হনুমান নাকি চির শাশ্বত | তাঁর বিনাশ নেই | কিংবদন্তি বলে‚ তিনি আশীর্বাদ পেয়েছিলেন‚ যতদিন পৃথিবীতে রামের মহিমা থাকবে‚ ততদিন হনুমানও থাকবেন | আর রামচন্দ্রের মহিমা তো আবহমান কাল জুড়েই থাকবে | অর্থাৎ পবনপুত্রও থাকবেন পৃথিবীতে | কোথাও না কোথাও | কোনও অবতারে |

বিভিন্ন সময়ে হনুমানের দর্শন পেয়েছেন সাধক-পুরুষ | তাঁদের মধ্যে অন্যতম  মাধবাচার্য‚ রামদাস স্বামী‚ রামেন্দ্র স্বামী‚ শ্রী সত্য সাঁই বাবা‚ এমনকী‚ হনুমানই নাকি ষোড়শ শতকে এসে তুলসীদাসকে হিন্দিতে রামায়ণ লিখতে বলেন |

ত্রেতা যুগের রামায়ণ এবং দ্বাপর যুগের মহাভারত‚ দুই মহাকাব্যেই আছেন হনুমান | রামচন্দ্রের মানবজন্ম শেষ হলে হনুমান চলে যান বিভীষণের রাজ্য লঙ্কায় | বাস করেন শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ পর্বত পেদ্রোতালাগালায় | সেখানে এক উপজাতির সেবায় তুষ্ট হন তিনি |

তাদের এক গোপন মন্ত্র শিখিয়ে যান হনুমান | সেই মন্ত্র হল‚ কালতন্তু কারেচরন্তি এনর মরিষ্ণু‚ নির্মুক্তার কালেত্বম অমরিষ্ণু | এই গোপন মন্ত্র জপ করলে নাকি ভক্তের সামনে আবির্ভূত হন হনুমান |

অবশ্য শুধু মন্ত্র জপ করলেই হবে না | ভক্তের সঙ্গে ভগবান হনুমানের আত্মিক যোগ থাকতে হবে | তার জন্য সেই আত্মজ্ঞান দান করে যান স্বয়ং হনুমান | বলা হয়‚ উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রত্যেক প্রজন্ম যাতে সেই আত্মজ্ঞান পান তার জন্য প্রতি ৪১ বছর অন্তর অন্তর হনুমান তাঁদের মাঝে আবির্ভূত হন | সেই আত্মজ্ঞান সম্পন্ন ভক্ত কার্যত জনমানবহীন স্থানে গোপন মন্ত্র জপ করলে তাঁকে দেখা দেবেন হনুমান |

এই উপজাতি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন | কয়েকজন অভিযাত্রী তাঁদের আবিষ্কার করেন পেদ্রোতালাগালার ঘন জঙ্গলে | লক্ষ করেন তাঁদের অদ্ভূত আচার আচরণ | তাঁদের প্রধানকে নাকি প্রজন্ম ধরে রক্ষা করতে হয়েছে একটা লগবুক | সেই খাতা এখন সেতু এশিয়া সংস্থার কাছে | চলছে সেই খাতার লিপির পাঠোদ্ধার |

এখন অবধি তিনটি অধ্যায়ের পাঠোদ্ধার করা গেছে | সেখানে বলা হয়েছে‚ হনুমান তাঁদের মাঝে আবির্ভূত হয়ে কী কী করেছেন | বাকি অধ্যায়ে কী আছে জানার জন্য অপেক্ষায় আছেন হনুমান-ভক্তরা | সেই খাতাই বলছে ওই উপজাতির মাঝে হনুমান শেষ এসেছিলেন ২০১৪ সালে | ফের আসবেন ২০৫৫-এ | তবে তিনি শুধু ভক্তদের চোখেই ধরা দেন | বাকিদের কাছে তিনি কিন্তু অদৃশ্য |

(পুনর্মুদ্রিত)

আরও পড়ুন:  সালোয়ার কামিজ পরে WWE-এ কুস্তি ভারতীয় ললনার ! চূড়ান্ত জনপ্রিয় ইন্টারনেটে

1 COMMENT

  1. Comment:অনেক অনেক ধন্যবাদ তাকে যে এই তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
    জয় বজরংবলি!