ষাট-এ পৌঁছেও তাঁকে ছাড়া ফেলুদা হয় না | মানে আর কাউকে মনে ধরে না পরিচালকের | তাই বাধ্য হয়ে আর করব না বলেও ফেলুদার ভূমিকায় ফিরে আসতে হয় তাঁকে | আর সেই তাঁকেই ফেলুদার ভূমিকায় নিতে চাননি স্বয়ং সত্যজিত রায় | নিজে মনে করেন তাঁর বাবা ছিলেন অনেকটা ফেলুদার মতো | সেই ফেলুর মানে সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তন্ময় দত্ত গুপ্ত |

 

আপনার কণ্ঠস্বরের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস আছে।তেরো পার্বণের গোড়া থেকে ডবল ফেলুদা পর্যন্ত এই আত্মবিশ্বাস অটুট।এই আত্মবিশ্বাস এত বছর ধরে কী করে নিজের মধ্যে রেখেছেন ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : এটা বলা খুব মুশকিল।ব্যক্তিগত জীবনে আমি এত কনফিডেন্ট নই।সিনেমার চরিত্রগুলো যখন করি তখন যে কনফিডেন্স দেখাই সেটা পুরোটাই অভিনয়।

আপনি যখন ছবির অভিনয় করছেন না তখনও আপনার  কণ্ঠস্বরের মধ্যে কনফিডেন্স থাকে।

সব্যসাচী চক্রবর্তী : এখনও তো আপনার সঙ্গে কথা বলছি।এখন কি কনফিডেন্ট মনে হচ্ছে?আমার কণ্ঠস্বর তো ডিভলাপ করা হয়েছে।স্টেজে অভিনয় করার সময় আমাদের বলা হতো মিন মিন করে কথা না বলতে।কারণ আমার বলা সংলাপ সকলকে শোনাতে হবে।তাই জোর গলায় স্পষ্ট করে কথা বলতে শিখেছি।আমার ভয়েজ ট্রেনিং হওয়ার ফলে কণ্ঠস্বরের উন্নতি হয়েছে।বাকিটা হলো আমার পরিবেশ।আমার বাবা ভীষণ কনফিডেন্ট লোক ছিলেন।কনফিডেন্স ছাড়া কোনও কাজই করতেন না।বাবা বলতেন—‘চেষ্টা করলে সব কাজই হবে।যদি কাজ করতে গিয়ে ভুল হয় তাহলে ভুলটাও কনফিডেন্টলি স্বীকার করবে’।এই ভাবেই আমার আপব্রিংগিং হয়েছে।

আপনি বলেছিলেন ফেলুদা আর করব না।কারণ ষাট বছরের বুড়োকে কেউ ফেলুদা হিসেবে মেনে নেবে না।

সব্যসাচী চক্রবর্তী : হ্যাঁ, সেটা বলেছিলাম।আমার সেটা মনে হয়েছিল।আমি তো ফেলুদার ফ্যান।আমি ফেলুদাকে দেখেছি সত্যজিৎ রায়ের ইলাস্ট্রেশনের মাধ্যমে।তাই সেই কনফিডেন্স আমার ছিল না।আমার মনে হচ্ছিল লোকে যদি আমাকে ফেলুদা হিসেবে না নেয়,তাহলে বাবুদা মানে সন্দীপ রায়ের মানহানি হবে।সন্দীপ রায়ের মান সম্মান আমার কাছে অনেক বেশি।সন্দীপ রায় ‘বাদশাহী আংটিতে’ আবীরকে নিয়েছিলেন ।আমি তখন নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম।ভেবেছিলাম যাক,এতদিনে ফেলুদার চরিত্রে কাউকে পাওয়া গেছে।কিন্তু সমস্যা দেখা দিল।আবীর ব্যোমকেশ ছাড়তে পারল না।তাই ওকে ফেলুদার চরিত্রে আর নেওয়া গেল না।তাই বাবুদা আবার আমাকে ডাকলেন।

আপনি নিজেকে ষাট বছরের বুড়ো বলেছেন।কিন্তু স্ক্রিনে আপনাকে ষাট বছর বয়সী বলে মনে হয় না।

সব্যসাচী চক্রবর্তী : বয়স-তো আর থেমে থাকে না।আমরা যেহেতু অভিনয় করি তাই চেষ্টা করি অনিয়ম না করার।অনিয়ম করলে চেহারায় এফেক্ট হতে পারে।তাই একটুখানি কেয়ারফুলি থাকতে হয়।হয়ত এই কারণেই এখন পর্যন্ত অতোখানি বুড়ো হয়ে যাই নি।আমার বউ বলে,আমার বয়সী বন্ধুদের আমার থেকে বেশি বুড়ো লাগে।কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি বুড়ো হইনি।

আরও পড়ুন:  এবারের দিওয়ালি কি তৈমুরের সঙ্গে কাটাতে পারবেন করিনা?

আপনি ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফি করেন।এর ফলে কি আপনার মন অনেক তরতাজা থাকে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আমার মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে।আমার পরিবারে সেই অর্থে অশান্তি নেই।অশান্তি হলে চেহারায় ছাপ পড়ে।অশান্তি নানান রকমের হতে পারে।আমি ভাগ্যবান আমার কোনও রকমের অশান্তি নেই।হৈ হৈ করে বাঁচাই তো ভালো।কোনও ক্রিয়েটিভ কাজের সময় মুখ গোমড়া করে থাকাটা আমার খুবই অপছন্দের।সন্দীপ রায়ের শুটিংয়ে এই হৈ হৈ করে কাজ করার পরিবেশটা আছে।তাই ওর সঙ্গে কাজ করতে এত ভালো লাগে।

আপনি বিলাসিতা নাকি পছন্দ করেন না?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : দরকার নেই তো।যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খরচা করা উচিত।তার বেশি নয়।চাহিদার কোনও শেষ নেই।সুতরাং তার পেছনে ছুটে  লাভ নেই।

সত্যজিৎ রায় জটায়ু ছাড়া ফেলুদা করতে চান নি।কিন্তু সন্দীপ রায় জটায়ুর চরিত্রে বহুঅভিনেতাকে নিয়েছেন।দুই প্রজন্মের দুই পরিচালকের  দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্যে এখানেই কি ফারাক?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : জটায়ু চরিত্রে অভিনেতার পরিবর্তন না করলে সন্দীপ রায়ের ফেলুদা বন্ধ হয়ে যেত।তাই উনি অভিনেতা পালটেছেন।

সন্দীপবাবু কিছু বছর আগে জটায়ুর চরিত্রে নতুন অভিনেতা খুঁজছিলেন।এ ব্যাপারে আপনি ওনাকে কোনও সাজেশন দিয়েছেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আমি বাবুদাকে দু-তিন জন অভিনেতার নাম বলেছিলাম।আমি অভিনেতা দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বলেছিলাম।এছাড়া নাটকের আর এক অভিনেতার নাম বলেছিলাম।কিন্তু সন্দীপ রায়ের কাউকেই পছন্দ হয়নি।

আপনার কাছে ব্যোমকেশ করার অফার এসেছিল।কিন্তু আপনি করেননি।এখনকার ব্যোমকেশের সিনেমা দেখেছেন নিশ্চয়ই?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : হ্যাঁ, দেখেছি।রিসেন্ট ব্যোমকেশ দেখিনি।

‘হর হর ব্যোমকেশ’ দেখেছেন ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : হ্যাঁ, দেখেছি।খুবই ভালো লেগেছে।

আপনি বলছেন ভালো লেগেছে।কিন্তু অরিন্দম শীলের ব্যোমকেশ-তো শরদিন্দুর সাহিত্যের বাইরে চলে গেছে।সেটা কি লক্ষ্য করেছেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : এটা এক এক জনের এক এক রকমের ইন্টারপ্রিটেশন।আমি করলে একরকম হবে।আর একজন করলে আর একরকম হবে।যে যেরকম পড়াশোনা বা কালচারের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছে,সে সেরকম ভাবে ছবি তৈরি করবে।সব পরিচালক এক নয়।এক মাছের ঝোল পাঁচ জন পাঁচ রকম ভাবে রান্না করবে।

অরিন্দম শীল ব্যোমকেশ পর্ব-তে ব্যোমকেশকে এ্যাকশন হিরো বানিয়েছেন।কিন্তু শরদিন্দু ব্যোমকেশ সম্পর্কে বলেছেন — ‘ব্যোমকেশের বাবা ছিলেন স্কুল মাস্টার।স্কুলে অঙ্ক শেখাতেন আর বাড়িতে সাংখ্য পড়াতেন।মা ছিলেন বৈষ্ণব বংশের মেয়ে,নন্দগোপাল নিয়ে থাকতেন।সুতরাং রক্তপাত গোলাগুলি ওইসব তার কর্ম নয়’।এখানেই প্রশ্নটা—ব্যোমকেশের চরিত্র তাহলে তো পুরো বদলে যাচ্ছে ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : এটা কি আপনার কমপ্লেন ?এটা আমাকে বলে লাভ নেই।আমি কী করে বলব?অরিন্দম শীল কী ভেবেছেন,সেটা অরিন্দম শীল বলবেন।এ ব্যাপারে আমার কমেন্ট করা উচিত নয়।আমার ব্যক্তিগত মত হলো সাহিত্য নির্ভর ছবি করলে সাহিত্য মেনে চলা উচিত।আর তা না হলে নিজের কোনও চরিত্র তৈরি করলেই হয়।

আরও পড়ুন:  ‘লার্জ স্কেলে’ ব্যোমকেশ বানানো মানে কি তাতে ঠেসেঠুসে শুধু সেক্স ঢোকানো?

ফেলুদা, শার্লক হোমসের ইন্সপিরিশেনে তৈরি।সন্দীপ রায়  ফেলুদা করার  সময় কখনও শার্লক হোমসের প্রসঙ্গ এনেছেন ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : না, শার্লক হোমস নিয়ে আলোচনা হয়নি।শুধু ফেলুর চরিত্র নিয়েই কথা হয়েছে।

আপনার জীবনের স্মরণীয় অধ্যায় হলো জোছন দস্তিদারের সান্নিধ্য।শুনলাম আপনারা বক্রেশ্বরে জোছন দোস্তিদার একাডেমি খুলছেন।এই জোছন দস্তিদার একাডেমিতে কী শেখানো হবে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : সেরকম  ভাবে আমাদের এখনও কোনও সিলেবাস তৈরি হয়নি।এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে — টু এক্সপ্লয়েট দ্য ট্যালেন্ট অফ রুরাল চিল্ড্রেন।যারা গ্রামে থাকে,তারা শহরের মতো সুযোগ সুবিধা পায় না।তাদের ইচ্ছে পূরণ করার জন্যই এই একাডেমিটা করা।আমি দেখেছি,নাটকের দিকে ছেলেমেয়েরা কম আসছে।গ্ল্যামারের দিকে ছেলেমেয়েরা বেশি যাচ্ছে।সেই দিক থেকে দেখলে গ্রামের ছেলেরা এখনও কবিতা লিখতে পারে।এখনও নাটক করতে পারে।এখনও তাদের প্রাচীন শিল্পের প্রতি আগ্রহ আছে।তাদের মধ্যে থেকে ট্যালেন্ট তুলে আনা প্রয়োজন।জোছন দস্তিদারের শিক্ষা তো তাই ছিল।

এই প্রজন্ম নাটকে কম আসছে।এটার একটা কারণ কি নাটক থেকে রোজগার না হওয়া ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : এখন কিন্তু হয়।এখন অনেক ছেলে মেয়েরা নাটক থেকে রোজগার করছে।

আপনাদের নাট্যদল চার্বাকের একটা নাটকে দেখেছিলাম, যেখানে আপনি নিজের হাতে সেটের কাজ করছিলেন।এখনও কি নিজের হাতে সেটের কাজ করেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : বহু আগে থেকেই আমি সেটের কাজ করেছি।কিন্তু দুহাজার বারো তেরোর পর থেকে আমি আর সেটের কাজ করিনি।কারণ আমার একটা অ্যাক্সিডেন্টের পর পায়ের টেন্ডন ছিঁড়ে যায়।আমার আবার হার্নিয়া অপারেশন হয়।তার থেকেই আমার ঈষৎ ভুঁড়ি বাড়ে।এই সব কারণে আমার ভারী মাল তোলা বন্ধ হয়ে যায়।

আপনি কখনই নিজেকে শিক্ষিত লোক বলেন না।এটা কি আপনার মানসিক ঔদার্য ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আমি ইমপালসিভ লোক।সত্যি আমি অতো শিক্ষিত লোক নই।শিক্ষিত লোক কি,আমি জীবনে দেখেছি।আমি তাদের মতো নই।শুধুমাত্র একটা ডিগ্রী থাকলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না।শিক্ষিত মানে অনেক কিছু।

আপনি অভিনয় জানেন।নাট্যচর্চা করেছেন।ফোটোগ্রাফি নিয়ে আপনার যথেষ্ট জ্ঞান।তাহলে নিজেকে এরকম বলছেন কেন ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : আজকাল সকলের হাতেই ক্যামেরা থাকে।তার মানে এই নয় যে আমি শিক্ষিত।আমি সব রকমের কাজ করি মানে আমি খুব ভালো মিস্ত্রি।

আরও পড়ুন:  ছুটির দিনে ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ দেখতে হল-এ সেদিন লোক ছিল ক’টা, জানেন?

ফেলুদা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের কাছে আপনি গিয়েছিলেন।কিন্তু সত্যজিৎ রায় রাজি হননি।মহানায়ক টিভি সিরিয়ালে সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় আপনি যখন অভিনয় করলেন তখন কি পুরানো স্মৃতি থেকে অভিনয়ের রসদ সংগ্রহ করেছিলেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : একদমই না।ওটা আমি নিজের মতো করেছিলাম।মহানায়ক ডিরেক্ট অভিনেতা পরিচালকদের বায়োপিক নয়।ওখানে এমন অনেক ইনসিডেন্ট আছে যেগুলো সত্যি নয়।সিরিয়ালটাকে গ্ল্যামারাইজড করার জন্য ওগুলো ইনক্লুড করা হয়েছে।

আপনি সত্যজিৎ রায়ের মতো মৃণাল সেন,বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত,অপর্ণা সেনের ছবিতেও কাজ করেননি।কোনও আক্ষেপ আছে ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : সে তো স্টিফেন স্পিলবার্গের ছবিতেও কাজ করিনি।তাতে কী হয়েছে? সবাই সব কিছু পায় না ।আমি যা পেয়েছি তাতেই আমি ধন্য।

আপনি  ফেলুদার চরিত্র করেই নাকি অবসর নিতে চান ?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় না করলে আমার মনে শান্তি আসত না।কারণ আমার বাবা ফেলুদার মতো ছিলেন।আর যে কোনও ছেলে তার বাবাকে আইডিয়োলাইজ করতে চায়।

আপনি ছবির জগতে আসার পর বহু মেনস্ট্রিম ছবিতে অভিনয় করেছেন।তেমন কোন স্মরণীয় চরিত্র আছে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : না, তেমন কোনও স্মরণীয় চরিত্র নেই।একমাত্র ফেলুদা।

আপনি বামপন্থী মার্কসিস্ট কালচারে বিশ্বাসী।এখন আর বামপন্থী সরকার নেই।এই পরিবর্তন কেমন লাগছে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : মারামারি,অন্তর্দ্বন্দ্ব, ভায়োলেন্স একটু বেড়ে গেছে।একটু ক্রাইম বেড়েছে।তাছাড়া এই লোক দেখানো বিষয়গুলো আমার পছন্দের নয়।

লোক দেখানো বিষয় বলতে ?

সব্যসাচী চক্রবর্তীঃ লোক দেখানো বিষয় বলতে চতুর্দিকে নীল সাদা রং করার তো কোনও মানে হয় না।কলকাতার একটা নিজস্ব আইডেনটিটি আছে।কলকাতাকে কেন লণ্ডন বানাতে হবে?কলকাতা কলকাতার মতো থাকুক না।তাতেই আমরা গর্বিত।এর পরেও বলছি এ সরকার অনেক ভালো কাজ করেছে।বামফ্রণ্ট সরকার তো আমাদের টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রায় দিয়েই দিচ্ছিল।এ সরকার তো তা করেনি।সেটাকে রিভাইভ করেছে।

আপনার কখনও ভয় হয়?

সব্যসাচী চক্রবর্তী :  কীসের ভয় বলুন তো?

অভিনয় পেশাটা অনিশ্চিয়তায় ভরপুর।সে ব্যাপারে কখনও চিন্তা হয়?

সব্যসাচী চক্রবর্তী : না, আমি ভয় পাই না।আমার বাবা আমকে সেভাবেই তৈরি করেছেন।রোজগার নিয়ে আমার কোনও ভয় নেই।রোজগার করাটা খুব সহজ।কাজ জানা থাকলে রোজগারের কোনও অভাব হবে না।আর কোনও কাজ না পেলে আমি ড্রাইভারের কাজ করব।আমি ড্রাইভ করতে পারি।

আপনি ড্রাইভারের কাজ করবেন!

সব্যসাচী চক্রবর্তী : কেন নয়?আমার কোনও ইগো নেই।

NO COMMENTS