ভারতীয় ক্রিকেটে হতে পারতেন শচীন তেন্ডুলকারের সহযোদ্ধা | সুস্থ প্রতিযোগিতায় দুজনে হতেই পারতেন প্রতিদ্বন্দ্বী | বিশেষজ্ঞদের তুলাদণ্ডে দুজনের প্রতিভা ছিল সমান সমান | কিন্তু বদলে গেল পুরো চিত্রনাট্য | যে ক্রিকেটারের একদিন ভারতীয় দল শাসন করার কথা ছিল‚ তিনি বিদায় নিলেন কৈশোরে | শুধু বাইশ গজ থেকে নয় | জীবনের চিত্রনাট্য থেকে | তিনি ধ্রুব পাণ্ডব | ১৯৯২ সালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থামিয়ে দিয়েছিল এই বিস্ময় প্রতিভার ব্যাট |

এখনও অবধি পাঞ্জাবের অন্যতম প্রতিভাবান ক্রিকেটারের মধ্যে অন্যতম ধ্রুব | পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি এম পি পাণ্ডবের ছেলে ধ্রুবর নামে অনূর্ধ্ব উনিশ একটি প্রতিযোগিতাও হয় | ক্ষণিকের ক্রিকেট কেরিয়ারেও একাধিক রেকর্ডের মালিক ছিলেন ধ্রুব |

মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আত্ম প্রকাশ ‚ রঞ্জি ট্রোফিতে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে( ১৪ বছর ) শতরান‚ ওই একই প্রতিযোগিতায় সবথেকে কম বয়সে ( ১৭ বছর ) এক মরসুমে এক হাজার রান সংগ্রহ ‚ ধ্রুবর এই রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি |

১৯৯২ সালের সেদিন দেওধর ট্রোফিতে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ করে দলের সঙ্গে ফিরছিলেন ধ্রুব | কদিন পরেই ম্যাচ ছিল ভারত সফররত একটি দলের বিরুদ্ধে | ধ্রুব চেয়েছিলেন ওই প্রতিযোগিতায় তাক লাগানো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে |

কিন্তু খেলতে নামার আগে বাড়িতে যেতে‚ সবার সঙ্গে সময় কাটাতে খুব ইচ্ছে করছিল | সিনিয়রদের নিষেধ না মেনেই আম্বালায় নেমে পড়েন ধ্রুব | একটা ট্যাক্সি নেন | যাবেন পাতিয়ালায় নিজের বাড়ি | সেই ট্যাক্সি আর বাড়ি পৌঁছয়নি | কুয়াশাঢাকা রাস্তায় দুর্ঘটনার পরে বাড়ি পৌঁছেছিল ধ্রুবর নিথর দেহ |

ধ্রুবর অকালমৃত্যুর পরে তাঁরা বাবা আর ক্রিকেট-প্রশাসক থাকতে চাননি | সরে আসতে চেয়েছিলেন | পারেননি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথায় | তবে ধ্রুবর ভাই কুণালের আর ক্রিকেটার হওয়া হয়নি | সন্তানশোকে উন্মাদ মা পুড়িয়ে দিয়েছিলেন দুই ভাইয়ের ক্রিকেট কিট |

আরও পড়ুন:  প্রস্তরীভূত পম্পেই-এর কোলে অক্ষত ৩ হাজার বছরের পুরনো ফুলদানি ও সুরাপাত্র

NO COMMENTS