সেই কবে থেকে বাঙালিদের প্রয়োজনে টাকা দিয়ে আসছেন গৌরী সেন | প্রবাদে প্রবচনে কিংবদন্তিসম হয়ে যাওয়া এই বাঙালি সম্ভবত ছিলেন অষ্টাদশ শতকের নামী ব্যবসায়ী | তাঁর জন্ম হুগলির সপ্তগ্রামে | হরেকৃষ্ণ মুরলীধর সেনের পুত্র রূপে | ১৭৩২ সালে গৌরী চলে আসেন কলকাতায় |

বসবাস করতে থাকেন ৩৫ এবং ৩৬ নম্বর কলুটোলা স্ট্রিটের বাড়িতে | ব্যবসা করতেন বৈষ্ণবচরণ শেঠের সঙ্গে | দুজনেই ছিলেন অত্যন্ত সৎ | এবং‚ গৌরী সেনের যে দানধ্যান তার অধিকাংশই নাকি প্রথম দিকে এসেছিল বৈষ্ণবচরণ শেঠের কাছ থেকে |

একবার গৌরীর নামে সাত নৌকা জিঙ্ক কেনেন শেঠ | পরে দেখা যায়‚ জিঙ্কের বদলে নৌকা ভর্তি আছে রুপো |  কিন্তু বিক্রির টাকা পুরোটাই গৌরীকে দিয়ে দেন শেঠ | যেহেতু কিনেছিলেন তাঁর নামেই | জিঙ্কের বদলে রুপো আছে জেনেও সততার সঙ্গে আপস করেননি বৈষ্ণবচরণ শেঠ |

এই রুপোর রাশি রাতারাতি ধনী করে দেয় গৌরীকে | ক্রমে বৈষ্ণবচরণকে ছেড়ে স্বতন্ত্র ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন তিনি | ব্যবসায়িক প্রতিপত্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাঁর দানউৎসব |

সেন পরিবারে গৌরী সেনের যোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন শম্ভু সেন | উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের শুরুতে তিনি আমদানি করতেন লিভার ব্রাদার্সের নানা পণ্য | সেই লিভার ব্রাদার্স এখন হিন্দুস্থান ইউনিলিভার | শম্ভু সেনের হাত ধরেই সাবেক কলকাতায় আসত বিদেশি পণ্য |

১৯০৬ সালে ৯ হাজার টাকায় কলকাতায় জমি কেনেন শম্ভু সেন | ১৯০৯ সালে সেখানেই শেষ হয় তাঁর ভদ্রাসন নির্মাণের কাজ | আজকের রাজা রামমোহন সরণিতে লেডি ডাফরিন হাসপাতালের পাশে দাঁড়িয়ে আছে লাল রঙের সেই প্রাসাদোপম বাড়ি | তাঁদের আগের বাড়ি রূপান্তরিত হয় স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এ |

সেন পরিবারের পুজোর বয়স শতাধিক | সাবেক এই পুজো পরিচিত শম্ভু সেনের বাড়ির পুজো নামেই | এক শতক পেরিয়ে আসা এই পুজো যেন সাবেকিয়ানা‚ আভিজাত্য‚ নিষ্ঠা আর ঐতিহ্যের যুগলবন্দি |

ছবি : ফেসবুক থেকে )

আরও পড়ুন:  দুর্গাপুজোয় আনন্দ করায় কটূক্তির শিকার দুই নায়িকা !

NO COMMENTS