সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডে আঘাত ? নাকি‚ সমকামী স্বামীর থেকে নোংরা অসুখ ? কোন কারণে মৃত্যু হয় কনস্টান্স ওয়াইল্ডের ? মৃত্যুর ১১৭ বছর পরেও অস্কার ওয়াইল্ডের স্ত্রীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনা-রটনার শেষ নেই | এ বার হয়তো নিভতে চলেছে সেই জল্পনার আগুন | সৌজন্যে‚ ওয়াইল্ড-দম্পতির নাতি‚ মার্লিন হল্যান্ড | তাঁর হাতে আসা বেশ কিছু পারিবারিক চিঠি তিনি প্রকাশ করেছেন | যা আলো ফেলেছে কনস্টান্সের জীবন এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার অধ্যায়ের দিকে |

কনস্টান্স নিজেও ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের আইরিশ সাহিত্যিক | ছোটবেলায় তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বড় হন দাদুর কাছে | কারণ বাবাকে ছেড়ে তাঁর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন | ১৮৮৪ সালে অস্কার ওয়াইল্ডকে বিয়ে করেন ২৫ বছর বয়সী কনস্টান্স | দু বছরের মধ্যে দুই ছেলের মা |

বিয়ের ১১ বছরের মধ্যেই দাম্পত্য হল তাসের ঘর | কারণ সমকামী ওয়াইল্ড তখন বাড়ির থেকে হোটেলে থাকতেই বেশি ভালবাসেন | স্বামীর এই অবস্থায় কনস্টান্সের জীবনেও এসেছেন নতুন প্রেমিক | অস্কার-কনস্টান্সের বিয়ে ভাঙেনি ঠিকই | কিন্তু ১৮৯৫-এ দুই ছেলে সিরিল এবং ভিভিয়ানকে নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে গেলেন কনস্টান্স | ইউরোপের অন্য দেশে | স্বামীর কেচ্ছা থেকে ছেলেদের দূরে রাখতে গ্রহণ করেন হল্যান্ড পদবী | ফলে‚ তাঁর নাতিও আজ এই পদবী ব্যবহার করেন |

মার্লিন হল্যান্ড পেয়েছেন ১৩০ টি চিঠি | ১৮৭৮ থেকে মৃত্যু অবধি কনস্টান্স লিখেছেন ভাইকে | তা থেকে বোঝা যাচ্ছে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছিলেন কনস্টান্স | সিঁড়ি থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলেন | একজন জার্মান হাতুড়ে শক থেরাপি সহ নানা উদ্ভট চিকিৎসা করেন | পরে একজন ইতালীয় স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অস্ত্রোপচার করেন তাঁর শরীরে | দেহ থেকে সরানো হয় Fibroids | এই অস্ত্রোপচারকে আজও খুবই জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে মান্যতা দেওয়া হয় | সে যুগে ঝুঁকি ছিল শতগুণ বেশি | এটা আদৌ দরকার ছিল কি না তা নিয়েই দেখা দিয়েছে সন্দেহ | এবং অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ভেঙে পড়তে থাকে কনস্টান্সের দেহ | কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েন তিনি |

আরও পড়ুন:  হঠাৎ কেন পাজামা পরে বোর্ড মিটিং-এ বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি জেফ বেজোস!?

১৮৯৫ সালে ভাইকে চিঠি লিখেছেন কনস্টান্স | জানিয়েছেন‚ ধীরে ধীরে হাঁটতে পারছেন | অথচ ঠিক এক বছর পরে তিনি লিখছেন‚ সুস্থ হওয়ার সব আশা হারিয়ে ফেলেছেন | স্ত্রী কনস্টান্স যখন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছেন‚ স্বামী অস্কার তখন সমকামিতার দায়ে লন্ডনের জেলে বন্দি | সেখানে গিয়েও দেখা করে এসেছিলেন কনস্টান্স | জানিয়েছিলেন স্বামীর মাতৃবিয়োগের খবর | ১৮৯৭ সালে মুক্তি পান অস্কার ওয়াইল্ড | তার এক বছরের মধ্যে মারা যান তাঁর সাহিত্যিক-স্ত্রী কনস্টান্স | মাত্র ৪০ বছর বয়সে | স্বামী অস্কার তখন নির্বাসনে | স্ত্রী বিয়োগের পরে বেশিদিন বাঁচেননি অস্কার ওয়াইল্ড নিজেও | ১৯০০ সালে প্রয়াত হন ‘দ্য পিকচার অফ ডোরিয়ান গ্রে‘-এর স্রষ্টা‚ মাত্র ৪৬ বছর বয়সে |

ঠাকুমার অকাল প্রয়াণের জন্য মার্লিন দায়ী করেছেন জার্মান হাতুড়ে ( নাম জানা যায়নি) এবং ইতালীয় স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ লুইসি মারিয়া বসি-কে | তাঁর কথায়‚ ডাক্তার বসি কর্ম ফলের শাস্তি পেয়েছিলেন | তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ঘাতকের হাতে |

সেইসঙ্গে মার্লিনের আশা‚ এতদিনে তাঁর পিতামহী মুক্তি পেলেন | সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার অপবাদ থেকে মুক্ত হলেন ‘ দেয়ার ওয়জ ওয়ন্স‘-এর লেখিকা | অকালমৃত্যুর ১১৭ বছর পরে |

NO COMMENTS