এটাই যদি তোমার এবারের পুজোর ট্যাগ লাইন হয় তাহলে আর দেরী কেন? লাস্ট মিনিট সাজেশন-এর মতই চোখ রাখো শেষবেলার কেনাকাটার লিস্টিতে | ছুটির দিনে, কোচিং-এর ফাঁকে বাড়ির বড়দের সঙ্গে ব্যাগ হাতে বেরোনোর আগে জেনে নাও কোন পোশাকে এবারের পুজোয় তুমিই হবে হট-হটার-হটেস্ট—

সিম্পল ষষ্ঠী— মায়ের বোধন দিয়ে সেরা উত্সব শুরু | সকালটা প্যান্ডেল-এ বসে হালকা আড্ডা দিতে দিতেই বেলা গড়িয়ে দুপুর | নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতই তোমার মন ফুরফুরে থাকবে হালকা-পুলকা মাঝারি বা নী-লেন্থের ফ্রক বা ড্রেস পরলে | হাতের গড়ন খুব রোগা না হলে বেছে নিতে পারো স্লিভলেস ড্রেস | গড়ন কি একটু ভারীর দিকে? তাহলে কোমরে কুচি, বড় ঘেরের ড্রেস দিব্য মানাবে তোমায় | রোদের মিঠে-কড়া ঝাঁঝ থেকে বাঁচতে চাইলে ফুলস্লিভ তো রয়েইছে | এরকম ড্রেসের সঙ্গে তুলে পনি বাঁধতে পারো | কানে একটু বড় আকারের স্টাড দিব্য মানায় | চোখে কাজলের ছোঁয়া, ঠোটে লিপগ্লস | ষষ্ঠীর সকালে এর বেশি আর কী?

বিকেলের সাজ একটু গাড় হলে ক্ষতি নেই | তাই বিকেলে থাকুক কুর্তি-জিনস বা লেগিন–কুর্তি | কুর্তির ঝুল হাঁটু ছাড়াবে না কোমর ঘেষা থাকবে সেটা তোমার চয়েস | তার আগে জেনে নাও কত রকমের কুর্তি এবারের পুজো ফ্যাশন-এ ইন | ফিস টেল কুর্তি হট কেকের মত বিক্রি হচ্ছে সব জায়গায় | ভাবছ এ আবার কেমন ধারা? এই ধরনের কুর্তির পিছনের ঝুল সামনের থেকে বেশি লম্বা | অনেকটা মাছের লেজের মত | একটু সাহসী হতে পারলে স্বচ্ছন্দে তুলে নাও পঞ্চো কুর্তি | প্যান্ট, লং স্কার্ট-এর সঙ্গে ভালো মানাবে এবার পুজো স্পেশাল পঞ্চো | কানে জাঙ্ক দুল, ওপরের পাতায় ফ্লাইং লাইনার-এর ছোঁয়া, সঙ্গে পিঙ্ক শেডের লিপস্টিক…ছিমছাম সাজে তুমি-ই তো প্যান্ডেল দিভা! 

শকিং সপ্তমী— আজ প্যান্ডেলের ভিড়-টা যেন একটু বেশি? তোমার ষষ্ঠী-র সাজের টানে নয়তো? তাই যদি হয়েই থাকে তাহলে তো আজকের সাজ আরো একটু হটকে হতেই হবে! দিনে তোমার ছিপছিপে শরীরে জড়ানো থাক কুর্তি-ধুতি প্যান্ট বা পাতিয়ালা | স্টাইল বাড়াতে বক্ষ-মাঝে বাহারি ওড়না দুলিয়ে দাও | কানে ঝুমকো | হাতে বালা | সবটাই মেটাল বা ফাইবারের | চুল তুলে মেসি বান | তোমায় ছুঁলেই ছ্যাঁকা খাবে আঠেরো টু আঠাশ!

আরও পড়ুন:  শরীরী বিভঙ্গে ঢেকেছিলেন জীবনে অনটনের ক্ষত...তবু সিল্ক স্মিতা মানে ডার্টি পিকচার-এর নিষিদ্ধ হাতছানি

বিকেল যত গড়াবে পুজো তত জমবে | ইতিউতি ঘোরার ফাঁকে আড়-নজরের চোরা চাউনি বার বার ছুঁয়ে যাবে তোমাকে | কারণ তুমি তখন আঠেরোর দুঃসাহস | আগুন ছড়াতে তুমি বেছেছো অফ সোল্ডার লং গাউন | হতেই পারে সেটা গাড় একরঙা | হতেই পারে ফ্লোরাল প্রিন্ট | চুলে বেঁধে নিও ডাবল বান | তোমার খোলা কাঁধে ডাংলিঙ্গের আলতো কামড় | রূপের আগুনে ধিকিধিকি পোড়াতে মন বেশি নিশপিশ করলে অফ শোল্ডার-এর ওপরে শ্রাগ বা জ্যাকেট চাপিয়ে নিতেই পারো |

শাড়ির সাজে সবার মাঝে— অষ্টমী মানেই অঞ্জলি | অষ্টমী মানেই পরনে ঢাকাই শাড়ি | থ্রি-কোয়াটার ব্লাউজ | মাঝ কপালে সিকি সাইজের রক্ত লাল টিপ | কানে, হাতে, গলায় সোনার হালকা গয়না | ওই সকালে তুমিই অনন্যা | ঘাড় ছোঁয়া হাত খোপায় মেটাল কাঁটা | তাতে লাগানো লটকন মিষ্টি ঝুমঝুম সুর তুলবে যখন তখন | কারোর অপলক মুগ্ধ চোখ তোমায় যদি ছুঁয়েই যায়, অঞ্জলির ফুল যদি বৃষ্টির মত তোমার ওপর ঝরে পড়ে…প্লিজ রাগ কোরো না যেন!

বিকেলে তুমি কি ম্যাডক্স স্কোয়ারে যাবে? তাহলে তো স্পেশাল সাজে সাজতেই হবে | অষ্টমী-র রাতে জাঁকালো সাজতে সিল্কের কোট গলা, ফুলস্লিভ জহর জ্যাকেট আর চওড়া পাড় বসানো ধুতি প্যান্টের টিম-আপ কেমন মানাবে বলত? দেখলেই ফিদা সক্কলে | জ্যাকেটের রং তসর হলে ধুতি কিন্তু জেড ব্ল্যাক হবে | কানে আরেবিয়ান ঝুমকো | কিংবা স্যান্ডেলার | কানের কাছে ফিসফিসিয়ে একটা কথাই শুনতে পাবে… ‘রাত বাকি/বাত বাকি…’!

রকিং নবমী— সারা রাত ঠাকুর দেখে আজ কি একটু ক্লান্ত? প্যান্ডেলে আসতেও একটু যেন দেরী হয়ে গিয়েছে? তাহলে সকালের সাজে বেশি কিছু দরকার নেই | লং স্কার্ট আর মাঝারি ঝুলের টপ-এই আরাম পাবে | চুল তুলে ক্যাচারে আটকে নিও |

এই রাত শেষ রাত | আবার একটি বছর পরে মা আসবেন ঘরে | মন যেমন চায় ঠিক তেমনটাই সেজো | শিফনের আনারকলি আজ রাতের বেস্ট অপশন | মিড নাইট নীল, গারো লাল অথবা প্যাস্টেল শেডের পায়ের পাতা ছুঁই ছুঁই আনারকলিতে যেন স্টোন বা ঝুটো মুক্তোর কারুকাজ থাকে | সঙ্গে একটু ভারী গয়না, হেভি মেকআপ | ব্যস, মনে গুনগুন…’নবমী নিশি পোহায়ও না |’

আরও পড়ুন:  সব সংস্কারের পিছনেই কি লুকিয়ে থাকে কোনও বাস্তব কারণ ?

ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ— আজ সাজ থাক | মা চলে যাবেন | মন বড্ড ফাঁকা | সকালে সালোয়ার-কুর্তি যথেষ্ট | খেজুর চটি বেঁধে মায়ের সামনে যেও | পোশাকে লালের ছোঁয়া থাকলে ভালো | বিকেলের সিন্দুর খেলার রক্তিম আভা তোমায় ঘিরে থাক সকাল থেকেই |

এই যাহ! সঙ্গিনীর সাজের ফিরিস্তি দিতে বসে সঙ্গীর সাজকথা-ই যে বাকি রয়ে গেল | আহাহা, তোমাদের জন্যেও হরেক ফ্যাশন বাজার ছেয়েছে | মেন’স ফ্যাশন-এ টিয়ারিং বা রিপড জিন্সের ব্যাপক চাহিদা | লো-ওয়েস্ট এই জিন্সের যেখানে-সেখানে ছেঁড়া বা সুতো ওঠা | এটাই নাকি একুশের ফ্যাশন!

ডেনিমের মধ্যে পিকক নিল আর ইন্ডিগো-র চাহিদা বেশি | তুলনায় ব্ল্যাক জিনস একটু পিছনের সারিতে | কালার্ড জিনস-ও চলছে না একেবারেই | টি-শার্টের মধ্যে ফটো প্রিন্ট রমরমিয়ে চলছে | আর আছে চিজ কটন টপ | একরঙা শার্ট বা টিশার্ট তো আছেই | আর আছে মাইক্রো প্রিন্টেড শার্ট | সকালে প্যান্ডেল হপিং –এর জন্য পরতেই পারো ডেনিম ডাঙরি | তবে ফাশানিস্ট হওয়ার আগে প্লিজ সঙ্গিনীর সঙ্গে কনসাল্ট করে নিও | মিক্স এন্ড ম্যাচ করে চারটে দিন যদি দু’জনে সাজতে পারো তবেই না তোমরা হবে জুটি নম্বর ওয়ান!          

NO COMMENTS