বাংলালাইভ রেটিং -

নমশুদ্রের মেয়ে সেই নীলাঞ্জনা মণ্ডলের কথা মনে আছে আপনার? ওর তখন সাতাশ বছর বয়স। কপালে ধেবড়ে যাওয়া সিঁদুরের টিপ, সিঁথিতে সিঁদুর, বেনারসি শাড়ি পরে একলা মেয়েটা গিয়ে পৌঁছল প্যারিস।

সেটা ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস।

প্যারিসে থাকে ওর বর কিষানলাল – ওর চেয়ে বছর দশেকের বড়। কলকাতার মেয়েকে বিয়ে করার হপ্তা দুয়েক পরেই সেখান থেকে নিজের কর্মক্ষেত্র প্যারিসে ফেরত এসেছিল কিষান, তার বেশ কিছুদিন পরে কলকাতা থেকে এখন স্বামীর ঘর করতে সেখানে এসে পৌঁছল নীলাও।

পনের বছর আগে তসলিমার লেখা এই উপন্যাসের নায়িকা নীলাঞ্জনা যেন মিশে রয়েছেন এই ছবির চরিত্রদের মধ্যে

কুলীন ব্রাহ্মণের ছেলে সুশান্ত চক্রবর্তীর সঙ্গে এর আগে একটা অ্যাফেয়ার মতো হয়েছিল নীলার। দুজনের মধ্যে বেড রিলেশনও হয়। কিন্তু বামুনের ছেলে সুশান্ত শূদ্রের মেয়ের সঙ্গে শুতে পারে লুকিয়ে, তাই বলে তাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে তুলতে পারে নাকি? নীলাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য এক বামুনের মেয়েকে তাই সময় মতো বিয়ের বড়শিতে গেঁথে তোলে সুশান্ত। আর ওদিকে অনেক খুঁজে-পেতে নীলার জন্যে দোজবরে অবাঙালি পাত্র কিষানলালের খোঁজ নিয়ে আসে নীলার পূজ্য অভিভাবকেরা।

নীলার জীবনের এই মর্মান্তিক গল্পটা আজ থেকে বছর পনের আগেই লিখে ফেলেছিলেন তসলিমা নাসরিন, তাঁর ‘ফরাসি প্রেমিক’ (২০০২, আনন্দ পাবলিশার্স) উপন্যাসে। প্যারিস যাওয়ার পরে, বরের সঙ্গে নীলার রিলেশন কী রকম যন্ত্রের মতো হয়ে দাঁড়ায়, সেটা কিছুটা আঁচ করতে পারবেন ওঁর লেখা এই লাইনগুলো থেকে, ‘বিছানায় ওভাবেই ওরকম গা ভর্তি অলংকার আর কাতান পরেই (দ) হয়ে শুয়ে থাকে নীলা। আর কিষান সেই দ ভেঙে (।) করে বুকের আঁচল সরিয়ে ব্লাউজের বোতাম পটাপট খুলে নেয়, কাঁচুলি থেকে সরাতেই নীলার স্তনজোড়া লাফিয়ে ওঠে। শক্ত আঙুলে সেদ্ধ আলু ডলার মতো দুরন্ত স্তনদুটোকে ডলে নিস্তেজ করে কিষান।… কিষানের লোমশ শরীরের তলে সে নিসাড় পড়ে থাকে। নিজেকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি সুখ পাও এসবে? নিজেকেই উত্তর দেয়, না।’ (পৃষ্ঠা ২৫, বানান ও ভাষা-রীতি অবিকৃত)

তার মানে কি সেক্স করতে ইচ্ছে করে না নীলার? ঠিক উলটো। খুব ইচ্ছে করে ক’রতে, কিন্তু তাই বলে ওরকম যন্ত্রের মতো নয়। একটা ভালবাসা থাকবে না, মানে যাকে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট বলে? প্যারিসের রাস্তায় বাসের মধ্যে নীলার অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি শুনুন এইবার, ‘নীলা দেখছে (ফরাসি) যুবকটি একটির পর একটি চুমু খাচ্ছে আর যুবতীটির পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করছে। এক শরীরের সঙ্গে আরেক শরীর মিশে একাকার। নীলার ইচ্ছে করে মেয়েটির মতো আদর পেতে, ইচ্ছে করে এমন এক সুদর্শন যুবক তাকে এমন করে ভালবাসুক, এমন করে জড়িয়ে থাকুক, এমন গভীর করে চুমু খাক।’ (পৃষ্ঠা ৬৫)।  কিংবা এর কিছুটা পরে যেমন লেখা, ‘সুদর্শন পুরুষ থেকে নীলা চোখ ফেরাতে পারে না। তার ইচ্ছে করে পুরুষটি তাকে বলুক ভালবাসি। পুরুষটি তাকে চুমু খাক। তাকে নিয়ে শৃঙ্গারে মাতুক, পুরুষটি তার ভেতর ঘরে চলে যাক অপার আনন্দে।’ (পৃষ্ঠা ১১৯-১২০)।

‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’ নিয়ে লিখতে বসে একটানা এতক্ষণ ওই নীলার কথা লিখলাম কেন, এবার বুঝতে পারছেন নিশ্চয়? ছবিটা দেখতে বসে খালি যে মনে হচ্ছিল, যে চারটে মেয়ের গল্প নিয়ে ছবিটা তৈরি, ওদের প্রত্যেকেই আমার বড্ড চেনা। কাউকে আমি এরকম সব বইয়ের পাতায় দেখতে পেয়েছি, আর কারুর সঙ্গে আবার দ্যাখা হয়ে গেছে এই রিয়্যাল লাইফেই।

তিনটে বাচ্চা, তিনটে গর্ভপাত আর জরায়ুতে ক্ষত নিয়ে শিরিনের জীবন

শিরিন আসলামের (অভিনয়ে কঙ্কনা সেনশর্মা) কথাই ধরুন। ক্যারেক্টারটা প্রায় যেন ওই নীলার থেকে তুলে নিয়ে এনে বসিয়ে দেওয়া। ফারাক বলতে এটুকু যে, প্যারিস গিয়ে পৌছনোর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বরের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে রাস্তায় নেমে পড়েছিল নীলা। কিন্তু সিনেমায় শিরিন তেমন সাহস দেখিয়ে উঠতে পারে না চট করে।

বরের দুর্ব্যবহার সহ্য করে মুখ বুঁজে সংসারের জোয়াল টানতে থাকে শিরিন। কয়েক বছরের মধ্যে পরপর তিনটে বাচ্চা, তারপর আবার তিনটে অ্যাবর্শন। এরপর শরীরে আর কিছু বাকি থাকে? ওরও থাকে নি, ডাক্তার পরীক্ষা করে বলে দিচ্ছে, এখন নাকি ইউটেরাসে ওর ঘা হয়ে গেছে পুরো। বারবার করে বলে দ্যায় এটাও যে, এবার থেকে বরকে কনডোম ইউজ করতে বোলো প্লিজ।

আরও পড়ুন:  নিজে নারী হয়েও একজন ধর্ষিতাকে এ কী পরামর্শ দিলেন কিরণ খের?

কে কিনবে কনডোম? তিন পুঁচকে বাচ্চাকে স্কুল থেকে ফেরত আনার সময় লজ্জার মাথা খেয়ে ওদেরকে সঙ্গে নিয়েই ওষুধের দোকানে এক কাঁড়ি লোকের মধ্যে বোধহয় জীবনে প্রথমবার কনডোম কিনতে ঢোকে শিরিন। দোকানদার আবার বেশ নিস্পৃহভাবেই জানতে চায়, কোন কোম্পানির দেব বলুন? আর কী ফ্লেভারের দেব? চকলেট? ইয়া নয়ি ফ্লেভারওয়ালি আয়ি হ্যায় – স্ট্রবেরি?

রাতে সেই কনডোম দেখে ওর বর রহিম আসলাম (অভিনয়ে সুশান্ত সিং) তো হাঁ! এটা কে কিনে আনল, শুনি? তখন বরকে আবার বানিয়ে বানিয়ে বলতে হয়, আরে না না, আমি ওসব কিনে আনতে যাব কেন, ফ্রি স্যাম্পল হিসেবে পেলাম না সেই সেদিন?

এত কিছু করার পরেও লাভ হয় না কিছু। কনডোম ইউজ করতে কোন উৎসাহ পায় না ওর বর। দু’ আঙুলে ওটা নাচিয়ে ওপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে প্যান্ট খুলে দিব্যি ফের উঠে পড়ে শিরিনের ওপর। কোন আদর নেই, ফোর প্লে নেই, জাস্ট একটা মেয়ের ওপর উঠে একটা ছেলে তার তার ঘা-ধরা জরায়ু-মুখের দিকে নিজের বডির একটা পার্ট ঠাসছে। সিনটায় দ্যাখান হচ্ছে সেক্স, কিন্তু একটা লেভেলে গিয়ে মনে হচ্ছে এটা যেন আসলে কোন বীভৎস রসের সিন! দম-টম সব আটকে আসে যেন!

একটু আগে তসলিমার লেখা থেকে নীলার সেক্স লাইফের যে পোর্শনটা কোট করেছি, পারলে সেটা আরেকবার পড়ে নিন। এ ছবির শিরিন আর ওর বরের সেক্স সিনগুলো তাহলে দেখতে পাবেন সাফ।

একটা সময় তো অবস্থা এরকম যে, শিরিন আর নিতে পারছে না কিছুতে। চোখ ভরে গেছে জলে। শিরিনকে বলতে শুনি, এবার ছেড়ে দাও, ওখানটায় আমার জ্বালা করছে খুব।

এতে ওর বর থামবে কী, লোকটার তেজ আর রাগ তখন আরও বেড়ে যায় যেন। রহিমের মনের ভাবটা মোটামুটি এরকম দাঁড়ায় যে, সাহস তো কম না মাগীর! এত বড় আস্পর্ধা যে, নিজে মুখে বাহানা দেখিয়ে আমাকে কিনা লাগাতে বারণ করে! আজ ওর একদিন কি আমার একদিন!

ইন্টারভ্যাল হওয়ার ঠিক আগের সিনটা এরকম যে ওয়াক্সিং করতে পার্লারে গিয়ে টপ টপ করে চোখের জল ফেলছে শিরিন। ওয়াক্সিং করতে গিয়ে এত ব্যথা লাগে না তো কখনও কারুর? যে চোখে জল চলে আসবে এভাবে? ব্যাপারটা ধরতে পেরে যায় পার্লারের স্টাফ লীলা (অভিনয়ে আহানা কুমরা)। বলে, ভালবেসে তোমার শরীরের নিচের দিকে তোমার বর কখনও আদর করে না, না? কভি কিস কিয়ে হ্যায় আপকো?

এবার আসুন ওই লীলার জীবনে।

লীলাকে কিন্তু এই প্রথম দেখছি না আমরা। সিনেমার প্রথম থেকেই পাশাপাশি চারটে মেয়ের গল্প বলা হয়েছে এই ছবিটায়, সেই চারটে মেয়ের একজন হল এই লীলা। এবার ওর জীবনের ক্রাইসিসটা কী শুনুন।

১৭ বছর ধরে লীলার মা লীলাকে বড় করার জন্যে রোজ একঘর লোকের সামনে ল্যাংটো হয়ে দাঁড়ায়। ভুল ভাববেন না, ওর মা কিন্তু প্রস্টিটিউট কিংবা স্ট্রিপ টিজের ড্যান্সার নয় কোন। তাহলে? ওর মা হল আসলে প্রফেশনাল ন্যুড মডেল। আর্ট স্কুলে গিয়ে শিল্পীদের তুলির সামনে উদোম হয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে হয় তাঁকে, বিনিময়ে তিনি তাঁর আর তাঁর মেয়ে, এই দুটো পেটের খাই-খরচটা পান।

যুবতী মেয়েকে ভাল দেখে একটা পাত্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে এখন তাঁর সব আয়োজন রেডি। শান্ত সুবোধ হবু জামাইকে বলে-কয়ে নিজের জন্যে মাথা গোঁজার আস্তানাও হয়েছে একটা। কিন্তু লীলা তো ভালবাসে অন্য একটা ছেলেকে। সে হল লোকাল ফটোগ্রাফার আরশাদ (ভিক্রান্ত ম্যাসে)। তাহলে? জীবনের এই জটিল অঙ্ক এবার মিলবে কী করে বলুন?

মরিয়া হয়ে সেই আরশাদের সঙ্গে দোকানে দোকানে কাজের খোঁজে ঘুরতে থাকে লীলা। আপনার কোম্পানির ওয়েডিং প্যাকেজে একটু চান্স দেবেন আমাদের, স্যর? চান্স তো পায়-ই না, উলটে এসে পড়ে মায়ের খুঁজে দেওয়া সেই সুপাত্রের সঙ্গে লীলার পাকা দেখার দিন। তারপর?

নিজের আশিককে এভাবে ছেড়ে দেবে কী করে লীলা? বাড়ির সেই অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্যে আরশাদকেই ডেকে আনে ও। এরপর যেটা করে, সেটা চরম। ভর সন্ধেবেলা বাড়ির ফিউজ উড়িয়ে দিয়ে সেই সুযোগে বধূসাজে ঘাগরা চোলি সব প’রে দাঁড়িয়ে পড়ে আরশাদের দিকে পিছন ফিরে। ঘন অন্ধকারে আরশাদ ওর ঘাগরা উঠিয়ে তুমুল ভাবে পায়ুমেহন করতে থাকে তখন। আবছা একটু আলো আর অনেকটা অন্ধকারের মধ্যে দুজনের শরীর বেয়ে তখন উপচে পড়তে থাকে আনখশির প্লেজার।

আরও পড়ুন:  কেন হঠাৎ আরাধ্যাকে পাপারাৎজিদের থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন ঐশ্বর্য-অভিষেক!?

এর আগে আর কোন ভারতীয় ছবিতে চুটিয়ে অ্যানাল সেক্স করার এমন সিন দেখেছি কিনা, মনে করতে পারছি না ভাই! সাধে এসব দেখে-টেখে মাথা ঘুরে গেছিল পহেলাজ নিহালনির, আর সিবিএফসি বোর্ডের তরফে চিঠি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল ছবিটা।

একটা ছেলে প্লেজার পাচ্ছে, সেটা না হয় মেনে নেওয়া যায় তাও। একটা মেয়ে এইভাবে তার পাকা দ্যাখার দিন লাফাঙ্গা আশিককে ডেকে এনে তার সামনে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে পড়বে, হজম করা যায় নাকি? এটা কি সেই সবিতা ভাবী নাকি? এটুকুতেই না থেমে এরপর লীলা সেই আরশাদকে এবার নিয়ে আসে নিজের সামনে আর তারপর ফের আরেকবার শুরু হয় প্লেজার, বুঝতেই পারছেন, এবার আর অ্যানাল নয়, এবার সামনের দিক থেকে।

পহেলাজ এটা বুঝলে তো, যে শরীরের প্লেজার পাওয়ার ইচ্ছে শুধু সবিতা ভাবীর নয়, তাবৎ জীব-কুলেরই আছে!

তুমুল এই ঝড়ের মাঝে দুম করে ছন্দপতন হয়। দরজায় ছিটকিনি দেওয়ার কথা মাথায় ছিল না বোধহয়, মায়ের চোখে ধরা পড়ে যায় লীলা। ওর মা শকড হয়ে যান ঠিকই, কিন্তু চেঁচাতে পারেন না বেশি, কারণ লোক জানাজানি হলে বিয়েটা ভেঙে যাবে আর সুপাত্রটা পালিয়ে যাবে যে। জীবনের প্যাঁচটা বুঝুন খালি। মিলনের মাঝপথে এক ধাক্কা মেরে ছেলেটাকে ভাগিয়ে দিয়ে ঘেমে-নেয়ে একসা হওয়া মেয়েটার ঘাম মুছিয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক মেরে ফের একবার সনাতন বধূবেশে ওকে সাজিয়ে তোলেন উনি।

হায় রে কপাল!

লীলা তো এদিকে বোধহয় সেক্স নিয়ে প্রায় অবশেসড। শরীরের প্লেজার না নিয়ে একদিনও থাকতে পারে না মেয়ে। আরশাদের সঙ্গে মোলাকাত বন্ধ হলে, তখন ও পাকড়ে ধরে হবু বরটিকেই। আজ বাদে কাল বিয়ে, কিন্তু অতক্ষণ তর সইবে কী করে, স্যর? মনোজ (বৈভব তত্ত্বদি) নামের সেই ছেলেটাকে গাড়ির মধ্যে একলা পেয়ে যা করার শুরু করে দ্যায় লীলা।

ম্যাক্সিমামটা হয়ে যাওয়ার পর ফাইনাল কাজটা করার জন্যে ওকে যখন প্যান্টটা নামিয়ে নিতে বলে, কী হতভম্বই না হয়ে গেছিল খুব ভদ্র ছেলে মনোজ। বলছিল, এটুকু সুহাগ রাতের জন্যে তুলে রাখলে হয় না? সে দিন আমাদের দুজনের এই সব কিছু প্রথম বার হবে, সারা জীবন মনে রাখবো সেটা, সেটাই বেটার না?

একদিকে শরীরের তুমুল উল্লাস। পাশাপাশি নিষ্পাপ ইনোসেন্স! এই সিন দেখে স্টান্‌ড না হয়ে আপনি যাবেন কোথায় বলুন!

এই সময় আমার মনে হচ্ছিল লীলার ওপরও একটু যেন ছায়া ফেলছে তসলিমার লেখা সেই নীলা নামের মেয়েটা। সেক্স নিয়ে এরকম একটা পাগলামি তো নীলারও ছিল, না?

বরকে ছেড়ে হুট করে বেরিয়ে আসার পর ফ্লাইটে হঠাৎ করে ফরাসি দেশের বেনোয়া দুপঁ’র সঙ্গে আলাপ। এরপর খুব দ্রুত বেনোয়া’র সঙ্গে ফিজিক্যাল রিলেশনে জড়িয়ে পড়ল নীলা। বেনোয়ার বৌ আছে, বাচ্চা মেয়ে আছে, এটা জানার পরেও নিজেকে থামাতে পারে না ও।

থামাবে কী করে, ততক্ষণে বেনোয়া’র শরীরের বিশেষ একটা অংশ নিয়ে রীতিমতো অবশেসড্‌ হয়ে পড়েছে ও। সেটা কোন অংশ, এখানে সেটা লিখতে চাই না আমি। বইটা নিজে পড়ে জেনে নেবেন প্লিজ, আর তখন মিলিয়ে দেখবেন এখানে লীলার এই ঝড়ের মতো উদ্দাম সেক্স-যাপনের সঙ্গে সেই নীলার তুলনা করে কিছু ভুল করলাম কিনা।

শিরিন আর লীলার পাশাপাশি আরও যে দুজন মেয়ে আছেন এখানে, তাঁদের একজন হলেন তরুণী রেহানা আবিদি (প্লাবিতা বড়ঠাকুর)। বাবা পেশায় দর্জি। কলেজ যাওয়ার নাম করে বোরখায় সর্ব অঙ্গ ঢেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। কালো বোরখার সুযোগ নিয়ে টুপ করে শপিং মলের দোকান থেকে এটা-ওটা বিলাস দ্রব্য হাতিয়ে নেয় প্রথমে। ইংরেজিতে যাকে শপ লিফটিং বলে। এরপর কোন একটা রেস্ট রুমে ঢুকে বোরখা খুলে ট্রেনডি পোশাক পরে ঝিনচ্যাক জীবন-যাপন তো জাস্ট যেন চুটকি মেরে হয়।

আরও পড়ুন:  এক বছর কোমায় থাকার পর চলে গেলেন পরিচালক-অভিনেতা নীরজ ভোরা

ঠিক ধরেছেন, বাপে বোরখা দিয়ে সর্ব অঙ্গ ঢাকতে চাইছে বলেই কি মেয়ের যৌবন তা মানতে চায় নাকি? নাইট ক্লাবে নাচ, জমিয়ে নেশা করা, তারপর একটা গানের গ্রুপ থেকে ধ্রুব (শশাঙ্ক অরোরা) নামে একটা ছেলেকে নিয়ে রাতভ’র দুজনে মিলে…

বোরখা দিয়ে শরীর রাখতে পারেন ঢেকে। কিন্তু মন কি আর অত সহজে বাধ্য সুশীল হয়?

এই কলেজ গার্ল রেহানা কী ভাবে জড়িয়ে পড়লো পুলিশের জালে, আর রেহানার আনম্যারেড বন্ধু নম্রতার পেটের ওই বাচ্চাটা আসলে কার, সেই কথাগুলো না হয় ছবিটা দেখেই জানুন।

মোটামুটি কাছাকাছি এজ গ্রুপের এই তিনজন ছাড়া এই ছবিতে আর যিনি আছেন, তিনি হলেন বয়স্ক বুয়াজি (রত্না পাঠক শাহ)। মাথাভর্তি পাকা চুল। সেই কবে থেকে সবাই ওঁকে বুয়াজি বলে ডাকে, তাই নিজের আসল নামটা যে ঊষা পরমার, সেটা মনে করতেও কষ্ট হয় এখন। সেক্স কাকে বলে, জানার সুযোগ হয় নি কখনও। না হয়েছে বিয়ে, না হয়েছে অবৈধ কোন পীরিত। সেক্সের ঢেউ তাহলে আসবে কী করে, বলুন? সারা শরীরে ইচ্ছের আগুন কিন্তু এদিকে তবু ধিকধিকিয়ে জ্বলে।

এরকম হাফ-বুড়ি এক মহিলাকে ভাগবত পাঠের আসরে দেখতে বেশি ভালো লাগে, ভাই! কী হয়, যদি তার বদলে দেখতে হয় একেবারে উলটো সব সিন?

লুকিয়ে কাঁচা কাঁচা সব প্রেমের গল্প পড়ছেন বুয়াজি, সেক্সি অন্তর্বাস কিনতে যাচ্ছেন শপিং মলের দোকানে। থাকতে না পেরে এক সময় যৌবনে ভরপুর এক ট্রেনারের কাছে সাঁতার শিখতে ভর্তি হচ্ছেন সাঁতার-ক্লাবে গিয়ে। রাত হ’লে মিথ্যে ‘রোজি’ নামে লুকিয়ে লুকিয়ে সেক্স-চ্যাট করছেন সেই ট্রেনারের সঙ্গে!

সারা জীবন শরীর জুড়ে ঘোর অতৃপ্তি পোষার পরে এখন প্রায় নাতির বয়সী একটা ছেলের কাছে কাতর হয়ে শেয়ার করছেন যৌন-বাসনাগুলো। বুকের অন্তর্বাসের তলায় হাত ঢুকিয়ে ডলে দিলে কেমন লাগতে পারে, বলতে গিয়ে কামনায় থরথরাচ্ছে গলা।

মনে হচ্ছিল প্রণাম করি ছবিটাকে। হিন্দি সিনেমায় ‘ফায়ার’ (১৯৯৬) হয়ে গেছে, ‘অ্যাংরি ইন্ডিয়ান গডেসেস’ (২০১৫) হয়ে গেছে, ‘পার্চড’ (২০১৫) হয়ে গেছে জানি। কিন্তু আজ অবধি হিন্দি ছবিতে এরকম বুয়াজি হয়েছে কখনও? বুড়ো বয়স নিয়ে এতটা অনেস্ট এর আগে আর হতে পেরেছে ভারতের কোন ছবি?

ছবির ক্লাইম্যাক্সে দীর্ঘ একটা দিওয়ালির সিন আছে। সেটা নিজে সিনেমা হল-এ গিয়ে দেখবেন ভাই। আমি শুধু বলবো ওই অংশে ছবির অনবদ্য সেই অডিও ট্র্যাকের কথা। অ্যাম্বিয়েন্স সাউন্ডের ট্র্যাক, সেটা জুড়ে দিওয়ালির রাতে বাজি ফুটবার আওয়াজ। ভাবুন একবার প্লিজ। ক্যামেরা কিন্তু ক্যারেক্টারগুলোকে ধরে রেখেছে চার দেওয়ালের মধ্যে, বা বড়জোর বাড়ির উঠোনটুকু জুড়ে। আর ঠিক সেই সিনেই চতুর্দিকে বাজি ফাটার মায়াবী শব্দ এমন ভাবে দেওয়া, যে সবটা মিলিয়ে অদ্ভুত একটা নেশার মতো ঘোর এসে যায় যেন! এত ছবিতে এত বাজি ফুটতে দেখেছি আগে, এর আগে এমনটা আর কখনও হয় নি তো?

একটা অডিও ট্র্যাকের কথা আলাদা করে এতটা লিখলাম মানে বুঝতে পারছেন তো যে সেটা কতটা স্পেশ্যাল লেগেছে আমার।

ছবিটা কারা বানালেন, এবার সেটা একটু লিখি। এই ছবির ডিরেক্টরের নাম অলংকৃতা শ্রীবাস্তব। এই ছবির প্রযোজকের নাম প্রকাশ ঝা। প্রকাশ ঝা’য়ের তৈরি ছবিতে সহকারীর কাজ করে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অলংকৃতা। আর এই প্রকাশের প্রযোজনাতেই তাঁর প্রথম ছবি তৈরি। ‘টার্নিং থার্টি’ (২০১১) নামে সেই ছবিটা ছিল পুরো সুপার ফ্লপ। পাবলিক তো দ্যাখেই নি, সমালোচকেরাও প্রায় ঝামা ঘষে দিয়েছিল মুখে।

আর তারপরেই এবার কী হলো, দেখুন। এ তো জাস্ট আগুন জ্বেলে দিল এই ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’! রিলিজের সেকেন্ড উইক চলছে এখন। রোববার সকালের দিকে লোকে কোথায় আলসেমি করে ল্যাদ খাবে একটু, ঘুম থেকে উঠবে খুব বেশি দেরি করে। ভেবেছিলাম ‘হল’ বোধহয় ফাঁকাই থাকবে প্রায়। কোথায় কী, কলকাতার মাল্টিপ্লেক্সে সেখানে কিনা প্রায় হাউস ফুল শো!

হাত খুলে ফুল মার্কস দেওয়ার মতো ছবি এই বাজারে খুব একটা বেশি আসে না। হ্যাঁ, এতদিন পর এই একটা এলো। এমন একটা ছবি, যেখানে নম্বর কাটার কোথাও কোন সুযোগই নেই।

 

NO COMMENTS