে আসছি তাতেই হয়তো মা আমার কথা শুনলেন। সব কিছু ঠিকাঠাক মিটে গেলে খুব বড় করে উজ্জাপন করব। আর তা না হলে এইবার “সুন্দর কান্ডের” পাঠ রাখব বাড়িতে। গত মাসে উকিলের বৌ ওর বরের মিথ্যে মোকদ্দমা জেতাতে এই পাঠ করিয়েছিল। আমিও ওকে দেখিয়ে দেব! ও উকিলের বৌ হলে আমিও পুলিশের বিবি। এমন প্রসাদ বিতরণ করব যে ও দেখতেই থাকবে।
কি গো? ঠিক আছে না!
পুলিশ :হ্যাঁ – হ্যাঁ, একদম ঠিক আছে। এদিকে খুনের কান্ড, ওদিকে সুন্দর কান্ড। আর তুমি নিজেও তো কত কান্ড করে আসছ। তা এই “সুন্দর কান্ড” কোন সুন্দরীর সাথে হয়েছিল, যদি বলো .. ..
স্ত্রী : তুমিও না সত্যি! এটা রামায়ণের এক অধ্যায় যখন সীতাকে রাবণ উঠিয়ে নিয়ে গেল।
পুলিশ : মানে কিডন্যাপ! আর বলছ কান্ড হয়নি?
স্ত্রী : রামায়ণ জানো তো না কিচ্ছু !
পুলিশ : না জানাই ভালো, নইলে এমন কিডন্যাপিং এর কেস বানাতাম যে তোমার ভোলানাথ পন্ডিত, (ঠিক এই সময় “জয় শ্রীরাম” করতে করতে পন্ডিত ভোলানাথের প্রবেশ)
দেখ, শয়তানের নাম নিলাম আর শয়তান হাজির।
স্ত্রী : আসুন আসুন পন্ডিতজি, আমাদের অসীম সৌভাগ্য আপনি এলেন। আপনার সম্বন্ধেই কথা বলছিলাম। খুব শিগ্‌গির বাড়িতে সুন্দর কান্ড পাঠের আয়োজন করছি।
পন্ডিত : অতি উত্তম বিচার দেবী। এই পাঠে সমস্ত সংকট দূরে সরে যাবে।
পুলিশ : কার সংকট, আমাদের না আপনার? তবে যদি দক্ষিণার কথা বলেন ওটা সবসময়েই উত্তম হয়। ব্রাহ্মণ যে দেবতা!
স্ত্রী :আবার শুরু করলে .. ..
(পন্ডিতকে) আপনি তো জানেন ও কেমন মজা করে। আচ্ছা বসুন, আপনার জন্য কিছু নিয়ে আসি..
পন্ডিত : না, আজ একটু তাড়াহুড়োয় আছি। মাসের প্রথম শুক্রবার, আপনি শুধু এখন ওটা দিলেই.. ..(পন্ডিত দুই হাত কচলাতে কচলাতে বলল)
স্ত্রী :আমার মনে আছে পন্ডিতজি। আজ আপনার দক্ষিণার দিন .. . (স্বামীকে) তোমার কাছে ২০১ টাকা হবে….
পুলিশ : কেন, ওকে হপ্‌তা দেবে নাকি। আপনিও পন্ডিতজি আমাদেরই মতন, ডিউটিতে একদম পাক্কা ..ঝড়, বৃষ্টি যাই হোক, মাইনে নেওয়া ভুলবেন না ..(তারপর পকেট থেকে পয়সার ব্যাগটা বার করতে গিয়ে ..)
স্ত্রী : দাঁড়াও, তোমার পুণ্য রোজগার থেকে প্রতি মাসে ধর্ম-কর্মর জন্য যা ছাঁটাই করি, পন্ডিতজিকে আজ না হয় সেখান থেকেই দিই।
পুলিশ : মহারাণী, ওই সব উপরি রোজগার কিন্তু তোমার উপরওয়ালার দয়াতেই আসে। এর চেয়ে বড় উপার্জন আর কিই বা হতে পারে বলো! বেতনটাও সরকারের দয়ায়, আর আমাদের দেশের সরকার কত সৎ গোষ্ঠীতে চলে তা তো সকলেই জানেন। যদিও পন্ডিতজির কাছে গেলে সব পয়সাই সৎ হয়ে যায়, তাই না পন্ডিতজি?
পন্ডিত : হ্যাঁ মহাশয়, চন্দনের ওপর সাপ জড়িয়ে থাকলে ওতে আর বিষ ছড়ায় না।
পুলিশ : তাহলে সাপের বিষও চন্দনে কিছু হয় না বলছেন!
পন্ডিত : আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের কল্যাণের জন্য দেবী পুজোটা তাহলে .. ..
পুলিশ : (পন্ডিতের দিকে তাকিয়ে) আর ওটা সময় মতো না হলে ক্ষতি হয়ে যাবে, তাই তো পন্ডিতজি .. (তারপর টাকাটা হাতে নিয়ে) এই নিন আপনার এ মাসের দক্ষিণা। (ঝটপট টাকাটা গুঁজে নিয়ে পন্ডিত “জয় শ্রীরাম” করতে করতে বেরিয়ে গেল।)
পুলিশ : তোমার পন্ডিত আজ খুব তাড়াহুড়োয় মনে হল, হয়তো কোন পয়সাওয়ালাকে ফাঁসিয়েছে। তাই আজ আর বিনে পয়সার খাওয়াটাও হল না সাথে এক ফোঁটা আর্শীবাদও পাওয়া গেল না।
স্ত্রী : তোমার চিন্তাগুলোও আজকাল কেমন ওই পথেই যায়। তোমায় না অনেকবার বলেছি, ধর্ম-কর্ম নিয়ে যখন খোঁজ রাখো না ওসবে কথাটিও বলার দরকার নেই।
(তারপর প্রেমিক জুটির মতো তারা পাশাপাশি বসল। )
পুলিশ : ঠিকই তো। তোমার যা ইচ্ছে হয় কোরো, তোমার কোনো কাজে কখনও কি আমি বারণ করেছি?
স্ত্রী : না গো।
পুলিশ : তাহলে পুজো পাঠের এই চক্করে আমায় টেনো না, সোনা .. ..
স্ত্রী : এরকম বোলো না। ভগবানের দয়াতেই আমাদের পরিপূর্ণ সংসার। এর জন্য তাকে ধন্যবাদ তো জানাতেই হয়।
পুলিশ : তাও ওসব তোমার একার কাজ, আমি কি তোমাকে কখনও ঢোল কর্তাল বাজানোতে বারণ করি? তোমার মন্দির, গুরুদ্বার যাওয়াতেও কি কখনও আপত্তি করি?
স্ত্রী : না তো, আমিও কি তোমার মাছ মাংস খাওয়াতে কখনও বারণ করিনি। তোমার নেশাটেশাতেও তো আমি কিছু বলি না। তোমার এদিক ওদিক তাকানোতে কখনও কিছু বলিনি।
পুলিশ : এই জন্যই তো আমাদের গাড়ি আলাদা আলাদা পথে চললেও, এক সাথে এগোচ্ছে।
স্ত্রী : হ্যাঁ, এই জন্যই আমাদের মনে একে অপরের প্রতি এত ভাব – ভালোবাসা।
পুলিশ : হ্যাঁ, একেবারে ভালোবাসার নদী বলতে পারো।
( দুজনেই একসাথে নাচের মুদ্রায় আর আলোর একটা গোল অংশ তাদের ওপর এসে পড়ল।)

দৃশ্য : ৩

(পুলিশবাবুর ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুম। ড্রয়িং এই জন্য কারণ এতে একটা সোফা ও সেন্টার টেবিল সাথে ডাইনিং টেবিলও রাখা আছে। সোফার ওপর বহু জিনিস ছড়িয়ে। ডাইনিং টেবিলে খাবার কম ও নোংরা জামা কাপড় ভর্তি। তার স্ত্রী ভজন গুনগুন করতে করতে ডাইনিং টেবিলের নোংরা জামাগুলো সরিয়ে নাস্তা সাজাচ্ছিলেন। পাশ থেকে কোন ফিল্‌মি গান শোনা যাচ্ছিল।)

স্ত্রী : (স্বামীর দিকে তাকিয়ে রেডিওর আওয়াজ কম করার ইশারা করল .. ..)
পুলিশ : একি করছ, আমার এখন খাওয়া দাওয়ার সময় নেই।
স্ত্রী : দেখ, তুমি খুনের তদন্তে বেরোচ্ছ। কি জানি কতক্ষণ লাগে।
পুলিশ : হ্যাঁ, সেই জন্যই তো খেয়ে যাবার দরকার নেই .. ..ওরাই এমন ঠেসে ঠেসে খাওয়াবে যে শ্বশুরবাড়ি মনে পড়ে যায়। এ যেই কে সেই পার্টি নয় বুঝলে, ইশারা করলে আবার বাড়িতেও খাবার পৌঁছে দেবে।
স্ত্রী : ঠিক আছে যা বলবে। আজ আমার উপোস, তাই খাবারটা না হয় মন্দিরে গরীব কাউকে দিয়ে দেব।
পুলিশ : কেন, এক গরীব দুখি তো আমাদের বাড়িতেই আছে।
স্ত্রী : কে সে?
পুলিশ : ওই যে মহাপন্ডিত, মহাজ্ঞানী, মহাকবি “কলঙ্ক”, তোমার ভাই।
স্ত্রী : কলঙ্ক না, ওর নাম ময়ঙ্ক। খালি ওর পিছনে লাগা! আর আমার বেচারা ভাই তোমার বাড়িতে কি খায় শুনি?
পুলিশ : এইটাই তো আপশোশ যে আমার শালাবাবু খায় কম, পান করে বেশি। বোতল না খেলে নাকি ব্যাটার কবিতাই আসে না।
স্ত্রী : যাই বলো, ওর বেশ নাম ডাক আছে শুনেছি। কত দূর দূর থেকে মানুষজন আসে, ও খুব ভালো কবিতা লেখে নাকি।
পুলিশ : আজ অবধি ওর লেখার মাথামুন্ডু কিছু বুঝিনি।
স্ত্রী : অমন কবিতা খুব মাথা খাটিয়ে লিখতে হয়, বুঝলে।
পুলিশ : হ্যাঁ, আমারও যা মাথা। পরশু তো শালাবাবুর সে কি জবরদস্তি, একটা কবিতা আমাকে শোনাবেই। কত বললাম একটা দরকারি কাজে বেরোব, কিন্তু ব্যাটার এতটুকু লজ্জা নেই! পকেট থেকে একটা কবিতা বার করে বলে, শোনাই। তখনই ফোন বেজে উঠল। আমি ওকে পইপই করে বললাম, কবিতাটা রেখে যা, কথা হয়ে গেলে, পড়ে নেব। কিন্তু যা একগুঁয়ে! বলল, আপনি কাজ সেরে নিন আমি আছি। তারপর অপেক্ষা, কখন আমি ফোন রাখি আর ও আমার মুন্ডুতে কবিতাগুলো ঢোকায়। এত চিপকু ব্যাটা যে ফেভিকলও অমন নয়। শেষে সেই কবিতাও এমন যে মনে হয় কতদিন কোষ্ঠকাঠিণ্যে ভুগছে। (মেঝের থেকে একটা কাগজ উঠিয়ে নিয়ে …)
তোমার ভাইয়ের কান্ডকারখানাটা তবে পড়েই শোনাই। কবিতার নাম “পাখি”…

ঠান্ডা রক্তের পাখিটা
আমার পেট থেকে বেরনো
একটা গাছের ওপর গিয়ে বসল।
ওর চোখ তখনও কিছু খুঁজছে
তাই অবশেষে গেল মৃত ব্যাক্তিটির কাছে
এদিকে আমার মাথায় তখন অসংখ্য কাকের উপস্থিতি।
হায় প্রভু,
এমনটি কোরো না
যে মরণের পরে আমার লাশের ওপর দিয়েও
এত সব কাকেরা কা কা করে যায়…

এইবার এটার অর্থ যদি কিছু বোঝ তাহলে আমাকেও জানিও।
স্ত্রী :এখনকার কবিতা এমনই হয়, ওটা বুঝতে হলে পড়ালেখা জানা লোকেদের প্রয়োজন।
পুলিশ : যাই বলো, তবে আমার কাছে কবিতা অন্য জিনিস, যা সহজেই বুঝি, যা গুনগুন করতে মন চায়, যা হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ছোটবেলায় গালিবের কিছু কবিতা পড়েছিলাম এখনও মনে আছে, তোমারও তো ভজনগুলো কি সুন্দর মনে থাকে।
স্ত্রী : ওইসব কবিতা টবিতা ছাড়ো। তুমি তোমার কাজে যাও, খুনের মামলাটায় নজর দাও। এদিকে সকালে যখন শুয়ে ছিলে নেতা জি ফোন করেছিল। যেতে বলেছে।
পুলিশ : বুঝেছি, ব্যাটা নির্ঘাত খুনের মামলায় আপোস করে পয়সা হাতড়াতে চায়।
( জুতো পড়তে পড়তে :আচ্ছা আমি চললাম, কেউ এলে বোলো খুব সক্কালে বেরিয়ে গেছি। তখনই দরজায় ঘন্টা বাজলো।)

স্ত্রী : মনে হচ্ছে নেতাজিই এলেন। (পুলিশবাবু একটা জুতো হাতে নিয়ে শোওয়ার ঘরের দিকে যেতে যেতে ..) ব্যাটার হাবভাব যেন ফায়ার ব্রিগেডের ইঞ্জিন, আমি অন্য ঘরে যাচ্ছি। ওকে ভাগিয়ে দিও।
(দ্বিতীয়বার ঘন্টা বাজতেই উনি সাথে সাথে অদৃশ্য হলেন। স্ত্রী এসে দরজা খুলল। নেতা জি সাদা ধুতি ও ফতুয়ায়, মাথায় গান্ধী টুপি)
নেতা জি : সীতারাম, সীতারাম ভাবি.. ..আপনি তো সাক্ষাৎ সীতাই লাগছেন, চেহারার দ্যুতি, পোশাক আশাকের স্বচ্ছতা, সরলতা .. ..সব মিলিয়ে।
স্ত্রী : সেই সব তো আপনাতেও মজুত ভাইসায়েব, খদ্দর ছাড়া পরেন না। (তারপর ওনার আঙুলের দিকে তাকিয়ে) এই হীরের আংটিটা কি নতুন বানিয়েছেন?
নেতা জি হাতটা দর্শকদের দিকে করলেন। বহুমূল্য আংটিতে আঙুলগুলি ভরা।
নেতা জি : হ্যাঁ, এক জ্যোতিষি বলল। এইবার এলাকা থেকে এম পি’র সিটটা তাহলে আমারই। আর একবার এম পি হয়ে যেতে পারলে কেন্দ্রে মন্ত্রী হব পাক্কা, তারপর হরিভাইকে দিল্লি নিয়ে যাব। দেখবেন তার কেমন কদর বাড়ে। লাল বাতির গাড়ি, বিরাট বাংলো – আরো কত কি! তা আমার হরিভাই গেলেন কই .. ..এখনও ঘুম ভাঙেনি বুঝি!
স্ত্রী : না না, উঠে গেছে অনেক আগে। আমি মন্দিরে গেলাম আর সে গেল থানায়।
নেতা জি : (“ভাবি” একটু সুর করে টেনে) দেখ ভাবি, আমাদের রুজিরুটি সব মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে। মিথ্যে বলে ভোট, মিথ্যে মাখন না লাগালে টিকিট পাওয়া যায় না, মিথ্যে টেন্ডার না পাশ করালে ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা পাওয়া যায় না, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি না দিলে বিপরীত দল গ্রাস করে। কিন্তু বৌদি আপনি তো সত্যের দেবী, সাক্ষাৎ সীতা মা। তাহলে কেন মিথ্যে বললেন যে উনি সক্কাল সক্কাল .. ..এই সকালেই এমন একটা ডাহা মিথ্যে ?
স্ত্রী : একি, মিথ্যে কোথায় দেখলেন!
নেতা জি : চাক্ষুষকে কি আর প্রমাণ দিতে হয়! পড়া লেখা জানাদের যেমন ইংরেজি শেখানোর দরকার নেই, আমাদের মতন নেতাদেরও তেমনি ভ্রষ্টাচার ব্যাপারটা জলভাত হয়ে গেছে।
স্ত্রী : আপনি না প্রচুর কথা বলেন .. ..
নেতা জি : এই কথা বলেই তো আমাদের পেট ভরে!
স্ত্রী : তা ঠিক, কিন্তু কাজ কামের কথা একটাও না।
নেতা জি : কেন, ওই কাম বস্তুটা থেকে তো দূরেই থাকি আমি। আর আপনার গিরিধর গোপালও তো গীতাতে কাম থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
স্ত্রী : ওই কামের কথা বলিনি, বলছিলাম কর্ম – মানে এত যে বলেন আর কাজের বেলায় উল্টোটাই।
নেতা জি : ওহ্‌, এত বেশি প্রশংসা করবেন না ভাবিজি।
স্ত্রী : আচ্ছা আচ্ছা এবার বলুন তো, এই সকালে আপনাকে কি মিথ্যে বললাম .. ..
নেতা জি : ওই যে বললেন, হরিভাই বেরিয়ে গেছেন।
স্ত্রী : হ্যাঁ তো, এতে মিথ্যে কোথায়?
নেতা জি : দেখুন, এই টুপিটা সবসময়ই আমাদের মত নেতাদের স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। খদ্দরের জামা, ধুতি তো যে কেউ পরে, আজকাল ফ্যাশনেও নাকি ওটা প্রচুর চলছে। কিন্তু এই টুপিটাই আমাদের পরিচিতি দেয়। সেইরকমই পুলিশওয়ালার পরিচিতি এই (বেল্ট উঠিয়ে) এটাতে। এটা ছাড়া পুলিশের পোশাকের কোনও মূল্যই নেই। যেমনটি ওই বিনা স্টেথোস্কোপের ডাক্তার, বিনা কালো কোটের উকিল, বোঝা ছাড়া ধোপার গাধা .. .. সব এক। আমরা যেমন টুপি ভুলি না, জনরক্ষকরাও এটা ভোলেন না। তাই এতেই কি প্রমাণ হয় না যে আপনি মন্দিরে আর হরিভাই ডিউটিতে ব্যাপারটা একটু কেমন যেন .. ..
স্ত্রী : (শান্ত হয়ে) অসত্য কেন হবে, আমি তো মন্দিরেই গেছি আর সেও ডিউটিতে। সকালে বেরিয়েছিল তাই হয়তো স্নান সারতে এসেছে।
নেতা জি : হ্যাঁ অবশ্যই, তবে ভাবি আপনার উকিল হলেই জমত, কিভাবে কথাদের পাল্টি দেন। (তারপর খাবারের দিকে ঝুঁকে) যতক্ষণ না হরিভাই আসছেন, আমি এগুলো হজম করি .. ..
(পুলিশবাবু তৈরি তো আগেই ছিলেন, এখন শুধু বাহানায় ওই ঘরেতে ঢুকলেন।)
পুলিশ : কি খবর নেতা জি। সক্কাল সক্কালে আমাদের বাড়িটাই পেলেন বিনে পয়সার খাবার হাপিস করতে …
নেতা জি : (শিঙারা খেতে খেতে) ঠিকই বলেছ হরিভাই। তবে এমনিতে তো আর এমন খাওয়া হয় না, তাই পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই।
পুলিশ : তা এই সকালে এখানে আসার কষ্ট কেন, যদি বলেন।
স্ত্রী : আচ্ছা আপনারা দেশ সেবার চর্চা করুন, আমি চা নিয়ে আসি। (যেতে যেতে)
নেতা জি : রাতের ওই মামলটার ব্যাপারে আসা। ছোট শেঠের খুন হয়ে গেল। ব্যাপারটা দেরিতে জানলাম তাই সরাসরি বাড়িতে কষ্ট দিতে চলে এলাম।
পুলিশ : আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করবেন না, এটাই আমাদের কাজ, সরকারি কাজ .. ..কিন্তু আপনি আবার কেন .. ..
নেতা জি :আমাদেরও একটা কর্তব্য আছে, জনতার সেবক আমরা। তাছাড়া আপনি তো জানেন বড় শেঠ পার্টির জন্য কত কাজ করেন, সেখানে তার ছোট ভাইয়ের খুন হয়ে গেলে আমরা কি চুপ করে বসে থাকতে পারি। খবরটা সত্যিই খুব লজ্জাজনক।
পুলিশ :আচ্ছা আচ্ছা, এবার ভাষণ বন্ধ করে কিছু কাজের কথা হোক।
নেতা জি : (ফিসফিসিয়ে) এক লাখের কথা হয়েছে, বেশিও হতে পারে। এই মামলায় খেমচন্দকে ফাঁসাতে হবে, সন্দেহ যেন পুরো ওর ওপরেই যায়।
পুলিশ :কিন্তু সন্দেহ্টা হচ্ছে ওর ভাইপোর ওপরে।
নেতা জি : ওই একই হল। কাকা ভাইপোর সম্বন্ধ তো বেশ গাঢ়ই হয়। আর যেমনটি বললাম সন্ধে বেলায় অর্ধেকটা পৌঁছে দেব। (চা নিয়ে পুলিশের স্ত্রীর প্রবেশ)
নেতা জি :(চায়ে চুমুক দিয়ে) চা টা খুব ভালো হয়েছে।
নীচে তখন স্কুটারের আওয়াজ শোনা গেল
পুলিশের স্ত্রী : এখন আবার কে এল?
নেতা জি : এটা সিন্‌হার স্কুটারের আওয়াজ, মনে হচ্ছে ব্যাটা নারদ এসে গেল। (জানালার দিকে তাকিয়ে) হ্যাঁ ওই, বদমায়েশ রিপোর্টার। আমায় এখানে দেখলেই মশলা মাখিয়ে খবর ছাপবে। আজকাল তো উল্টে এদেরই সেবা করতে হয় নইলে কখন কোথায় যে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখে .. ..
পুলিশ :ঠিকই। বদমায়েশটা বোধহয় খেমচন্দের মালকড়ি খেয়ে এসেছে। আমিও পেছন দরজা দিয়ে পালাই।
নেতা জি : (হেসে) এই পেছন ফিরে রাজনীতিটা এবার ছাড়ুন তো। তবে আজকাল সেই সফল হয় যার পশ্চাৎভাগ বেশ মজবুত। আর আপনার তো পেছন নিয়েই কারবার তাই না! কিন্তু আমাদের পেছনে জনতা, হাইকমান্ড সব সময় লেগেই থাকে। আচ্ছা এইবার উঠি।
(উনি চলে গেলেন)
পুলিশের স্ত্রী : কি বলব ওকে .. ..যে তুমি বাড়ি নেই।
পুলিশ : না না আসতে দাও। দেখি খেমচন্দ এর দালাল কি কথা বলে।
(ঘন্টার আওয়াজ, পুলিশ জুতো খুলতে শুরু করলেন)
স্ত্রী :একি জুতো খুলছ! আজ বেরবে না?
পুলিশ :যেতে তো হবেই, এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।
স্ত্রী :তাহলে কি খালি পায়ে যাবে .. ..
পুলিশ : না শ্রীমতি জি। সিন্‌হার সামনে জুতোটা পড়ার নাটক করব, তাহলে ও বুঝবে আমার তাড়া আছে।
স্ত্রী : এ কথা তো সোজাসুজিও বলা যায়, ওতে জুতো খুলতে হবে কেন? ( দ্বিতীয়বার ঘন্টা বাজল)
পুলিশ : উফ্‌, তুমিও আমার মাথাটা একেবারে খারাপ করে দেবে দেখছি, যাও তো দরজা খোল।
( স্ত্রী দরজা খুলতে গেল আর পুলিশ বাবু অন্য জুতোর ফিতেটা খোলার বাহানায় .. ..)

নেপথ্যে : আমাদের জীবনে নাটকের খুব প্রয়োজন। এর অভাবে আমাদের বেশ সাদাসিধা মনে হয়, আমরা যেমন ঠিক তেমনটি প্রকাশ পায় না।

সিন্‌হা : (বিহারি উচ্চারণে) কেমন আছ হে পুলিশ বাবু? কোথাও বেরোচ্ছ বুঝি?
পুলিশ : আরে সিন্‌হা ভাই, আমরা কি আর তোমাদের মতন, যে জব্বর কাগজে দু কলম লিখে দিলাম আর ডিউটি শেষ। আমাদের তো থানা সামলাতে হয়, সেখানেই যাচ্ছি।
সিন্‌হা : যা বলেছেন। তবে আমাদের যা ফালতুতে মাথা ঘামাতে হয়! তা কালকের ওই খুনের মামলায় বেরোচ্ছেন বুঝি, কেউ কি ধর পাকড় হল?
পুলিশ : হ্যাঁ, ওটাও করতেই বেরোচ্ছি।
সিন্‌হা : আপনি আবার ওই নেতার চক্করে পড়ে খেমচন্দের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন না তো?
পুলিশ : আমি কারো চাপে কোন কাজ করি না সিন্‌হা!
সিন্‌হা : মা লক্ষ্মী স্বয়ং চেপে ধরলেও না। (হেসে নিয়ে) ওনার চাপ তো ভগবান বিষ্ণুকেও মেনে নিতে হয়। তবে বলছিলাম কি, ওই ভ্রষ্ট নেতা কিন্তু আপনাকে দিশাহারা বানিয়ে ছাড়বে। তাই তো সক্কালেই কেমন হাজির হয়ে গেল।
পুলিশ :আমার এখানে! .. .. কিন্তু সে তো .. ..
(পাশে রাখা টুপিটা একবার ঘুরিয়ে) এই পবিত্র টুপিটি ওনারই। ব্যাটা নির্ঘাত এটা আপনার চরণে অর্পণ করতে এসেছিল।
(পুলিশ বাবুর লজ্জাহীণ হাসি। তারপর .. ..)
পুলিশ : তুমি পুরোপুরি কাগুজে রিপোর্টার দেখছি সিন্‌হা।
সিন্‌হা :আমি এও জানি এ টুপির চক্করে ও আপনার বাড়ির আশেপাশে ঘুরছে। ওর ধান্দাটা কখন আমি যাই আর ও এসে সামলায়।
পুলিশ : গুপ্ত কথা সিন্‌হা, এসব গুপ্ত থাকাই ভালো। আর আপনি তো জানেন আমি কেমন গুপ্তজ্ঞানী, না এদিকের কথা ওদিকে যায়, না ওদিকের কথা এদিকে আসে। তাই তো আপনার কোনো কথাই আজ পর্যন্ত নেতা অবধি পৌঁছায় নি। ( পুলিশের স্ত্রীর প্রবেশ। হাতে জলের গ্লাস। )
সিন্‌হা : নমস্কার ভাবি। এই সকালে আপনার দেখা পেলে মনটা খুব ভালো লাগে। সমস্ত অচল কাজ আবার শুরু হয়ে যায়। খেমচন্দ ও ওনার স্ত্রী দুজনেই আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করেন। আপনি জানেন হয়তো, ওনার ভাইপোকে এই খুনের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাই খেমচন্দজি আমাকে ডেকে বললেন, হরিবাবু আর তোমার মতো লোক থাকতে আমার ভাইপোর ওপর কেস বেশ লজ্জাজনক ঘটনা হয়ে যায়। সাথে এও বললেন হরিবাবুর স্ত্রী ধার্মিক মানুষ, ওনার জন্যই কিছুটা ধর্ম-কর্ম সমাজে বেঁচে আছে। তাই বললেন, দেড় লাখ টাকা আপনার চরণে অর্পণ করবেন, আপনি যেভাবে ইচ্ছে খরচ করুন। আজ অর্ধেকটা দিয়েছেন, আর বাকিটা উনি নিজে এসে দেবেন।
পুলিশ : দেখুন সিন্‌হা, এই ধর্মকর্মে আমি খুব একটা নাক গলাই না। দশমীর রামলীলায় দানে তো কত হাজার টাকা আসে, কখনও কি কিছু বলেছি। আপনাদের রামলীলা সমিতিতেও কত হিসেব নিকেশ হয় কখনও মুখ ফুটে ওখানেও কিচ্ছু বলিনি। যার যেমন শ্রদ্ধা, সে তেমন করুক। খেমচন্দের যদি এই ইচ্ছেই হয় আমি আর কি বলি, তবে ধর্ম –কর্মতে সুফল সে একটা নিশ্চয়ই পাবে।
সিন্‌হা :(হেসে) ঠিকই। আপনি বোঝদার মানুষ, বাকিটা নিশ্চয়ই বুঝেছেন। আচ্ছা চলি।
(টুপিটা হাতে নিয়ে দাঁড়ালেন…)
পুলিশ : আরে এ নিয়ে কোথায় চললেন। ওই ব্যাটার মালকড়ি এদিক ওদিক করতে পারি কিন্তু এ জিনিসটা না…
সিন্‌হা : বড় পাক্কা মানুষ তো আপনি।
পুলিশ : আপনিও কম নয় সিন্‌হা।
সিন্‌হা : তাও শয়তানের টুপিটা যেভাবে সামলে রাখলেন! এত সৎ, নিষ্ঠাবাণ লোকের কথা তো দু কলম আমায় লিখতেই হবে দেখছি!
( দুজন হাসল। মঞ্চে তখন অন্ধকার।)
দুজনে একসাথে : আমাদের মতো মানুষের জন্যই দেশ প্রগতির পথে দৌঁড়োচ্ছে।
পুলিশ : হ্যাঁ, এত জোরে দৌঁড়োচ্ছে যে দেশ একদিন মুখ থুবড়ে পড়বে। ( দুজন হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল)
সিন্‌হা :তাহলে আমাদের এই বোঝদারপনায় বিলেতি কিছু হয়ে যাক। (আঙুল মুখে ঠেকিয়ে পানের ইশারায়)
পুলিশ : আসুন সিন্‌হা আজকের দিনের শুরুটা স্কচ্‌ দিয়ে করি। সকাল থেকে চা খেয়ে খেয়ে মুখটার আর কোন স্বাদই নেই।
সিন্‌হা : ওই বদমায়েশ নেতার সাথে মিশলে জীবনের স্বাদটা এমনিতেই হারিয়ে যাবে..
(পুলিশ আলমারি খুলতে শুরু করল আর সিন্‌হার জিভ থেকে যেন জল গড়িয়ে এল। সে ঝুঁকে দেখল পুলিশের কাছে বিদেশি স্কচের অঢেল ভান্ডার)
সিন্‌হা : আরে হরিবাবু, কামাল করে দিলেন। আপনার এখানে দেখছি অমৃতের নদী বয়ে চলেছে। (পুলিশ গ্লাস নিয়ে সিন্‌হাকে দিল)
পুলিশ : অত নজর দেবেন না তো ! অমৃত দেখলে পত্রকারেরাও যে জ্ঞান হারায় জানতাম না। (দুজনে গ্লাস ঠুকে নিল)
সিন্‌হা : আজ এই অমৃত পান খুনের মামলাটার নামেই হোক। (এক ঢোক খেয়ে)
পুলিশ : আমাদের সত্য নিয়ে কারবার। কিন্তু আপনি মশাই এদিকে এক কথা বলেন আর কাগজে লেখেন আরেক। মনে আছে সিন্‌হা, প্রথম যখন এসেছিলেন সাইকেলও ছিল না, দুই পায়ে চপ্পল তাও আবার একেকটা একেক রঙের। আর আজ ফার্স্ট ক্লাস বাড়ি, স্কুটার -আবার গাড়িও কিনবেন শুনছি।
সিন্‌হা : হ্যাঁ ভাবছি আরো কটা মারুতি টারুতি হলে মন্দ হয় না।
পুলিশ :ঠিকই, আপনাদের পেশার মতো মারুতিও দৌঁড়োবে।
সিন্‌হা : যাই বলুন আমাদের কলমে সততার বল প্রচুর।
পুলিশ : সেই বল তো মহেশের কলমেও আছে।
সিন্‌হা : ওই ব্যাটা ছেঁড়াফাটা পত্রকার। ব্যাটা বুড়ো।
পুলিশ : সেই জন্যই তো এখনও ভাঙাচোড়া সাইকেলে ঘোরে। কারণ ওর কলমখানা ওর কাছেই থাকে আর আপনারটা কখনও খেমচন্দের কাছে, কখনও আমার কাছে।
সিন্‌হা : আরে ও পুলিশবাবু, আমায় কি বলেন, আপনার কান্ডও আমার সব জানা আছে।
পুলিশ : হ্যাঁ, তাইতো আমরা একসাথে খাই, একসাথে পান করি .. ..(দুজনেই হাসতে থাকল)
সিন্‌হা : (নেশায় টলমল করতে করতে গান গেয়ে উঠল)
আমাদের এই জোড়াজুড়ি .. ..ভাঙবে না গো ভাঙবে না.. ..

[ক্রমশঃ………]

- Might Interest You

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ

Rupam Islam New Song

4 1591
Rupam Islam New Song

1 1798