বাংলালাইভ রেটিং -

অনুষ্কা শর্মা নামটা শুনলে এতদিন প্রথমেই যেটা মনে পড়ত, ‘যব তক হ্যায় জান’-এর সেই সিকোয়েন্স। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ব্রিজের তলায় বোম ডিফিউস করবে বলে ঝুলে পড়েছে ভয়-ডরহীন মেজর সমর আনন্দ, মানে শাহরুখ খান স্বয়ং। আর ঠিক তাঁর পাশে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর ওপরে ব্রিজের তলায় দড়ি আঁকড়ে ঝুলছে তন্বী সুন্দরী আকিরা রাই, মানে বছর চব্বিশের অনুষ্কা শর্মা নিজেও। কেন? বাহ, ‘ডিসকভারি’ চ্যানেলের জন্যে মহিলাকে হাতে-গরম ফুটেজ তুলতে হবে যে। সেই সিনেমায় অনুষ্কা’র রোল তো ছিল টিভি জার্নালিস্টেরই।

‘যব তক হ্যায় জান’ ছবিতে ব্রিজের নিচে ঝুলতে ঝুলতে সেই প্রপোজ করার দৃশ্য!

অনুষ্কার তো এতগুলো সিনেমা আছে। সেই সব কিছু ছেড়ে এই সিকোয়েন্সটাই আলাদা করে মনে রয়ে গেছে কেন? কারণ ওইভাবে ঝুলতে ঝুলতে আকিরা রাই’য়ের মুখের লা-জবাব সব কথা! ওটা ছিল আসলে প্রপোজ করার সিন! ওই সমর আনন্দ তো ওর বাপের বয়সী প্রায়। ব্রিজের তলায় ঝুলতে ঝুলতে সেই লোককে প্রপোজ করতে গিয়ে আকিরা বলে দিয়েছিল, ‘এক মাইন্ড ব্লোয়িং অফার হ্যায়। শুনো গে?… মুঝে গার্ল ফ্রেন্ড বনা লো। আরে! ইয়াং হু! এন্টারটেনিং হু! সেক্সি হু। বডি তো তুমনে দেখি হুয়ি হ্যায়। অ্যাকচুয়ালি তুমহারে লিয়ে তো জ্যাকপট হু। লিমিটেড অফার হ্যায় – শোচ লো।’

সেটা ২০১২। চেষ্টা করেও মনে পড়ছিল না এত স্মার্ট হিরোইন এসেছে কিনা এর আগে হিন্দি সিনেমায় যে মস্তি করে রেলা মেরে এরকম সব ডায়ালগ ক্যারি করে নিয়ে যেতে পারে। হিন্দি সিনেমার হিরোইন বডি খুলে যা দ্যাখানোর দেখিয়ে দেবে ঠিকই। কিন্তু কোথাও সেটার উল্লেখ এলে লজ্জা পেয়ে কুঁকড়ে যাবে এমন, যে মনে হবে ভিলেজ-ফ্রেশ সতী লক্ষ্মী যেন! এতদিন সেটাই ছিল নিয়ম। সেখানে এ কে এলো রে ভাই যে হাসতে হাসতে নিজের বডি দেখানোর গল্প করছে রসিয়ে। নিজেকে বলছে এনটারটেনিং আর সেক্সি। এই সিনটার একটু আগেই ছিল সেই কাপড় জামা খুলে ফেলে দিয়ে জাস্ট একটা বিকিনি পরে প্যাংগং লেকে ঝাঁপ মারবার সিন। ‘বডি তো তুমনে দেখি হুয়ি হ্যায়’ ডায়ালগটা শুনতে গিয়ে এরপর সেই রেফারেন্স মনে না পড়ে পারে!

নিজের প্রযোজনার প্রথম ছবিতে রুদ্ররূপিণী অনুষ্কা। কে বলবে ইনি এনটারটেনিং আর সেক্সি!

২০০৮ সালে প্রথম হিন্দি সিনেমায় পা। পা রেখেই একের পর এক হিট। এভাবে বছর ছয়েক গেল। তারপর ছ’ বছরের মাথায় নিজের প্রোডাকশন কোম্পানি শুরু। নাম রাখা হল ‘ক্লিন স্লেট ফিল্মস’। এবার সেখান থেকে একের পর এক চমকে দেওয়া ছবি বানানোর প্ল্যান। রিয়্যালিস্টিক হিন্দি সিনেমার হিরোইন যে ঝাড়পিট করে একাই লড়ে বাঁচতে পারে, সেটাই যেন দেখিয়ে দিল সেই হাউসের প্রথম ছবি ‘এন এইচ টেন’ (২০১৫)। মেয়েরা মানে চালু একটা ধারণা আছে যে নরম-সরম ব্যাপার হবে কিছু। কোথায় কী, সেই ‘এন এইচ টেন’ তো একেবারে ভায়োলেন্সের ঝড়! এর পরের ছবি এই ‘ফিল্লৌরি’তে মারামারি-কাটাকাটির ভাগ কিছুটা হয়তো কম। কিন্তু এখানেও সেই একটা কথাই বলা। মেয়ে বলে নাক সিঁটকে কাদের তুমি সাইডে ঠেলছো ভাই?

সবে দেখে উঠেছি ‘ফিল্লৌরি’, সত্যি বলছি থতমতো খেয়ে গেছি প্রায় যেন। ভারতে তাহলে এমন ছবিও হয়? ওপর ওপর দেখতে গেলে হাসি প্লাস রূপকথা আর ভূত-টুত নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি রোমান্স। কিন্তু একটু খুঁড়ে দেখতে গেলে যে এ ছবিতে লেয়ারের পর লেয়ার, আর ভাঁজের পরে ভাঁজ!

নিজেকে নিয়ে যে বিশেষণগুলো যশ চোপড়ার ছবিতে সেই আকিরা ওরফে অনুষ্কাকে বলতে শুনেছি, সে সব কিছুই মিলছে না যে আর। আদিত্য চোপড়ার লেখা ডায়ালগে তো শুধু সেক্স দেওয়া ছিল ঠাসা! কিন্তু এখন ‘ফিল্লৌরি’ দেখে উঠে যে উলটে এইটে মানতে হচ্ছে, অনুষ্কা মানে শুধু চকচকে ওই শরীর আর সেক্স নয়, বরং তুখোড় একটা মাথাও। ‘ফিল্লৌরি’র গল্পটা অনুষ্কা নিজে লেখেন নি জানি। কিন্তু হাউসে জমা পড়া সাড়ে ছ’ হাজার স্টোরির ভিড় থেকে এমন একটা স্টোরি আলাদা করে চিনে নেওয়া – সেটাও কি চাট্টিখানি কথা!

আরও পড়ুন:  শ্রীদেবী সম্পর্কে পাবলিকলি আলোচনা করে ভুল করেছেন‚ মানছেন 'বাহুবলী'র পরিচালক রাজামৌলি

ছবির গল্পটা যে মিষ্টি একটা ভূতের গল্প, সেটা তো আপনি ট্রেলার দেখেই জানেন। কিন্তু অনুষ্কা এর ভেতরে প্যাঁচটা কী কষেছেন, জানেন? মিষ্টি রূপকথা বলতে গিয়ে হাট করে খুলে দিয়েছেন বড় বাড়ির গা ঘিনঘিনে কেচ্ছাকাহিনীগুলো! এন্ড এফেক্টটা হচ্ছে ঠিক অনেকটা সেই চ্যাপলিনের ছবির মতো যেন। উদ্ভট সব কাণ্ড দেখে পাগল হচ্ছি হেসে। কিন্তু সে সব নিয়ে তলিয়ে কিছু ভাবতে গেলেই মাথার মধ্যে খুনখারাপি ছ্যাঁকা লাগার জোগাড়! 

রক্তের জটিল অসুখে চলে গেছেন হিন্দি সিনেমা-থিয়েটারের উজ্জ্বল অভিনেতা শিভম প্রধান। ‘ফিল্লৌরি’ তাঁর শেষ ছবি। তবে এ ছবির কোন রিভিউ বা প্রতিবেদনে তাঁ

ছবি থেকে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলি বরং! ছবির ওই পীযূষ (অভিনয়ে অকাল-প্রয়াত শিভম প্রধান) নামের ছোকরা চাকরটার কথাই ধরুন না হয়। তাকে দেখতে যেন ঠিক মহাবিচ্ছু এক খোকার মতো, আর কী পাকা-পাকা কথা যে তার মুখে! পরে দেখলাম, আরিব্বাস, বাড়ির চাকরকুলের অঘোষিত বড়কর্তা যে সে-ই! ভূত-পেত্নীর হাসির গল্পে মনে মনে এর বিচ্ছুমিটা দ্যাখার জন্যে যখন তৈরি হয়ে গেছি, এক ঠ্যালা মেরে সিনেমাটা যেন ঢুকিয়ে দিল ভয়ানক এক সিনে!

সেটা কী রকম বলতে গেলে, প্রেক্ষাপটটা বলে নিতে হবে আগে। পঞ্জাবে বড়লোক এক বিয়েবাড়িতে একের পর এক হুল্লোড়ে ভাসা সিন। তার মধ্যে বরের কোষ্ঠী ঘেঁটে পুরুত মশাই রায় দিয়েছেন যে, বর নাকি গোত্রে মাঙ্গলিক। তো বেশ তো, কী হবে এর ফলে? হবে যেটা, সেটা হল যে বরকে এই দোষ কাটাতে গেলে নাকি আগে একটা গাছ বিয়ে করে সেই গাছটাকে পরে কেটে ফেলে দিতে হবে। তবেই বর ‘দোষমুক্ত’ হবে।

এসব নিয়ে স্ক্রিন জুড়ে একের পর এক ধামাল। গাছকে বিয়ে করতে গিয়ে সেই গাছের থেকে শশী নামে এক মিষ্টি ভূতনী (অনুষ্কা শর্মা) সত্যি করে এই বাড়িতে উড়ে এসে জুড়ে বসলো যেন! সেই বর বাবাজি ভয়ের চোটে তার থেকে পালাতে পারলে বাঁচে। আর ভূতনী শশীও জোর গলায় বলতে থাকে যে কানন (বর কাননের ভূমিকায় সুরজ শর্মা) গিয়ে সেই গাছটাকে বিয়ে করেছে মানে আসলে বিয়ে করেছে তাকেই, কারণ ওই গাছটাই তো ছিল তার থাকার জায়গা! এখন নিজের বরকে ছেড়ে সে যাবেটা কোথায় শুনি!

বর কানন ছাড়া ওই ভূতনীকে আর দেখতে পায় না কেউ, অনেকটা সেই ‘গয়নার বাক্স’ (২০১৩) যেন!

তা’ এরকম সময় এমন একটা সিকোয়েন্স আছে যে, কোন্‌ একটা বেডরুমে সেই শশী জানলা দিয়ে আকাশ দেখছে দাঁড়িয়ে, আর ও যে ওখানে আছে সেটা না বুঝে আপন মনে ঘর সাফ করছে সেই ছোকরা চাকর পীযূষ। এবার হয়েছে কি, সেই ঘরের দরজায় হঠাৎ তখন হাজির হয়েছে কানন। আর শশীকে ঘরের মধ্যে দেখে তার মুখ তো গেছে শুকিয়ে!

শশী জানলার দিকে মুখে করে আছে বলে পেছনে দরজা দিয়ে উঁকি মারা কাননকে সে দেখতে পায় নি ঠিকই। কিন্তু পীযূষ তো দেখতে পেয়েছে ওকে! কী হবে যদি বেশি উৎসাহে দাদাবাবু বলে ডেকে বসে সেই ছোকরা চাকর পীযূষ? তাহলে তো সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘোরাবে শশী, আর খপ করে ধরবে কাননকে চেপে! ইশারায় তাই পীযূষকে ওর পেছনে শশীর দিকে দেখতে বলে ওকে চুপ করে থাকতে বলে কানন।

এখানেই চরম সেই কেস!

পীযূষ তো আর ভূতের কথা জানে না, শশীকে দেখতে পাওয়ার কথাও নয় ওর। পেছন ফিরলে ও যেটা দেখতে পাচ্ছে, সেটা ওই বেডরুমের ডবল-বেড খাট! আর সেই খাট দেখে আতংকে তার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হল পুরো! খাট দেখিয়ে এ কোন ইশারা করছে তাকে বাড়ির ছোট দাদাবাবু এসে?

আরও পড়ুন:  ছেলে অর্জুনকে সমকামী বলে সন্দেহ করতেন বনি কপূর!?

ভয়ের চোটে পাঁই-পাঁই করে ও পালাতে থাকে ছুটে! ওর পেছনে দুদ্দাড়িয়ে ছুটছে তখন কাননও! সেটা কিন্তু ওকে ধরতে নয়, ভূত শশীর থেকে বাঁচার জন্যে ছোটা! কিন্তু রসিকতাটা হয়ে দাঁড়ায় এইটে যে দাদাবাবু টেনে ধরে খাটে তুলতে চাইছে বলে ছোকরা পীযূষ ছুটছে, আর ওকে পাকড়ে ধরার জন্যে ওর পেছনে ছুটছে কানন নিজেও।

এসব দেখে হল-এর মধ্যে তুলকালাম হাসির ঝড় শুরু।

আমার মুখেও আলতো হাসি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি ততক্ষণে হাঁ! মিঠি-মিঠি প্রেম কাহিনী রচতে গিয়ে, চুপচাপ তার সাব-টেক্সটে এসব কীসের গল্প রইলো লুকানো?

এই সিনেই একটু পরের দিকে আসুন। ছুটে পালিয়ে ঘরে লুকিয়ে সবে সেই পীযূষ তখন হাঁফ ছেড়েছে বোধহয় একটু। বাড়ির গিন্নি মা তখন জোর করে ফের ওকে পাঠাতে চাইছে ওর সেই কানন দাদার ঘরে। বিশেষ কিছু না, সেখান থেকে কাননের কোটখানা এনে দিতে হবে জাস্ট। ব্যাস, ফের আতংকে বলির পাঁঠার মতো থরথর করে কাঁপতে থাকছে পীযূষ! কেন কাঁপছে বেচারা, মুখ ফুটে সেটা বলতে পারছে না কিছু।

নাজেহাল চাকরটার এই হালত দেখে ‘হল’ জুড়ে আবার তখন হাসি। আর আমি ভাবছি এই গল্প দেখিয়ে অনুষ্কা বলতে চাইছেনটা ঠিক কী? হাসি-মজাক করতে থাকা এই বাড়ির পুরুষগুলো তাহলে আসলে ‘ওই’ রকম লোক? পীযূষ নামের এই ছেলেটা এই বাড়িতে কতদিন ধরে আছে? বাড়ির পুরুষগুলোর অর্ডার মেনে নিয়ম করে কোন কোন কাজ করতে হয় ওকে?

পুরুষগুলোর ক্যারেক্টার যে কেমনপনা ঠিক, সেটা জানতে হলে চলুন বরং বাড়ির বয়স্ক এক প্রায়-ঠাকুমার কাছে। তিনি আবার সকাল থেকেই দেদার মদে চুর হয়ে থাকেন রোজ। চাইলে পীযূষের ভয় পেয়ে ছুটতে থাকার মতো এই মহিলার (বা পুরো মহিলাকুলের) নেশা করে ফুটতে থাকার কারণটাকেও ডিকোড করতে পারেন!

হ্যাঁ, কেস জমে ওঠে তখন, যখন সেই মদ খাওয়া নিয়ে এঁকে কেউ বলতে যায় কিছু! সঙ্গে সঙ্গে মহিলার মুখ খুলে যায় পুরো। পেড়ে বসেন তাঁর স্বামী মানে ঠাকুরদাদার কথা। বয়সকালে দু’পেগ পেটে পড়ার পরেই তিনি নাকি জোর করে উঠে পড়তেন অন্য কারুর খাটে! আর নির্বিবাদে মজা লুটতেন তখন যেমন পারেন। এসব কথা বলতে গিয়ে ঠাকুমার কিন্তু দুঃখ-বেদনা নেই! উলটে তারিফ করেন গর্বে, যে বয়সকালে সে কাজে ওই লোকটার কি এনার্জি ছিল, বাবা!

হাটের মাঝে এই গল্প শোনার পরে বাড়ির কেষ্ট-বিষ্টু পুরুষগুলো – যারা ওই মহিলার ছেলে কি জামাই হবে বোধহয়, তখন সব মিউ মিউ করে চুপ। আর মহা-ফচকেমি করতে করতে সিচুয়েশনটা ক্রমে যেন অবিশ্বাস্য ডার্ক! ভূতনী শশীর হয়ে অনুষ্কা নিজেই তো ফুটনোট দিয়ে ফ্যালে। যে, বাড়ির ‘বুজুর্গ’ মানে বড়রাই যদি এমন। তাহলে ছোটরা এর থেকে আর বেশি কতদূর হবে!

বাড়ির চাকর পালিয়ে বেড়ায় নির্যাতনের ভয়ে। দাদাবাবুকে দেখতে পেলে ফার্স্ট রিয়্যাকশনে আঁতকে উঠে যৌনাঙ্গ ঢাকে! ওদিকে বাড়ির ছুঁড়ি থেকে বুড়ি, সবাই মিলে বেলা-অবেলায় মাল টানতে বসে। ছাদে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে শুকনো কী সব নেশা করে বিবাহযোগ্য বর। আর অমঙ্গলের দোষ কাটাতে ধরে বেঁধে ছেলের সঙ্গে বাড়ির লোকে গাছের বিয়ে দ্যায়! ইয়ার্কি নয়, সত্যি সত্যি এর সব কটা সিন এই সিনেমায় আছে! গ্রাফিক্স দিয়ে তৈরি করা ঝিলমিলে এক মিষ্টি ভূতের গল্প রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আসলে তো এটা ভেতরে ভেতরে সেই ডার্ক ন্যারেটিভ ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর বাবা! 

আরও পড়ুন:  সম্প্রতি শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন করিনা‚ কিন্তু কেন!?

সিনেমার রিল-রিয়্যালিটি থেকে কিছুটা নিয়ে ডিকোড করতেই এত। আর আপনি যদি সিনেমা শুরুর ওই স্বপ্নটাকেও ডিকোড করতে চান? কানাডা থেকে বিয়ে করতে দেশে ফিরছে কানন। আর প্লেনের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে একের পর এক স্বপ্ন দেখছে শুধু। কখনও দেখছে ওর বিয়ের আসরে ফণা তুলে ঘুরছে হিংস্র সাপ। কখনও দেখছে বিয়ের আসরে যাবার সময় প্যান্ট পরতে ভুলেই গিয়েছে কানন। তারপরের ফ্রেমেই দেখতে পাচ্ছে, ওর ঊর্ধ্বাঙ্গেও আদৌ পোশাক নেই। আর হো-হো ক’রে বাকি সবাই হাসছে ন্যাংটো ওকে দেখে। হালকা ভাবে নিতে চাইলে নিন। কিন্তু আসলে তো ছবি শুরুর স্বপ্নগুলো পঞ্জাবের কুৎসিত এক গোপন ঘরে ঢুকে পড়ার পাসওয়ার্ডের মতো!

তবে ছবিতে কিন্তু আজকের পঞ্জাবের বারোটা বাজার গল্পই নেই শুধু। আছে একশো বছর আগের এক প্রেম-কাহিনির ট্র্যাক।

একশো বছর আগের সেই প্রেমিক-প্রেমিক হল রূপলাল ফিল্লৌর (দিলজিত দোসাঞ্জ) আর শশী হুমারি ফিল্লৌর-এর (অনুষ্‌কা শর্মা) জুটি, যারা গান গায়, প্রেমে পড়ে, একে অন্যকে পাগলের মতো চায়, কিন্তু ভয়ানক এক কারণে ইহজগতে দুজনের স্থায়ী মিলন হয় না কখনও।

ইন্টারকাট ক’রে ক’রে একবার আজকের গল্প আর একবার পুরনো দিনের গল্প যখন দেখিয়ে যাচ্ছেন পরিচালক, তখন আমার মনে পড়ছে সেই ‘রং দে বাসন্তী’ বা ‘লাভ আজ কাল’-এর কথা। প্যাটার্নটা কিছুটা হয়তো অমন। কিম্বা এভাবেও বলতে পারেন এটা যেন অবিশ্বাস্য একটা কমবো প্যাকেজ, যেখানে কিছুটা ‘রং দে বাসন্তী’র সঙ্গে কিছুটা ‘লাভ আজ কাল’ মেশানো। ইতিহাসের ভয়ংকর একটা ঘটনার সঙ্গে শাশ্বত এক প্রেম-কাহিনীর পাঞ্চ!

ছবির ক্লাইম্যাক্স কিন্তু এই ২০১৭তে নয়, বরং ১৯১৯ সালের অমৃতসরে ঘটে! সিপিয়া রঙের আদরে বাঁধানো ইতিহাসের ফ্রেম! আর এমনই তার ইমপ্যাক্ট যে, ক্লাইম্যাক্স দেখতে গিয়ে আমার তখন দু’চোখ ভ’রে জল!

ছবিটা আসলে সাবেকি সেই জড়োয়া গয়না যেন। এক ঝলকে একবার দেখে যার একশো ভাগ আমেজ নেবেন, এমন সাধ্য কী! যতবার নতুন করে দেখতে যাবেন, ততবার নতুন নতুন দিক খুলে যাবে ছবির। নতুন নতুন দিকে আলো পড়লে যেমন ঝলসিয়ে ওঠে জড়োয়া গয়নায় এদিকে ওদিকে সেট করে রাখা ধনরাশিগুলো!

সকালবেলার মাল্টিপ্লেক্সে ঠাসাঠাসি করা ভিড়! কিন্তু তাতে কী হবে, বক্স অফিসের কালেকশনে এই ছবি এখনও অবধি পিছিয়ে রয়েছে বেশ! আর এদিক-ওদিক রিভিউ যেগুলো চোখে পড়ছে, তার বেশিরভাগেই তো চরম সব জ্ঞান দিয়ে-যাওয়া সুর। কোথায় একটা লিখেছে দেখলাম ছবির ডিরেক্টর আনসাই লাল আসলে ছবি বানাতে শেখেন নি নাকি আদৌ, সবচেয়ে আগে নাকি তাঁর গল্প বলার ট্রেনিং স্কুলে ভর্তি হওয়া উচিৎ।

এরকম সব রিভিউ পড়ে পুরো চুপ মেরে যাই যেন! যে ছবিটা আমার এত ভালো লাগছে, সেটা মানী গুনী ক্রিটিককুলের এত অপছন্দ হল? কই, সেদিন হল-ভর্তি দর্শকের একজনের মুখেও কোন নিন্দে শুনলাম না তো? বরং ছবির শেষদিকে যে সিনে চরম ট্র্যাজেডি ঘটে, সেখানে এক তালে এক সুরে তো সব্বার মুখ থেকে আফসোসের শব্দ ছিটকে বেরল যেন!

মনে মনে ছবিটাকে খুব ভালো না বাসলে এমন কখনো হয়?

বা, হতে পারে এটা সেই বিরল রকম ছবি। যেটা দেখার পর মতামতগুলো এক্সট্রিম হবে খুব। যে ভালো বলবে, খুব ভালো। পারলে ছবিটার সঙ্গে সে নিজে ভেসে চলে যাবে যেন। আর যে খারাপ বলবে খুব খারাপ। পারলে ধুয়ে শুইয়ে দেবে একেবারে।

আমি কোন দলে, সে তো বুঝতেই পেরেছেন। তবে আপনি কোন দলে, সেটা তো আর জানি না। তাই ছবিটা কিন্তু নিজের রিস্কে দেখতে যাবেন প্লিজ!

- Might Interest You

NO COMMENTS