রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম ১৯৫৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর । প্রযুক্তিবিদ।শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্নাতক।সি ই এস্ সি –তে দীর্ঘ ৩৪ বছর কাজ করেছেন । আঠেরো বছর ধরে গল্প লিখছেন । হাসির গল্প লেখায় পারদর্শী । প্রথমে “সঞ্জয়”,” হর্ষবর্ধন” ও এখন স্বনামে লিখছেন । আনন্দবাজার,আনন্দমেলা,এবেলায় বহু গল্প ছাপা হয়েছে । এ ছাড়া উত্তরবঙ্গ সংবাদ,তথ্যকেন্দ্র,প্রতিদিন ইত্যাদি আরও অনেক পত্রিকাতেও গল্প/রম্যরচনা লিখেছেন।শুকতারা , নবকল্লোলে লিখেছেন ছড়া ।আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে ওঁর লেখা নাটকও অভিনীত হয়েছে।

হলধর বাবু বললেন ,- “ভূতনাথবাবু আর কতদিন ছেলে-ভুলানো গল্প  লিখবেন ? শুনুন মশাই – ওসব এবার ছাড়ুন ।  হাসি-ফাজলামির গল্প ,হিতোপদেশের গল্প, রূপকথার গল্প – শুধু এই লিখে কিন্তু সফল শিশু সাহিত্যিক হওয়া যায় না ।“

-“তাহলে ! কী করতে হবে আমায় ?”- চোখ বড় বড় করে তাকান ভূতনাথবাবু “নতুন পাতা” পত্রিকার সম্পাদকের দিকে ।

-“আসল জিনিষই তো নেই আপনার গল্পে ,”- কপাল কুঁচকে বললেন হলধর বাবু ।“

-“আসল জিনিষ ! কী সেটা ? ভূতনাথ মিত্র অবাক । বিগত কুড়ি বছরের সাহিত্যিক জীবনে এমন কথা শোনেননি তিনি ।

-“আরে মশাই একটু চোখকান খোলা রাখুন । এই সেদিনের ছেলে সন্তু । সন্তু রায় । এবারে বছরের শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যিকের পুরষ্কার পাচ্ছে । ভাবতে পারেন ?

-“তাই বুঝি !” – ভূতনাথবাবু বিস্ময় প্রকাশ করেন ।

-“তবে আর বলছি কি ? আপনার হাঁটুর বয়সী , অথচ দেখুন কেমন তর তর করে উঠে যাচ্ছে । কেন জানেন ?”

-“কেন?”

-“ওঁর লেখাগুলো একবার পড়ে দেখবেন । ঐসব বস্তাপচা উপদেশ-টুপদেশ ওঁর গল্পে নেই ।“

-“তবে ?”

-“ওঁর গল্পে শুধু রহস্য । সাসপেন্স ! একবার শুরু করলে আর শেষ না করে থাকতে পারবেন না । ভূতনাথবাবু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন “নতুন  পাতা”র সম্পাদকের দিকে ।

-“শুধু কি তাই ?”- হলধর বাবু বলেই চলেন- ,” এর পর আছে ভূত । “

-“ভুত !”

-“ ভূত ভূত । অশরীরী । বেম্মোদত্যি , শাঁকচুন্নি, মামদো , স্কন্দকাটা – এদের নাম শোনেননি ?”

-“ইয়ে মানে – -“আমতা আমতা করেন ভূতনাথবাবু ।

-“ভূতেই তো কেল্লাফতে করে মশাই । লাগসই ভূতের গল্প লিখতে পারলেই আর দেখতে হবে না । হট্‌ কেকের মত বিক্রি হয়ে যাবে আপনার বই । একেবারে বেস্ট-সেলার ।“

হলধরবাবুর কথা শুনে চোখ কপালে তোলেন ভূতনাথ মিত্র ।

-আর কী সব বইয়ের নাম ! এক-একটা যেন এটম বোম । নিশুত রাতের হুঙ্কার ,লোডশেডিঙে রক্তচক্ষু, মৃত্যুচক্রে স্কন্ধকাটা – নামেই বই বিক্রি হয়ে যায় । আরে মশাই ভাল বই লিখতে হলে আগে ভাল নাম দেওয়া শিখতে হবে । নামই হল বইয়ের বিজ্ঞাপন ।“

-“কিন্তু হলধরবাবু “,-মিনমিনে ভাষায় ভূতনাথবাবু বলার চেষ্টা করেন,-“ লেখাটাও তো ভাল হওয়া চাই । তাই নয় কি ? মহামতি শেক্সপীয়র তো বলেইছেন – নামে কী আসে যায় ?”

-“আরে রাখুন শেক্সপীয়র । আপনি মশাই সেই মান্ধাতার আমলেই পড়ে আছেন । আপনার বইয়ের নামগুলো একবার দেখুন – ‘ছোট্ট খুকু টুল্টুলি’ । তারপর ‘নীল আকাশের স্বপ্ন ‘, ‘সবুজ পাতার গান’। শুনলেই মনে হয় ঘুমিয়ে পড়ি । এসব বই কেউ কিনবে ? ভাল চান তো যা বলছি তাই করুন । ঐ সব স্বপ্ন আর গান আজকাল অচল । জমিয়ে ভূতের গল্প লিখুন দেখি । চুল খাড়া করা গল্প হওয়া চাই । তারপর দেখুন আপনার বইয়ের কাটতি । বাজারে পড়তে পাবে না ।

-“মা-মানে আ-আপনি বলছেন – ভূ-ভূ – – “ -কথাটা শেষ করতে পারেন না ভূতনাথ মিত্তির । ঘাবড়ে গিয়ে শব্দ আটকে যায় তার । তোতলাতে থাকেন তিনি । ভাবগতিক দেখে মনে হয় যেন ওঁকেই ভূতে ধরেছে ।

আরও পড়ুন:  এই কূলে আমি …… ওই কূলে তুমি

-“হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো বলছি – ভূত । বুঝতে পারছেন না নাকি ?“ হলধরবাবু অধৈর্য হয়ে পড়েন ।

ভূতনাথ বাবু হেঁচকি তুলতে তুলতে বলেন ,-“ইয়ে – আ-আমি ক্কি পা-পারব ?”

-“কেন পারবেন না ?”- হলধরবাবু বিরক্ত ,-“আরে মশাই আপনার নামেই তো রয়েছে ভূত । আপনি না পারলে কে পারবে? কেমন এক- একটা কথা বলেন না ? রাগ হয়ে যায় । নিন নিন – আর সময় নষ্ট করবেন না । লেগে পড়ুন তো ।“

     হলধর বাবু চলে যেতে ভূতনাথ মিত্তির গুম হয়ে বসে রইলেন কিছুক্ষণ । সত্যিই তো । তাঁর বইয়ের বিক্রি অনেক কমে গেছে । প্রকাশকরাও এখন তাঁর নতুন বই আর ছাপতে চান না । এমনকি এত দিনের পরিচিত হলধরবাবু পর্যন্ত তাঁর বই ছাপতে কিন্তু কিন্তু করেন । পত্রিকা সম্পাদনা ছাড়াও হলধরবাবুর একটা প্রকাশনা রয়েছে । এ ছাড়া সভাসমিতিতে আজকাল তার ডাকও পড়ে কম । যতদিন এই সন্তু ছোকরা বাজারে আসেনি ততদিন তিনি ছিলেন একচ্ছত্র সম্রাট । বিভিন্ন সভায় ফাংশনে চীফ গেস্টের আসনটি তাঁর ছিল পাকা । কিন্তু এখন তাঁর দিন আর নেই । এ অবস্থা থেকে একমাত্র ভূতই তাকে বাঁচাতে পারে । কিন্তু ভূত তিনি পাবেন কোথায় ? বানিয়ে লিখতে চান না তিনি । তিনি মনে করেন লেখার মধ্যে বাস্তবের ছোঁয়া থাকা দরকার । নইলে লেখা উৎরায় না । জোলো হয়ে যায় । যে করেই হোক ভূত তাঁর চাইই । কিন্তু এই কলকাতা শহরে ভূত কোথায় ? এত আলো লোকজনের মধ্যে ভূত থাকা সম্ভব ?

    ভূতনাথবাবু  ঠিক করলেন তিনি কোন নির্জন জায়গায় চলে যাবেন । কোন গ্রামে । মানে এমন জায়গায়  যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি পর্যন্ত নেই । তবে যদি ভূতের দেখা মেলে । কিন্তু বললেই তো আর হল না । এমন ভূত অধ্যুষিত জায়গা তিনি পাবেন কোথায় ? তিনি মনে করার চেষ্টা করলেন তাঁর আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কারা কারা কলকাতার বাইরে থাকেন ? বড়পিসী মধ্যমগ্রাম । ছোটমামা রানাঘাট । ভালমাসি চাকদা । এ ছাড়া তাঁর নিজের শ্বশুরবাড়ি বহরমপুর । সবই তো শহর । গ্রাম কোথায় ? খুবই আতান্তরে পড়েছেন তিনি । একবার ভাবেন – সন্তু রায়কে ফোন করে জিজ্ঞেস করবেন তার খোঁজে কোন ভূত-টূত আছে কিনা । কিন্তু পরক্ষনেই তাঁর মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । আরে ছোঃ ! সেদিনকার   ছেলে , নাক টিপলে দুধ বেরোয় – তার কাছে তিনি মাথা নোয়াবেন ? কভি নেহি ।

     অনেক ভেবে  ভূতনাথবাবু ঠিক করলেন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেবেন । দেশ থেকে ভূত তো আর উধাও হয়ে যায়নি । পাওয়া ঠিকই যাবে । শুধু ধৈর্য ধরে খুঁজতে হবে – এই যা । রোববারের কাগজ “একদিন প্রতিদিন”-এ বিজ্ঞাপন বের হল – ভূত চাই । রোগা ভূত ,মোটা ভূত ,বুড়ো ভূত , বাচ্চা ভূত – যে কোন ভূত হলেই চলবে । পারিশ্রমিক ভূতপ্রতি পাঁচহাজার টাকা । ভূতের সন্ধান পেলে নিম্নলিখিত ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করুন ।

     বিজ্ঞাপন বের হবার সঙ্গে সঙ্গে  ভূতনাথবাবুর মোবাইল বাজতে শুরু করে । সবই ভূত সংক্রান্ত । সবাই একটা করে ভূতের সন্ধান দিতে চায় । কারো কারো সন্ধানে আবার একাধিক ভূত রয়েছে ।  ভূতনাথবাবু নেচে উঠলেন । তবে ? পাওয়া যাবে না মানে ? খুঁজতে জানা চাই ।  ভূতনাথবাবু বেছে বেছে দু-চারজনকে প্রথমে ডাকলেন । তারা সবাই এলেন কিন্তু কারও সঙ্গেই ভুত নেই । কেউ পোড়ো বাড়ির সন্ধান দেন , কেউ বলেন অমুক গ্রামের শ্মশানে অমাবস্যার রাতে চলে যেতে – ভূত পাওয়া যাবে । কেউ কেউ আবার কলকাতার হন্টেড হাউসগুলো ঘুরে দেখতে বলেন ।     ভূতনাথবাবু বুঝে গেলেন – এরা সবাই তাঁর পয়সা হাতাতে এসেছে । এদের সন্ধানে কোন ভূতই নেই । কোন কাজের-কাজ হবে না এদের দিয়ে । সব দেখেশুনে হতাশ হয়ে পড়লেন  ভূতনাথবাবু । তাহলে কি ভূত মিলবে না ? এতই আকাল পড়েছে ভূতের ?

আরও পড়ুন:  অস্ট্রেলিয়ায় দুর্গাপুজো

     এর মধ্যে আবার সন্তু ছোকরা দু-দুটো সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে বসল । একটা হল “নিভাননীদেবী স্মৃতি পুরস্কার” । আরেকটা  হল – “বাবুবাজার মৎস্য সমিতি সাহিত্য পুরস্কার” । ছোকরার জনপ্রিয়তা এতই বেড়েছে যে বাজারের মাছওলারা পর্যন্ত তাকে পুরস্কার দিতে চায় । রাগে জ্বলতে লাগলেন   ভূতনাথ  মিত্র । এরপর দেখা যাবে ঠেলাওলা , রিকশাওলা  সবাই একটা করে পুরস্কার দিচ্ছে । হলধরবাবুকে তাঁর ক্ষোভের কথা বলতে – তিনি আবার উল্টো গাইলেন । হলধরবাবুর বক্তব্য – “এমনটাই তো দরকার । শুধু কি বড়লোকেরাই বই পড়বে ? দেশের আপামর জনসাধারণ গরিবগুর্বো সবাই বই পড়লে তবেই না দেশের উন্নতি ।“

     এ হেন যখন অবস্থা তখন একদিন অনেক রাত্রে  ভূতনাথ বাবুর মোবাইল বেজে ওঠে । ভূতনাথ মিত্র বিরক্ত । একেই তো মেজাজ খিঁচড়ে আছে – তার ওপর আবার এত রাতে কে ফোন করে ? ধরবেন না , ধরবেন না করেও মোবাইল কানে দিয়ে বলেন ,- “হ্যালো । কে বলছেন ?”

-“আজ্ঞে আমি একজন ভূত ।“

-“ভূত !” নিশ্চয়ই কেউ ইয়ার্কি মারছে ভেবে লাইন কেটে দেন  ভূতনাথবাবু ।“

আবার বেজে ওঠে মোবাইলটা । রেগেমেগে মোবাইলটা যেই কানে দিয়েছেন অমনি ওপার থেকে কাকুতি-মিনতি ভেসে আসে ,-“প্লিজ্‌ কাটবেন না ফোনটা । দয়া করে আমার কথাটা মন দিয়ে শুনুন।”

-“আপনি এত রাতে কি ইয়ার্কি মারছেন ? ”  ভূতনাথ মিত্তির চীৎকার করে ওঠেন ।

-“না না ইয়ার্কি মারব কেন ? আমি সত্যিই একজন ভূত । আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই । আপনিই তো কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন – আপনার ভূত দরকার ।“

ভূতনাথ বাবু ভাবলেন – দেখাই যাক না জল কতদূর গড়ায় । যদি সত্যিই ভূত হয় তবে তো ওর অবাধ গতি ।   ভূতনাথবাবু বললেন ,-“ঠিক আছে আপনি এক্ষুনি চলে আসুন ।“

-“এক্ষুনি !”

-“হ্যাঁ এক্ষুনি । আপনি কেমন ভূত আমি দেখতে চাই ।“

     এই কথা বলা মাত্রই উত্তরের জানালাটা আপনা আপনি খুলে যায় । শীতের ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকে পড়ে কাঁপিয়ে দেয়  ভূতনাথবাবুকে । অবাক হয়ে ভূতনাথবাবু দেখেন জানালার কাছে একটা গোবেচারা টাইপের লোক দাঁড়িয়ে । আশ্চর্য ! এই হাঁড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় লোকটার পরনে ফিনফিনে পাতলা পাজামা আর পাঞ্জাবী ।

-“নমস্কার ।  আমিই আপনাকে ফোন করেছিলাম ,”-লোকটা বলে ।

ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে যান  ভূতনাথবাবু । লোকটা বলতে থাকে ,-“আজ্ঞে স্যার আমি খুব মুশকিলে পড়েছি । ক্যান্সারে ভুগছিলাম । গত পরশু গঙ্গা-প্রাপ্তি হয়েছে আমার । তবে বউটা পড়েছে বিপদে । চিকিৎসায় সব জমানো টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে । তাই বলছিলুম কি পাঁচহাজার টাকা তো আমার পাওনা । যদি টাকাটা চার নম্বর ন্যয়রত্ন লেনে একটু পাঠিয়ে দেন তাহলে আমার পারলৌকিক ক্রিয়াটা সম্পন্ন হয় আর কি ।“

আরও পড়ুন:  কে?

ভূতনাথবাবু অবাক হয়ে লোকটার কথা শোনেন ।

-“ভাববেন না স্যার ,”- লোকটা থুড়ি ভূতটা বলতে থাকে ,-“আমি জানি কেন আপনার ভূতের দরকার । সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।“

-“কী জানেন আপনি ?” এতক্ষণে ভূতনাথ মিত্তিরের মুখে কথা ফোটে ।

-‘আপনি আমাকে চিনতে পারেননি ? আমি সুকান্ত । একসময়ে লেখালেখি করতাম । আমি আপনি একসঙ্গেই শুরু করেছিলাম । ছোটখাট পত্রিকায় লিখতাম । কিন্তু সংসারের চাপে আর হয়ে ওঠেনি ।“

এখন যেন একটু একটু মনে পড়ছে  ভূতনাথ মিত্তিরের । সুকান্ত বোস – একসময়ের প্রতিশ্রুতিবান

লেখক ।হঠাৎ কোথায় যেন হারিয়ে যায় ।

-“আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না স্যার । আমিই আপনার ভূতের গল্পের প্লট পরের পর দিয়ে যাব  । আপনি শুধু লিখে যাবেন । দেখবেন কেমন হৈ-চৈ পড়ে যায় । তবে স্যার একটা কথা – গল্পপ্রতি অন্তত পাঁচশ টাকা আমার চাই ।“

-“এও কি ঐ ন্যায়রত্ন লেনে পৌঁছে দিতে হবে নাকি?”

-“এটুকু তো করতেই হবে স্যার , নইলে আমার চলবে কী করে ? বউটাকে তো দেখতে হবে ।“

     এরপরে দ্রুত পট পরিবর্তন হতে থাকে । দু-বছরের মধ্যে  ভূতনাথবাবুর চার-চারটে ভূতের গল্পের বই বেরিয়ে যায় । বইগুলোর নাম যথাক্রমে – মামদোর অট্টহাসি ,কাটা মুন্ডুর হাতছানি, যখের কান্না  আর নরকের অশরীরী । শুধু তাই নয় বইগুলোর এমন কাটতি হয় যে প্রত্যেকটা বইয়ের দুটি-তিনটি করে এডিশন ছাপতে হয় । ভূতনাথবাবু এখন বাজারের একনম্বর শিশু সাহিত্যিক । সন্তু রায়ের বাজার গেছে । লোকে বলাবলি করছে – “পুরনো চাল ভাতে বাড়ে । কোথায় ভূতনাথ মিত্তির আর কোথায় সন্তু রায় – কোন তুলনাই হয় না ।“

কিন্তু ভূতনাথ মিত্তির জানেন আসল কারণটা । সন্তু রায় বানিয়ে বানিয়ে ভুতের গল্প লেখে । আর তাঁর গল্পের প্লটগুলো খোদ একজন ভূতের যিনি আবার নিজে একজন লেখকও । সুতরাং তাঁর সঙ্গে সন্তু রায় পারে কখনও ?

 

     এর মধ্যে একদিন হলধরবাবু ফোন করেছিলেন ।

-“সুখবরটা পেয়েছেন ?”

-“কী খবর ?” –    ভূতনাথ মিত্তির জিজ্ঞেস করেন ।

-“এ বছরের শ্রেষ্ঠ শিশু-সাহিত্যিকের পুরস্কার পাচ্ছেন আপনি ।“

-“তাই বুঝি !”  ভূতনাথবাবু উৎফুল্ল ।

-“কেমন ? বলেছিলাম না ? ভূতই আপনাকে বাঁচাবে ? এবার বিশ্বাস হল তো ?”

-“সে আপনি ঠিকই বলেছেন ,”- গদগদ হয়ে বলেন   ভূতনাথবাবু ।

-“তবে একটা কথা । আপনার এর পরের বইগুলো কিন্তু অন্য কাউকে দিয়ে বসবেন না যেন ।মনে রাখবেন আমার কথাতেই কিন্তু আপনার এই রমরমা । সুতরাঙ আমার দাবি সবার আগে ।“

-“সে আর বলতে ?”  ভূতনাথ মিত্তির স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন । যাক এখন আর তাঁকে প্রকাশক খুঁজে বেড়াতে হবে না ।

1 COMMENT

এমন আরো নিবন্ধ