পাতিয়ালার কামুক মহারাজা ভূপিন্দর সিং-এর যৌনলীলা বিবৃত হয়েছে আগেই | এ বার এক রাজকুমারির কথা | তিনি কামে মত্ত ছিলেন | ইনিও পঞ্জাবের রাজবংশীয়া | উনবিংশ শতকে কাপুরথালা স্টেটের রাজকন্যা ছিলেন গোবিন্দ কৌর |

মাত্র বারো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় গোবিন্দের | স্বামীও ছিলেন খুবই ধনী ও অভিজাত বংশের পুরুষ | কিন্তু রাজকন্যাকে শ্বশুরঘর করতে যেতে হয়নি | তিনি ছ তলা উঁচু রাজপ্রাসাদেই রয়ে যান | তাঁর জীবনে স্বামী-স্ত্রী বন্ধন কোনওদিনই তৈরি হয়নি | কদাচিৎ স্বামী আসতেন তাঁর কাছে |

বাকি রাজকন্যাদের মতো গোবিন্দও ছিলেন পর্দানসীন অন্তঃপুরবাসিনী | প্রাসাদের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যেত তাঁর নানা রকম খুচখাচ প্রেমের গল্প | সবথেকে বিখ্যাত বা কুখ্যাত হল কাপুরথালা স্টেটের প্রধানমন্ত্রী গুলাম গিলানির সঙ্গে রাজকন্যার পরকীয়া |

পরপুরুষ হিসেবে মন্ত্রীর প্রবেশ তো অত সড়গড় ছিল না রাজকন্যার মহলে | সবই হতো লুকিয়ে চুরিয়ে | শোনা যায়‚ খোঁড়া হয়েছিল গোপন সুড়ঙ্গ | মন্ত্রীর প্রাসাদ থেকে রাজকন্যার মহল অবধি | গোপন অভিসারের গোপন পথ | যখন রাজসভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা হতো‚ সেইসময়ে মন্ত্রী হয়তো রাজকন্যার সঙ্গে মত্ত |

মাঝে মাঝে পাল্টে যেত অভিসার-পথ | রাজকন্যা ওড়নায় মুখ ঢেকে ঝাড়ুদারনি সেজে ঢুকে পড়তেন মন্ত্রীর প্রাসাদে | একবার নাকি টাঙ্গা করে পাঠানো হচ্ছিল ঘোড়া ও অন্য পশুদের খাবার | রাজকন্যা গোবিন্দ লুকিয়ে পড়লেন তাতে | আগে থেকেই ষড় করা ছিল | সেই টাঙ্গা সোজা চলে গেল মন্ত্রী গিলানির বাগানবাড়িতে | দিব্যি কদিন কাটিয়ে দিলেন কপোত কপোতী |

কিন্তু বেশিদিন অভিসার চলল না | ধরা পড়ে গেলেন সুন্দরী গোবিন্দ কৌর | দুজনের প্রাণ গেল না ঠিকই | কিন্তু কঠোর শাস্তি দেওয়া হল রাজপরিবারের তরফে | মন্ত্রী গিলানিকে রাজ্য থেকে নির্বাসনে পাঠানো হল | রাজকন্যার উপর আরও তীক্ষ্ণ হল নজরদারি |

কিন্তু প্রেম আর কবে বাধা মেনেছে ? রাজকন্যা গোবিন্দ এ বার প্রেমে পড়লেন এক সেনা আধিকারিকের | শুরু হল নতুন অভিসার |

প্রাসাদের অভ্যন্তরে ছিল এক পাতকুয়ো | তার ভিতর দিয়ে প্রাসাদ থেকে বাইরে যাওয়ার গোপন পথ ছিল | রাজপরিবারের সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ লোকজন ছাড়া বিশেষ কেউ এই পথের কথা জানত না | যাতে শত্রুপক্ষের আক্রমণের সময় পালানো যায় তাই এই ব্যবস্থা করা ছিল | সেনাবাহিনীর ওই কর্নেল গোপন পথ দিয়ে ঢুকে কুয়োয় এসে দাঁড়াতেন | রাজকন্যা ফেলে দিতেন দড়ি | সেটা বেয়ে উঠে যেতেন কর্নেল | সোজা রাজকন্যার অন্তঃপুরে |

এভাবে চলল দু বছর |

ক্রমে প্রেমের খেলা একঘেয়ে লাগল রাজকন্যা গোবিন্দের কাছে | তিনি প্রেমিকের সঙ্গে এক রাতে পালিয়ে গেলেন | সংসার পাতবেন বলে | রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা-বৈভব-সম্পত্তি-অলঙ্কার-সুখ সব ছেড়ে গোবিন্দ বেছে নিলেন প্রেমকে | দুজনেই জানতেন এ পথে গেলে আর ফিরতে পারবেন না | তবু সেই পথকেই বেছে নিলেন এই জুটি |

কাপুরথালা ছেড়ে দুজনে চলে গেলেন ২০ মাইল দূরে | এমন এক গ্রামে‚ যেটা কাপুরথালা রাজবংশের শাসনের আওতায় পড়ে না | সেখানেই থাকতে লাগলেন রাজকন্যা গোবিন্দ‚ তাঁর মনের মানুষের সঙ্গে | গ্রামের ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে | অত্যন্ত অনটনে কেটেছিল রাজকন্যার শেষ জীবন | গ্রামের আর পাঁচটা বধূর মতো তিনি গোবর মেখে ঘুঁটেও দিতেন | আর কোনওদিন দেখতে পাননি সম্পদ ও বিত্তের মুখ |

রূপকথার সিন্ডারেলা ঘুঁটেকুড়ুনি থেকে রাজরানি হয়েছিলেন | আর বাস্তবের রাজকন্যা গোবিন্দ কৌর ঠিক তার বিপরীত | রাজকন্যা থেকে হতে হয় ঘুঁটেকুড়ুনি |

রাজ অলিন্দের আরও কালিমা : ২৯৩০ টি হিরের দুর্মূল্য কণ্ঠহার‚ ২০ টি রোলসরয়েস থেকে ৩৩২ জন যৌনদাসী…বিলাসব্যসনের আর এক নাম মহারাজা ভূপিন্দর সিং http://banglalive.com/indias-kinkiest-maharaja/

আরও পড়ুন:  উপরে আকাশভাঙা বর্ষণ‚ আলপথের ছিদ্রমুখ বন্ধ করেছে কিশোরের বিবর্ণ শরীর

NO COMMENTS