মাঝে মধ্যে মুড খারাপ থাকা খুবই নর্মাল ব্যাপার | বা কাছের কারুর মৃত্যুতে দুঃখ পাওয়া বা অফিসের কোনো কাজ নিয়ে চিন্তিত থাকাও খুবই সাধারণ ঘটনা | যখন স্ট্রেসের ফলে আপনি দুঃখিত বা চিন্তিত থাকেন তাকে বলা নয় ‘Situational Depression’| এটা কিন্তু কদিনের মধ্যে বা কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায় |

কিন্তু যখন ডিপ্রেশনের লক্ষণ কিছুতেই যেতে চায় না এবং আপনার প্রাত্যহিক জীবনে তার প্রভাব পড়ে তখন সেই পরিস্থিতি কে বলা হয় ‘Clinical Depression’ বা ‘ Major Depression’ | ক্লিনিকাল ডিপ্রেশন কিন্তু সিরিয়াস অসুখ যা ঠিক হতে কয়েক মাস বা বছরও লাগতে পারে | তাই ডিপ্রেশনের লক্ষণ চিনে নেওয়া কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

ডিপ্রেশনের সিম্পটম কিন্তু বেশ অপ্রতিরোধ্য | অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ব্ল্যাক হোল  হিসেবে চিহ্নিত করেন যার থেকে তারা কিছুতেই বেরোতে পারেন না | এই সময় কিছুই ভালো লাগে না | নিষ্প্রাণ লাগে‚ কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না এবং খিদেও থাকে না |

ডিপ্রেশন এর প্রধান ১০টি লক্ষণ – 

যাদের ডিপ্রেশন হয় তাদের মধ্যে যে এই দশটা লক্ষণই দেখা যাবে তা কিন্তু নাও হতে পারে | কিন্তু এই ১০টা লক্ষণের মধ্যে যদি দেখেন আপনার নিজের বা ঘনিষ্ঠ কারুর সঙ্গে একটা লক্ষণও মিলে যাচ্ছে তাহলে দয়া করে ডাক্তারের সাহায্য নিন |

) বিষণ্ণতা : বিষণ্ণ থাকা মানেই কিন্তু ডিপ্রেশন নয় | কিন্তু যখন এটা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় তখন সব কিছুতেই নিরাশ লাগবে বা মনে হবে আপনার জীবন ব্যর্থ | যতই চেষ্টা করুন না কেন কিছুতেই নেগেটিভ চিন্তা মাথা থেকে বের করতে পারবেন না | এমনকি কোন কারণ ছাড়াই কান্নাও পাবে | সব সময় অখুশি থাকাও কিন্তু ডিপ্রেশনের একটা লক্ষণ |

) অপরাধবোধ : যাদের সিভিয়ার ডিপ্রেশন হয় তারা কোনো কারণ ছাড়াই অপরাধবোধে ভোগেন | সব কিছুতেই নিজেকে দোষী মনে হবে | এছাড়াও সব সময় মনে হবে জীবনে আপনি কিছু করতে পারলেন না |

) সব ব্যাপারে খিটখিট করা : আপনার অকারণে রাগ হবে‚ ভীষণ অস্থির লাগবে এবং সব সময়ই উদ্বিগ্ন থাকবেন | যাদের ডিপ্রেশন হয় তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাগ দেখিয়ে‚ বা অস্থির ব্যবহারের দ্বারা ডিপ্রেশন প্রকাশ করে থাকেন |

) মানসিক লক্ষণ : কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হলে বা মনঃসংযোগ করতে না পারলে বা জিনিস মনে রাখতে না পারলে এইগুলো ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে |

) শারীরিক লক্ষণ : যাদের ডিপ্রেশন হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা বেদনা হয়‚ মাথায় ব্যথা হয় বা হজমের গণ্ডগোল হয় | আমাদের শরীরে ব্যথা বেদনা বা মাথা ব্যাথা বা হজমের গণ্ডগোল অন্য কারণের জন্যেও হতে পারে | কিন্তু শরীর সম্পূর্ণ ঠিক থাকলেও যখন এমনটা হয় তখন কিন্তু তাকে ডিপ্রেশনের লক্ষণ হিসেবেই ধরা হয় |

) কোনো কিছুতেই ইন্টারেস্ট না দেখানো : এটা ডিপ্রেশনের কিন্তু খুবই সাধারন সিম্পটম | এই ক্ষেত্রে আপনার কিছুই করতে ইচ্ছা করবে না | কারুর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগবে না | একই সঙ্গে সেক্স লাইফেও আসবে অনীহা | সব সময় একা থাকতে ইচ্ছা করবে | একই সঙ্গে অন্ধকার ঘরে সারাক্ষণ বসে থাকতে ভালো লাগবে |

) ঘুমের পরিবর্তন : খুব সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা রাতে সহজে ঘুম না আসা বা অতিরিক্ত ঘুমোনো এইগুলো সবই কিন্তু ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে |

) অ্যাপেটাইট চেঞ্জেস : ডিপ্রেশনের ফলে অনেকেই খুব কম খায় আবার অনেকেই আছেন যারা এই সময় অতিরিক্ত খাবার খায় | এক মাসের মধ্যে শরীরের ওজনের ৫% যদি ওজন বৃদ্ধি হয় বা কমে যায় তাহলে কিন্তু সেটা সিভিয়ার ডিপ্রেশনের লক্ষণ |

) লস অফ এনার্জি : আপনার যদি ডিপ্রেশন হয় তাহলে সব সময় টায়ার্ড লাগবে | যাদের ডিপ্রেশন আছে তাদের মনে হতে পারে তাদের শারীরিক ক্ষমতা কমে গেছে |

১০) আত্মঘাতী প্রবণতা : নিজের শরীরে আঘাত করা বা নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করা সবই কিন্তু ডিপ্রেশনের লক্ষণ | এই অবস্থায় কিন্তু আপনার তক্ষুনি সাহায্য দরকার |

ডিপ্রেশনের লক্ষণ ধরা পড়লে লজ্জিত হবেন না বা নিজেকে ছোট করে দেখবেন না | অনেকেই সাহায্য নিতে কুন্ঠা বোধ করেন | কিন্তু দেখা গেছে সঠিক সময় ট্রিটমেন্ট আরম্ভ হলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি আরোগ্য লাভ করছেন | অনেক সময় ডিপ্রেশনের কথা আমরা লুকিয়ে রাখি ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায় |

ওপরের লক্ষণের মধ্যে যদি একটাও মিলে যায় এবং তা কয়েক সপ্তাহের জন্য থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই সাহায্য নিতে হবে | সব থেকে ভালো হয় আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন | এরপর কী করতে হবে উনি তার পরামর্শ দেবেন |

পরিবারের কারুর ডিপ্রেশন হলে তাই নিয়ে তাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করবেন না | তার বদলে তার পাশে দাঁড়ান |

আরও পড়ুন:  লাইফস্টাইলের যে ৫টি পরিবর্তন নিমেষে দূর করে চোখের তলার ডার্ক সার্কল

1 COMMENT