মহালয়ার ব্রাহ্মমুহূর্তে সেই এক ও অদ্বিতীয় সানুনাসিক কণ্ঠে  য়া দেবীশুনে আপনার শারদোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে তো ?  আকাশবাণীতে যখন কান পেতেছিলেন‚ কিছু অন্যরকম লেগেছিল কি ?  মহিষাসুরমর্দিনী-কে ঠেকেছিল অন্যরকম ? হয়তো মনের ধন্ধ কাটাতে পারেননি | ভেবেছেন ঘুমচোখে‚ মনের ভুলে অন্য কিছু শুনেছেন |

তাহলে শুনুন‚ এবার আকাশবাণী বেশ কদিন ধরেই প্রোমোতে বলে এসেছে মহলায়ার পুণ্যলগ্নে মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারে কিছু চমক থাকবে | এখন তো আর বছরের অন্যদিন আকাশবাণী বাঙালির ঘরে ঘরে বাজে না | তাই কী করে আর এই ঘোষণা কানে যাবে ? 

দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য সবাই কৃতজ্ঞ আকাশবাণীর কর্মী মানসপ্রতিম দাসের কাছে | নিউব্যারাকপুরবাসী‚ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এই  অন্যরকম রহস্য নিয়ে | 

আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী প্রথম সম্প্রচারিত হয়েছিল ১৯৩১ সালে | ১৯৬৬ সাল অবধি এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হতো সরাসরি | অর্থাৎ আজকের চেনা শব্দে  লাইভ ব্রডকাস্ট  | চারের দশকে শুধু এক বছর এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছিল শহরের অস্থির অবস্থার জন্য | ১৯৬৬ সাল অবধি সরাসরি সম্প্রচারের এই রীতি চলেছে | তারপর রেকর্ডেড ভার্সন চালানো হয় |

মানসপ্রতিম জানিয়েছেন‚ ১৯৬১-৬২ থেকে ১৯৭২-৭৩ অবধি স্রষ্টারা নিজেদের সৃষ্টিকে পাল্টেছেন বেশ কয়েকবার | করেছেন পরীক্ষা নিরীক্ষা | উৎকর্ষের আরও উত্তরণের সন্ধানে | এখন প্রতি বছর যে ভার্সন শোনেন‚ সেটা সর্বশেষ রেকর্ডিং | এ বার যেটি সম্প্রচারিত হয়েছে সেটি ১৯৬৬ সালের রেকর্ডিং | সুধীর মুখোপাধ্যায়ের হাতে সম্পাদিত এই ভার্সন আছে শুধুমাত্র আকাশবাণীর লেখ্যাগারেই | আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ সচেতনভাবেই এই পরিবর্তন করেছেন | তাঁদের সংগ্রহের ঐতিহ্য‚ বিস্তার ও সমৃদ্ধি বোঝাতে | 

মানসপ্রতিমবাবুর এই পোস্ট ফেসবুকে ঝড় তুলেছে | শেয়ার এবং কমেন্টের বর্ষণ তাঁর প্রোফাইলে | সমৃদ্ধ করার জন্য সবাই অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁকে | সেইসঙ্গে আকাশবাণীকেও | নেটিজেনরা জানিয়েছেন‚ এ বছর যেটা বেজেছে‚ ১৯৬৬ সালের সেই রেকর্ডিং-এ  ওগো আমার আগমনী গানটা নেই | কিন্তু আছে  হে চারুপূর্ণ সমশিখরিণী গান | অনবদ্য এই গান পরে বাদ দেওয়া হয় |

মহিষাসুরমর্দিনী এখন যত্রতত্র যখন তখন বাজে | বহুদিন সারেগামা পেয়েছে কপিরাইট | কিন্তু আকাশবাণী বুঝিয়ে দিল তাদের আর্কাইভে যা আছে‚ হাজারো উপগ্রহ এবং এফ এম চ্যানেলে সেই মণিমুক্তোর আলো নেই |  

আরও পড়ুন:  জন্মদিনের ঠিক এক সপ্তাহ পরে থেমে গেল বাকশক্তিহীন ফাইটারের যুদ্ধ

NO COMMENTS