রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
তাঁর কর্মজীবন শুরু ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে স্কটিশ চার্চ কলেজে | তারপর তিনি আজকাল সংবাদপত্রে যুক্ত হন সহকারী সম্পাদক রূপে | সেখান থেকে সহকারী সম্পাদক রূপে আনন্দবাজার পত্রিকায় | বর্তমানে তিনি যুক্ত সংবাদ প্রতিদিন-এর সঙ্গে | তবে এখন তাঁর প্রধান পরিচয় সাহিত্যিক হিসেবে | তাঁর বেস্টসেলার বইগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণসখা বিবেকানন্দ ( দু খণ্ড)‚ কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট‚ রবি ও সে ‚ আমি রবি ঠাকুরের বউ‚ রবি ও রাণুর আদরের দাগ‚ নায়ক রবি ( ১ ম খণ্ড)‚ দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ; ঠাকুরবাড়ির গোপনকথা‚ প্লাতা নদীর ধারে; রবীন্দ্র-ওকাম্পোর প্রণয়কথা | সম্প্রতি ‘রাধা ও রবি’, ‘স্বামী’-সহ একাধিক সংগ্রহে সমাদৃত হয়েছে তাঁর ভাষ্যপাঠ |

৭৬ তম প্রয়াণবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি কবিগুরুর প্রতি  | কেমন ছিল তাঁর জীবনের শেষ  দিনগুলো  ? ফিরে দেখতে দূরবীনে চোখ রাখলেন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়…শেষ পর্ব

( প্রথম পর্বের পরে…)

১৯৪০ এর ২৫শে জুলাই |
ভোর চারটে |
রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় আসার জন্যে তৈরি হয়ে একা বসে আছেন তার ঘরে পুবদিকের জানলার ধারে |
একটু পরেই আশ্রমের ছেলেমেয়েরা তাঁর জানলার সামনে |
সবাই মিলে গাইছে ‚
এদিন আজি কোন ঘরে নো খুলে  দ্বার ‚ আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার |
তারা গান করতে করতে উদয়নের কাঁকরের রাস্তা পার হয়ে চলে এল রবীন্দ্রনাথ জানলার একেবারে নিচে |
ক্রমে এসে গেল যাত্রার সময় |
রবীন্দ্রনাথকে চেয়ারে বসিয়ে ধরাধরি করে নামান হল | ঠিক যাত্রার মুহুর্তে ছেলেমেয়েরা আবার গান ধরল

আমাদের শান্তিনিকেতন‚ আমাদের সব হতে আপন |
তার আকাশ ভরা কোলে মোদের দোলে হৃদয় দোলে‚
মোরা বারে বারে দেখি তারে নিত্যই নূতন |

তিরিশ বছর আগে তাঁর পঞ্চাশ বছর বয়েসে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন এই গান |

শেষ বারের মতো তিনি শুনলেন সেই কথা সেই সুর |

মোদের শালের ছায়বীথি বাজার বনের কলগীতি
সদাই পাতার নাচে মেতে আছে আমলকী কানন |

রবীন্দ্রনাথকে একটি বাসের মধ্যে স্ট্রেচারের ওপর শুইয়ে দেওয়া হয়েছে |
পুত্র রবীন্দ্রনাথ আর কন্যা মীরা চলেছেন একটি গাড়িতে বাসের পাশাপাশি |
পুত্রবধূ প্রতিমার খুব জ্বর | আসতে পারেননি | আশ্রমের ভিতর দিয়ে বাসখানিকে নিয়ে যাওয়া হল |

যাতে যাবার পথে হয়তো চিরবিদায়ের পথে রবীন্দ্রনাথ শেষবারের মতো সব কিছু দেখে যেতে পারেন
রাস্তার দু ধারে গ্রামের মানুষ হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে | রবীন্দ্রনাথের জন্যে স্পেশাল কামরা | ট্রেনের মধ্যেই যতদূর সম্ভব ভাল ব্যবস্থা সেই ব্রিটিশ আমলে | বসবার কামরা‚ তারপাশে শোবার ঘর |

রবীন্দ্রনাথ বসবার ঘরেই বসলেন জানলার পাশে অজয় নদী পার হবার সময় বললেন ‚ কতদিন পরে দেখলম নদীটাকে |
খানিকক্ষণ পরে ক্লান্ত রবীন্দ্রনাথকে পাশের ঘরে শুইয়ে দেওয়া হল |
কবিরাজ মশাইয়ের নির্দেশ অনুসারে গাড়িতে রবীন্দ্রনাথকে চিঁড়ের মণ্ড খাওয়ানো হচ্ছে |

কেউ একজন রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করলেন ‚ কষ্ট হচ্ছে না তো ? না না‚বেশ আছি | দিব্য মুণ্ডু খেতে খেতে যাছি‚বললেন রবীন্দ্রনাথ |

২৬শে জুলাই

রবীন্দ্রনাথ ফিরে এসেছেন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ‚ তাঁর ঘরে | খুব জ্বর তাঁর |

২৭ শে জুলাই

সকালবেলা বেশ খুশি রবীন্দ্রনাথ | বললেন জানো‚ আজও আরও একটা কবিতা হয়েছে সকালে | কী পাগলামি বল তো ? প্রত্যেকবারই ভাবি এই বুঝি শেষ‚ কিন্তু তারপরে দেখি আবার একটা বেরোয় | এই সেই আবার একটা বেরনো কবিতা-

প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবিভাবে
কে তুমি ?
মেলেনি উত্তর |
বৎসর বৎসর চলে গেল
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিত পশ্চিম-সাগরতীরে
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়‚
কে তুমি ?
পেল না উত্তর |

২৯ শে জুলাই

রবীন্দ্রনাথ আজও জানেন না কাল অপারেশানের দিন ঠিক হয়েছে | তাঁর মন ভাল নেই বারবার বলছেন ‚ এটা চুকে গেলেই বাঁচি | রোজই গ্লুকোজ ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে | হঠাৎ বললেন রবীন্দ্রনাথ ‚ সেই বড় খোঁচার ভূমিকাস্বরূপ এই ছোট ছোট খোঁচাগুলো আর কতদিন চালাবে ?

রবীন্দ্রনাথ শুনলেন ‚ অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে অজ্ঞান করা হবে না | লোকাল অ্যানাস্থেটিক দিয়ে তাঁকে অসাড় করা হবে | শুনে বললেন ‚ আমাকে ঠিক করে বুঝিয়ে দাও ব্যাপারটা কী রকম হবে ‚ আমার কতদূর লাগবে | সেই দিনই সন্ধেবেলা অর্থাৎ অপারেশনের আগের দিন আরও একটি কবিতা মনে মনে রচনা করে মুখে বলে গেলেন রবীন্দ্রনাথ ‚ লিখে নেবার জন্য—-

দুঃখের আঁধার রাত্রি
বারে বারে এসেছে আমার দ্বারে ‚
একমাত্র অস্ত্র তার দেখেছিনু
কষ্টের বিকৃত ভান্‚ ত্রাসের বিকট ভঙ্গি যত
অন্ধকারে ছলনার ভূমিকা তাহার |
যতবার ভয়ের মুখোশ তার করেছি বিশ্বাস
ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয়
এই হার জিত খেলা—জীবনের মিথ্যা এ কুহক্‚
শিশুকাল হতে বিজড়িত পদে পদে এই বিভীষিকা
দুঃখের পরিহাসে ভরা !
ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি—-
মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আঁধারে |

২৯ শে জুলাই বিকেলবেলা রচনা করলেন রবীন্দ্রনাথ এই কবিতা সব আঁধার পেরিয়ে তিনি যেন দেখতে পেলেন কীভাবে মৃত্যু বিছিয়েছে তার নিপুণ শিল্প—-এতই নিপুণ যে বোঝবার উপায় নেই !

৩০ শে জুলাই

আজ সকালেই রবীন্দ্রনাথ শরীরে সার্জারি | জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ ঘরের পিছ্নে পুব দিকের বারান্দায় অপারেশানের আয়োজন করা হয়েছে | পাতা হয়েছে অপারেশান টেবল |

আড়াল দিয়ে টাঙানো হয়েছে সাদা কাপড়ের পরদা | কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এখনও জানেন না আজই তাঁর দেহে অস্ত্রোপচার হবে | সকালে সাড়ে নটায় কিছুটা আছন্ন অবস্থার মধ্যেও জ্বলে উঠলেন ব্যাখ্যার অতীত রবীন্দ্রনাথ

তাঁর বিপুল প্রতিভার অপূর্ব সমাপনের অবিস্মরণীয় উদ্ভাস—-

তোমার সৃষ্টিপর পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী |
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছে নিপুণ হাতে
সরল জীবনে |
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহিত;
তার তরে রাখনি গোপন রাত্রি |
তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে-পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ ‚
সে যে চিরস্বচ্ছ
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তার চিরসমুজ্জ্বল
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু‚
এই নিয়ে তাহার গৌরব |
লোকে তারে বলে বিড়ম্বিত
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে
কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভাণ্ডারে |

রবীন্দ্রনাথ জানেন শেষ হয়নি এই কবিতা |
আরও গোটা তিনেক লাইন যে বলতেই হবে তাঁকে |
তবু রানী চন্দকে বললেন ‚ আর পারছি না ‚ বড় ক্লান্ত লাগছে |
ওদিকে পুবের বারান্দায় অপারেশানের সরঞ্জাম তৈরি রবীন্দ্রনাথ হঠাৎ জিগ্যেস করলেন ব্যাপারটা কবে করছ তোমরা ?
এই কাল কি পরশু‚ এখনও ঠিক হয়নি বলা হল রবীন্দ্রনাথকে |
রবীন্দ্রনাথ জানলেন একেবারে শেষ মুহূর্তে—আজ দিনটা ভাল‚ আজই তাহলে সেরে ফেলা যাক‚ কী বলেন ?

—তা একরকম ভালই | এরকম হঠাৎ হয়ে যাওয়া মন্দ না‚ বললেন রবীন্দ্রনাথ |

তারপর রানীকে ডেকে বললেন সকালবেলার কবিতাটার সঙ্গে আরও তিনটি চরণ জুড়ে দিস—

এই ভাবেই শেষ হল এক বিপুল‚ অনির্বচনীয় প্রতিভার কালজয়ী যাত্রা—-

অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার |

রবীন্দ্রনাথের এই শেষ উচ্চারণে ধরা আছে ধরণীর মহত্তম সূর্যাস্তের অবিস্মরণীয় আলো !

অপারেশান শেষ হল দুপুর বারোটায় |
বারান্দায় অপারেশন টেবিল থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হল তাঁর ঘরে
শুইয়ে দেওয়া হল তাঁর নিজের খাটে
বললেন ‚ কেন বলেছিলে কিছু লাগবে না ? আমাকে মিথ্যে বলেছিলে আমার খুব লেগেছে | এত কষ্ট হচ্ছিল যে আমি জোর করে ঠোঁট টিপে চোখ বুজে পড়ে রইলুম | পাছে আমার মুখ দিয়ে কোনওরকম আর্তনাদ বেরিয়ে যায় |

কথাগুলো বলতে বলতে রবীন্দ্রনাথের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল | তাঁকে মিথ্যে বলা হয়েছে—এই ব্যাপারটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে |

৩১ শে জুলাই

নির্মলকুমায়ী মহলানবিশ ভয়ে ভয়ে পা টিপে টিপে রবীন্দ্রনাথ খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন |
রবীন্দ্রনাথ চুপচাপ শুয়ে |
হঠাৎ চোখ খুললেন তিনি | অদ্ভুত মুখভঙ্গি করলেন |
চোখ দুটো বড় বড় | আচমকা হাঃ! বলে চেঁচিয়ে উঠলেন!
প্রথম চমকে উঠলেন নির্মলকুমারী | তারপর মজা পেয়ে খিল খিল করে হেসে উঠলেন |
রবীন্দ্রনাথ বললেন‚ এই তো একটু হাসো‚ তা না গম্ভীর মুখে করে এসে দাঁড়ালে ! এতো গম্ভীর কেন ?

১লা আগষ্ট

দুপুরবেলা থেকে রবীন্দ্রনাথের হিক্কা শুরু হয়েছে |
কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা হিক্কা |
রবীন্দ্রনাথ বলছেন কাতর ভাবে‚ একটা কিছু করো |
দেখতে পাচ্ছ না কী রকম কষ্ট পাচ্ছি ?
বড়ো এলাচ আর মিছরি গুঁড়ো করে খাওয়ানো হল রবীন্দ্রনাথকে |
কবিরাজ মশাই সেই রকমই পরামর্শ দিয়েছেন |
চার পাঁচবার এলাচ মিছরি দেবার পর সত্যিই হিক্কা থেমে গেল |

২রা আগস্ট

ভোরের দিকে আবার হিক্কা শুরু | হিক্কার আর এক ওষুধ না কি ময়ূরের পালক পুড়িয়ে খাওয়ানো | জোড়াসাঁকো যাবার পথে বিডন স্ট্রিটে ময়ূরের পালক কিনলেন নির্মলকুমারী |
সঙ্গে নিলেন‚স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটের পুরনো কর্মী গয়ানাথ আদককে |
তিনি রবীন্দ্রনাথের ভক্ত পূজারী |
তিনিই পারবেন ময়ূরের পালক ঠিকমতো পুড়িয়ে রবীন্দ্রনাথকে খাওয়াতে !
গয়ানাথ ময়ূরের পালক পুড়িয়ে ছাই করলেন | সেই ছাই মধু দিয়ে মাখলেন |
তারপর ময়ূর পালকের সেই মধুমাখা ছাই গুলে খাইয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথকে |
এই অব্যর্থ ওষুধ গয়ানাথ তৈরি করেছেন জোড়াসাঁকোর লালবাড়ির ছাদে বসে |
তাঁর এবং আরও অনেকের আশা‚এবার হিক্কা থামবেই | না‚হিক্কা আজ আর থামল না |

৩রা আগষ্ট

রবীন্দ্রনাথ একেবারেই ভাল নেই | তাঁর কিডনি কাজ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে |

তাঁর চৈতন্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে | ওষুধ খেতে চাইছেন না | কিছুই মুখে তুলছেন না তিনি | ঘোরের মধ্যে বললেন‚আমি কারও কথাই আর শুনছিনে | তোরা আর জালাসনি আমাকে | সন্ধের গাড়িতে অসুস্থ প্রতিমাদেবীকে শান্তিনিকেতন থেকে নিয়ে এলেন শান্তিনিকেতনের চিকিৎসক শচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও নাতজামাই কৃষ্ণ কৃপালনি |

৪ঠা আগষ্ট….

প্রতিমা এসে দাঁড়িয়েছেন রবীন্দ্রনাথের খাটের পাশে |

নির্মলকুমারী রবীন্দ্রনাথের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বললেন‚দেখুন আপনার মা মণি এসেছেন | চিনতে পারছেন ? একটু ঘাড় নেড়ে বললেন‚হ্যাঁ !

প্রতিমা বললেন‚একটু জল খাবেন ? আচ্ছন্ন রবীন্দ্রনাথ বললেন হ্যাঁ !
প্রতিমা রবীন্দ্রনাথের মুখে সামান্য জল দিলেন | সেই টুকু তিনি খেলেন | যেন প্রতিমাকে খুশি করবার জন্যই খেলেন | তারপর জ্ঞান হারালেন | ডাক্তার সত্যসখা জানালেন‚আজ রবীন্দ্রনাথের কিডনি কাজ বন্ধ করল পুরোপুরি |  

৫ ই আগস্ট…

রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ন অচৈতন্য | কোনও রকম সাড়াশব্দ নেই |
বিধান রায় এলেন |
নির্মলকুমারীকে বললেন‚দাও তো মুখে একটু জল‚দেখি খেতে পারেন কি না | খানিকটা জল মুখে গেল‚খানিকটা বাইরে গড়িয়ে পড়ল |

৬ -ই আগস্ট

শান্তিনিকেতনের চীনাভবনের অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জপমালায় অনেকক্ষণ জপ করলেন ইষ্টমন্ত্র |
রাত্রিবেলা |
রবীন্দ্রনাথের মাথা পুবদিকে |
আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ |
আজ যে রাখিপূর্ণিমা |
ষোল বছর আগে‚ চৌষট্টি বছরের রবীন্দ্রনাথ যে গানটি লিখেছিলেন‚ সেই গান যেন ঝরে পড়ছে এই শ্রাবণের চাঁদের আলোয় —

      আজ শ্রাবণের পূর্ণিমাতে কী এনেছিস বল —

     হাসির কানায় কানায় ভরা নয়নের জল |

      বাদল হাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে যূথীবনের বেদন আসে –

      ফুল ফোটানোর খেলায় কেন ফুল ঝরানোর ছল —

৭ -ই অগাস্ট‚ ১৯৪১

রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রস্থান |
ভোরের আকাশ আস্তে – আস্তে স্বচ্ছ হয়ে আসছে |
রবীন্দ্রনাথের ঠোঁটে একটু একটু করে জল দেওয়া হচ্ছে |
তাঁর কানের কাছে বলা হচ্ছে আজীবন তাঁর প্রাণের মন্ত্র —
শান্তম্‚ শিবম্‚ অদ্বৈতম |
কবির পায়ে হাত রেখে বলা হচ্ছে উপনিষদের মন্ত্র —

তমসো মা জ্যোতির্গময় |

দুপুর বারোটা দশ |
শেষ হল রবীন্দ্রনাথের জীবন |
তাঁকে স্নান করানো হল |
তাঁকে সাজিয়ে দেওয়া হল অনন্তকালের মৃত্যুহীন মহাজীবনের জন্য —

      পরনে তাঁর সাদা বেনারসি জোড় |

       কপালে তাঁর চন্দনের তিলক |

      আজানুলম্বিত বেনারসি উত্তরীয় ঝুলছে গলায় |

      গোড়ে ফুলের মালায় আর ফুলে আচ্ছাদিত তাঁর নারায়ণীতনু |

      কী অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে তাঁকে ! অনন্ত তাঁর সামনের পথ

      অন্তহীন তাঁর সামনের মহাজীবন |

(সমাপ্ত)

(প্রথম পর্বের লিঙ্ক http://banglalive.com/the-last-days-of-rabindranath-tagore/)

(পুনর্মুদ্রিত)

আরও পড়ুন:  সেলুলার জেলে নিহত মহাবীর সিং-এর দেহ পাথরে বেঁধে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল কালাপানিতে
Sponsored
loading...

1 COMMENT