একজন ডিভা এবং মা‚ করিনা কাপুর খান অনেক মহিলাকেই ইনস্পায়ার করেছেন ওঁর প্রেগন্যান্সির সময় | সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই উনি কিন্তু অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন | সম্প্রতি উনি ডেকান ক্রনিকলকে একটা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন মহিলাদের প্রেগন্যান্সির সময় এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয় |

আসুন দেখে নিন সেই চিঠির কিছু অংশ :

# প্রেগন্যান্ট হওয়ার বহুদিন আগে থেকেই নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করো | ২০০৭ সাল থেকে আমি ঠিক করি যে সঠিক খাবার খাবো | এবং তাই করেছি | সঙ্গে সঠিক যোগব্যায়ামও করেছি | একই সঙ্গে ডিসিপ্লিনিড লাইফস্টাইল ফলো করেছি | আমার সঙ্গে প্রথম থেকেই ছিল আমার নিউট্রিশনিস্ট ঋজুতা দিওয়েকার | আমি যখন ওই জার্নি আরম্ভ করি বাচ্চা তো দূরের কথা আমি বিয়ের কথা অবধি ভাবি নি তখন | প্রথম কদিন ওই লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত হতে কষ্ট হয়েছে | কিন্তু সেখান থেকে সরে আসার কথা কোনদিন ভাবি নি |

# অনেকেই আছে যারা বিয়ে বা জব বা অন্য কোনো কারণের জন্য কদিন ডায়েটিং আর এক্সারসাইজ করে | এর ফলে ওজন কমে‚ শরীর শেপে আসে | কিন্তু কদিন যেতে না যেতেই ডায়েটিং করা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় | তাই নিজেকে বারবার প্রশ্ন করো তুমি যে ডায়েটিং আর যোগব্যায়াম করছো তা করে যেতে পারবে তো? ওই লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারবে তো? যদি উত্তরনা হয় তাহলে প্ল্যান চেঞ্জ করো | মনে রাখতে হবে শরীর সুস্থ রাখা এক দিনের বা এক মাসের কাজ নয় | এটা একটা লাইফস্টাইল যা সারা জীবন মেনে চলতে হবে | আমার বডি ফিট আর হেল্দি ছিল বলেই আমি প্রেগন্যান্সির সময় শ্যুটিং করতে পেরেছি‚ ramp এ হাঁটতে পেরেছি‚ দেশের বাইরে বেড়াতে যেতে পেরেছি |

# আমাকে সব সময়ই ফিট আর হেল্দি দেখায় কারন আমি সঠিক লাইফস্টাইল ১০ বছর ধরে মেনে চলছি | এটা প্রেগন্যান্সির আগে বা প্রেগন্যান্সির পরে করলে কোনদিনই সম্ভব হতো না |

# প্রেগন্যান্সি মহিলাদের জন্য একটা সাইকোলজিকাল মাইলস্টোন | একে অসুস্থতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলো না | এই সময় অবশ্যই খাওয়া‚ খাওয়ার টাইম মেনে চলো | একই সঙ্গে নিজেকে হাইড্রেটেড রেখো | কিন্তু প্রেগন্যান্ট হয়েছো বলেই এই নয় যে নিজের লাইফস্টাইল বদলে দেবে |

# এই সময় সবাই তোমাকে প্রচুর পরামর্শ দেবে | এটা খাও‚ ওটা খেও না‚ এটা ড্রিঙ্ক করো না ইত্যাদি | এই সময় যে যা পরামর্শ দেয় আমরা তা মেনে চলার চেষ্টা করি | আমার এক বন্ধু এই সময় একজনের পরামর্শ শুনে লাউয়ের জুস খেতো‚ অন্যজন ব্যায়াম করা বন্ধ করে দিলো | প্রেগন্যান্ট হয়েছো বলেই কিছু আরম্ভ করতে হবে বা কিছু বন্ধ করে দিতে হবে এমনটা কিন্তু নয় |

# এই সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাও | নিজের যেটা ভালো লাগবে তাই খাও | অন্যদের কথা মতো চলো না | যা পোশাক পরতে ইচ্ছা করবে তাই পরো‚ নিজেকে শুধুমাত্র মমিজ সেকশনে আবদ্ধ করে রেখো না |

# সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ওজন কমানোর জন্য তাড়াহুড়ো করো না | এই সময় এক্সট্রা ফ্যাট দরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন কাজের জন্য যেমন ল্যাকটেশন এবং ইনফেকশন থেকে মা আর বাচ্চার সুরক্ষার জন্য | যদি তুমি বরাবর সঠিক লাইফস্টাইল মেনে চলেছো তাহলে প্রেগন্যান্সির সময় তোমার শরীর যেমন বাড়বে তেমন প্রেগন্যান্সির পর তা নিজের থেকেই ঠিক হয়ে যাবে | এই সময় ওজন কমাতে অল্প খাওয়া বা ডায়েটিং করা উচিত নয় |

# আমার ডেলিভারির পর আমি ঋজুতাকে বলি আমাকে টশন ছবির সময় যে ডায়েট দিয়েছিল তাই চালু করে দিতে | ও রাজি হলো না | ও বললো এই সময় ভালো করে খাওয়া দাওয়া করতে হবে নাহলে হর্মোনাল ইমব্যালেন্স হবে | করিশ্মাও একই কথা বললো |

# প্রেগন্যান্সি টাফ‚ সন্তান জন্ম দেওয়া টাফার আর বাচ্চা মানুষ করা টাফেস্ট জব | তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে সাহায্য নাও | অন্যদের খানিকক্ষন বাচ্চার দায়িত্ব দিয়ে নিজেকে কিছুক্ষণ রেস্ট দাও | এটা কিন্তু বাচ্চার জন্যেও দরকারী | যে বাচ্চা হেল্দি আর হ্যাপি মায়ের সান্নিধ্যে বড় হয় সে কিন্তু পরে সফল হয় |

# প্রেগন্যান্সি আর মাদারহুড এনজয় করো | এই সময় কোমরের মাপ‚ এক্সট্রা ফ্যাট এইসব মাথায় এনো না | বাচ্চার সঙ্গে প্রতিতা মুহূর্ত এনজয় করো | এমন সুযোগ জীবনে বারবার আসে না |

আরও পড়ুন:  ১৮৫ ক্যারেটের হিরে ছিল ঠাকুরদার টেবিলের পেপারওয়েট‚ নাতির দিন কাটত ভেড়া পালনে
- Might Interest You

NO COMMENTS