সাত টা পনেরো বেজে গেল – এখনো পাত্তা নেই মেঘার, মনে মনে খুব অস্থির হচ্ছে শ্রীময়ী | ৭:৪৫ থেকে বি বি স্যার এর ক্লাস আর আজকের ক্লাস টা specially খুব important কেননা পরীক্ষার আগে এটাই শেষ |ক্লাস স্যার এর কাছ থেকে আজ কিছু সাজেশন পাওয়া যেতে পারে |
“ওফ ! আর পারিনা মেঘ কে নিয়ে, ফোন টা কেও সাইলেন্ট করে রেখে দিয়েছে “, নিজের মনেই বলে শ্রীময়ী |
কে জানে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে ফাঁকা বাস গুলোকে চলে যেতে |এই ভাবে আরো ১০ মিনিট কেটে গেল শ্রীময়ীর বিরক্তি যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছলো তখন এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে দেখল, মেঘা হন্ত দন্ত হয়ে আসছে বাস স্টান্ডের দিকে শ্রীময়ী কিছু বলার আগেই বলে উঠলো:
“সরি,সরি দেরী হয়ে গেল রে”
“দেরী হয়ে গেল মানে ? আজকের ক্লাস টা কতটা important জানিস না ?”, বিরক্তির সুরে বলল শ্রীময়ী “ফোন টাই বা কেন সাইলেন্ট করে রেখেছিলি?”
মেঘার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর, “ইচ্ছে করে সাইলেন্ট করে রাখিনি হাত লেগে কখন যে সাইলেন্ট হয়ে গেছে।…………”
যাই হোক এই ভাবে চলতে চলতে একটা সময় শ্রীময়ী আর মেঘ বাস পেল দেরী হলেও, কলেজ পৌঁছে বিবি স্যার এর ক্লাস ও attend করলো |
শ্রীময়ী আর মেঘা যেন হরিহর আত্মা সেই কোন ছোট বেলা থেকে বন্ধুত্ব – যখন হয়ত তারা বুঝতেই না বন্ধুত্ব কাকে বলে উত্তর কোলকাতার একই পাড়ায় বড় হয়ে ওঠা, একই স্কুলএ পড়াশোনা আর এখন একই কলেজ |
অথচ দুজনের স্বভাব সম্পূর্ণ বিপরীত |একজন উত্তর মেরু তো একজন দক্ষিণ মেরু |শ্রীময়ী শান্ত, ধীর স্থির, নম্র, লেখা পড়াতে তুখোড় আর খুব মিষ্টি দেখতেও তাকে আর মেঘা? ছোট থেকেই খুব ডানপিটে এখনো সে সুযোগ পেলে বাড়ির সামনের পার্কে, ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা ফুটবল খেলে মাঝে মাঝে চলে ক্রিকেটও কলেজের ফুটবল টীম এ নাম দিতে গিয়ে যদিও সে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে এসেছে কারণ সেটা “বয়জ ফুটবল টীম ” |
পাড়ায় বা কলেজএ কোনো মেয়ের কোনো অসুবিধে হলে মেঘা কে এসে বললেই সে সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যায় তার সমাধান করতে কিন্তু এই সমস্ত সত্তেও মেঘা পড়াশোনাটা ঠিক ঠাক করে কোনদিন result খারাপ হয়ে না তার আর প্রাণের থেকেও ভালবাসে শ্রীময়ীকে পাড়ায় , স্কুলএ, কলেজএ সকলে জানে,তাদের এই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা|

বি.বি. স্যার এর ক্লাস শেষ হয়ে যাবার পর, মেঘা,শ্রীময়ী কে বলল, “কি রে? খুব তো রাগ করছিলি আমার ওপর| হলো তোর্ বি.বি.স্যারএর ক্লাস ?”
“সে তো হলো, কিন্তু দেরী তো হয়েছিল। স্যার তো ক্লাসএ নাও ঢুকতে দিতে পারতেন “,
“আমার তা মনে হয়ে না, কারণ এটা ছিল, পরীক্ষার আগে স্যার এর সঙ্গে আমাদের শেষ ক্লাস ”
“এখন ছাড় তো ওসব কথা চল লাইব্রেরি তে যেতে হবে , কিছু notes নিতে হবে “, বলে শ্রীময়ী, মেঘাকে হাত ধরে লাইব্রেরির দিকে নিয়ে চলল।
এই ভাবেই এগিয়ে চলে তাদের বন্ধুত্ব। শ্রীময়ী – মেঘার জীবনে বোধহয় এখনো এমন কোনো দিন আসে নি যে দিন তাদের একবারের জন্যও দেখা হয়ে নি। তাদের এই নিবিড় বন্ধুত্বের কথা তাদের অভিভাবক, আত্মীয়, স্বজন, পাড়া, প্রতেবেশী সকলেই জানতেন এবং এমনও হয়েছে শ্রীময়ী বা মেঘার বাড়ির কোনো আত্মীয়ের অনুষ্ঠানেও তাদের দুজনকে নিমন্ত্রিতদের মধ্যে দেখা গেছে। শুধু শ্রীময়ী মেঘার এই আত্মিক বন্ধুত্ব এতটা প্রকাশ পায়ে নি মেঘার বাবা প্রতাপ চোধুরীর কাছে |কারণ তিনি কার্য সূত্রে সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়াতেন,তার চাকরির ধরন ই ছিল এমন। বছরে একবার অথবা দুবার যখন কলকাতাতে ফিরতেন |তখন মাস খানেকের জন্য কাটত স্ত্রী,মেয়ে মেঘার সঙ্গে। সেই সময় শ্রীময়ী,মেঘাদের বাড়িতে এলে একটু আধটু কথা হত বাস্ এই টুকুই। কিন্তু শ্রীময়ী -মেঘা -একে অপরকে যে চোখে হারায় এ কথা প্রতাপ বাবুর জানা ছিল না।
“কাকিমা, কাকিমা “, হটাত চিত্কার করতে করতে মেঘা ওপরে উঠে এলো|
শ্রীময়ী দরজা খুলতে খুলতে বলল, “এই তো বেল টা বাজালি দরজা খোলার সময় দিবি তো। নিচ থেকে চিত্কার করছিস কেনো ?”
মেঘা ওই সব কথাতে কান না দিয়েই বলল, “কাকিমা কোথায়ে রে ?”
“কেন রান্না ঘরে, খাবার তৈরী করছে। তুই নিশ্চয়ই কলেজ থেকে এসে কিছু না খেয়েই চলে এসেছিস ? ”
“হ্যা, তো কি হয়েছে ? কাকিমা আছেন তো , তোকে অত চিন্তা করতে হবে না ”
রত্না, অর্থাত শ্রীময়ী মা রান্না ঘরে থেকে বললেন, “মেঘা এসেছিস না ?যা টেবিলএ গিয়ে বস আমি খাবার আনছি ”
“সে নয়ে বসছি। তুমি তাড়াতাড়ি এস তো রান্নাঘর থেকে তোমাকে বিশেষ দরকার আছে। ”
খাওয়া দাওয়ার পর মেঘা যা জানালো তা হলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেঘার বাবা প্রতাপ বাবু কলকাতাতে আসছেন ,এবার বেশ কয়েক মাস থাকবেন কলকাতায়। তাই তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন মেয়ের ফাইনাল Year এর পরীক্ষা হয়ে গেলে রাজস্থান বেড়াতে যাবেন। কিন্তু মেঘা তো শ্রীময়ী কে ছাড়া এক পাও নড়বে না। তাই তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন , দুই পরিবার একসঙ্গে যাওয়া হবে। এই ব্যাপারেই রত্না দেবীর কাছে আসা মেঘার। রত্না দেবী সব শুনে শ্রীময়ী বাবার সঙ্গে কথা বলে জানাবেন, আশ্বস্ত করলেন মেঘা কে|
“কাল কলেজ থেকে সোজা আমাদের বাড়ি যাবি”, কলেজ এর গেট থেকে বেরোতে বেরোতে বলল মেঘা |
“কেন রে কাল কোনো অনুষ্ঠান আছে? ” শ্রীময়ী জানতে চাইল |
“আরে না রে, কাল বাবা আসছে সকালের ফ্লাইট এ তাই। ……………..”
“তাহলে তো নিশ্চয়ই যাবো, কতদিন পর কাকুর সঙ্গে দেখা হবে বলত ? যদিও কাকুর সঙ্গে কোনদিনই বিশেষ কথা বার্তা হয়ে নি তবুও। ….”
পরের দিন কলেজ থেকে বেরিয়ে শ্রীময়ী মেঘার সঙ্গে চলে এলো তাদের বাড়িতে। মেঘা আজ খুব খুশি, এতদিন পরে বাবাকে কাছে পেয়েছে, বহুদিন পর এবার অনেক দিন বাবার সঙ্গে থাকা হবে তার।
**********************************************************************************
” কেমন আছ তুমি ?”
“ভালো, আপনি ?”
“এই চলছে, এদিক ওদিক ঘুরে।………..”
“সেই তো, আপনার তো। …….”
“না না ও কথা বল না , কত দিন পর তোমার সঙ্গে দেখা। …..”
“মানে?”
“মানে কি? তোমাকে বহু বছর পর দেখলাম, তখন তুমি। …..”
********************************************************************************
শ্রীময়ী মনের অস্থিরতা,আবেগ সব কিছু যেন আজ তার হাঁটার গতির মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। কেমন একটা অদ্ভূত অনুভূতি হচ্ছে তার।
পরের দিন সকাল বেলা মেঘা শ্রীময়ী কে ফোন করে জানালো যে সে আজ কলেজ যাবে না, বাবার সঙ্গে সে আজ একটু শপিং এ যাবে। শ্রীময়ী কে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করলো তাদের সঙ্গে যাবার জন্য।
“না রে, আজ যাব না। শেষের দিকের ক্লাস গুলো attend করা খুব দরকার আর দুজনেই যদি একসঙ্গে absent হই, তাহলে ক্লাস নোট পাব কি করে বল ?”
**************************************************
“As you wish “, বলল মেঘা , “”তাহলে চল তোকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি, একলা যাবি ”
শ্রীময়ী হ্যান্ডসেট টা অন্য দিকের কানে ঘুরিয়ে দিয়ে বলল, “তুই তাহলে আমার bodyguard হতে চাস কি বল ?”

যাই হোক শেষ পর্যন্ত শ্রীময়ী একাই রওনা হলো মেট্রো স্টেশন এর দিকে।
আজ আর বাস এ যাবে না। মেঘা না থাকলে, বাস এ যেতে ভালো লাগে না।
*************************************************************
ট্রেন এর কামরার সোরগোল, যাত্রীদের অস্পষ্ট কথাবার্তায় তাদের দুজনের কথা বোঝা যাচ্ছিল না |
“তুমি কি এই সময়ই কলেজ যাও ?”
শ্রীময়ী উত্তর দিল, “হ্যা মোটামুটি, একটু আগে পরে হয়ে। মেঘা আর আমি একসঙ্গেই যাই ”
“আমি আজ তোমার কলেজ পর্যন্ত যাব ”
শ্রীময়ী যেন একটু অবাক হয়েই বলল, “কলেজ অব্দি? ”
“তোমার সাথে কথা বলতে, সময় কাটাতে ভালো লাগে। ”
কি বলবে শ্রীময়ী। এর মধ্যেই ঘোষিত হলো “পরবর্তী স্টেশন সেন্ট্রাল। প্লাটফর্ম ডান দিকে। ”
শ্রীময়ীকে এবার নামতে হবে কিন্তু।…..সে চোখ ফেরালো …….

কলেজ ছুটির পর যথা সময় বাড়ি ফিরল শ্রীময়ী। মুখ দেখেই মা বুঝতে পারলেন কিছু একটা হয়েছে |
জিজ্ঞাসা করলেন ,” কি রে ? কিছু হয়েছে নাকি কলেজ এ ? নাকি আজ মেঘা যায়ে নি বলে মন খারাপ? যা না, খাওয়া দাওয়া করে একবার ঘুরে আয়ে ওদের বাড়ি থেকে”
কথা শেষ না হতে হতেই মোবাইল তা বেজে উঠলো। ওদিকে মেঘা ,”কি রে ? কলেজ থেকে ফিরেছিস ?”
“হ্যা এই একটু আগে ”
“শোন না একটু আসবি আমাদের বাড়ি তে, মা বাবা বেরিয়েছে আমি বাড়ি তে একা শরীর তা একটু খারাপ। মনে হয়ে জ্বর আসছে ”
“ঠিক আছে আসছি। “, বলে ফোন টা রেখে দিল শ্রীময়ী |
মেঘাদের বাড়ি গিয়ে দেখল তার শরীর জ্বর এ পুড়ে যাচ্ছে।

“এত জ্বর বাধালি কি করে ?”, মেঘার কপালে হাত টা রেখেই সে বলল
“আরে কাল রাতে একটা আইস ক্রিম খেয়েছিলাম, ব্যাস সকাল থেকেই রিঅ্যাকশন শুরু ”
শ্রীময়ী অস্থির হয়ে বলল ,”দাঁড়া মা’কে একটা খবর দি। তোকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে হবে। কাকু,কাকিমা আসতে তো অনেক দেরী আছে। এতক্ষণ অপেক্ষা করলে জ্বর বেড়ে যাবে। ”
মেঘা কে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরতে রাত ৯ তা হয়ে গেল ততক্ষণে তার মা,বাবা ফিরে এসছেন। ডাক্তার বাবু তাকে পুরো পুরি ৭ দিন রেস্ট নিতে বলেছেন। viral fever কমতে সময় লাগবে। ৭ দিন ? শ্রীময়ী ভাবলো এতদিন।…সে কলেজ একা যাবেই বা কি করে আর তার মনের কথা….অস্থিরতার কথা কি ভাবে মেঘা কে জানাবে ?

আবার সেই কলেজ এর পথ….. সেই শ্রীময়ী একা কলেজ যাওয়া আর সেই………
“কখন বেরোলো ?” পিছন থেকে সেই চেনা কন্ঠস্বর |
শ্রীময়ী চমকে পিছন ফিরে তাকালো। ওই তো, ওই তো সে দাঁড়িয়ে |
“এই তো কিছু ক্ষণ আগে “, একটু নরম সুরেই সে কথা টা বলল |
“আজকে কলাস্ট ক্লাস কখন শেষ হবে ?”

কি বলব সে ? ২:১৫, না কি। …..একটু ভাবলো শ্রীময়ী |
“আমি আজকে।…..”, কথা বলতে গিয়ে শ্রীময়ী কি যেন ভাবলো |
“আজকে দেখা করে যেতে পারে। কি বল ?”
কি উত্তর দেবে দোনা মোনা করতে করতে কলেজ এর দিকে এগিয়ে যাবার জন্য যখন সে পা বাড়ালো, তখন ই কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করলো। পিছনে তাকিয়েই অবাক শ্রীময়ী ! এবার? প্রায় ছুটেই সে কলেজ এর গেট দিয়ে সে ভেতরে ঢুকে গেল।
***************************************************************************************
“তুই তাহলে বুধবার থেকে কলেজ যাবি তো ? ডাক্তার বাবু কি বলেছেন ?” মেঘার কাছে, ফোন এ জানতে চাইল শ্রীময়ী
“আমি তো পারলে কাল থেকেই কলেজ এ যাই। আর বাড়িতে বসে ভালো লাগছে না। ”
পরের দিন সকাল বেলা কলেজ যাবার জন্য তৈরী হবার সময়, শ্রীময়ী ঠিক করলো আজ যাই হোক , সাহস করে তাকে |
জিজ্ঞেস করবে, সে কি চায়?
মেন রোড দিয়ে হেঁটে যাবার সময় শ্রীময়ী ওর কানের হেড ফোন তা খুলে নিল। যা গাড়ির আওয়াজ? এর মধ্যে আর কি এফএম শোনা যায় ? বাস স্ট্যান্ড এর কাছাকাছি আসতেই সেই পরিচিত কন্ঠস্বর। অন্য দিন হলে সে না শোনার ভান করে এগিয়ে যায় আজ সে ঘুরে দাঁড়ালো।
“কিছু বলবেন ?”, একটু শক্ত ভাবেই প্রশ্ন করলো |
“না, সেই রকম কিছু না।”, সে অল্প হেঁসে বলল, “চল একসঙ্গে যাওয়া যাক। ”
শ্রীময়ী কিছু বলার আগেই সে বলল, “আসলে আমার, তোমাকে খুব ভালো লাগে। চল না, কোথাও গিয়ে বসে একটু গল্প করি। ”
***************************************************************************************
এর পর আরো কিছু দিন গেল। শ্রীময়ী মনের অস্থিরতা অনেকটা আকাশের কালো মেঘের মতো। কখনো সেই মেঘ আড়াল করছে শ্রীময়ী সমস্ত মনকে আবার কখনো একটু আলোর আভাও দেখা যাচ্ছে সেই মেঘের মত “মেঘা” যার সঙ্গে তার আত্মিক যোগ সুত্র তাকে বলতেই হবে।
যদিও সময় টা বর্ষার নয়ে তবুও সেই দিন যেন আকাশের মুখ ভার। থেকে থেকে ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি যেন নেমেও নামে না। সেই দিন মেঘা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল তার নাটকের rehersal “রক্তকরবী”, নন্দিনীর ভূমিকায় সে। শ্রীময়ী তাকে জানিয়েছিল যে সে একটু আগে পৌঁছে যাবে। দুই বন্ধুই অভিনয় করছে রক্তকরবী তে |
বাস আজ যেন খুব কম চলছে। শ্রীময়ী অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন terminus ছেড়ে হাটতে লেগেছে ঠিক তখনি তাকে দেখতে পেল।
“শ্রীময়ী তুমি।এখন কোথায়ে |”
কথা টা শেষ হবার আগেই সে দেখলো অদূরে মেঘা দাঁড়িয়ে আছে। একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল সে
মেঘা যেন বাকরুদ্ধ ! কি দেখছে সে? একই সত্তি ?
নিজের অজান্তেই সে বলে উঠলো , “বাবা তুমি ?”
তারপর শ্রীময়ী দিকে তাকালো।
“শ্রীময়ী তুই ?”
ও মেঘা কে বলল , “মেঘা শোন , আমার কথা…….”
ওর মুখের কথা শেষ হবার আগেই মেঘা কে আর দেখা গেল না,কোথায়ে যেন হারিয়ে গেল |
শ্রীময়ী প্রাণ পণে দৌড়োতে লাগলো।
ওর সত্যিটা যেন সেন্ট্রাল এভিনিউ এর বাস, ট্রাম আর কলকাতা শহরের জনকলাহলের মধ্যে ঢাকা পড়ে গেলো |
— শুভশ্রী (২৭/০৩/২০১৬)

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ

Rupam Islam New Song

4 1488
Rupam Islam New Song

1 1763