মাঝে মাঝে গভীর রাতে কি খাবারের খোঁজে রান্নাঘরে হানা দেন ? বা এমন কাজ করেন যার ফলে অনেক রাত হয় ডিনার সারতে? বা এমনিই দেরী করে রাতের খাবার খান? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে কোন না কোন সময় তো অবশ্যই ভেবেছেন এত রাতে খাওয়ার ফলে শরীরের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না তো ?

এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে রাখি বেশি রাতে খাওয়া বা ডিনার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া কিন্তু মোটেই ভালো অভ্যাস নয় | এর থেকে অনেক রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে | আসুন দেখে নিন সেগুলো কী :

) বদহজম : বেশি রাতে খেলে খাবার হজম হয় না | এর ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন অম্বল‚ বুক জ্বালা‚ অস্বস্তি | বদ হজমের ফলে বার বার ঘুম ও ভেঙে যেতে পারে |

) সকালে উঠে খিদে না পাওয়া : বেশি রাতে খাওয়ার ফলে পরেরদিন সকালে উঠে আপনার আর খিদে নাও পেতে পারে | এর ফলে আপনি ব্রেকফাস্ট স্কিপ করতে পারেন | অনেক সময় একে মর্নিং অ্যানোরেক্সিয়া-ও বলে | আমরা জানি সারাদিনের মধ্যে সকালের ব্রেকফাস্ট সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ | তাই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করলে হয়তো দুপুরে আপনার এতটাই খিদে পাবে যে আপনি দরকারের থেকে বেশি খাবার খাবেন | এর ফলে আবার সঠিক সময় আপনার খিদে পাবে না এবং আপনি রাতের খাবার আবার সেই দেরি করে খাবেন | এই ভাবে সার্কেল চলতেই থাকবে |

) শরীরে ফ্যাট জমতে থাকবে : রাতে যেহেতু আমরা কোনো শারীরিক পরিশ্রম করি না এর ফলে শরীরে ফ্যাট জমা হবে | এর থেকে ওবেসিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে |

) অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া : পরীক্ষা করে দেখা গেছে রাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রের ওভার ইটিং হয়ে যায় | একই সঙ্গে এও দেখা গেছে রাতে জাঙ্ক খাবার‚ মিষ্টি বা নোনতা খাবার বা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেকেটা বেড়ে যায় | অনেকের ক্ষেত্রে তো এটা নেশার মতো হয়ে যায় | আসলে অনেকেই আছেন যারা কাজের চাপে দিনেরবেলা ভালো করে খেতে পারেন না | তাই তার রাতে শুতে যাওয়ার আগে জমিয়ে খাবার খেতে ভালোবাসেন |

) ঘুমের ব্যাঘাত : রাতে ঘুম থেকে উঠে খাবার খেলে বলাই বাহুল্য আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে | এর ফলে কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি ইনসোমনিয়ার পেশেন্ট হয়ে উঠবেন |

বেশি রাতে খাওয়ার প্রবণতা কী করে কমাবেন?

বেশি রাতে খাওয়ার যাই কারণ হোক না কেন কয়েকটা অদল বদল ঘটালেই কিন্তু এই বদভ্যাসের পরিবর্তন ঘটানো যায় |

# সঠিক খাবার খান : অনেকেই আছেন যারা কাজের জন্য গভীর রাতে খেতে বাধ্য হন | ভরপেট খাবার না খেয়ে একটা স্যালাড‚ অল্প লিন প্রটিন বা এক কাপ গরম দুধ খেতে পারেন |

# সহজেই যা হজম করতে পারবেন সেই রকম খাবার খান | রেড মিট‚ ভাজাভুজি‚ সোডা‚ ক্যান্ডি এইসব এড়িয়ে চলুন |

# যাদের উপায় আছে তারা রাতের খাবার আর শুতে যাওয়ার মধ্যে অন্তত তিন ঘন্টার ব্যবধান রাখুন |

# ব্রেকফাস্ট‚ লাঞ্চ এবং ডিনারের মধ্যে সঠিক ব্যালেন্স তৈরি করুন | একেবারে অনেকেটা না খেয়ে সারাদিনে অল্প পরিমাণে খাবার খওয়ার চেষ্টা করুন |

# খাবার খাওয়ার আগে নিজেকে বারবার এই প্রশ্নগুলো করুন :

) সত্যিই কি গভীর রাতে খাওয়া ছড়া উপায় নেই?

) সত্যিই কি খিদে পেয়েছে? না কি বোর হয়ে গেছেন বলে কিছু খেতে ইচ্ছা করছে?

) সত্যিই কি গভীর রাত অবধি জেগে থাকার দরকার আছে? বা ঘুম থেকে উঠে খাবার খাওয়ার দরকার আছে কি?

) চিপস‚ কুকিজ বা চকোলেটের বদলে কি অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর বিকল্প নেই?

আরও পড়ুন:  হয়তো গায়ে হাত তোলেন না কিন্তু বাচ্চার ওপর অত্যধিক চিৎকার করেন‚ জানেন ওর কত বড় ক্ষতি করছেন আপনি?

NO COMMENTS