সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বিতর্কিত বাঙালি পরিচালক সম্ভবত কৌশিক মুখার্জী, ‘Q’ নামেই যিনি বিখ্যাত বা কুখ্যাত | শুধুমাত্র বিতর্কিত ছবি করাই নয়, চিন্তাভাবনা ও আচরণেও যিনি প্রায় বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন | নিজেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ফিল্মমেকার বলে থাকেন | এখন কলকাতা ছাড়া | তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় তন্ময় দত্তগুপ্ত |

 

 

আপনি লেক গার্ডেন্স অঞ্চলে বড় হয়েছেন।সেই সময় ওই জায়গাটা ছিল মধ্যবিত্ত বাঙালির আস্তানা।তখন সিনেমা সম্পর্কে আপনার কী ধারণা ছিল?

Q :  আমার সিনেমা সম্পর্কে খুব একটা কিউরিওসিটি ছিল না । আমার বাড়িতে আমার বাবা হিন্দি ছবি দেখা এ্যালাও করতেন না । ফলে অনেক বয়স পর্যন্ত আমি হিন্দি সিনেমা দেখতে পারিনি । ১৯৮০ সাল থেকে ভিসিআর কালচার কলকাতায় শুরু হয় । তখন দুপুর বেলায় লুকিয়ে আমরা হিন্দি সিনেমা দেখতাম । একটু বড় হয়ে আমি বাবার সাথে নবীনা সিনেমা হলে বেশ কিছু ছবি দেখি । কিন্তু ওই ছবিগুলো আমার খুব বোরিং লেগেছিল ।

লুকিয়ে যখন ভিসিআরে সিনেমা দেখতেন,তখন কী ধরনের সিনেমা দেখতেন?

Q :  অমিতাভের ছবি,মিঠুনের ছবি বা সেই সময়ের হিরো হিরোইনদের কমার্শিয়াল ছবি দেখতাম ।

বাবার সঙ্গে নবীনা সিনেমা হলে দেখা তেমন কোনও ছবি ছিল যেটা মনে হয়েছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ?

 Q :  আমার এখন কিছুই মনে নেই । শুধু একটা ছবির কথা মনে আছে । যেটা ফেলিনির ছবি ছিল । সেখানে দেখেছিলাম অনেকগুলো ছাতা ঘুরছে । ওই ছবিটা আমার খুব বোরিং লেগেছিল । আমার কাছে যেটা খুব ইম্পরটেন্ট ছিল সেটা হলো ১৯৮৪ সালের মস্কোর অলিম্পিক,সেটার ওপর একটা সিনেমা হয়েছিল । ওই ছবিটা আমার খুব কাছের ছিল ।

আপনি সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুল থেকে যখন কলেজে গেলেন,তখন কি চিন্তা ভাবনার কোনও পরিবর্তন এসেছিল?

Q :  হাইস্কুল থেকে আমার চিন্তাভাবনাগুলো একটু অন্যদিকে এগোচ্ছিল । আমি প্রোটেস্ট লিটারেচার এবং প্রোটেস্ট মিউজিকে ইন্টারেস্টেড হয়ে পড়ি । তারপর সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গান আমাকে অন্য ভাবে ভাবায় । সেটা ১৯৯১ সালের ঘটনা । আমি সুমনকে প্রথম দেখি অষ্টমী বা নবমীর সময় রানীকুঠির কোনও এক ফাংশনে । ওখানে উনি প্রথম শিল্পী ছিলেন । ওনার গান শোনার পর আমার মধ্যে একটা পরিবর্তন আসে । তারপর থেকেই আমি সুমনকে ফলো করি । এবং ওনার দৃষ্টিভঙ্গীর সাহায্যে জগতটাকে বোঝবার চেষ্টা করি । বাঙালি যে আন্তর্জাতিক ভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারে—সেটা সুমনের গান আমাকে বুঝিয়েছিল । বলতে পারেন আমার অন্য রকম ভাবে চিন্তা ভাবনার শুরু সেখান থেকে ।

তখন কি আপনি কলেজে পড়তেন?

Q : আমি পড়াশোনা খুব কম করেছি । সে কথা না বলাই ভালো । আমি কলেজে খুব কম গেছি । আমি আশুতোষ কলেজে পড়তাম । সেখানকার পলিটিকাল আবহাওয়া আমার পছন্দের ছিল না ।

 আপনি বারো বছর বিজ্ঞাপনের জগতে ছিলেন পরবর্তী কালে অল্টারনেটিভ সিনেমা করার সময় বিজ্ঞাপনের এক্সপিরিয়েন্স কোনও সাহায্য করেছিল?

Q : অবশ্যই সাহায্য করেছে । ছোটবেলা থেকেই সারাক্ষণ আমি একটা এ্যান্টি এস্টাব্লিশমেন্ট ভয়েসের খোঁজ করতাম । এবং এটা নিয়ে স্টাডি করার চেষ্টা করতাম । আর বিজ্ঞাপনের জগতটা আমার কাছে ঠিক ক্যাপিটালিজমের রাইট হ্যাণ্ডের মতো ছিল । এবং এটার মার্কেট ডায়নামিক্সগুলো আজকের সমস্ত সামাজিক চেতনাকে ওভার রাইট করছে । দীর্ঘ বারো বছর বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করার ফলে আমি কর্পোরেট পলিটিক্সগুলো বুঝতাম । যে পলিটিক্স বাজার এবং মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে । এটা আমার একটা ইম্পরটেন্ট অভিজ্ঞতা ।

এই অল্টারনেটিভ সিনেমা বানানোর ইচ্ছেটা কি ওই বিজ্ঞাপন জগতে থাকার সময়ই এসেছিল?

Q : ওখানে থাকার সময় আমি কতগুলো বিষয় আবিষ্কার করি । তার মধ্যে প্রথম যেটা ঘটে সেটা হলো ভারতবর্ষের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা । আমি ওয়েস্টার্ন কোনও জায়গায় না থেকে শ্রীলঙ্কার মতো জায়গায় দীর্ঘ ছ’বছর কাটাই । সেই সময় আমি সিনেমায় ইন্টারেস্টেড হয়ে পড়ি । আমি ওখানে একদিন একটা ভিডিও স্টোর থেকে ক্যাজুয়ালি একটা ভি এইচ এস ক্যাসেট আনি । সিনেমাটা ছিল টম টিকারের ‘রান লোলা রান’। ওই ছবির পোস্টার ইমেজে ছিল একটা মেয়ে দৌড়াচ্ছে । মেয়েটার চুলের রং লাল ছিল । আমারও চুলের রং তখন লাল ছিল । ওই কানেকশানে আমি ছবিটা দেখি । সিনেমাটায় জার্মান ইলেক্ট্রনিক মিউজিক ছিল । জার্মান ইলেক্ট্রনিক মিউজিক আমার খুব পছন্দের । ছবিটা আমার মূল্যবোধকে খুব নাড়া দিয়েছিল । আমার মনে হলো আমারই মতো কোনও ছেলে জার্মানিতে বসে এরকম একটা কাজ যদি করতে পারে তাহলে আমি কেন পারব না ?এভাবেই আমার মনের মধ্যে চিন্তাভাবনার সূচনা ।

আরও পড়ুন:  সইফ-কন্যা সারা এবং শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবীর আগেই হয়তো বলিউডে পা রাখবেন চাঙ্কি পান্ডের মেয়ে অনন্যা

আপনার মতো  চলচ্চিত্র ভাষা নিয়ে কলকাতায় কেউ কাজ করেন নি তাই প্রথম ছবি করার সময় কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

Q :  আমার প্রথম ছবি ‘তেপান্তরের মাঠে’। ২০০১ সালে আমি ছবিটা করি । ওটা ডিজিটাল মুভি ছিল । এবং ওটা হ্যাণ্ডিক্যামে শ্যুট করা । ছবিটা আমি শেষ করতে পারিনি । কারণ ওই ছবি দেখে প্রযোজক পিছিয়ে যান । তাই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের ছবি করলে এরকমই রিঅ্যাকশান হবে । পরবর্তী সময় এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব ওয়াকিবহাল ছিলাম । আমি ভবিষ্যতে তাই অন্য প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করিনি । আমি আমার ছবির প্রযোজনা নিজেই করেছি । ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকারদের ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোডিউসার হওয়া জরুরি । এই ভাবনা থেকেই আমি আমার কোম্পানি শুরু করি । এই সব করতে করতে আমি ২০০৬ সালে ‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’ বলে একটা ছবি করি । সেই সময়ে আমি এস.আর.এফ. টি.আইয়ের এডিটিংয়ের হেড শ্যামল কর্মকারের সাপোর্ট পাই । উনি আমার প্রথম ছবির এডিটর ছিলেন ।

আপনার ছবিতে সেক্সুয়ালিটি একটা ভীষণ ইম্পরটেন্ট রোল প্লে করে ছবিতে বার বার সেক্স ফিরে আসার কারণ কী?

Q :  মানুষ সেক্সুয়ালিটি থেকেই আসে । সুতরাং এই জায়গাটা অগ্রাহ্য করলে চলবে না । ট্র্যাডিশনাল চিন্তভাবনায় সেক্সুয়ালিটিকে খুব একটা জায়গা দেওয়া হয় না । তাই আমার একটা মতবিরোধ ছিল । ‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’ করার  সময় থেকেই আমি বুঝতে পারি মানুষের সামাজিকীকরণ সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির ওপর নির্ভরশীল । এখন অবধি আমি যা যা কাজ করেছি তার সবকটাই সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির ওপর । সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির ক্রাইসিস একটা সামাজিক ক্রাইসিস । আমার ‘গাণ্ডু’ থেকে শুরু করে  সমস্ত ছবির মুখ্য চরিত্রর নামের মধ্যে একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস রয়েছে । এবার এই ক্রাইসিসের সঙ্গে সেই চরিত্র কীভাবে ডিল করবে —সেটাই ছবির বিষয় ।

মূল ধারার ছবির দর্শক কি কখনও আপনার ছবির দর্শক হয়ে উঠতে পারেন?

Q :  আমি নিজেকে সাংঘাতিক ইন্টালিজেন্ট বলে মনে করি না । তাই আমি যদি হিন্দি ‘খুদা গাওয়া’ ছবির দর্শক থেকে এই পর্যায়ে আসতে পারি,তাহলে তারাও এই ধারার ছবির বিষয়কে নিতে পারবেন । আমি অনেকের সঙ্গে আমার ছবি নিয়ে কথা বলেছি । অনেকেই বলেছেন —“আপনি এটা কী ছবি বানালেন? মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলো”। যারা এই কথা বলছেন তারা নিজেকেই নিজেকে বোকা প্রমাণ করছেন । কারণ কেউ যদি আমার ছবি বুঝতে না পারে,তাহলে সেটা তার  সমস্যা । এর জন্য আমি কোনও ভাবে দায়ী নই । আমার ছবি ভালো বা খারাপ লাগতেই পারে । এবং সেটা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে । কিন্তু সেটা মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেলে কোনও আলোচনাই চলে না ।

আরও পড়ুন:  সলমনের জন্য এলো নতুন বডিগার্ড‚ জয়েন করেই ভাইয়ের উদারতার সাক্ষী ওঁরা

আপনি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষ সেই মধ্যবিত্ত পরিবার আপনার ছবি দেখেন?

Q :  আমার ফ্যামিলি প্রথম দিকে আমাকে পাগল ভাবত । মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে কেউ না কেউ পাগল থাকে । বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবেশ এই পাগলামিকে আবার এ্যালাও করে । বিশেষ করে কলকাতার কালচার এই ধরনের পাগলদের প্রশ্রয় দেয় । আমার ফ্যামিলির প্রথমে আমাকে বুঝতে অসুবিধা হলেও পরে আর অসুবিধা হয়নি । কারণ তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার ছবি সম্পর্কে ভালো রেসপন্স আসছিল ।

সুমন চট্টোপাধ্যায় বা কবীর সুমনের গান আপনার জীবনকে পাল্টে দিয়েছে এরকম আর কোনও ইন্সিডেন্স আছে যা আপনার জীবনকে খুব প্রভাবিত করেছে?

Q :  প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা সময় আমার জীবনকে প্রভাবিত করে । এবং আমি এটাকে ইনভাইট করি । আমার জীবন আমাকে মনে করায় যে আমি এখনও অনেক কিছু জানি না । সেগুলো আমাকে জানতে হবে । আমার ধারণা আমার চারপাশে অনেক কিছু ঘটছে । সেই সমস্ত বিষয়কে বুঝতে হবে । বেঁচে থাকার এটাই তো আনন্দ ।

আপনার ছবি ফেস্টিভ্যালে যায় বিদেশে প্রশংসিত হয় কিন্তু আমাদের বাংলায় তেমন আলোচিত হয় না কেন এরকম হয় বলে মনে হয়?

Q : আমি প্রথম যখন ওয়েবসাইট বানাই তখন একটা কথা লেখা ছিল । ইন্ডিপেনডেন্ট অল্টারনেটিভ আন্ডারগ্রাউণ্ড সিনেমা । অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই আমি কখনও ওভারগ্রাউন্ড হতে চাই নি । সেটাই ছিল আমার আদর্শ । আমাকে যদি হঠাৎ সেরা বাঙালিতে ডাকা হয় তাহলে তো ছবি করাই হবে না । আমার ওইদিকে কোনও ইন্টারেস্ট ছিল না । সেলিব্রিটি হওয়া কোনও বড় ব্যাপার নয় ।

কিছুদিন আগে একটা নিউজে দেখেছিলাম যে সত্যজিৎ রায়ের ওপর একটা বায়োপিক হবে এবং সত্যজিৎ রায়ের  চরিত্রে আপনি অভিনয় করবেন তো সত্যজিৎ রায়ের মতো ব্যক্তিত্বকে আপনি কীভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন?

Q : বলে রাখা ভালো ওই ছবিটা আর হচ্ছে না । অনেকদিন আগেই ল্যাঠা চুকে গেছে । কিন্তু কাজটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং ছিল । আমি অনেক রকম ভাবে কাজটা নিয়ে ভাবছিলাম । আমি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা নিয়ে একেবারেই অভিভূত নই । সত্যজিৎ রায়ের ছবির তুলনায় ওনার শর্ট স্টোরি রাইটিং আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ । আমি ক্লাসিক ফিল্ম নিয়ে আগ্রহী নই । আমার ফেলিনিও ভালো লাগে না । সত্যজিৎ রায়ও ভালো লাগে না । এটা বললে অনেকে আবেগপ্রবণ এবং উত্তেজিত হয়ে পড়েন । তবে সত্যজিৎ রায়ের বায়োপিকে অভিনয় করার অফার পাওয়ার পর আমি একটা বিষয় বুঝতে পেরেছিলাম । সেটা হলো আমাকে সত্যজিৎ রায়কে ভালোবেসে কাজটা করতে হবে । এবং আমি সেই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে চলা শুরু করেছিলাম ।

কিছুদিন আগে আপনি সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে এমন একটা শব্দ প্রয়োগ করেছিলেন, যার জন্য সোশাল মিডিয়াতে ঝড় উঠেছিল এরকম বলার কারণ কী?

Q :  আরে কী আশ্চর্য! ‘ফাক’ শব্দটা আমার খুব প্রিয় শব্দ । আপনাদের ভালো না লাগতেই পারে । ফ্যাতাড়ু যেমন আমার প্রিয় শব্দ তেমন “ফাক” আমার খুব প্রিয় শব্দ । গাণ্ডু,বোকাচোদা শব্দগুলো আমার অত্যন্ত প্রিয় । এই শব্দগুলো খুব পাওয়ারফুল । শব্দগুলো প্রাচীন এবং প্রতিবাদী । তাই সিভিল সোসাইটি এই শব্দগুলোকে যদি এ্যাকসেপ্ট না করে তাহলে আমার ছেঁড়া যাবে । ‘ফাক’ শব্দটা বলে আমি বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটা কমেন্ট করেছি । এটা কিন্তু কোনও পার্সোনাল কমেন্ট নয় । আমি বলেছিলাম “ফাক মানিক,ফাক বাবু,ফাক ফেলু”। তিনটেই ডাক নাম । মানিক কোনও ছবি বানায়নি । ছবি বানাতেন সত্যজিৎ রায় । আপনি আমার ইন্টারভিউটা যখন ছাপবেন,তখন আমার ধারণা আমার ভালো নাম কৌশিক মুখার্জীই লেখা হবে । কৌশিক মুখার্জীর ছবি করার কোনও ধকই নেই । সে নিপাট বাঙালি । ছবি করার জন্য কিউ-কে দরকার । তেমনই সত্যজিৎ রায়কে ছবির জন্য দরকার । এই শব্দ  প্রয়োগ করে আমি একটা সোশ্যাল এক্সপিরিমেন্ট করেছি । এই ডিবেটটাকে এ্যালাও করা উচিত ।

আরও পড়ুন:  ফারহানের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোর চেষ্টাকে টিভি সিরিয়ালের নাটকের সঙ্গে তুলনা করলেন শ্রদ্ধা কপূর

আপনি এখন কলকাতায় থাকেন না গোয়াতে থাকেন কলকাতা এবং গোয়ার কালচারাল পরিবেশের মধ্যে কোনও ফারাক চোখে পড়ছে?

Q : কালচারালি অনেক কিছু এক । কলকাতায় আমি দশ বছর কাটিয়েছি । সাতটা ছবি করেছি । কিন্তু আমার মানসিকতার মানুষ পাচ্ছিলাম না । কিন্তু গোয়াতে ইন্ডিয়ার অল্টারনেটিভ অনেক আর্টিস্ট চলে আসছেন । তারা প্রত্যেকেই এসে একটা নতুন সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন ।

কলকাতার ফিল্মমেকারদের মধ্যে সৃজিত,শিবপ্রসাদের ছবি আপনি দেখেছেন?

 Q : না, আমি দেখিনি । এদের ছাড়াও অনেকের ছবি দেখার আছে । যে ছবি দেখে কিছু শিখতে পারব, সেই ছবিই তো দেখব ।

আপনার গাণ্ডু ছবির মূল চরিত্র গাণ্ডুকে কি আপনি বাস্তব জীবনে দেখেছেন?

Q   আমি তো নিজেই একজন গাণ্ডু । আমার অনেক বন্ধু গাণ্ডু । এটা বলার মধ্যে কোনও লজ্জা নেই ।

বাঙালি মধ্যবিত্ত যৌনতা কেন্দ্রিক আলোচনা সব সময় আড়ালে করতে চান আপনি সেই আড়ালটা ভেঙে দিয়েছেন আবার আপনি ট্র্যাডিশনাল পোশাক শাড়ি নিয়ে তথ্যচিত্র করেছেন তা প্রথাহীন এবং প্রথাযুক্ত — এই দুধরনের অনুভূতি কীভাবে এক স্রোতে এসে মিশছে?

Q : আমার কাছে শাড়ি যতটা ইম্পরটেন্ট ততটাই গাণ্ডু ইম্পরটেন্ট । আপনি আপনার চারপাশে শাড়ি পরিহিত মহিলা দেখতে পাবেন । তেমনই একটা শাড়ি দেখলে তিনটে গাণ্ডু দেখবেন ।

কোন বিষয় নিয়ে ফিকশন করবেন আর কোন বিষয় নিয়ে ননফিকশন করবেন—এর কোনও বিভাজন আছে?

Q :  এটা নিয়ে বহু একাডেমিক বিশ্লেষণ করা যায় । আমার কাছে ডকুমেন্টরী, ফিকশন আলাদা নয় । আমি যখন ‘গাণ্ডু’ করছি তখন আমি ডকুমেন্টরীর মতো করে করছি । আমি যখন ‘শাড়ি’ করছি তখন ফিকশনের মতো করে করছি । আমি বিভিন্ন স্তর থেকে রিয়ালিটির খোঁজ করছি । সিনেমা হচ্ছে “সাসপেনশন অফ ডিসবিলিফের” খেলা । সিনেমা দেখে সব সময় কান্না বা আনন্দ নাও পেতে পারে । সিনেমা দেখে ঘেন্না, বমি বা হিসিও পেতেও পারে ।

বাংলায় ফিল্মমেকারদের মধ্যে আপনার কাকে ইম্পরটেন্ট মনে হয়?

Q : আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর ছবি দেখার মতো । আমি এই ধরনের ছবির খুব ভক্ত নই । কিন্তু যে ন্যারেটিভ নিয়ে ও কাজ করছে সেটা ইম্পরটেন্ট ।

জীবন,সেক্সুয়ালিটি এবং হিউম্যান রিলেশনকে আপনি কীভাবে দেখেন?

Q :  হিউম্যান রিলেশন নিয়ে আমার কাজ করার কোনও ইন্টারেস্ট নেই । আমার মনে হয় সিনেমার কাজ হচ্ছে রিয়ালিটিটাকে হাইপার লেভেলে নিয়ে যাওয়া । রিয়ালিটিকে পরিবেশন করার কাজ ছিল সাহিত্যের । সিনেমা আরেকটা ডায়মেনশনের কথা বলল । সেইটাই হচ্ছে “সাসপেনশন অফ ডিসবিলিফ”। যখন সিনেমা শুরু হলো তখন ওই ক্যাপচারিংটার মধ্যেই হাইপার রিয়ালিটি ছিল । নরমালিটিকে এক্সামিন না করে হাইপার নরমালিটিকে এক্সামিন করে সেখান থেকে হাইপারিসম তৈরি করা এবং নরমালিটিকে কোয়েশ্চন করাই এই সময়ের একমাত্র কাজ বলে আমার ধারণা ।

- Might Interest You

4 COMMENTS

  1. Read a very interesting interview after a very long time. A truly alternate voice – Qaushiq Mukherjee (Q). Thanks to Tanmoy Dutta Gupta for bringing to us such an important interview.

    I do admire Ray, but I’m not an obsessed Bengali. While I do not personally endorse the usage of his “fuck”, I feel he has every right to be himself. Let democracy go beyond being just a fasionable word and give space to alternate underground voices like him. You may wish to disagree with him, but you can’t write him off.

    My favorite part of the interview:

    “সিনেমা হচ্ছে “সাসপেনশন অফ ডিসবিলিফের” খেলা । সিনেমা দেখে সব সময় কান্না বা আনন্দ নাও পেতে পারে । সিনেমা দেখে ঘেন্না, বমি বা হিসিও পেতেও পারে ।”

    Let me try to translate : “Cinema is a game of ‘suspension of disbelief’. Cinema need not always trigger tears or happiness. Cinema can bring forth disgust, vomit or even laughter.”