প্রচেত গুপ্ত
জন্ম : ১৪ অক্টোবর, কলকাতায়, ১৯৬২ সালে | কলকাতার গায়ে বেড়ে ওঠে শহরতলি বাঙুর এভিনিউতে স্কুলের পড়াশোনা, বড় হওয়া | স্কুলজীবন থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে লেখালেখির নেশা | প্রথম লেখা মাত্র ১২ বছর বয়সে আনন্দমেলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় | তারপর বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা চলতে থাকে | গোড়ার দিকে ছোটদের জন্য লেখাতেই বিশেষ ঝোঁক ছিল | স্কুল শেষ হলে স্কটিশ চার্চ কলেজ | এরপরই একটা দুটো করে বড়দের জন্য লেখার শুরু | অর্থনীতিতে স্নাতক হয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া | বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হতে থাকে নিয়মিত | প্রথম উপন্যাস 'আমার যা আছে' প্রকাশিত হয় আনন্দলোক পত্রিকায়, ২০০৪ সালের পূজাবার্ষিকীতে |
ছবি - দেবব্রত ঘোষ

স্রোতস্বিনী বসে আছে কফিশপে। নিচু সোফায়। জিনস আর টপ পরেছে। দুটোর রঙই নীল। গলায় নীল পাথরের হার, কানের দুলও নীল। তবে কোনও নীলই এক নীল নয়, বিভিন্ন শেডের নীল। 

আজ একটা নীল দিন। খানিক আগে সৃজনীর নীল রুমালের পর এবার স্রোতস্বিনীর নীল পোশাকের মধ্যে এসে পড়েছি। 

সৃজনীর রুমাল এক রকম নীল ছিল, স্রোতস্বিনীর নীল অনেকরকম। ওর এই একটা মজা। সাজগোজ করবার সময় একই রঙেরই বিভিন্ন শেড ব্যবহার করে। সে সাদাই হোক আর নীলই হোক। ওকে দেখলে মনে হয়ে, খানিকটা এক রঙ নিয়ে ঘুরছে। সেই রঙের একেক জায়গায় বিভিন্নরকম আলো পড়েছে। তাই রঙও দেখাচ্ছে আলাদা আলাদা। তবে কখনই ওকে চড়া রঙ পরতে দেখিনি। 

সাতাশ বছরের স্রোতস্বিনীর নিজের অবশ্য রঙ কালোর দিকে। সে খানিকটা মোটাও। নাক থেবড়া না হলেও থেবড়ার কাছাকাছি। দাঁতের সেটিং টুথপেস্ট কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মতো বানানো নয়। তারপরেও সে সুন্দর। ফর্সা, শ্যমলা এবং ছিপছিপে না হলে মেয়েদের সুন্দর দেখায় না এই পচা ধারনার মুখে কষিয়ে একটা চড় মেরে সে সুন্দর। ভিড়ের মধ্যেও তাকে আলাদা লাগে। স্রোতস্বিনীর সৌন্দর্য আরও বেড়েছে তার খেপামি এবং পার্সোনালিটির কারণে। আমার সঙ্গে তার আলাপও এই খেপামির কারণে। যদিও সেই খেপামির পিছনে তার খুব বড় মনুষ্যত্বের পরিচয় পেয়েছিলাম। মেয়েটাকে আমার পছন্দের কারণ সেই মনুষ্যত্বই। সেদিনের ঘটনা খুবই সিরিয়াস ছিল। জোর ঝগড়া। একটা পর্যায়ে ঝগড়া পুলিশ ডাকাডাকির জায়গায় চলে যায়। স্রোতস্বিনী তার মোবাইল ফোন তাক করে বলল, ‘‌আমি কিন্তু এবার পুলিশ ডাকব। আপনাকে অ্যারেস্ট করাব।’‌ 

আমি বলেছিলাম,‌ ‘‌ডাকুন। ডাকবার পর আপনার ফোনটা আমাকে দেবেন। আমিও পুলিশ ডাকব। আপনাকে অ্যারেস্ট করাব।’

স্রোতস্বিনী চোখ মুখ আরও লাল করে বলেছিল,‌ ‌‘আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন?‌‌’‌

আমি বললাম, ‘ঠাট্টা করব কেন?‌ আমার মোবাইল ফোন নেই তাই আপনার কাছে ফোন চেয়েছি। এর মধ্যে ঠাট্টার কী দেখলেন?‌ কারও মোবাইল ফোন না থাকাটা কি ঠাট্টা?‌’‌ ‌

‌স্রোতস্বিনী এতে আরও রেগে যায়। সে খাঁউমাঁউ করে ওঠে। যাই হোক, পরে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। এতটাই ঘনিষ্ঠ যে ‌স্রোতস্বিনী কোনও সমস্যায় পড়লে আমার সঙ্গে কথা না বলে পারে না। আমিও না এসে পারি না। আমার মনে হয় সে আজও এই ধরনের কোনও কারণেই ডেকেছে। দেখা যাক তার সমস্যা।

স্রোতস্বিনী যেখানে বসেছে তার মাথার ওপর সমুদ্রের ছবি। দেয়ালে আঁকা। পুরো ছবি নয়,সাজেশনের মতো। মনে হচ্ছে,একটা ঢেউ এখুনি হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়বে। 

আমি ধপ্‌ করে সোফায় বসে পড়ে বললাম,‘‌সরি স্রোতস্বিনী, দেরি হয়ে গেল।’‌

স্রোতস্বিনী আমার কথার কোনও জবাব দিল না। সে মাথা নিচু করে মোবাইল ঘাঁটছে । আমি যে এসেছি তাই নিয়ে কোনও রিঅ্যাকশন দেখাল না। 

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৯)

মেয়েরা সবথেকে ভাল যে অভিনয় পারে সেটা হল উদাসীন থাকবার অভিনয়। চারপাশে যাই ঘটুক তারা নির্বিকার থাকবার ভান করে যায়। যেন কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। আদৌ কিছু ঘটছেই না,দেখবেটা কী?‌ এর হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যায় রাস্তাঘাটে। বাসে,ট্রামে বা মেট্রোতে কোনও মেয়ের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেও সে দেখে না। হয় কানে ইয়ার ফোন গুঁজে গান শোনে,নয় মোবাইলে সহকর্মীর সঙ্গে চ্যাট করে। কলেজ-‌বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে কোলের ওপর খাতা খুলে নোটস দেখে। এর মাঝে চশমা ঠিক করে,কপালের চুল সরিয়ে,রুমাল দিয়ে নাকের পাশে ঘাম মুছে বুকের ভিতর হুড়ুমতাল তুলে দেয়। মন বলে,এই মেয়ে কি একবারও আমার দিকে তাকাবে না?‌ আমি কি এতটাই অযোগ্য?‌ এতটাই হীন?‌ গোটা রাস্তা আশা-‌নিরাশার দোলাচলে কেটে যায়। কোনও লাভ হয় না। মেয়েটি নেমে যাবার সময় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। মন বলে, ‘‌একবার দেখুক। হে মেয়েদের তাকাবার ভগবান,শুধু একবার তুমি নড়ে চড়ে বসও। ফর গড শেক,জাস্ট গিভ মি আ লুক।’‌ 

কাকুতি মিনতিতে কোনও লাভ হয় না। মেয়েদের তাকাবার ভগবান পাত্তা দেন না। একসময় মেয়েটি ব্যাগ তুলে এমন ভঙ্গিতে নেমে যায় যে মনে হয়, এই বাসে, ট্রামে বা মেট্রোতে সে একাই ছিল। সে নেমে গেল, শূন্য গাড়ি ফিরে যাবে। 

মজার কথা হল, কেউ যদি এই মেয়ের পিছু নিত তাহলে জানতে পারত গোটাটাই অভিনয়। উদাসীন থাকবার ভান। মেয়েটি কলেজ -‌ইউনিভার্সিটি বা অফিসে গিয়ে বান্ধবী, সহকর্মীদের ভয়ংকর কথা বলছে।

‘‌অ্যাই জানিস, মেট্রোতে আজ একটা বিরাট হাঁদা ছেলেকে দেখলাম। সারাটা পথ হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। হাঁ-‌এর সাইজ এতবড় যে মনে হচ্ছিল,আমি নই,মেট্রোতে ক্যাটরিনা কাইফ উঠেছে। বোকাটা আমার মুখোমুখি বসেছিল। চোখদুটো কিন্তু ঝকঝকে। নাক লম্বা। বাঁদিকের ভুরুতে কাটা দাগ। বসে থাকলেও আমি ওর হাইট বুঝে গিয়েছি। ফাইভ ফিট সিকস হবেই হবে। সিকস এন্ড হাফও হতে পারে। তবে ছেলেটা নিজের ব্যাপারে কেয়ারলেস। শার্টের থার্ড বোতামটা ছিঁড়ে ঝুলছে। বোকাটা মনে হয় চুল টুলও আঁচড়ায় না। এলোমেলো খোঁচামোচা হয়ে আছে। দেখলাম কোলের ওপর রাখা ঝোনা ব্যাগ থেকে মুরাকামির লেটেস্ট বইটা উঁকি দিচ্ছে। ম্যান উইদাউট উওম্যান।’‌

‘বাপ্‌রে, তুই এত জানলি কী করে!‌ হাঁ করে তাকিয়েছিলি ?‌’‌

সেই মেয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলবে,‘‌বয়ে গেছে। ফিরেও তাকাই নি। কে না কে। তাকালে মাথায় উঠত না?‌ হয়তো পিছু নিয়ে চলেই আসত।’‌

‘‌তাহলে এত ডিটেইলসে বলছিস কী করে?‌ মনে হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের মুভি।’‌ 

সেই মেয়ে বলবে, ‘‌কাল ঠিক করেছি ন’‌টা কুড়ির মেট্রোটাই আবার ধরব।’‌

এই হচ্ছে মেয়ের ‘‌কিছু না দেখা’‌র নমুনা!‌    

আরও পড়ুন:  ইয়াকুবমামার ভারতবর্ষ

তবে স্রোতস্বিনী অভিনয় করছে না। আমার সঙ্গে সে অভিনয় করবে না। নিশ্চয় জরুরি কাজ করছে। আমি চুপ করেই গেলাম। টেবিলের ওপর রাখা একটা ম্যাগাজিন তুলে নিয়ে পাতা উলটোতে লাগলাম। হেলথ ম্যাগাজিন। একটা সময় কলকাতায় কফি খাওয়ার জায়গা বলতে শুধু কলেজস্ট্রিট কফিহাউস বোঝাত। তার টেবিলে পাওয়া যেত কবিতার বই। সেই সব বইতে মন কেমন করা কবিতা থাকত। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা টেবিলে টেবিলে পড়া হত।

‌দুঃখ কিছু গোপন এবং দুঃখ কিছু কাছের

‌হয়তো আমার মধ্যেও তার বসার জায়গা আছে্

দু্ঃখ কিছু পাথর এবং দু্ঃখ থাকে কাদায়

‌দুঃখ আছে বাইরে এবং ঘরদুয়ারে বাঁধা।‌ 

এখন কফিশপ সর্বত্র। পাওয়া যায় হেলথ ম্যাগাজিন। তাতে লেখা থাকে— ঘুমিয়ে থাকলে চোখের ওপর রাখবেন কুমড়োর টুকরো। জেগে থাকলে পরে থাকবেন ঠুলি। কুমড়ো হল স্বপ্ন অ্যাবসরভার। অযথা স্বপ্ন দেখে ঘুম নষ্ট করতে হবে। মানুষ যত স্বপ্ন দেখে তত সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। স্বপ্ন সত্যি করবার জন্য খাটাখাটনি করতে হয়। দরকার কী?‌ আর জেগে থাকবার সময় চোখে ঠুলি পরা খুব হেলথি। চারপাশের মানু্ষের দুঃখ কষ্ট দেখতে হবে না। অন্যের দুঃখ কষ্টের না দেখলে,না জানলে হেলথ ভাল থাকে। শুধু নিজেরটুকু নিয়ে মেতে থাকা যায়।  

আড়চোখে দেখলাম,স্রোতস্বিনী মোবাইলের ওপর ঝুঁকে রয়েছে। মিটিমিটি হাসছেও। 

মোবাইল ঘাঁটা এখন কোনও ঘটনাই নয়। সবাই ঘাঁটে। এই তো কিছুদিন আগে শুনলাম, কোন এক বিমানচালক ফেসবুক করতে করতে বিমান চালাচ্ছিলেন। ল্যান্ডিং-‌এর সময় কেলেঙ্কারি হল। অন্যমনস্ক হয়ে হিথরো বিমানবন্দরের বদলে চালক বিমান নামিয়ে দিলেন টেমস নদীর ওপর। বিমান ভাসতে লাগল। তবে পাইলট সাহেব মোবাইল ছাড়েননি। ককপিটের জানলা থেকে টেমস নদীর অপরূপ দৃশ্যপটের ছবি তুলতে থাকেন পটাপটা। ভাসতে ভাসতে সেই ছবি ফেসবুকে পোস্টও করেন। একেই বলে লক্ষ্যে স্থির, কর্মে অবিচল। অথবা হোয়ার দ্য মাইন্ড ইজ উই দাউট ফিয়ার। মাথা উঁচু করে না থাকলে ছবি তোলাও যেত না। মোবাইল টেমস নদীর জলে ভেসে যেত। যাই হোক,ভাসন্ত পাইলটের সেই ছবি ভাইরাল হয়। দেশকালের সীমানা ডিঙিয়ে ছবি ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। বোস্টন থেকে বাংলার ঘেঁটুপুকুর পর্যন্ত। ঘেঁটুপুকুরের গাঁজাখোর নন্দ‌‌‌‌‌‌‌‌ একজন ফেসবুক দরদী। যে কোনও পোস্ট পেলেই নিচে কমেন্টস লিখে দেয়। অনেকটা বাণীর মতো। সেসবের বেশিরভাগই অসংলগ্ন। মানে থাকে না। অল্প বিদ্যা ভয়ংকর। টেমস নদীতে ভেসে যাওয়া বিমানের নিচে নন্দ লিখল— ‘‌‌জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায় না‌। হায় ভীরু প্রেম হায় রে।’ এর নিচে হাজার হাজার কমেন্টস পড়তে লাগল। ‘‌আহা’‌,‘‌‌উঁহু’,‘‌কেয়া বাৎ’‌‌।

এই গল্পটা আমি যখন রেবাকে বললাম, সে বলল,‌‘‌এটা তোমার বানানো। এমন কিছু ঘটেনি।’‌

আমি বললাম,‘‌ঠিকই ধরেছো। ঘটনা বানানো। কিন্তু মানুষগুলো সত্যি।’‌

আরও পড়ুন:  দেউলিয়া বাঙালি ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগারের স্মৃতি

রেবার এই একটা গুণ। আমার সত্যি মিথ্যে চট করে ধরে ফেলে। তাকে যখন বলি, ‘‌তোমাকে আমি ভালবাসি না রেবা। আমি অনেক ভেবে দেখেছি।’‌

রেবা অল্প হেসে বলে,‘‌এইটা তোমার মিথ্যে কথা। আসলে তুমি আমাকে ভালইবাস। ভালবাস বলেই দূরে দূরে থাকও।’‌

এখন থাক, রেবা আর আমার ভালবাসার গল্প পরে বলা যাবে। এখন স্রোতস্বিনীতে ফিরে আসি।

স্রোতস্বিনী ফোন সরিয়ে আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম, ‘‌একটু দাঁড়াও,একটা জিনিস দেখে নিই।’‌  

স্রোতস্বিনী বলল,‘‌কী?‌’‌

আমি বললাম,‌‘‌অনলাইনে চোখের ঠুলি পাওয়া যাচ্ছে কিনা। পাওয়া গেলে আমি একটা নেব। পাইরেটসদের মতো এক চোখে ঠুলি পড়ে ঘুরে বেড়াব। এক চক্ষু জলদস্যু।’‌

স্রোতস্বিনী বলল,‘‌ঠাট্টা ছাড়ও, ম্যাগাজিনটা সরাও। জরুরি কথা আছে।’‌

আমি বাধ্য ছেলের মতো ম্যাগাজিন সরিয়ে বললান,‘‌আগে খাবার বল। খিদে পেয়েছে।’‌

স্রোতস্বিনী কাউন্টারে উঠে গেল খাবারের অর্ডার দিতে। কে বলবে এই মেয়ে একদিন আমাকে পুলিসে দিতে চেয়েছিল?‌

বিধাননগর রেল স্টেশনে দাঁড়িয়েছিলাম। খড়দা যাচ্ছি নাটক দেখতে। ওখানকার নাটকের একটা গ্রুপ ওপেন এয়ার থিয়েটার করে। আমাকে মাঝে মাঝে খবর দেয়। খুব ভিড় বলে বনগাঁ লোকালে উঠতে পারলাম না। ট্রেনটা যেই সামনে থেকে চলে গেল, দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে উলটোদিকের ফুটপাথে হাউমাউ করে কাঁদছে। মেয়েটির কাছে কেউ নেই। মনে হয়, মেয়েটিকে নামিয়ে দিলেও তার  বাবা-‌মা ট্রেন থেকে নামতে পারেনি। উলটোটাও হতে পারে। বাবা-‌মা উঠে গেছে। কী করা উচিত ভাবতে ভাবতে দেখি পাশ থেকে এক তরুণী হুড়মুড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে লাইনে নেমে যাচ্ছে। আপ-‌ডাউন দুদিক থেকেই গাড়ি আসছে। সিগন্যাল হয়ে গেছে। আমি ছুটে গিয়ে তরুণীটির হাত চেপে ধরি।     

‘‌কী হল আমাকে ধরলেন কেন?‌’‌

‘এভাবে যাবেন না। দুদিক থেকে ট্রেন আসছে।’‌

‘‌আসুক,আমাকে যেতে দিন,বাচ্চাকে ধরতে হবে। ও লাইনে পড়ে যাবে।’

আ‌‌মি বললাম,‘‌ওই বাচ্চা আপনার কে হয়?‌’‌

তরুণী ঝাঁঝিয়ে উঠে বলল,‘‌কেউ নয়। হাত ছাড়ুন। সময় নষ্ট হচ্ছে। ওই লাইনে গাড়ি আসবার আগে আমাকে যেতে হবে। বাচ্চাটা পড়ে যেতে পারে।’‌

আমি বলি,‘‌এতে আপনারও অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। ওভারব্রিজ দিয়ে যান।’‌

তরুণী হাতের মোবাইল তাক করে পুলিস ডেকে ধরিয়ে দেবার হুমকি দেয়। আমিও দিই। তরুণী ঝটকা দিয়ে লাইনে নেমে পড়ে। আপের গাড়ি হুড়মুড়িয়ে চলে আসে। আমি লাফ দিই। মেয়েটিকে হেঁচকা দিয়ে সরিয়ে ফেলি। ট্রেন ঘাড়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। সবাই হই হই করে ওঠে।

সেই তরুণীর নাম স্রোতস্বিনী।

 

চলবে

গত পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-6/

 
৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক –http://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – http://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta-2/

প্রথম পর্বের লিংক – http://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta/

 

 

Sponsored
loading...

NO COMMENTS