তিনি নিঃসন্দেহে ভীষণ ভালো অভিনেতা | কিন্তু বসন্তে খোবলানো মুখ দেখে কোনো নারীর মনে কি কখনো প্রেম জেগেছে ওম পুরীর প্রতি? আমরা জানি, অন্নু কাপুরের বোন সীমা আর সাংবাদিক নন্দিতা ছাড়া আর কোনো নারী আসেনি ওমের জীবনে | সত্যি-ই কি তাই? ওম পুরীর জীবনী বলছে মাত্র ১৪ বছর বয়সে নাকি নারীসঙ্গে লিপ্ত হয়েছিলেন দু’বার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা!

Banglalive

দু’চারটে প্রেম না করলে যেমন প্রেমের কবিতা লেখা যায় না তেমনি উঁচু দরের অভিনেতার জীবনও নাকি সম্পূর্ণ হয় না গসিপ না থাকলে! বেশ কয়েকটি প্রেম থাকবে, বেশ কিছু পরকীয়া থাকবে, তবেই না তার জীবন নিয়ে নাড়াঘাঁটা করে সুখ! বিতর্কিত অভিনেতা ওম পুরীর জীবনও এরকমই নানা নিষিদ্ধ ঘটনায় বর্ণময় | বোধহয় তার জন্যই তাঁর সাংবাদিক স্ত্রী নন্দিতা নিজের আগ্রহে ওমের জীবনী লেখার জন্য কলম ধরেছিলেন—

চলতি বছরের গোড়ায় আচমকাই চিরদিনের মতো থেমে যান ওম | আজ তাঁর ৬৭তম জন্মদিন | রোজের জীবন থেকে বরাবরের মতো হারিয়ে যাওয়া এই অভিনেতার জীবন আদৌ কি বর্ণময় ছিল? একবার ফিরে জানতে দোষ কি?

সবাই জানেন, পাঞ্জাবের এক গ্রামে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে ওমের জন্ম | ছোট থেকেই একটু বদমেজাজি | নিজের খেয়ালে চলতে পছন্দ করতেন | নৈনিতালে তাঁর প্রাথমিক পড়াশোনা | ওই সময়েই বাড়ির এক মহিলা কাজের লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওম | তখন তাঁর বয়স? মাত্র চোদ্দ বছর! আর সেই পরিচারিকার বয়স কত ছিল? পঞ্চাশ! ওই বয়সে নিজের থেকে অত বড় একজন নারীর প্রতি কি কারণে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি? প্রকৃত সত্য আজও ধোঁয়াশা | ওই পরিচারিকাও নাকি প্রচন্ড যত্ন নিতেন ওমের | ওম না হয় ছেলেমানুষ | কিন্তু তিনি প্রায় নাতির বয়সী এক ছেলের সঙ্গে কেন শরীরের খেলায় মেতেছিলেন? কেউ জানার চেষ্টাই করেনি |

প্রাথমিক পড়া শেষ হওয়ার পর কলেজে ভর্তি হন ওম | হাত খরচ আর পড়ার খরচ জোগাতে স্থানীয় এক উকিলের কাছে মুন্সির কাজ শুরু করেছেন | ওমের বাবা তখন ওমের কাছেই থাকতেন | সেই সময় বাবার দেখাশোনার জন্য একজন মহিলা কেয়ারটেকার রেখেছিলেন | এবার ওম আকৃষ্ট হলেন তাঁর প্রতি | কলেজে পড়তে পড়তেই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন ওম | সব মিলিয়ে তখন তাঁর আলাদা ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছে | স্বাভাবিকভাবেই অভিনেতা ওমের উপর বিশেষ টান জন্মায় ওই মহিলার | ঘনিষ্ঠতা বেড়ে এক সময় এই সম্পর্কও যৌনগন্ধী হয়ে পড়ে |

আরও পড়ুন:  চুলের কায়দায় মাতাচ্ছে তৈমুর!

নিয়ম মেনে এই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি | কারণ নাটকের ভূত ভালোরকম গেঁড়ে বসেছে ওমের মাথায় | মঞ্চে অভিনয় করতে গিয়ে নিয়মিত কাজে যেতে পারতেন না | ফলে, উকিলের বাড়িতে মুন্সির চাকরিটা খোয়াতে হলো | ওমের তখন হ্যান্ড টু মাউথ দশা | পড়াশোনায় খুব মন্দ ছিলেন না বলে কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে কলেজ ল্যাবে চাকরি দেন | সেই রোজগার থেকে পড়ার খরচ চলত |

কলেজ শেষে ওম চলে আসেন এফটিআইআই-তে | সেখানে তাঁর রুমমেট ছিলেন ডেভিড ধাওয়ান | ডেভিডের কথায়, ‘সব ব্যাপারে মারাত্মক সিরিয়াস ছিলেন ওম | আর আমি কথায় কথায় মজা করতাম | তাতে বিরক্ত হয়ে ও ঘর পাল্টে নিয়েছিল |’ যিনি সামান্য মজাটাও সহ্য করতে পারতেন না তিনি বারবার তৃতীয়বার প্রেমে পড়লেন!

তাঁর তৃতীয় সঙ্গিনী অভিনেতা অন্নু কাপুরের বোন সীমা | এই সম্পর্ক গড়িয়েছিল বিয়ের পিঁড়ি অবধি | কারণ, ওমের মনে হয়েছিল, সীমা আর তিনি মেড ফর ইচ আদার | কারণ, বিয়ের আগে অনেক বছরের পার্টনারশিপ ছিল দু’জনের | কিন্তু এটা বোঝেননি, সব শিল্পী-ই যাযাবর মনের | তাঁদের মন ডানা মেলতে চায়, বিচরণ করতে চায় নিজেদের গড়ে তোলা কল্পনার রাজ্যে | তাই কোনো বাঁধন তাদের জন্য নয় | বিয়ে করলেও পরকীয়া তাই আটকাতে পারেননি ওম | কলকাতার সাংবাদিক নন্দিতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সীমা থাকতে থাকতেই | সীমার অনুপস্থিতিতে নন্দিতার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মেতে উঠতেন | ওমের ওয়ারড্রবে সীমা খুঁজে পেয়েছিলেন নন্দিতার আন্ডারগারমেন্ট! যথারীতি বিয়ে টেকেনি | মাত্র এক বছরের মাথায় আলাদা সীমা-ওম |

তুলনায় নন্দিতার সঙ্গে ওমের সম্পর্ক টিকেছিল অনেক বছর | ১৪ বছরের ঈশান এই সম্পর্কের সেতু | মৃত্যুর দু’বছর আগে সম্পর্ক ভাঙ্গত না যদি না নন্দিতা সাংবাদিকসুলভ কৌতূহল নিয়ে ওমের জীবন জানতে বসতেন | ওমের অতীত ‘জীবনী’ আকারে বাইরে আনতেন | বায়োগ্রাফি প্রকাশের আগে ওমকে জানাননি নন্দিতা, কতটা রাখছেন আর কতটা ঢাকছেন ওমের জীবন | জীবনী প্রকাশের পর ওমের আগের দুই শয্যাসঙ্গিনীর উপর আলো এসে পড়তেই ওমের বিতৃষ্ণা জাগে নন্দিতার উপর | শুধু ঈশানের মুখ চেয়ে ডিভোর্স দেননি | সম্পর্কে অতৃপ্ত ওম থিতু হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শেষবেলায় আগের স্ত্রী সীমার সঙ্গে | কিন্তু বিধি বাম! ওমের মতো সংবেদনশীল শিল্পী মনকে বাঁধার বাধন বিধাতা যে সৃষ্টি করতেই ভুলে গেছেন!

আরও পড়ুন:  লতা ও নয়নতারা‚ দুই নারীর মাঝে নিজের জীবন হারিয়ে ফেলে নিঃসঙ্গ প্রভুদেবা

NO COMMENTS