তিন ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে তৃতীয় | জন্ম অবিভক্ত ভারতের পাবনায় | ১৯৩১-এর ৬ এপ্রিল | তিনি সুচিত্রা সেন | তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে কিছু অজানা তথ্য মহানায়িকাকে ঘিরে |

প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত | মামা ছিলেন শান্তিনিকেতনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বি. এম সেন | শৈশবের অনেকটা কেটেছে বোলপুরে | মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে |

ছোট থেকেই ডাকসাইটে সুন্দরী | কলকাতার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী দিবানাথ সেনের সঙ্গে বিয়ে হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে‚ ১৯৪৭ সালে |

কন্যা মুনমুনের আগে এক পুত্রসন্তান হয়েছিল তাঁর | তবে সেই শিশু বেশিদিন বাঁচেনি | মা হওয়ার পরে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি |

মূলত স্বামীর ইচ্ছে-উৎসাহেই সিনেমায় আসা | গায়িকা হিসেবে গান রেকর্ডও করেছিলেন | সেভাবে দিনের আলোর মুখে দেখেনি | পরে অন্য শিল্পীর কণ্ঠে শোনা গেছিল সেই গান |

সুচিত্রা সেনের শ্বশুরমশাই আদিনাথ সেন ছিলেন অত্যন্ত রাশভারী ব্যক্তিত্বের | তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন বিমল রায়ের বোন | তাঁর মৃত্যুতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন আদিনাথ | তবে বিমল রায়ের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় ছিল |

বিমল রায়কে মামা বলে সম্বোধন করতেন দিবানাথ | সেই সূত্র ধরেই রমা ১৯৫২ সালে অভিনয় করেছিলেন শেষ কোথায় বলে একটি সিনেমায় | কোনওদিন মুক্তি পায়নি তাঁর সেই প্রথম ছবি |

সুকুমার দাশগুপ্ত ছিলেন সাত নম্বর কয়েদী সিনেমার পরিচালক | তাঁর কাছে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন রমা | সেখানে পরিচালকের সহকারী নীতিশ রায় ( বম্বের নীতিশ রায় নন ) রমা থেকে নায়িকার নাম পাল্টে করে দিয়েছিলেন সুচিত্রা | সেই থেকে তিনি সুচিত্রা সেন |

ইন্ডাস্ট্রিতে গুটিকয়েক মানুষ তাঁকে রমা বলে ডাকতেন শেষ অবধি | উত্তম কুমার তাঁদের মধ্যে একজন | বাকি সবার কাছে তিনি ম্যাডাম‚ ম্যাডাম সেন বা মিসেস সেন |

১৯৫৩ সালে মুক্তি পায় সাত নম্বর কয়েদী | এটাই তাঁর মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি | নায়ক ছিলেন সমর রায় |

১৯৫১ সালে অ্যাটম বম্ব বলে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি | তবে তিনি ছিলেন এক্সট্রা হিসেবে ! আসল নায়িকা ছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় |

ষাটের দশকে তাঁকে নাম ভূমিকায় রেখে সত্যজিৎ রায় করতে চেয়েছিলেন দেবী চৌধুরানী | কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন যতদিন শ্যুটিং চলবে‚ সুচিত্রা অন্য কারও সিনেমায় কাজ করতে পারবেন না | এই শর্তে রাজি হননি সুচিত্রা | বলেছিলেন‚ যাঁরা তাঁকে নায়িকা বানিয়েছেন তাঁদের বঞ্চিত করতে পারবেন না |

তিনি রাজি হননি বলে সত্যজিৎ রায় ছবিটা করেনইনি | দীনেন গুপ্তর পরিচালনায় সুচিত্রা পরে প্রফুল্ল করেছিলেন বটে | কিন্তু সেই ছবি তাঁর সেরা ছবিগুলোর মধ্যে পড়ে না |

রাজ কাপুরের ছবি করার অফারও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি | হিন্দিতে আঁধি ছবির শ্যুটিং-এর সময়ে আউটডোরে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল রাখী গুলজারের | কিন্তু পরিচালক গুলজারকে তিনি সবসময় স্যর বলে সম্বোধন করতেন | যদিও গুলজার ছিলেন বয়সে ছোট | এই সম্বোধন পাল্টাতে না পেরে গুলজারও পাল্টা তাঁকে স্যর বলে ডাকতে শুরু করেন |

পাশাপাশি সুচিত্রার গুণমুগ্ধও ছিলেন গুলজার | সেই স্যর সম্বোধন বজায় ছিল শেষ দিন অবধি | আঁধি-র মুক্তি আটকে ছিল | পরে জনতা সরকারের আমলে মুক্তি পায় জাতীয় টিভি চ্যানেলে |

দিবানাথ সেনের সঙ্গে দাম্পত্য সুখের ছিল না | ডিভোর্স না হলেও আলাদা থাকতেন তাঁরা | ষাটের দশকে বিদেশে প্রয়াত হন দিবানাথ | শোক ভুলতে কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা |

প্রথম বাঙালি নায়িকা হিসেবে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন |

সিনেমায় অভিনয় থেকে সরে আসেন বলে রাজেশ খান্নার বিপরীতে একটি ছবি অসমাপ্তই থেকে যায় | সেটি ছিল নটী বিনোদিনীকে নিয়ে |

অভিনয় থেকে সরে আসার পরে সুচিত্রা সেন মনোনিবেশ করেছিলেন আধ্যাত্মিক জীবনে | সরে গিয়েছিলেন জনসাধারণের চোখের সামনে থেকে | সেই কারণে দিল্লিতে যাননি দাদাসাহেব পুরস্কার গ্রহণ করতে | প্রত্যাখ্যান করেছিলেন পুরস্কার |

আরও পড়ুন:  প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা...কীসে খরচ করেন এই চিকিৎসক-অভিনেতা ? জানলে অবাক হয়ে যাবেন
- Might Interest You

NO COMMENTS