সাত-এর দশকের মাঝামাঝি জনপ্রিয় চিত্রনাট্য লেখক সেলিম-জাভেদ তাঁদের ছবির জন্য ভয়ানক সব ভিলেন তৈরি করতে লাগলেন | শোলে ছবিতে গব্বর সিং এর চরিত্র চিরদিন অমর হয়ে থাকবে | কিন্তু তার বহুদিন আগেই পাঁচ এবং ছয়-এর দশকে কিন্তু এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যার কল্যাণে হিন্দি ছবিতে ভিলেনের কনসেপ্ট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল | নিঃসন্দহে তাঁকে কিং অফ ভিলেনস বলাই যায় | বলছি কিংবদন্তী অভিনেতা প্রাণের কথা | সিনেমাপ্রেমীরা মধুমতী‚ মিলন‚ উপকার‚ জঞ্জির‚ ডন-এর মতো ছবিতে ওঁর আইকনিক অভিনয় মনে রেখেছেন আজও | কিন্তু আশ্চর্য্যজনক ভাবে ২০টারও বেশি ছবিতে অভিনয় করার পরেও ওঁর জীবনে এমন একটা সময় নেমে আসে যখন ওঁর হাতে বেশ কিছুদিন কোন কাজ ছিল না | এই সময় ওঁকে হোটেলে কাজ করে সংসার চালাতে হয় | প্রাণ ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬ এর মধ্যে লাহোরে ২২টা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন | ১৯৪৭ সালে উনি মুম্বইতে পা রাখেন |

১৯৪০ সালে উনি পাঞ্জাবী ছবি য়মলা জাঠ ছবি দিয়ে ডেব্যু করেছিলেন | সম্প্রতি এই অভিনেতার একটা পুরনো সাক্ষাৎকার সামনে এসেছে সেখানে উনি নিজের মুখেই জানাচ্ছেন ওই সময়ের কথা | সময়টা ১৯৪৭ | এই সময় লাহোর থেকে বম্বে চলে আসতে হয় ওঁকে | আসুন ওঁর মুখ থেকেই শুনে নিন ঘটনাটা  ১৯৪৭ সালে লাহোরে যখন দাঙ্গা বাঁধলো আমার স্ত্রী‚ এক বছরের পুত্র আর আমার শ্যালিকাকে নিয়ে আমি ওদের ইন্দোর পৌঁছে দিলাম | দিয়ে আমি লাহোরে ফিরে গেলাম | আমার ছেলের প্রথম জন্মদিন ছিল ১১ অগাস্ট | আমার স্ত্রী জেদ ধরলো জন্মদিনের সময় যদি আমি ওদের কাছে উপস্থিত না হই তাহলে জন্মদিন পালন করা হবে না | অগ্যতা আমি ১০ অগাস্ট ইন্দোর গেলাম | এর পরেরদিন রেডিওতে অ্যানাউন্স করলো লাহোরে হিন্দু-মুসলমানদের প্রচন্ড দাঙ্গা বেঁধেছে | তাই আমি আর ফিরতে পারলাম না | আমরা বম্বে চলে গেলাম | ওখানে স্বাধীনতার আগেরদিন সন্ধ্যাবেলায় পৌঁছলাম | আমার হাতে তখন অনেক টাকা তাই আমরা তাজমহল হোটেলে উঠলাম | ওটা তখনকার সেরা হোটেল ছিল | 

 ততদিনে আমার ২০টারও বেশি ছবি করা হয়ে গেছে | তাই আমি ভেবেছিলাম হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি সহজেই কাজ পেয়ে যাবো | আমি ভুল ভেবেছিলাম | বম্বেতে আমাকে অনেক ধাক্কা খেতে হয়েছে | আমার হাতে প্রায় আট মাস কোন কাজ ছিল না | স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে দিন চলছিল আমাদের | ততদিনে একটা ছোট হোটেলে উঠে গেছি | ওই সময় আমি সংসার চালাতে মেরিন ড্রাইভের ডেলমার হোটেলে চাকরি নিলাম | 

স্ত্রী শুক্লা সিকন্ডের সঙ্গে প্রাণ

অবশেষে লেখক সাদত আলি মান্টো আর অভিনেতা শ্যামের সাহায্যে উনি প্রথম হিন্দি ছবি জিদ্দি-তে অভিনয়ের সুযোগ পান | উনি ছাড়াও এই ছবিতে ছিলেন দেব আনন্দ এবং কামিনী কৌশল | শাহিদ লতিফ পরিচালিত এই ছবির সাহায্যে বলিউডে প্রাণের কেরিয়ার লঞ্চ হয় | এবং উনি একজন ভিলেন হিসেবে পরিচিতি পান | একই সঙ্গে এই ছবির মাধ্যমে দেব আনন্দও বড় ব্রেক পান | যাই হোক‚ এই ছবির সাফল্যের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রাণ তিনটে ছবির অফার পান‚ প্রথমটা হলো এস এম ইউসুফের গৃহস্তি‚ প্রভাতের অপরাধী এবং ওয়ালি মহম্মদের পুটলি |

আরও পড়ুন:  শুধু সলমন বা সঞ্জয় দত্তই নয়‚ জেলে গেছেন আরো অনেক বলিউড তারকা
শেষ যাত্রায় অভিনেতা প্রাণ

ভিলেনের চরিত্র ছাড়াও বেশ কিছু ছবি যেমন খানদান‚ শীষ মহল ছবিতে নায়কের ভূমিকাতেও অভিনয় করেন উনি | যাই হোক‚ আর কোনদিন পিচনে ফিরে দেখতে হয় নি ওঁকে | ১২ জুলাই‚ ২০১৩ সালে‚ ৯৩ বছর বয়সে মুম্বইতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উনি |

NO COMMENTS