বিদ্যুত্ চমকের সাথে মেঘের গুরুগুরু আওয়াজ-যেন নিস্তব্ধতার মধ্যে থেকে কারও আগমনের শুভ শঙ্খধ্বনি। ধুসর ধুসরতর মেঘ আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ল সমস্ত আকাশ -যেন পাখনা মেলল বিশাল এক বাজ, দিক-দিগন্ত জুড়ে।
তারপর লাজুক বৃষ্টি কোমলতর হয়ে, উষ্ণ বাতাসকে পরম আশ্লেষে ভরিয়ে দিতে দিতে নেমে এল পৃথিবীর বুকে। উঁচু বিল্ডংগুলোকে চুমুতে চুমুতে ভিজিয়ে যখন তা ঝড়ে পড়ল নরম ঘাসের ওপর, তখন বোঝা গেল এই মিলনের অপেক্ষাতেই বিরহকাতর ছিল তারা এতদিন। রাতের অণ্ধকার সমস্ত আবরন উন্মোচন করে আপন করে নিল সেই পরম আকাঙ্খিত বৃষ্টি। উষ্ণ বৃষ্টির উষ্ণ নিশ্বাসে রাত হয়ে উঠল উষ্ণতর।প্রথম বৃষ্টি ধীরগতির, কিন্তু তা প্রশান্তির আর মাধুর্যের।
পরে একটু একটু করে গতি বাড়ল তার, আর খুলতে লাগল অন্ধকারের আরও আরও অর্গল। আরও গতিবৃদ্ধি, যেন ঈষত্ মাতাল হল সে, পালে লাগল ভিনদেশী কোন সাইক্লোন বুঝি। এতক্ষন দরজায় দরজায় যা ছিল মৃদু করাঘাত, পরিনত হল তা ভীষন আঘাতে, বোধহয় চূর্ণ করবে তা সব বাধার প্রাচীর, ঘুম ভাঙাবে তা দৈত্যপুরীতে ঘুমিয়ে থাকা রাজকন্যার।
বৃষ্টির কী কোন রঙ থাকে, কেমন করে ডানা মেলে তার ইচ্ছে?
সে কী সুন্দর, নাকি ভয়ানক? সে কী হিংস্র, নাকি অনুপম?
এত তীব্র সে, তবু কেন তার এত দুর্নিবার আকর্ষন?
সুখতৃপ্তির কোন বিন্দুতে নিয়ে গিয়ে থামবে সে, নাকি নিয়ে যাবে কষ্টের শেষ সীমায়?
ভয় আর আনন্দের দোদুল্যমানতার মধ্যেই, চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেষ শেষ হওয়ার আগেই, হঠাত্ই এক বিষ্ফোরন। যেন অন্ধকারের মধ্যে আরও হাজার অন্ধকার ঢেলে দিল কেউ, আর গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে জ্বলে উঠল হাজার ঝাড়বাতি। সব বৃষ্টি নি:শেষ। সব কিছু শান্ত। আর ভয় নেই, কিছু চাওয়ারও নেই হয়তো সুখ অসুখের অনুভূতিও নেই,-শুধু শান্তি আছে শুধু শান্তি।
—————————-অমর্ত্যাশিস্

1 COMMENT

  1. কোথায় বৃষ্টি হলো অমর্ত্যাশিস্দা…অনেকদিন পর আপনার লেখা দেখলাম।

এমন আরো নিবন্ধ

Rupam Islam New Song

4 1761
Rupam Islam New Song

1 1936