ষোড়শ শতকে সম্রাট আকবর পরিবর্তন করেছিলেন খাজনা আদায়ে সুবিধের জন্য | তখন কি আর মোগল সম্রাট জানতেন একদিন তাঁর করা পরিবর্তন হয়ে উঠবে বাঙালির প্রতিবাদের হাতিয়ার ?

আকবরের নির্দেশে তাঁর সভার গণৎকার বানালেন নতুন ক্যালেন্ডার | সৌর এবং চান্দ্র বছরের হিসেব মিলিয়ে শুরু হল নতুন দিনপঞ্জী | ক্রমে এর নাম হল বঙ্গাব্দ | নতুন বছরের শুরুর দিনটি পালন তৎকালীন পূর্ববঙ্গে হয়ে উঠল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ | তখন পূর্ব পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হল রবি ঠাকুরের সৃষ্টি |

গর্জে উঠল বাঙালি | ১৩৭২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে বা ১৯৬৫-র মাঝ এপ্রিলে ঢাকার রমনা ময়দানে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গেয়ে স্বাগত জানানো হল নতুন বছরকে | ১৯৭২ থেকে এটা হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের জাতীয় উৎসব |

এই দেশের আধুনিক প্রজন্মও এদিন সেজে ওঠে সাবেক সাজে | পয়লা বৈশাখ বা এঁদের ভাষায় ‘পহেলা বৈশাখ’ ভোর মানেই সবার গন্তব্য রমনা ময়দান |

ভোরের সূর্যের দেখা পাওয়া মাত্র শুরুর গান | সঙ্গে নাচ | এছাড়াও নানা সাংস্কৃতিক উৎসব | সঙ্গে চিত্র বিচিত্র মুখোশ পরে শোভাযাত্রা | যার পোশাকি নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা |

রমনা ময়দান জুড়ে তখন চারদিকে বাংলার লোকশিল্পের পশরা | আর লোকসংস্কৃতির মেলা | শুধু ঢাকার রমনা ময়দানের বটগাছের তলাই নয় | নববর্ষকে স্বাগত জানাতে রঙিন হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম, খুলনা-সহ ওপার বাংলার প্রতিটা শহর |

কালের সঙ্গে মিলিয়ে গেছে বহু পুরনো উৎসব | বাইচ প্রতিযোগিতা, মোরগের লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা আজ চোখে পড়ে না | তবে এখনও টিকে আছে চট্টগ্রামের কুস্তি আর রাজশাহির গম্ভীরা নাচের প্রতিযোগিতা |

বর্ষবরণের উৎসবে যোগ হয়েছে অনেক কিছু | এখন ক্লাবে ক্লাবে পার্টি হয় নতুন বঙ্গাব্দ উপলক্ষে | ওপার বাংলার নতুন প্রজন্ম নিজেদের মতো করে আপন করে নিয়েছে গ্রাম বাংলার এই সাবেক পার্বণকে |

তবে হাজার পরিবর্তনের ঢেউও পাল্টাতে পারেনি একটি জিনিসকে | নববর্ষের ভুরিভোজ | ভোরবেলা থেকে জমিয়ে নাচগানের পর দ্বিপ্রাহরিক আহারে অবশ্যই থাকে পান্তা ভাত, কাঁচা পেয়াঁজ, কাঁচা লঙ্কা, আচার এবং ইলিশ মাছ ভাজা | পিজ্জা আর পাস্তায় অভ্যস্ত আঙুলও ম্যানেজ করে নেয় পান্তা আর ইলিশের সমীকরণ |

আরও পড়ুন:  পিতাজি রাম রহিমের মুখদর্শন করে করবা চওথ ব্রত ভঙ্গ করতেন সাধ্বীরা !

NO COMMENTS