আগেই বলেছি সামনের দিকে তাকানোর তুলনায় পিছন ঘুরে দেখাতেই আমি যেন আজকাল‚ বেশি স্বচ্ছন্দ ! এই যে গল্প উপন্যাস লিখি‚ এই প্রেজেন্টটাকে নিয়ে লিখতে গেলেই পাঁচ লাইনের মধ্যে পাঁচবার ফোন‚ এস এম এস‚ হোয়াটস অ্যাপ‚ গ্রুপ চ্যাটিং‚ পিং‚ লাইক‚ পোস্ট‚ আপলোড এসব এমন ভাবে লিখতেই হয়, যে কী বিরক্তি উঠে আসে | মনে হয় রসস্থ লেখা লিখছি না‚ ফুলবাগান মোড়ে ফুটপাতের চাউমিন স্টলে লোহার তাওয়ায় আর খুন্তিতে চ্যাং ট্যাং শব্দ তুলছি | অথচ বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে গেলে তো আজ আর এসব উপচার জড়ো না করে উপায় নেই |

অতএব অ্যাভয়েড করতে হয়, সোজা ১৯৯৫-এর আগে চলে যাও | যখন গেঁটে বাত নিয়ে বড় জ্যাঠাইমা দোতলা থেকে একতলার বৈঠকখানায় মান্যি গন্যি কালো জাঁদরেল ফোনটাকে (বাজলে) ধরতে আসতে আসতে ফোন কেটে যেত | আর সারাদিন ধরে জ্যাঠাইমা একে তাকে জিজ্ঞেস করে বেড়াত‚ ‘ফোনটা কে করেছিল বল তো? ন’ পাড়ায় মেসোর তো যায় যায় অবস্থা’ | এরকম সমস্ত রকম ওয়াইল্ড গেস চলতে থাকত‚ ‘বাবুর তো ইন্টারভিউ কল আসার কথা ছিল‚ ওরাই নয় তো’?

আমার এখন যা কিছু লিখতে ইচ্ছে করে সব ওই –১৯৯৫-এর আগে | এ এক বিচ্ছিরি সময়-এ বাস করছি | নতুনত্ব বলে সত্যি কিছু আর নেই‚ কল্পনার দফারফা‚ অভিনবত্ব‚ রহস্যময়তা এসবও গোত্র হারিয়েছে | এখন রহস্য বলতে কিছু খুনের আন সলভড কেস !

তা যাই হোক‚ কথা হচ্ছিল আমার কৈশোরের দিনগুলোর স্বাস্থ্য সচেতনতাটা নিয়ে | বড়মামু‚ মানে আমার মায়ের বড়ভাই আমাকে প্রাণাধিক ভালবাসত | শাসন‚ চিমটি‚ কানমলা‚ আড়ংধোলাই এসবও আজ আর ২৫ বছর পরে আমার কাছে অত্যাচার মনে হয় না | ভালবাসারই প্রকাশ বলে বিশ্বাস করি |

বড়মামু গত হয়েছে | ওসব রাগ‚ দুঃখ এই পৃথিবীতে নিরুদ্দেশ হয়েছে | তা বড়মামু আমাকে নিয়ে যে কী করবে ভেবে পেত না | প্রথমে ভর্তি হলাম যোগা ক্লাসে | বরানগরের ওখানে এক সন্ন্যাসীদের মঠেই যোগাভ্যাস করানো হত | তা বেশ কিছুদিন সেই যোগাক্লাসে গেলাম | সেই ক্লাসে জয়েন করার শুরুতেই মামু হুকুম করল‚ ‘বুডু‚ রাতে শোয়ার সময় কাঁচা বাদাম‚ কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে রাখবি | সকালে উঠে খাবি | তারপর ব্যায়াম !’

জানি না বাবা কী থেকে কী হয় — কিন্তু গত ২৮ বছরে আমার একবার মাত্র জ্বর হয়েছে | তাও পায়ে একটা ফোঁড়া হয়েছিল‚ বিরাট ফোঁড়া‚ তাই পেকে গিয়ে জ্বর ! এর মধ্যে আমার একটা নর্মাল ডেলিভারি করে সন্তান হয়েছে | একটা মাইক্রো সার্জারি করে গলব্লাডার অপারেশান হয়েছে | আর একটা স্পাইনাল কর্ড অপারেশান হয়েছে | তিনটের ক্ষেত্রেই আমি তৃতীয় দিন থেকেই সুস্থ | মেরুদণ্ড অপারেশানের ক্ষেত্রে তো দশদিনের মাথায় গাড়িও চালাতে শুরু করি | এবং মাত্র সাতদিনের মাথায় শোভনের কোলে শুয়ে শুয়ে মোক্যাম্ব গেছিলাম ডেভিলস ক্র্যাব খাব বলে |

তো এত কিছু ঘটেছে কিন্তু জ্বর হয়নি‚ দুর্বল লাগেনি‚ মাথা ঘোরেনি‚ বুক ধড়ফড় করেনি‚ চোখে অন্ধকার দেখিনি‚ গা বমি বমি করেনি‚ অম্লশূল‚ উদরি‚ পেট ব্যথা–বাঙালির যা যা হয়–তা আমার কোনওটাই হয়নি এই চল্লিশ অবধি | না হওয়ার পুরো দায়িত্বটা আমি ছোলা বাদাম ভেজানো আর ব্যায়াম-এর উপর চাপিয়ে দিচ্ছি না | কিন্তু ওই–থিংস অটোমেটিক্যালি ফল ইনটু প্লেসেস’ আর কী!

তো সেই শুরু–তারপর অন অ্যান্ড অফ আমি সারাজীবন যোগা‚ জিম‚ জগিং‚ বলিউডি স্টেপ ডান্সিং কিছু না কিছু করে গেছি স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য !

ওই ৮৫-৮৬ সালে‚মানে‚যখন আমার জীবনটা উত্তর কলকাতায় কাটছিল‚তখন উত্তর কলকাতায় আমাদের পাড়ায় অসংখ্য বিবাহযোগ্যা মেয়ে দেখা যেত | তাদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ যা কিছুই হতে পারে | সাধারণত ৪৫ হয়ে গেলে অনূঢ়া মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সংকল্পের ধিক ধিক করে জ্বলতে থাকা উনুনে জল ঢেলে দিয়ে শিক দিয়ে খুঁচিয়ে উনুনটা ভেঙে দিতেন মেয়েটির পরিবার পরিজনেরা | মানে সেই প্রচেষ্টায় ইতি টানতেন | ৪৫ কেন ? কারণ ওই বয়সের মধ্যেই মেয়েদের রজঃনিবৃত্তি ঘটে যায় মোটামুটি ভাবে | তারপরও তো আর …|

(চলবে)

- Might Interest You

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ

Rupam Islam New Song

4 1614
Rupam Islam New Song

1 1812