কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন খুবই সাধারণ ব্যাপার কিন্তু এটা একই সঙ্গে হতে পারে ব্যথাদায়ক এবং অস্বস্তিকর | কিন্তু প্রশ্ন হলো কতো বার মলত্যাগ করা উচিত? বিশেজ্ঞদের মতে এর কোনো সঠিক উত্তর নেই | এটা ব্যক্তি অনুয়াযী পাল্টাতে পারে | কেউ দিনে তিনবার যেতে পারে আবার কেউ সপ্তাহে দু বার | কিন্তু পরপর তিনদিন যদি মলত্যাগ করতে অক্ষম হন তখন সেই পরিস্থিতিকে বলা হয় কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন |

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দোকানে অনেক রকমের ওষুধ পাওয়া যায় | কিন্তু আমাদের ঘরেই এমন অনেক খাবার মজুত থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে | আজকে রইলো সেরকমই কয়েকটা খাবারের হদিস |

) ন্যাসপাতি‚ পিয়ার : এই ফলে ভিটামিন আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে | একই সঙ্গে এই ফলের মধ্যে জল আর ফাইবারের পরিমাণ খুব বেশি যা কনস্টিপেশন কমাতে সাহায্য করবে | আপেল আর প্লামও খেতে পারেন |

) পপকর্ণ : এই সুস্বাদু স্ন্যাক্স যে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে বিশ্বাস হচ্ছে না তো? এটা কিন্তু সত্যি | পপকর্ণ একই সঙ্গে লো ক্যালোরি এবং এতে উপস্থিত ফাইবার সাহজেই পেট পরিষ্কার করতে সহায্য করবে |

) আমন্ড : আমন্ড বাদামও সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে | তবে মনে রাখবেন পরিমাণে খুব বেশি আমন্ড কোনদিন খাবেন না | কয়েকটা আমন্ড আর তার সঙ্গে অনেকটা জল পান করুন | দেখবেন তাড়াতাড়ি রিলিফ পাবেন |

) লেন্টিল : যে কোনো ধরণের ডাল-এ প্রচুর ফাইবার থাকে | পেট পরিষ্কার করতে স্প্রাউটও খেতে পারেন |

) বেকড এবং সেদ্ধ আলু : আলুতে ফাইবার তো আছেই একই সঙ্গে এতে resistant starch থাকে যা পেটের মধ্যে  গুড ব্যাকটেরিয়া  তৈরি হতে সাহায্য করে | পেট পরিষ্কার করতে আলুর খোসাও খুব উপকারী | তাই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে আলু খেলে অবশ্যেই খোসাটা ফেলে দেবেন না |

) তরমুজ : গরমকালে তরমুজের থেকে ভালো কিছুই হতে পারে না | একই সঙ্গে এই ফল কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করে | এই ফলের ৯২% জল দিয়ে তৈরি যা পেট সাফ করতে সাহায্য করে |

) ওটস : এতে soluble and insoluble fiber দুই ধরণের ফাইবার পাওয়া যায় | Insoluble fiberস্টুলের পরিমান বাড়িয়ে দেয় ফলে তা তাড়াতাড়ি শরীর থেকে বেড়িয়ে যায় | অন্য দিকে soluble fiber জলের মধ্যে মিশে গিয়ে জেল-এর মত পদার্থ তৈরি করে | এরা একসঙ্গে স্টুলের পরিমাণ বাড়ায়‚ তাকে নরম করে এবং শরীর থেকে সহজেই বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে |

) কফি : বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কফি খাওয়ার পর শরীরের মাসল নড়াচড়া করে‚ আর এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য চলে যায় |

) দই : দই-তে প্রোবায়োটিকস থাকে যা পেটে  গুড ব্যাকটেরিয়া  তৈরি করে | এছাড়া দই হজমেও সাহায্য করে |

১০) পালং শাক : অন্য যে কোনো ফল বা সব্জির মতই পালং শাকে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার থাকে | এছাড়াও এতে ম্যাগনেসিয়ামও আছে যা কনস্টিপেশন কমায় |

আরও পড়ুন:  ভিক্স ভেপোরাবের এক ডজন অন্যরকম ব্যবহার - জেনে রাখলে কাজে দেবে

NO COMMENTS