বাংলালাইভ রেটিং -
Kaabil Film Review In Bengali

হিরো হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন সেই ২০০০ সালের গোড়ায়। তারপর মোটামুটি সতের বছরে খান তেইশেক সিনেমা করেন তিনি। কোনটায় সোলো হিরো আর কোনটা আবার মাল্টিস্টারার ফিল্ম। স্পেশ্যাল অ্যাপিয়ারেন্সগুলো ধরলে অবশ্য মোট ছবির সংখ্যা আরও বেশি।

তবে শেষ পাঁচ বছরে এই লোকটার ফিল্ম-কেরিয়ারটার কিন্তু মরো-মরো দশা প্রায়।

রিসেন্ট পাস্টে ‘কৃশ থ্রি’ ছাড়া ভদ্রলোকের একটা ছবিও বাজারে ধরে নি মোটে। আর গেল বছর ‘মহেঞ্জদড়ো’ও মুখ থুবড়ে পড়ার পর ইন্ডাস্ট্রির অনেকে তো বলেই দিলেন সোজা, এতদিন তাও ভেনটিলেশনে ছিলেন, এবার তো আপনাদের ওই হৃত্বিক রোশন ‘শেষ’।

পাঁচ বছর ধরে বক্স অফিসে প্রায় লাগাতার ডাব্বা, সঙ্গে পার্সোনাল লাইফে কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির চরম। মুখ থুবড়ে পড়তে থাকা কেরিয়ারটাকে বাঁচাবে কে এখন? ইন্ডাস্ট্রির অন্য কোন স্টারের বেলায় এমন কেসে ঠিক কী হতো, বলতে পারা শক্ত। কিন্তু জবরদস্ত অলরাউন্ডার পাপা থাকতে হৃত্বিকের আবার চিন্তা কীসের, বলুন?

ছেলের জন্য কী না করতে পারেন পাপা! দূর বিদেশের সিনেমা দেখে গল্প চুরি তো নেহাত তুচ্ছ কাজ! নর্থ আমেরিকার সুপারহিরো-মার্কা ছবি ‘ডেয়ারডেভিল’ (২০০৩) আর তার সঙ্গে সাউথ কোরিয়ার ডার্ক থ্রিলার ফিল্ম ‘ব্রোকেন’ (২০১৪)। এই দুটো ছবির গল্প তুলে হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে সেটার সঙ্গে দেশি ঘি পাঞ্চ করে তবেই না ‘খোকা’ রোশনের নতুন ছবি ‘কাবিল’ হল তৈরি!

আর মরতে মরতে ফের একবার প্রাণ ফিরে পেল রোশন খোকার কেরিয়ার!

ব্লকবাস্টার হয় নি ‘কাবিল’ সত্যি। কিন্তু সেকেন্ড উইকে পৌঁছে গিয়েও ভালোই চলছে ছবিটা, ইন্ডাস্ট্রির ভাষায় ওই সেমি-হিট যাকে বলে। এই খরার বাজারে সেটুকুই বা কম কী হল, বলুন?

আমেরিকার ছবি ‘ডেয়ারডেভিল’, নায়ক এখানে অন্ধ সুপারহিরো

‘ডেয়ারডেভিল’ ছবির গল্প শুনুন এবার। ছোট্টবেলার এক দুর্ঘটনায় অন্ধ হয়ে যায় ওই সিনেমার হিরো, ম্যাট মার্ডক। এরপরেই রয়েছে এক মহা-আজব টুইস্ট! পুঁচকে ছোঁড়ার একটা ইন্দ্রিয় নিভে গেল তো কী, বাকি ইন্দ্রিয়গুলোর ক্ষমতা নিমেষে বেড়ে গেল বহু গুণ! অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, কানে শুনেই চারপাশটা নিখুঁত করে বুঝতে পারছে ম্যাট, মানে চোখের কাজের অনেকখানিই সেরে দিচ্ছে কান! আর বাকি বডির ফিটনেস তো কহতব্য নয়! বহুতল এক বাড়ির থেকে অন্য বহুতলের টপে লাফ দিয়ে বেড়ানটা তার কাছে মামুলি চোর-পুলিশ খেলার মতোই জাস্ট!

ব্যাস, বড় হয়ে ওঠার পরে এই ম্যাট মার্ডক-ই হয়ে উঠলো ‘ডেয়ারডেভিল’ হিরো। দিনের বেলা লোকের চোখে ধুলো ছিটিয়ে উকিল সেজে থাকে। আর নিশুত রাতে দুষ্ট দমন করতে গিয়ে একই অঙ্গে স্পাইডারম্যান আর ব্যাটম্যানের কমবো প্যাকেজ পুরো!

ছোটদের কমিক্স থেকে তৈরি এই সুপারহিরো ফিলিম, গাঁজার লেভেল বোধহয় একটু বেশিই ছিল এতে।

তা, এবার শুনুন কোরিয়ার সেই ‘ব্রোকেন’ ছবির গল্প। সেটা আবার জাপানি লেখক কেইগো হিগাশিনো’র উপন্যাস ‘দ্য হোভারিং ব্লেড’ থেকে নেওয়া। সেটা আবার যেমন ডার্ক, তেমনি অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দিয়ে মোড়া! এটা এক মরিয়া বাবার গল্প! তাঁর তরুণী মেয়েকে গ্যাং রেপ করে মেরে ফেলেছিল যারা, সেই শয়তানদের খতম করতে একলা বাবার হিংস্র অভিযান!

সাউথ কোরিয়ার ছবি ‘ব্রোকেন’ – গণধর্ষণে মেয়ে মারা যাওয়ার পর বাবার প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প

শুনে খটকা লাগছে তো যে, ওই বদমাশগুলোকে ধরার কথা তো পুলিশদের, বুড়ো বাবাটাকে খামোখা সে কাজে নামতে হচ্ছে কেন? না নেমে উপায় কী আর বলুন! অজানা কারণে পুলিশরা যে পুরো নিস্ক্রিয় হয়ে বসে! পুলিশ-মহল নড়ে-চড়ে বসলো কখন জানেন? যখন তারা টের পেল অপরাধীদের খুঁজে বের করে নিকেশ করতে শুরু করেছেন সেই একলা বাবা নিজেই! রেপিস্ট ধরা পরের কথা, তড়িঘড়ি সেই বাবাকে ধরতে তখন তাদের মহা-আয়োজন শুরু!

দুটো আলাদা মহাদেশের দুটো আলাদা কালচারের দুটো আলাদা ছবির গল্প। দুটোর টার্গেট অডিয়েন্সে অবধি প্রায় আকাশ-পাতাল ফারাক! সেই দু’খানা শিলে বেটে নিয়ে ইন্ডিয়ান খিচুড়ি বানানো কি আর চাট্টিখানি কথা? যেমন-তেমন লোক হলে তো শুরুর আগেই ফেল মেরে যাবে, ভাই!

এসময় চাই স্টোরি হাত-সাফাইয়ে অনেক দিনের দক্ষ কোন লোক! সাধে কি আর এই সময়ে ছবির ডিরেকশন দেওয়ার জন্যে বেছে বেছে সঞ্জয় গুপ্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট হল!

আরও পড়ুন:  হঠাৎ কেন রণবীর সিং-কে ছেড়ে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন দীপিকা!?

কে জানেন তো ইনি? সোজা করে বলতে গেলে ইনি হলেন বলিউডের কোরিয়া-স্পেশালিষ্ট লোক! ইয়ার্কি নয়, সত্যি। এই সঞ্জয়ই তো বলিউডকে ফার্স্ট বুঝিয়ে ছেড়েছিল, যে কোরিয়া নামে দেশটা থেকে পটাপট করে মুভির প্লট টুকে নাও ভাই, ব্যাপার ভারি ইজি।

কোরিয়ান ছবি ওল্ড বয় টুকে ২০০৬ সালে তৈরি হয় ‘জিন্দা’

বানিয়ে বলছি না একটুও। সাল ২০০৬। কোরিয়ান থ্রিলার ‘ওল্ড বয়’ (২০০৩) টুকে সঞ্জয় বেশ বানিয়ে নিলেন ‘জিন্দা’, ধরতে পারল তখন কোরিয়া থেকে কেউ? আর সেটা দেখেই না গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বাকি বলিউডও শুরু করে দিল একধারসে কোরিয়ান ছবি টোকা!

ঠিক ধরেছেন ভাই! আমাদের এই টালিগঞ্জের নামী-নামী সব রিমেক-কুলপতিদের মতো ওই সঞ্জয় গুপ্তার ফিল্মোগ্রাফিটাও তো শুধু রিমেক সিনেমাতেই ভর্তি! এই তো ‘কাবিল’-এর ঠিক আগেই যেটা বানালেন, সেই ‘জজবা’ও (২০১৫) তো কোরিয়া থেকেই টোকা, ‘সেভেন ডেজ’ (২০০৭) ছিল মূল ছবিটার নাম। শুধু কোরিয়া নয় অবশ্য, ঝেড়ে আমেরিকান সিনেমাও টুকে মেরেছেন ইনি, যেমন ‘রিজারভ্যার ডগস’ (১৯৯২) টুকে ‘কাঁটে’ (২০০২) কিংবা ‘ইউ টার্ন’ (১৯৯৭) টুকে ‘মুসাফির’ (২০০৪)।

এই ছবি থেকেই বলিউডে শুরু হয় কোরিয়ান ছবি টোকার ট্রেন্ড

তবে এবার ‘কাবিল’ বানাতে বসে টোকার ওই মজাটা কিন্তু দ্বিগুণ! এতদিন অবধি আর যাই হোক, একসঙ্গে দুটো দেশ থেকে তো আর টুকতে হয় নি কভু। এবার যে সেটাও হল, ভাই! এই প্রথম খ্যাতনামা সেই টুকলি-শিল্পী ভার পেলেন, দু’ দেশের দু-দুখানা ছবি একসঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে টোকার! আর বায়না বুঝুন, এসব করে ফাইনাল যে প্রোডাক্টখানা তৈরি হবে, সেটার থেকে ম’-ম’ করে নাকি বেরতে হবে ভারত-ভারত গন্ধ!

বক্স অফিসে ‘লাজ’ বাঁচাতে কোন লেভেলের রগড় আর কোন লেভেলের চ্যালেঞ্জ, ভাবুন শুধু দাদা!

এখন এতসব শর্ত-টর্ত মাথায় রেখে স্টোরি নামানো কি ইয়ার্কি নাকি ভাই? এতে করে ঝামেলা কী হয়, জানেন? মোটের ওপর চটকদার গল্প হয়তো নামে, কিন্তু প্লট তৈরির গোড়ায় কখন যেন ফাঁকিবাজির গলতি ঢুকে বসে!

ঠিক সেই কারবারটাই হয়ে বসেছে ‘কাবিল’ ছবির গল্পে। এখানে তো আবার একলা হিরোই শুধু অন্ধ নয়, হিরোইনটিও তাই। মানে ডবল ডোজে হলিউডের ‘ডেয়ারডেভিল’ খেলা! কিন্তু মোক্ষম কোন ব্যাপারটা হেথা মিস হয়ে গেল, জানেন? দু ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের সিনেমায় এই কথাটাই কোথাও বলা রইল না যে এই দু-দুটো আস্ত মানুষ অন্ধ হলেন কবে, কেন, কেমন করে?

বলুন তো এসব দেখে হাসব, নাকি কাঁদব?

অন্ধ তো লোকে দু’রকম ভাবে হয়। এক, জন্ম থেকেই অন্ধ। এঁদের কাছে আমাদের এই চেনা পৃথিবীটা পুরো অন্য ছকে বাঁধা। চারপাশের পৃথিবীটা যে দেখতে কেমনতর, সেটার দৃশ্যরূপ বোঝার তো এঁদের আসলে উপায়ই নেই কোন। আর আরেকরকম ভাবেও অন্ধ হতে পারে লোকে। কোন দুর্ঘটনা কিংবা অসুখ-বিসুখ থেকে। সেই ‘ডেয়ারডেভিল’ ছবিতে যেমন ছিল। এঁদের কিন্তু ক্লিয়ার একটা ধারণা থাকে এই পৃথিবীর দৃশ্যরূপটি নিয়ে।

বুঝতেই পারছেন, দুই রকমের অন্ধ মানুষ কার্যত তাঁদের জীবন কাটান পুরো দুটো আলাদা দুনিয়া থেকে। আর এঁদের অ্যাকটিভিটিতেও সেটার কড়া ছাপ পড়ে যায় দিব্যি। মজা হল, ‘কাবিল’ ছবির রোহণ ভাটনগর (হৃত্বিক রোশন) কিংবা সুপ্রিয়া শর্মা-কে (ইয়ামি গৌতম) দেখে-শুনে সেসব ছাপের কিছুই অবশ্য টের পাওয়ার উপায় নেই কোন। আর এর কারণটা তো আগেই লিখেছি, এঁরা জন্ম থেকেই অন্ধ নাকি অন্ধ হয়েছেন পরে, সেসব নিয়ে ছবিতে কোথাও একটা কথাও নেই!

অন্ধ মানুষেরা কি সত্যি এত ফুর্তিতে থাকেন

ছবি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, অন্ধত্বের এই প্রধান দিকটা আদৌ খেয়ালে আসে নি নির্মাতাদের কারুর! একেকবার তো মনে হচ্ছিল রোহণ আর সুপ্রিয়া বোধহয় সত্যি অন্ধ নয়! সত্যি চোখে দেখতে পায় না যারা, কল্পনাতেও তারা কি কখনো এমনতর বিন্দাস হয়ে লাইফ কাটাতে পারে?

অন্ধ বলে এঁদের জীবনে কোথাও কোন অসুবিধেটুকু নেই! ছবির ফার্স্ট ফ্রেম থেকেই এঁদের চরম ফুর্তি হচ্ছে শুরু! সকালে উঠে ডান্সিং মুডে আণ্ডা ভুর্জি বানানো বলুন কিংবা রাস্তায় নেমে এক নিমেষে পাড়ার ছেলের সাইকেল ঠিক করা। সঙ্গে আবার মহা-চালিয়াতের মতো ডায়ালগ দিয়ে যাওয়া যে বিশ্বাস আর কনফিডেন্স সঙ্গে থাকলে চোখ চেয়ে রাস্তা দ্যাখার নাকি দরকারই নেই কোন! শপিং মলে ভিড়ের চোটে হারিয়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে তুঙ্গ-ছোঁয়া স্ট্রিট-স্মার্টনেস শুরু!

আরও পড়ুন:  আর কোনোদিন বিয়েবাড়িতে পারফর্ম না করার প্রতিজ্ঞা করলেন রেমো ডি'সুজা‚ কিন্তু কেন?

অন্ধ হয়ে জীবন কাটানো এমন মজার ব্যাপার? আত্মীয় স্বজন কাউকে কখনো দরকারে লাগে না, অন্ধ মানুষ একলা একলা নিজের জীবন চুটিয়ে এমন এনজয় করে বুঝি?

আসলে ওই যে, বললাম না, টোকার তোড়ে বেসিক জিনিষগুলো স্লিপ হয়ে গেছে সব। যেমন শুরুতে ওই আণ্ডা ভুর্জি তৈরির সিনটাই ধরুন। আমি তো জীবনে খাবার বানাই না, আমার চোখ এড়িয়ে গেল তাই। আমার পাশের সিটের মেয়েটা কিন্তু বিড়বিড় করে না বলে উঠে পারলো না যে, কী দশার খাবার বানাল এটা ও শুনি? ডিমে নুন দিল না একটুও? আবার সেটাই সোনামুখ করে খাচ্ছে?

অন্ধ লোকে খাবার সময় নুনের অভাব টের পায় না কেন, ভগবান জানে ভাই! যেমন, অন্ধ মানুষ যত্ন করে কী কারণে যে কব্জিতে ঘড়ি পরে, সেটাও শুধু ভগবান আর সেই ‘পাপা’ রোশনেরই আছে জানা!

আচ্ছা, সে ঘড়ি কি বিশেষ কোন ঘড়ি? সেই ‘ডেয়ারডেভিল’এর মতো? যেটার কাচ খুলে নিয়ে হাত দিয়ে ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে জেনে নেওয়া যাবে সময়-টময় সব! না, গোটা সিনেমায় কোথাও কিন্তু তেমন কিচ্ছু নেই!

অন্ধ মানুষ হাতে ঘড়ি পরেন কী কারণে, সেটা কোথাও বলা হল না

উলটে ঘড়ি নিয়ে আবেগে চুবিয়ে নাটক তৈরির কী কাঁচা-কাঁচা সব খেলা। সুপ্রিয়ার হাতে একটা ঘড়ি তো আগের থেকেই ছিল, সেটায় হল না, তাকে গিফট দেবে বলে  নতুন করে ফের ঘড়ি কিনে দিল রোহণ। ব্যাস, হিরোইনটিও শুরু করে দিল দু’হাতে দুখানা ঘড়ি পরে ঘোরাফেরা! যদিও তার একটা ঘড়িরও সময় দেখার উপায় নেই কো ওর!

শুধু এটুকু হলে কথা ছিল তাও ভাই! রগড় যে আরও চরম হল সুইসাইডের ক্ষণে! গুণ্ডাদের হাতে প্রথম দফা গ্যাং রেপড হওয়ার পরে সুপ্রিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন জিন্দা একটা লাশ! এই অবধি ঠিকই তো ছিল পুরো। ওমা, এর মোটে দিন কয়েকের মধ্যেই ফের পরের দফা রেপ! ভাবুন কাণ্ড, এবারে সেই অন্ধ মেয়ের তো চুরমার হয়ে ভেঙে পড়বার কথা! কিন্তু সেসব কোথায় হল! উলটে রেপ সারা হতে না হতেই গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে স্মার্টলি একটা সুইসাইডের প্ল্যান! আর সুইসাইড করার আগে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ব্রেইলে লেখা বরের জন্য লম্বা একটা সুইসাইডাল নোট! 

আর জীবনের শেষ সেই চিঠি লিখতে গিয়ে মেয়েটা তখন রেপ ছাড়াও আর কীসের কথা লিখছে বসে, জানেন? সেই দু-দুখানা ঘড়ির কথা! কোনটা কোন অপরাধীর চিতায় যাবে আর কোনটা কোন শয়তানের কবরে, তার ডিটেল সব হিসেব-নিকেশগুলো!

যুক্তি দিয়ে ভাবতে গেলে তখন আপনার হতেই পারে মনে যে, এটা কি থ্রিলার নাকি ফক্কুড়ি হল ভাই? সুইসাইডাল নোট কি এমন সাজিয়ে গুছিয়ে বাংলা রচনা লেখার মতো লিখতে পারে বিপর্যস্ত সবে গ্যাং রেপড হওয়া মেয়ে?

আর তখনই এটা মনে হবে যে, এটা কি আদৌ রিয়্যাল একটা সুইসাইডাল নোট, নাকি আনাড়িভাবে ফাটা প্লটটার ফাঁক বোজানোর চেষ্টা?

আর আপনি বলুন, দুনিয়ায় মরার এত উপায় থাকতে, দুচোখ অন্ধ এক মহিলা ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে মরার প্ল্যান নেবে কী কারণে ভাই? একলা এক অন্ধ মানুষ এই ভাবে নিজের গলায় ফাঁস পরানোর হিউজ টাস্ক সারবে কী করে, শুনি? এর চেয়ে ঘুমের বড়ি ইউজ করলে রিয়্যাল হতো না বেশি?

নাকি তাতে করে ওই ফাঁস দিয়ে ঝোলার সিনিক বিউটি মিস হয়ে যেত পুরো?

পুরো ছবিটাই যেন আসলে ডিজাইনারের যত্ন করে সাজিয়ে দেওয়া জীবন! ঠিক যেন টাকার ফোয়ারা খরচ করে বানিয়ে তোলা বাজার-পাচ্য কফি টেবিল বুক! পাতায় পাতায় বর্ণাঢ্য সব ছবির মিছিল আছে। কোনটা দেখতে গিয়ে শিরশিরাবে গা, কোনটা দেখে আবার হয়তো ভিজেই যাবে চোখ! কিন্তু এ সবকিছুর পরেও, শেষ পাতাটা উলটে ফেলার পরে, ছোট্ট একটা শ্বাস লুকিয়ে ভাবতে পারেন, লাগলো ভালোই, কিন্তু এর পুরোটা যে বড্ড বেশিই মেকি!

আরও পড়ুন:  "মুখ থুবড়ে পড়লো এক নেশাড়ু নায়িকা" - কঙ্গনার 'রঙ্গুন'-এর ব্যর্থতাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন শেখর সুমন

গলার আওয়াজ নকল করে একের পর এক রিভেঞ্জ নেওয়ার প্ল্যান রয়েছে শেষে! ছবির শুরু থেকে সেই কারণেই কি হিরোর পেশা দ্যাখাতে হল ‘ডাবিং আর্টিস্ট’ বলে! আচ্ছা, ধরা যাক এই অন্ধ লোকটি ডাবিং আর্টিস্ট নন। কিংবা ডাবিং আর্টিস্ট হলেও এতজনের গলা নকল করার দম নেই কো এঁর। কী হত তাহলে স্যর? রিভেঞ্জ নেওয়া এঁর দ্বারা আর হত না তাহলে বুঝি?

স্ক্রিপ্টের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটা অবশ্য অন্য জায়গায় হল। দুষ্টু লোকগুলোর ওপর রিভেঞ্জ নিতে গিয়ে মিথ্যে মিথ্যে অন্যের গলা নকল করে যে কটা ফোন করলো রোহণ, তার সবকটাই তো প্রায় ল্যান্ড ফোন থেকে করা! আর কী অবাক কাণ্ড ভাবুন, অচেনা নম্বর থেকে আসা এরকম সব ফোনে উদ্ভট সব বায়না শুনে ঘাঘু শয়তান লোকগুলোর একজনের মনেও সন্দেহ হল না কোন! কেউ একবারও এই প্রশ্নটা ভাবল না যে, নিজের মোবাইল সরিয়ে রেখে ল্যান্ড ফোন থেকে হঠাৎ করে ফোন করছিস কেন ভাই?

শুধু অন্ধদের জীবন-যাপন নয়, প্রতিশোধের আগাপাস্তলাগুলোও তো এমন ডিজাইনারের বানিয়ে দেওয়া সুপার-ঢপে ভর্তি!

না হলে ভাবুন, রোহণের দিকে নজর রাখতে থানায় নাকি একটা মোটে সেপাই! আর সেই সেপাইটাও তিনটে বোরখা-পরা মেয়েকে এক পলক দেখতে গিয়েই এমনতর ব্যস্ত, যে সেই ফাঁকেতেই লক-আপ খুলে বেরিয়ে এসে সাইকেল চড়ে রোহণ পড়ল কেটে! গুল-গ্যাস এত মাত্রা ছাড়ালে হয় নাকি ভাই, বলুন?

আর ক্লাইম্যাক্স সিনে কেস তো আরও চরম! রোহণকে নিকেশ করতে গুন্ডা-টুন্ডা না পাঠিয়ে নিজে-নিজেই খোদ এম এল এ হাজির! সঙ্গে কিনা একটা মোটে গার্ড! হিন্দি সিনেমার লাস্ট সিনে হিরোকে পেটাতে যেখানে মিনিমাম দশ-বারোজন গুন্ডা লাগে জানি, সেখানে এবার হেড কাউন্ট এমন করুণ রকম কম? সেও কি এখানে হিরো বেচারা অন্ধ মানুষ বলে?

লোক যে এত কম আসবে, সেটাও বোধহয় আগের থেকেই রোহণবাবুর জানা। গুণে গুণে তার কাছেও তাই কেল্লাফতে করার জন্যে মোটে ওই দুখানা প্ল্যানই ছিল! সত্যি দাদা, এমন ভাবে খাপে খাপ মিলিয়ে দিয়ে আমাদের রিয়্যাল লাইফটা যদি একটুখানিও চলতো!

অর্ধেক তৈরি হওয়া মাল্টিস্টোরিডে লাস্ট মারপিটের শুটিং করাটা হিন্দি ফিল্মের অনেক কালের ফ্যাশন। ছবির নির্মাতারা কাট-পেস্ট সেই ফ্যাশনটাকেই এখানে বসিয়ে ছেড়েছেন, ভাল! শুধু একটা ব্যাপার বোঝা গেল না, আর্ট ডিরেকশনের দশাটা এখানে এতটা বেহাল কেন। ঢিসুম-ঢুসুম করতে গিয়ে লাস্ট সিনে বহুতল ফ্ল্যাটের পাথর-গাঁথা গাঁথনিগুলো যে ঠিক পলকা পিচবোর্ডের বাক্সের মতো খুলে খুলে পড়ছিল এসে সোজা! টানটান অ্যাকশন দেখতে বসে প্রেস্টিজে যে চুটিয়ে তখন গ্যামাক্সিনের ছিটে!

খুঁটিয়ে দেখতে গেলে, এমন অগুন্তি সব ভুল। লজিক-টজিকে অ্যাত্তবড় ফাঁক! তবু কিন্তু শেষ অবধি থরথর আবেগে চুবনো সেন্টু খাওয়ানো ডায়ালগ দেওয়া ‘কাবিল’ দেখতে মন্দ লাগে না মোটে।

কেন বলুন তো? সেটার জন্যে বেশ কিছুটা দায়ী বোধহয় শাহরুখের ‘রঈস’। দুটো ছবির একই দিনে রিলিজ। ওটা তো প্রায় বসে দ্যাখা যায় না এমন একটা ছবি। ‘কাবিল’ তো আর অতটা খারাপ না! ‘কাবিল’ নিয়ে কিছু বলতে গেলেই প্রথমেই তাই মুখে চলে আসে, আরে আর কিছু না হোক, ‘রঈস’-এর থেকে তো অ্যাট লিস্ট অনেক অনেক বেটার!

হ্যাঁ, একেই বলে কপাল! কে জানত কম্পিটিশনে ‘কাবিল’কে হারাতে যাওয়াটা বুমেরাং হয়ে যাবে, আর ফ্লপ খেয়ে গিয়ে শাহরুখ নিজেই উলটে হেরে বসে থাকবেন হৃত্বিক রোশনের কাছে!

2 COMMENTS

  1. Sir are you people total foolish? First of all the plot may be similar but the execution it entirely new and fascinating.. And coming to the shortcomings on the story, I shall suggested you to watch the movie again!! You people are moon as well as pathetic!

  2. Ami borabor apnar review pori ebong besh pochhondoi kori karon apni shob cinema guloi besh research kore review koren. Kintu ekta kotha ebar na bole parchi na. Apni smart, kintu over smartness ta shob shomoy bhalo lage na. Ami jani na apni life e kojon blind lok ke observe korechhen personally, but keu ondho holei, depressed hoye bar te boshe thake, eta chinta kora barabari hoye galo na! Cinema chhere ektu real lok ke niyeo research korle parten to.

    Ondher ghori pora niye anek jol ghola holo, kintu cinema te barbar bhalo kore dekhano hoyeche je ghori ta time bolchhe. Erpore ar ki clear korar dorkar chhilo?

    Ar kono raped manush kibhabe react korbe sheta apni ke bole dewar? She ki bhabe aaj ker time e oshudher dokan theke ghumer pills kinbe? Naki aage doctor dekhiye prescription jogar kore tarpor dokane dokane ghurbe? Apnar kache shetai beshi logical mone holo naki apni mone koren ondho lokera shobai on a regular basis ghumer pills khaye? Aschorjo apnar kolpona!

    Ami ekbaro bolchi na Kaabil is a great movie. I’m sure nobody’s claiming that. Kintu shudhu ninde korte hobe bolei please ninde korben na. Apnar theke ektu better asha kori.