খোজা সাধুরা পাহারা দিত তার নষ্টামি | কুরবানি দল ছিল তার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে | এছাড়াও গুরমীত রাম রহিমের আরও ভ্রষ্টাচার নিয়ে রোমহর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়া টুডে-তে | তার অধীনে ছিল একদল মহিলা দালাল | এদের কাজ ছিল তার গুহায় নিত্যনতুন কুমারী পাঠানো | এই দালালরা কোনও একসময় নিজেরাই মিটিয়েছিল বাবাজির লালসা | হয়তো ছিল তার ভক্ত | কথায় অন্ধ-বশ হয়ে মিলিত হয়েছিল গুরমীতের সঙ্গে | ডেরায় তাদের পোশাকি পরিচয় বিষকন্যা | কাজ একই ছিল | ভণ্ড গুরুজির লালসা মেটানো | নিজেদের দিয়ে নয় | নিষ্পাপ কুমারীদের যোগান দিয়ে |

এই দালালরা এক একজন ছিল গুরুর যন্ত্রমানবী | যা নির্দেশ আসত মুখ বুজে পালন করত | নানা প্রলোভনে আনত কুমারীদের | ঢুকিয়ে দিত গুরমীতের গুহায় | পাশবিক আনন্দ পেত নিজেদের অতীত ধর্ষণের কথা ভেবে | এখন অনেকেই সাক্ষ্য দিয়েছে‚ গুহা থেকে কাঁদতে কাঁদতে বের হত মেয়েরা | এমনকী‚ এত পাষণ্ড‚ নির্যাতন থেকে বাদ যেত না বাচ্চারাও | জানা গিয়েছে‚ ডেরায় নিয়মিত আসত কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি আধিকারিকরা | আপ্যায়িত হতো মদ-মাংস-মেয়ে দিয়ে | নইলে নিজের কদর্য কাজ কী করে আইনের হাত থেকে বাঁচাবে শয়তান গুরমীত রাম রহিম! আরও আগেই জেলযাত্রা হওয়া উচিত ছিল এই নরাধমের |

তার নির্দেশে মহিলা দালালরা ভক্ত সমাগমের মধ্যে চিহ্নিত করত সুন্দরীদের | তারপর তাদের আলাদা করে রাখত একটি বড় ঘরে | বাবাজির গুহা লাগোয়া ঘরে | ওই ভক্তদের বলা হতো‚ বাবাজি আলাদা করে ডেকে পাঠিয়েছে তাদের | চিত্তশুদ্ধ করা হবে তাদের | এক এক করে ডেকে তাদের শুদ্ধ করবে রাম রহিম বাবাজি | 

জনা পাঁচেক মেয়েকে প্রতি রাতে রাখা হতো | এক জন গুহায় ঢুকত | বাকি চারজন বাইরে পাহারায় থাকত | একবার গুহা থেকে বেরোলে কেউ মুখ খুলত না | কারণ প্রাণভয় দেখিয়ে তাদের মুখ সেলাই করে দিয়েছে ওই ধর্মগুরু | ফলে তার কীর্তি চাপাই থাকত | অসহায় নির্যাতিতাদের দিয়ে গুরুজির রান্না‚ কাপড় কাচার মতো কাজও করানো হতো |

ডেরায় ৫০ নম্বর ঘরের পাশে ছিল মন শুদ্ধ কামরা | দেখানে অকথ্য অত্যাচার করা হতো সেই  অবাধ্য মেয়েদের ‚ যারা গুহায় ঢুকতে চাইত না | একটা চেয়ারে বসানো হতো | তারপর নির্দয় ভাবে একের পর এক তাকে চড় মেরে চলত বিষকন্যারা | দিনের পর দিন অসহায় মেয়েদের রাখা হতো অনাহারে | এমনকী অনেক সময়ে ধর্ষিতাদের উপরেও এই জিনিস হতো | যাতে বাইরে গিয়ে মুখ না খোলে | রেহাই পেত না পুরুষরাও | ডেরায় কোনও পুরুষ যদি অন্য মহিলার দিকে তাকাত‚ পেতে হতো চরম শাস্তি | মুখে কালি লেপে গাধায় চাপিয়ে ঘোরানো হতো ডেরায় | 

মহিলা ভক্তদের দু ভাগে ভাগ করা হতো | যারা সুন্দরী তারা ঢুকত গুহায় | রান্না‚ কাপড় কাচা এবং রাম রহিমের যৌন লালসা মেটানো ছিল তাদের কাজ | যারা সুন্দরী নয় তারা ডেরা ধোয়ামোছা‚ রাম রহিমের বক্তৃতা দেওয়ার মঞ্চ সাজানোর কাজ করত | 

এই পৈশাচিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে | কিন্তু বাবাজি তো জেলে গেছেন | বেশিরভাগ সাধ্বী চলে গেছে ডেরা ছেড়ে | কিন্তু রয়ে গেছে তিনজন বিষকন্যা | যারা গুহায় মেয়ে পাঠানো থেকে অবৈধ গর্ভপাত‚ করাতো সবকিছু | এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ? 

আরও পড়ুন:  ' সুরাতে একসঙ্গে ১১ শিশুর জন্ম '---সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি দেখে বিশ্বাস করে ঠকেননি তো ?

NO COMMENTS