জমিদারের ছেলে | অথচ পড়ে থাকতেন গ্রামের পোটো পাড়ায় | নিজের পরিচয় দিতেন পটুয়া বলে | দেখিয়ে দিয়েছিলেন গ্রাম বাংলার মেঠো সুরও মাত করতে পারে বিশ্বগ্যালারির প্রতি কোণা | তিনি যামিনী রায় | স্মরণীয় শিল্পীর ১৩০ তম জন্মদিনে গুগল শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছে ডুডল বানিয়ে |

# ১৮৮৭ সালের ১১ এপ্রিল বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের জমিদার পরিবারে জন্ম |

# ১৬ বছর বয়সে আসেন কলকাতায় | সরকারি আর্ট কলেজের ছাত্র হয়ে | সেখানে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন ভাইস প্রিন্সিপাল | তাঁর শিষ্যত্ব নিলেন যামিনী | উপলব্ধি করলেন চিত্রকলায় বেঙ্গল স্কুলের গুরুত্ব | পাশ্চাত্য প্রভাব থেকে সরে এসে মনপ্রাণ সঁপে দিলেন এই ঘরানায় |

# ল্যান্ডস্কেপ ও পোর্ট্রেইট আঁকা থেকে সরে এসে নিজের বিচরণক্ষেত্র সাজিয়ে নিলেন লোকশিল্পে | পড়ে থাকলেন কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় | কিন্তু বুঝলেন গ্রামে না গেলে হবে না | গ্রামে গিয়ে পটুয়াদের কাজ নিরীক্ষণ করতে লাগলেন |

# দামী কাগজ ক্যানভাস তুলি ছেড়ে অবন ঠাকুরের শিষ্য তখন মেঠো শিল্পী | ১৯০৮ সালে ডিপ্লোমা লাভ করলেন তিনি | ১৯৩৪ সালে সম্মানিত হলেন ভাইসরয়ের কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করে |

# ১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ কলকাতায় প্রথম চিত্র প্রদর্শনী | পরে ১৯৪৬ সালে লন্ডন এবং ১৯৫৩ সালে তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয় নিউইয়র্কে | লন্ডনের অ্যালবার্ট মিউজিয়মে সজ্জিত তাঁর অঙ্কনশিল্প |

# ১৯৫৪ সালে যামিনী রায় ভূষিত হন পদ্মবিভূষণ সম্মানে | ১৯৭৬ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক তাঁকে স্থান দিয়েছে নাইন মাস্টার্স-এর মধ্যে | যাঁদের কাজ বিবেচিত হবে কালজয়ী শিল্পকলা হিসেবে |

# ১৯৭৭ সালের ২৪ এপ্রিল প্রয়াত হন এই কিংবদন্তিসম শিল্পী | রেখে যান চার পুত্র‚ এক কন্যা ও অগণিত গুণমুগ্ধকে |

জন্মদিনে সহস্র প্রণাম এই স্মরণীয় ও বরণীয়কে শিল্পীকে |

আরও পড়ুন:  রহস্যময় মরুজাতির পুরুষদের পরনে নীল বোরখা‚ মহিলাদের জন্য থাকে অবাধ যৌনতার ছাড়পত্র

NO COMMENTS