তাঁর নিজের জীবন তাঁরই | লিঙ্গ পরিচয় পাল্টাতে চেয়ে খোদার উপর খোদকারি করার স্পর্ধা ছিল তাঁর লেখার মতোই স্বচ্ছ | নিজের নাম অবধি পাল্টে নিয়েছিলেন | বাবা মায়ের দেওয়া নাম পছন্দ ছিল না বলে | আধুনিক বাংলা ছবির ফার্স্ট পার্সন নিঃসন্দেহে তিনি | শৈল্পিক আর বাণিজ্যিক দিক মিলিয়ে বাংলা ছবির দর্শককে আবার হলমুখী করেছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ | অসময়ে চলে না গেলে ৩১ অগাস্ট‚ ২০১৭ বয়স হতো ৫৪ বছর |

# জন্ম কলকাতায়‚ ৩১ অগাস্ট‚ ১৯৬৩ | বাবা মা দুজনেই ছিলেন শিল্পী | পাশাপাশি বাবা তথ্যচিত্রও বানাতেন | শৈল্পিক পরিবেশ বড় হওয়া |

# সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে পাশ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা | তবে মন পড়েছিল সাহিত্যে | ইংরেজি নিয়ে ভর্তিও হয়েছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে | ছেড়ে দিতে হয় বাবা মায়ের কথায় |

# বাংলা‚ ইংরেজি এবং সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য লজ্জায় ফেলতে পারত ওই ভাষার অতি প্রাজ্ঞকেও |

# একবারও না থমকে‚ না দেখে পাঠ করতে পারতেন কালিদাসের মেঘদূতম | ছোটবেলায় কালিদাসের মহাকাব্য পাঠ করে মা তাঁকে ঘুম পাড়াতেন |

# আজীবন বইপোকা | ঈর্ষণীয় সংগ্রহ ছিল ব্যক্তিগত পাঠাগারে | বই ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারতেন না |

# ছবি পরিচালক হিসেবে যদি আদর্শ ছিলেন সত্যজিৎ রায়‚ তবে তাঁর জীবনদেবতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |

# গভীর আগ্রহ ছিল মহাভারতে | সেখানেই এক চরিত্র রাজা ঋতুপর্ণ | এত মনে ধরেছিল নামটা‚ পাল্টে ফেলেছিলেন বাবা মায়ের দেওয়া নাম |

# পরিচালনায় আসার আগে ছিলেন বিজ্ঞাপনের কপি রাইটার | বাংলায় বিজ্ঞাপনী ক্যাচলাইনে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন তিনি | 

# ১৯৯৪ সালে প্রথম ছবি পরিচালনা | শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে হিরের আংটি |

# প্রথম অভিনয় ২০০৩ সালে | ওড়িয়া ছবি  কথা দেইথিলি মা কু-তে |পরিচালক ছিলেন হিমাংশু পারিজা |

# তিনি একমাত্র বাঙালি পরিচালক‚ যাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করেছেন অমিতাভ‚ অভিষেক‚ জয়া এবং ঐশ্বর্য‚ গোটা বচ্চন পরিবার | সেইসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী‚ অজয় দেবগণ‚ মনীষা কৈরালা‚ কিরণ খের‚ রাখী গুলজারও তাঁর ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়েছেন |

# মোট ১২ টি জাতীয় পুরস্কার এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দু দশকেরও বেশি কর্মজীবনে |

# পরিচালনার পাশাপাশি অনায়াস গতি ছিল কলম চালনায় | অত্যন্ত বলিষ্ঠ গদ্য ও গীতিকার |

# LGBT আন্দোলনের অন্যতম মুখ | মুষ্টিমেয় যে কজন প্রকাশ্যে রূপান্তরকামী সাজ ও মানসিকতা প্রকাশ করতেন তার মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রজ |

# শেষ কিছু বছর নারী সাজেই নিজেকে সাজাতেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই বিরল ব্যক্তিত্ব |

# ২০১৩-র ৩০ মে চলে গেলেন আবহমানের খেলায় | ঘুমের মধ্যেই | বাংলা ছবির অসুখের দহন প্রশমিত করতে থাকল তাঁর তৈরি ছবির তিতলিরা | জীবনের শুভ মহরতে সব চরিত্র তো আর কাল্পনিক নয় |

আরও পড়ুন:  লালবাতি এলাকা থেকে পাড়ি বিদেশে‚ জীবনের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন যৌনকর্মীর কিশোরীকন্যা

NO COMMENTS