তখন সম্ভ্রান্ত‚ অভিজাত বংশের সন্তানদের কাছে সঙ্গীতচর্চা ছিল ব্রাত্য | কিন্তু তিনি আপন করে নিয়েছিলেন সুরলোকের তপস্যাকেই | থিয়েটারে এক গায়িকার গানে বুঁদ হয়ে | তিনি কিংবদন্তি শিল্পী বেগম আখতার |  
 
# জন্ম ১৯১৪ সালের ৭ অক্টোবর | ব্রিটিশ ভারতের লখনৌয়ে | নাম ছিল আখতারি বাঈ ফৈজাবাদি | 

# বাবা আসগর হুসেন ছিলেন আইনজীবী | দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন তাঁদের মা মুশতারিকে | কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই বিয়ে ভেঙে যায় | দ্বিতীয় স্ত্রী মুশতারি ও যমজ মেয়ে জোহরা-বিব্বিকে ফেলে চলে যান আসগর | এই বিব্বিই পরবর্তীকালের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী বেগম আখতার |

# ছোটবেলায় একবার শুনেছিলেন চন্দ্রা বাঈয়ের গান | থিয়েটারের গাইয়ে ছিলেন চন্দ্রা | তাঁর গান আখতারি বাঈয়ের মনে গেঁথে যায় | ঠিক করে নেন সঙ্গীতসাধনা নিয়েই থাকবেন |

# বহু নামী দামী উস্তাদের কাছে ধ্রুপদী সঙ্গীত শিখেছিলেন | মায়ের সঙ্গে কলকাতায় এসে শেষ অবধি নাড়া বাঁধেন উস্তাদ ঝান্ডে খানের কাছে |

# মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান | ১৯৩৪ সালে নেপাল-বিহার ভূমিকম্পের ত্রাণে | তাঁর গানে মুগ্ধ হন স্বয়ং সরোজিনী নায়ডু | গজল-দাদরা-ঠুমরি-সহ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একাধিক শাখায় প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর রেকর্ড | 

# তিনি সেই প্রথম সারির শিল্পীদের মধ্যে একজন‚ যিনি মেহফিল ছেড়ে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান করেছিলেন | যাতে সাধারণ শ্রোতারা বঞ্চিত না হন | তাই তাঁর উপাধি হয়েছিল মালিকা-এ-গজল | বা গজলসম্রাজ্ঞী |

# ভারতে টকি শো যুগের সূত্রপাতে ১৯৩০ সালে বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি | তখনকার রীতি অনুযায়ী নিজের লিপের গান নিজেই গাইতেন |

# বেগম আখতার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হল কিং ফর এ ডে‚ মুমতাজ বেগম‚ আমিনা‚ রূপ কুমারী‚ জওয়ানি কি নশা‚ নসিব কা চক্কর‚ আনারবালা‚ রোটি এবং অবশ্যই সত্যজিৎ রায় পরিচালিত জলসাঘর (দুর্গা বাঈ ) | 

# ১৯৪৫ সালে লখনৌয়ের আইনজীবী ইশতিয়ার আহমেদ আব্বাসির সঙ্গে বিয়ে | নামের আগে বসে বেগম | কিন্তু রক্ষণশীল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির জন্য বন্ধ হয়ে যায় গান | অসুস্থ হয়ে পড়েন আখতারি বাঈ | গান ছাড়া বাঁচাই যে দায় ! 

# পাঁচ বছর পরে ফিরে আসা রেকর্ডিং স্টুডিয়োয় | লখনৌয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে পরিবেশ করেন তিনটে গজল এবং একটি দাদরা | এতদিন পরে আবার গাইতে পেরে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি |

# আমৃত্যু অনুষ্ঠান করেছেন দেশ জুড়ে | অনুষ্ঠানে গান করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন | ৬০ বছর বয়সে‚ ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর ঢলে পড়লেন মৃত্যুকোলে | বন্ধু নীলম গামাড়িয়ার আলিঙ্গনে | তাঁর আমন্ত্রণেই এসেছিলেন আহমেদাবাদে অনুষ্ঠান করতে | সেটাই ছিল তাঁর শেষ পাবলিক পারফরম্যান্স | 

# সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি‚ পদ্মশ্রী-র পাশাপাশি ভূষিত হয়েছেন মরণোত্তর পদ্মভূষণ সম্মানে | 

#  লখনৌয়ের ঠাকুরগঞ্জে পসন্দ বাগ-এ নিজের বাড়ির আমবাগানে সমাধিস্থ করা হয় এই কিংবদন্তি শিল্পীকে | মা মুশতারি বেগমের সমাধির পাশেই | কিন্তু নগরায়ণের চাপে হারিয়ে যেতে বসেছিল সেই স্মৃতি | বছর পাঁচেক আগে উদ্ধার করা হয়েছে সমাধির স্মৃতিফলক | 

# লখনৌয়ের চিনা বাজারে বেগম আখতার বাড়ি বানিয়েছিলেন ১৯৩৬ সালে | চেষ্টা জারি‚ যাতে সেই বাসভবনে সংগ্রহশালা গড়ে তোলা যায় |

আরও পড়ুন:  রাতের ঘুমে দেখা বিভিন্ন রহস্যময় স্বপ্নের অর্থপূর্ণ তাৎপর্য

NO COMMENTS