শনিদেব যেন দেবতাদের দুর্বাসা | সবসময় ভয়ে পেয়ে থাকতে হবে | এই বুঝি দিয়ে বসলেন অভিশাপ | লেগে গেল অমঙ্গলের কালো ছায়া | এ সবের মাঝে ভুলেই যাই শনিদেব সূর্যপুত্র | কোথাও আবার শনি মহারাজকে বলা হয়েছে বলরামের পুত্র |   

সংস্কৃতে শনৈঃ শব্দের অর্থ হল ধীরে ধীরে | সেখান থেকেই শনির নামকরণ | দূরবর্তী হওয়ায় সূর্যকে পরিক্রমণ করতে শনির দীর্ঘ সময় লাগে | পৃথিবীর প্রায় ২৯ বছরে এক বছর হয় শনিগ্রহে | অথচ নিজের অক্ষের উপর শনি বেশ দ্রুত আবর্তিত হয় | অর্থাৎ আবর্তনের বেগ অনেক বেশি | আদি নবগ্রহের অন্যতম শনির নামেই সপ্তাহের শেষ দিনটির নাম দেওয়া হয়েছিল | রবি অর্থাৎ সূর্যের নামে সপ্ত অহ শুরু করে শেষ শনির নামে | শেষে আসে বলেই সে শনৈঃ শনৈঃ |

যাই হোক‚ গ্রহ থেকে ফিরে আসি দেবতায় | এখন যে পাড়ার মোড়ে মোড়ে শনিমন্দির দেখেন‚ সেই শনিভক্তির সূত্রপাত কিন্তু মধ্যযুগে | ভয় আর ত্রাসকে অবলম্বন করে কুলীন সমাজে জায়গা করে নেন এই লৌকিক উপদেবতা | 

পৌরাণিক সূত্র অনুযায়ী শনি হলেন সূর্যদেব ও তাঁর পত্নী ছায়ার পুত্র | আবার কোথাও তিনি বলরাম ও রেবতীর পুত্র | অনেক উৎসে তিনি আবার যম ও যমুনার ভাই | দক্ষকন্যা সন্ধ্যা তাঁর বিমাতা | মনু ও বৈবস্বত মনু তাঁর ভাই |

শনির মা সূর্যপত্নী ছায়া ছিলেন শিবভক্ত | অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শিবের কঠোর তপস্যা করতেন তিনি | তপস্যার কষ্টে এবং সূর্যের তাপে গর্ভস্থ পুত্রের ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যায় | তাই শনিদেব ঘোর কৃষ্ণবর্ণের |

বেশিরভাগ শনিমূর্তি দন্ডায়মান | তাঁর বাহন শকুন বা পাতিহাঁস বা কাক | হিন্দু বিশ্বাসে শনি ও যমরাজ হলেন কর্মফলের  দেবতা | শনি কর্মফল বিচার করেন জীবিত অবস্থায় | যমরাজ করেন পরলোকে | তাই সুকর্মের অধিকারী হলে শনিদেবের থেকে ভয়ের কোনও কারণ নেই |

একবার পবনপুত্র হনুমানের সঙ্গে শক্তিপরীক্ষা হয় শনি মহারাজের | তাতে জয়ী হন হনুমান | পরাজয় মেনে শনি মহারাজ কথা দেন‚ তিনি হনুমানভক্তদের কোনও অহিত করবেন না | তাই প্রচলিত বিশ্বাস হল‚ হনুমানপুজো করলে শনির রোষানল থেকে রক্ষা পাওয়া যায় |

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শনিব্রত পালিত হয় শনিবার সন্ধ্যায় | এই পুজো সবসময় বাড়ির বাইরে করতে হয় | এমনকী প্রসাদও খেতে হয় ঘরের বাইরে | সারাদিন উপোসের পরে সন্ধেবেলা পুজোর শেষে ব্রতকথা শুনতে হয় | ব্রতের উপকরণ হল উৎকৃষ্ট ফল ৫ রকম‚ পান‚ সুপুড়ি কালোপাড় ধুতি‚ লোহার আসনাঙ্গুরীয়‚ মধুপর্কের বাটি‚ মাষকলাই‚ কালো তিল‚ নীল অপরাজিতা ফুল‚ নৈবেদ্য‚ মিষ্টি‚ ধূপ-ধুনো‚ প্রদীপ‚ কালো মাটির বা লোহার ঘট‚ ফুল‚ গঙ্গামাটি ও গঙ্গাজল | ভক্তদের বিশ্বাস‚ এই ব্রত পালনে শনিদেব সুপ্রসন্ন হন | আপদ-বিপদ‚ দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে সংসারে সুখ শান্তি সমৃদ্ধি থাকে | শনিদেবের কৃপায় কেটে যায় সবরকম গ্রহদোষ | 

আরও পড়ুন:  মা দুর্গাকে কী নামে ডাকতেন শ্রী রাধিকা এবং গান্ধারী ?

NO COMMENTS