সন্ত হওয়ার পরেও তিনি মা | বিতর্ক থাকলেও তাঁর মাতৃময়ী রূপকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না | যথেষ্ট সম্পন্ন ঘরের মেয়ে হয়েও জীবনটা উপহার দিয়েছিলেন আর্ত দুঃখী সেবায় | পরমপিতাকে খুঁজে পেতেন মানুষের মধ্যে‚ ২০ বছর হল চলে গেছেন তাঁর আশ্রয়েই | প্রয়াণবার্ষিকীতে স্মরণ মাদার টেরিজাকে |

# জন্ম ১৯০১-এর ২৬ অগাস্ট | ওটোমান সাম্রাজ্যের আলবেনিয়ার স্কোপজে শহরে জন্ম | এখন রিপাবলিক অফ ম্যাসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপজে | নাম ছিল অ্যাগনেস গোন্দজে বোজাক্সিউ ( Anjezë Gonxhe (or Gonxha) Bojaxhiu) | আলবেনিয়ান ভাষায় Anjene শব্দের অর্থ গোলাপকুঁড়ি বা ছোট্ট ফুল |

# তাঁদের পৈতৃক পরিবার এসেছিল কসোভো থেকে | বাবা ছিলেন সম্পন্ন ব্যবসায়ী | ছোট থেকেই মিশনারিদের সেবার গল্পে মুগ্ধ হতেন অ্যাগনেস | মাত্র আট বছর বয়সে হারিয়েছিলেন বাবাকে | তার কয়েক বছরের মধ্যেই স্থির করে নেন তিনি সন্ন্যাসিনী হবেন | কাজ করবেন ভারতের বাংলায় | যেখানে ইতিমধ্যেই কাজ করে গেছেন বহু মিশনারি |

# ১৯২৮ সালে ঘর ছেড়েছিলেন ১৮ বছরের কিশোরী অ্যাগনেস | এর পরে আর মা দাদা দিদিকে দেখেননি তিনি | তাঁর পরিবার স্কোপজে শহরেই ছিলেন | পরে চলে যান আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় |

# আয়ারল্যান্ডে এসে অ্যাগনেস লোরেটো অ্যাবিতে যোগ দিলেন সিস্টার্স অফ লোরেটো-তে | শিখলেন ইংরেজি | 

# ১৯২৯ সালে এলেন দার্জিলিঙে | শিখতে লাগলেন বাংলা |

# ১৯৩১ সালে সন্ন্যাস গ্রহণ | বিখ্যাত সন্ন্যাসিনী Thérèse de Lisieux-র নামে নতুন নাম গ্রহণ করলেন | কিন্তু তার আগেই একজন ওই নাম নিয়ে নিয়েছিলেন | তাই অ্যাগনেস বেছে নিলেন এর স্প্যানিশ বানান Teresa | এ বার থেকে আর অ্যাগনেস নন | তাঁর পুনর্জন্ম হল সিস্টার টেরিজা বা ভগিনী তেরেজা রূপে |

# কলকাতার এন্টালির লোরেটো কনভেন্টে প্রায় দু দশক শিক্ষকতা করেছেন তিনি | ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৬-এর দাঙ্গায় কলকাতার ভয়াবহ রূপ তাঁকে আন্দোলিত করে | মনে হতে থাকে নতুন উদ্যোগে কিছু করার |

# ১৯৪৬-এর সেপ্টেম্বরে কলকাতা থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে অবশেষে এল অন্তরাত্মার ডাক | সাড়া দিলেন সিস্টার টেরিজা | কনভেন্ট ছেড়ে এ বার তাঁর নতুন পরিচয় হল মাদার টেরিজা | লোরেটোর ভারী পরিচয়-পোশাক ছেড়ে তিনি বেছে নিলেন বাঙালির একান্ত আপন শাড়ি | সাদা নীল সরু পাড় | 

# ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হল মিশনারিজ অফ চ্যারিটি | কালীঘাটের একটি পরিত্যক্ত মন্দিরে আর্ত‚ মৃত্যুপথযাত্রীদের সেবা শুরু করলেন মাদার টেরিজা | কালক্রমে সেটাই হয়ে ওঠে নির্মল হৃদয় |

# অনাথ‚ আর্ত‚ কুষ্ঠরোগী‚ অসহায় মৃত্যুপথযাত্রী—সমাজ যাদের ব্রাত্য করেছে তাদেরকেই নিজের আশ্রয়ে পরম আদরযত্নে লালন পালন করেছেন তিনি |

# ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন অগণিত সন্তানের এই মা | প্রিয় শহর কলকাতায় | তাঁকে স্টেট ফিউনেরাল দেওয়া হয়েছিল |

# জীবনভর শতাধিক সম্মান-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন | ১৯৭৯ সালে লাভ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার | ২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর তাঁকে Beatified এবং ২০১৬-র ৬ সেপ্টেম্বর Cannonized করে ভ্যাটিক্যান সিটি | 

আরও পড়ুন:  সৎকারের জন্য স্ত্রীর দেহ কাঁধে বয়ে নিয়ে যাওয়া কালাহান্ডির দানা মাঝিকে মনে আছে ? কেমন আছেন তিনি ও তাঁর মেয়েরা ?

NO COMMENTS